বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী - জাতীয় - ১ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)
আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী - জাতীয় - ১ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১ মার্চ, ২০২৪: রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন।তিনি বলেন, “গতকাল রাতে বেইলি রোডে একটি ভবনের রেস্টুরেন্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা মোটেই কাম্য ছিল না। ওই দুর্ঘটনার পরে আমাদের এখানে (শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট) বেশ কিছু রোগী আসেন। আমাদের জানা মতে, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৬ মারা গেছেন।”

আজ শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢামেক হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আহতদের অবস্থা পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা মারা গেছেন, তারা কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার ফলে মারা গেছেন। যখন বদ্ধ ঘরে কেউ বের হতে পারেন না, তখন শ্বাসনালীতে ওই ধোঁয়া চলে যায়। প্রত্যেকেরই তা হয়েছে। যাদের বেশি হয়েছে, তারা বাঁচতে পারেননি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এখনো যারা হাসপাতালে ভর্তি আছে, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা আহতদের সকাল থেকে চিকিৎসা দিচ্ছি। এখন আবার আমি আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে বসব। বসে পরিকল্পনা করব, কীভাবে কী করা যায়। সবার কাছে অনুরোধ কেউ যেন হাসপাতালে ভিড় না করেন।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ সকাল পৌনে ৭টার সময় প্রধানমন্ত্রী আমাকে কল করেছিলেন। তিনি বলেছেন, তুমি যাও। যা যা করার, করবা। আমি সমস্ত রোগীদের দায়িত্ব নিলাম। রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে।”

তিনি বলেন, “এ সময় ৪৬টি মরদেহের মধ্যে ৩৮টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে, এখনো আটটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, “শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন এবং ঢামেক হাসপাতালে দুইজন রোগী ভর্তি আছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জিারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। কেউই শঙ্কামুক্ত নন।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেছেন, রুটিন মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এরআগে এই ভবন মালিককে তিনবার নোটিশ দিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।তাছাড়া রাজধানীর বেইলি রোডের ওই ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

এখানে উল্লেখ থাকে যে, এর আগে রাজধানীতে বড় তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১০ সালের ৩ জুন রাতে পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের গুদাম থেকে ছড়ানো আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়।২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় রাসায়নিক গুদামে আগুনে প্রাণ হারান ৭১ জন এবং ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে ২৭ জনের মুত্যু হয়।

এর আগে আগুনের ঘটনা ঘটলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়।পরবর্তিতে যেন এই ধরণের ঘটনা না ঘটে সেভাবে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।বাস্তবে তার কিছুই হয়না বলেই বার বার আগুনের ঘটনা ঘটছে এবং অসহায় মানুষের মৃত্যু ঘটছে।আবারও তদন্ত কমিটি হয়েছে। কয়েকদিন আলোচনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হবে। তারপর আবার শুরু হবে এই ধরণের অনিয়ম।পূর্বের তিনিট ঘটনার পর আবার বেইলি রোডের আগুন সেটাই প্রমান করে।কিন্তু সাধারণ মানুষ এর থেকে পরিত্রাণ চায়।

পূর্ববর্তী বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল
পরবর্তী শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী