হামাস ও পুতিন প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক দেশকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়: বাইডেন

হামাস ও পুতিন প্রতিবেশী দেশকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় বাইডেন - আন্তর্জাতিক - ২০ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
হামাস ও পুতিন প্রতিবেশী দেশকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় বাইডেন - আন্তর্জাতিক - ২০ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২০ অক্টোবর, ২০২৩: ইসরায়েলে ঝটিকা সফর এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে গাজায় প্রবেশ করতে দেয়ার বিষয়ে মিশরের সাথে একটি চুক্তির পর দেশে ফিরে এক ভাষণ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডেন্ট জো বাইডেন । সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এদের কাউকে জিততে দেবেন না।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে মি. বাইডেন আরও বলেন, “হামাস ও পুতিন আলাদা হুমকি হলেও তাদের মধ্যে মিল হচ্ছে, তারা দুইজনই প্রতিবেশী একটি গণতান্ত্রিক দেশকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।”

মি. বাইডেন মার্কিন কংগ্রেসে ইউক্রেন ও ইসরায়েলের জন্য সহায়তা হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল চাইবেন। একই সাথে তিনি ইসরায়েলি নেতাদের ৯/১১ হামলার পর মার্কিন নেতাদের করা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘রাগে অন্ধ’ না হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

গাজা এখনো অবরুদ্ধ রয়েছে। ইসরায়েল গাজায় পানি, বিদ্যুৎ, খাবার এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের সবচেয়ে উত্তেজনাকর ঘটনাটি ঘটে গত ৭ই অক্টোবর। সেদিন হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১৪০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করে।

এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

 

বাইডেনের ভাষণের মূল বিষয়গুলো হচ্ছে :

(১) “আমরা যদি পুতিনের ক্ষমতা এবং ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে সে ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।”

(২) “জিম্মি আমেরিকার নাগরিকদের নিরাপত্তা ছাড়া আর কোন কিছুই আমার কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে না।”

(৩) “ইসরায়েল এবং ইউক্রেনের জয় নিশ্চিত করাটা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

(৪) ইসরায়েল এবং ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে শত বিলিয়ন ডলার দেয়াটা আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

 

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব ধরনের ইসলাম-বিদ্বেষ এবং ইহুদি বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি মুসলিম এবং ইহুদি আমেরিকানদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সবাই আমেরিকান।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলেরই বিতর্ক ও মতবিরোধ করার অধিকার আছে। তবে আমেরিকানদের অবশ্যই হিংসা ও বিদ্বেষ ত্যাগ করতে হবে এবং একে অপরকে সহযোগী আমেরিকান হিসাবে দেখতে হবে। মুসলিম, ইহুদি বা যে কারও বিরুদ্ধেই হোক না কেন আমরা সব ধরনের ঘৃণা প্রত্যাখ্যান করি।’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষণের প্রতিক্রিয়া:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভাষণের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রিপাবলিকান সদস্য ওহাইয়োর সেনেটর জেডি ভ্যান্স ভাষণের সমালোচনা করে এক টুইট বর্তায় বলেন, “তিনি(বাইডেন) তার বিপর্যয়কর ইউক্রেন নীতি আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করতে ইসরায়েলের মৃত শিশুদেরকে ব্যবহার করছেন।তারা একই দেশ নয়, তাদের সমস্যাও একরকম নয় এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলকে ব্যবহার করাটা অন্যায়।”

টেনিসির সেনেটর মার্শ ব্ল্যাকবার্ন এক্স(টুইটার) এর এক পোস্টে বলেন: “ইসরায়েলের ত্রাণ সহায়তাকে, সীমান্ত বা ইউক্রেনের ত্রাণ সহায়তার সাথে এক করে ফেলাটা তার উচিত নয়।”

তিনি তার এক পোস্টে বলেন: “বাইডেনের তাৎক্ষণিকভাবে ইরানকে হুশিয়ার করে বলে উচিত, আমেরিকানদের বিরুদ্ধে তাদের ছায়া সংগঠনের যেকোন হামলাকে ইরানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলা হিসেবে দেখা হবে এবং এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।”

এখানে উল্লেখ থাকে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সামরিক সহায়তা পায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সরকারি নীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং সামরিক তহবিল হিসেবে ১৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সামরিক অর্থায়নের জন্য ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তির অংশ এই অর্থ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দশ বছরে ইসরায়েলকে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে।

জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিয়েল ইন্সটিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জো বাইডেনের প্রশাসন এবং মার্কিন কংগ্রেস ইউক্রেনকে মানবিক, আর্থিক এবং সামরিক সহায়তা হিসেবে ৭৫ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

এই অর্থের অন্তত ৬০ শতাংশই অস্ত্র এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো সামরিক কার্য সম্পাদনের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির প্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক সারাহ স্মিথ বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানোটা আমেরিকার দায়িত্ব- তার নিজের দায়িত্ব।

মি. বাইডেনের ভাষণ নিঃসন্দেহে আন্তরিক, হৃদয়গ্রাহী এবং আবেগপ্রবণ ছিল। তার কথাগুলো সব সময় আমেরিকান ভোটারদের সম্পৃক্ত না করলেও তিনি বিশ্ব জুড়ে যারা সংঘাতের শিকার তাদের প্রতি সহানুভূতি জাগাতে বেশ কার্যকর।

তিনি তার ভাষণে আমেরিকার নাগরিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, এটা কেন তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য ভাল। কেন হাজার হাজার মাইল দূরে বিদেশি কোন সংঘাতের বিষয়ে তাদের মাথা ঘামানো উচিত। এবং তার বিদেশি নীতি এগিয়ে নিতে কেন আমেরিকান করদাতাদের অর্থ বিদেশি পাঠানো উচিত।

তার ভাষণের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের সহায়তায় তার অনুরোধকৃত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল পাস করতে কংগ্রেসের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ভ্লাদিমির পুতিন এবং হামাসকে প্রতিরোধ করতে এখন যে অর্থ ব্যয় করা হবে তা হবে স্মার্ট বিনিয়োগ যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য আসছে বছরগুলোতে লাভজনক হবে।

ইসরায়েল তার সফরের বিষয়ে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি সতর্কতার সাথে গাজায় থাকা ফিলিস্তিনি মানুষের দুর্দশার কথা যেমন বলেছেন, তেমনি হামাসের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলি ও আমেরিকানদের পরিবারের সাথে দেখা করার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

আমেরিকা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য অস্ত্র পাঠাচ্ছে। কিন্তু মি. বাইডেন বলছেন যে, তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা যাতে না ঘটে তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনা করেছেন।

তিনি হামাসের “খাঁটি শয়তানি কর্মকাণ্ডের” নিন্দা জানিয়েছেন এবং একই সাথে বলেছেন যে, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।

মি. বাইডেন হামাসের নৃশংস কৌশল এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আচরণের মধ্যে সংযোগ দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার মতো আমেরিকার প্রতিষ্ঠাকালীন মূলনীতি তুলে ধরে, এই দুই সংঘাতেই আমেরিকার কেন যুক্ত হওয়া উচিত তার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই সংঘাতের কারণে একটি “বাস্তব” বিপদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন যা প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ এর কমিশনার জেনারেল বিবিসি নিউজকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য “নরকের দ্বারপ্রান্তে” রয়েছে এবং তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ব এখন তার মানবতা হারাচ্ছে।”

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তী টস হেরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং করছে অস্ট্রেলিয়া
পরবর্তী যারা বাংলাদেশ সৃষ্টিতে বিরোধিতা করেছিল তারাই গুজব ছড়ায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী