www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২০ অক্টোবর, ২০২৩: বাংলাদেশ আর ভারত মুখোমুখি হলেই নাটকীয়তার ছড়াছড়ি থাকে সাধারণত। মাঠের বাইরে যেমন, মাঠের ভেতরেও – আর এই ট্র্যাডিশন সেই ২০০৭-এ ক্যারিবিয়ান থেকে চলছে।সেই ষোলো বছর আগে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে।ঘটনাচক্রে বাংলাদেশ ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ তারকা সাকিব আল হাসানের সেটাই ছিল প্রথম বিশ্বকাপ, আর ভারতকে হারানোতে বড় ভূমিকা রেখেছিল তরুণ সাকিব । আজ সাকিব দলের অধিনায়ক। আহত থাকার কারণে গতকালে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে খেলতে পারেনি সাকিব। তার পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন শান্ত। ভারতীয় পিচে সাধারণত পরে ব্যাটিং করে সুবিধা পাওয়া যায়। তাছাড়া বাংলাদেশ সব সময় রান তাড়া করে জিততে অভ্যস্ত। তার পরেও কেন টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ তা সাধারণ দর্শকদের বোধগম্য হয়নি। তাছাড়া ভারত ছিল চাপে কেননা নিকট অতীতে ভারতের বিপক্ষে চারটি ম্যাচের তিনটিতে জিতেছেল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপেও সাকিব আল হাসানদের হারাতে পারেননি রোহিত শর্মারা। অথচ পুনেতে দাপুটে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের পরাজয়ের পাঁচ কারণ বের করেছে ভারতের গণমাধ্যম।
কারণ ১ : ম্যাচ শুরুর আগেই ভারতীয় দল জেনে যায় চোটের জন্য খেলতে পারবেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং দলের অন্যতম বোলার তাসকিন আহমেদ। প্রতিপক্ষের অন্যতম সেরা দুই ক্রিকেটার না থাকায় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পেয়ে যায় ভারত। ফলে প্রথম থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার রণকৌশল নেন রোহিতরা।
কারণ ২ : টস জিতে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে রান তাড়া করতেই পছন্দ করে ভারত। পুণের উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। শেষ দিকে উইকেট ভাঙার সম্ভাবনাও ছিল না। স্বভাবতই শান্তর এই সিদ্ধান্ত রোহিতদের পক্ষে গেছে।
কারণ ৩ : জাসপ্রিত বুমরাহ এবং রবীন্দ্র জাদেজা নিয়ন্ত্রিত বোলিং। বুমরাহ ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। জাদেজা ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রান তোলার গতিও নিয়ন্ত্রণ করে তারা। তাতে ঢাকা পড়লে যায় মোহাম্মদ সিরাজ এবং শার্দুল ঠাকুরের বোলিং। সব মিলিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি খুব একটা টের পাওয়ানি। পুণের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেঁধে রাখেন ভারতীয় বোলাররা। ফলে ভারতের জয়ের লক্ষ্যও থাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে।
কারণ ৪ : বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরুতে একটু অগোছাল দেখালেও সার্বিক ভাবে ভালো ফিল্ডিং করেন টিম ইন্ডিয়া। লোকেশ রাহুল উইকেটে পিছনে অনবদ্য ক্যাচ ধরে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজকে। পয়েন্ট অঞ্চলে তৎপর জাদেজার ক্যাচে ফিরতে হয় মুশফিকুর রহিমকে। ভারতের ফিল্ডিং সিঙ্গেল রান নেওয়ার ক্ষেত্রেও চাপে রাখল বাংলাদেশের ব্যাটারদের।
কারণ ৫ : শ্রেয়াস আইয়ার ছাড়া সকলেই ব্যাট হাতে সফল হন। ওপেনার করতে নেমে অধিনায়ক রোহিত আগ্রাসনের যে সুর বেধে দিয়েছিলেন, সেই মতোই ভারতের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ভারতের বাকি ব্যাটাররা। শুভমন গিল, কোহলি, রাহুলেরা ব্যাটিং ছিল সাবলীল। বাংলাদেশের বোলাররা তাদের তেমন সমস্যায় ফেলতে পারেননি। রোহিত, শুভমন, শ্রেয়সেরা আউট হলেন বড় শট খেলতে গিয়ে বা নিজেদের ভুলে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে কোনও অসুবিধাই হয়নি ভারতীয় দলের।
মোটকথা টস জিতে ব্যাটিং ও মিডিল ওয়ার্ডারে সাকিবের অনুপস্থিতি দলকে অনেকেটাই হারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা










