দেশব্যাপী নবনির্মিত ১৫০টি সেতু ও অন্যান্য কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৫০টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী - জাতীয় - ১৯ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)
১৫০টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী - জাতীয় - ১৯ অক্টোবর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৯ অক্টোবর, ২০২৩: দেশব্যাপী নবনির্মিত ১৫০টি সেতু, ১৪টি ওভারপাস, ডিটিসিএ ভবন, বিআরটিএ’র স্বয়ংক্রিয় মোটরযান ফিটনেস পরীক্ষা কেন্দ্র, বিআরটিসি’র বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসময় তিনি ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কেওয়াটখালি সেতু ও রহমতপুর সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি এসব সেতু উদ্বোধন করেন তিনি।

একই অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা দান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে অস্বভাবিক প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিহার করতে হবে। চালকদের এটা বুঝাতে হবে। বাস ট্রাক ড্রাইভার ও যাত্রীদের বিশ্রামের সুযোগ করে দিচ্ছি। গাড়ি চালাতে যেমন পেট্রোল লাগে, যাকে দিয়ে চালাবেন, তারও তো পেট্রোল দরকার। সেও তো একটা মানুষ, তার তো বিশ্রাম দরকার।’

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা তাদের সহায়তা করেছি। অগ্নিসন্ত্রাসেও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা তাদেরও সহযোগিতা করেছি। বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যেনো এ ধরনের অগ্নিসন্ত্রাসের পরিস্থিতি না আসে। আমি বলেছি, কেউ আগুন দিতে আসলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করুক আপত্তি নেই। আমরাও সারাজীবন আন্দোলন করেই আজ ক্ষমতায় আসছি। তারা ক্ষমতায় আসতে চায়, আন্দোলন করুক। আন্দোলন করেই এক সময় ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু মানুষের ক্ষতি যেনো করতে না পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল। তারা প্রতিদিন আমাদের পদত্যাগ চায়। সে দাবিতে প্রতিদিন আন্দোলন করছে, করুক। আমার আছে জনগণ। আমারতো আর কেউ নেই। বাবা-মা ভাইবোন সবইতো হারিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন বলেন, ‘স্বাধীন দেশ। স্বাধীন সার্বভোমত্ব নিয়ে এগিয়ে যাক এটা তাদের পছন্দ না। তাই নানা বিরোধিতা করেছে। এজন্য স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে। স্বাধীনতা বিরোধীরা দেশকে কী দেবে? ২৯ বছরে তারা ক্ষমতায় থেকে দেশকে কী দিয়েছে? বিএনপির আমল থেকে যে অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়েছে মানুষের ওপর, সেটার ধারাবাহিকতা চলে। পরে ২০০৮ এ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। আমরা ক্ষমতায় এসে নানান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজ এখানে সড়ক ভবন করেছি। এখানে চমৎকার একটা ভবন হয়েছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা হাব হয়ে গেলো। যদিও তাদের আগের যায়গা থেকে একরকম জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক। একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, এখানে একটা চমৎকার একটা ভবন হয়েছে।

উদ্বোধন হওয়া ১৫০টি সেতুর মধ্যে ৪০টি ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকায় ৩২টি, চট্টগ্রামে ২৭টি, রাজশাহীতে ২২, খুলনায় ১২টি, বরিশাল ও রংপুরে ৮টি করে এবং সিলেটে একটি সেতু। একই সঙ্গে তিনি মহাসড়কের ওপর নির্মিত ১৪টি ওভারপাস উদ্বোধন করেন।

একই অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর কেওয়াটখালি সেতু এবং রহমতপুর সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দেশের দীর্ঘতম স্টিল আর্চ সেতু কেওয়াটখালি সেতু নির্মাণে খরচ হবে মোট ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং রহমতপুর সেতু নির্মাণে খরচ হবে ৩৫৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুনে সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

এ অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর মিরপুরে ১০৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্বয়ংক্রিয় মোটরযান ফিটনেস পরীক্ষা কেন্দ্রসহ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নবনির্মিত ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর অথরিটি (ডিটিসিএ) ভবন, ময়মনসিংহে বিআরটিসি’র বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

এ সময় বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬২ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসাবে ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে আইন হওয়ার পর এই প্রথম দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বিধিমালা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হলে ভুক্তভোগী তিন লাখ টাকা সহায়তা পাবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী গেল বছরের ৭ নভেম্বর ১০০ সেতু এবং ২১ ডিসেম্বর ১০০টি সড়ক ও মহাসড়ক উদ্বোধন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান রওশন আরা মান্নান।

পূর্ববর্তী সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী
পরবর্তী টস জিতে ব্যাটিং নেওয়াসহ ৫ কারণে হেরেছে বাংলাদেশ