নিত্যদিনের স্ট্রেস, জাঙ্ক ফুডপ্রীতি, সেডেনটারি লাইফস্টাইল ইত্যাদির প্রভাব শরীরের এই বিশেষ অঙ্গের ভাল থাকা আজকাল সত্যিই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। ফলস্বরুপ যে কোনও বয়সের হানা দিচ্ছে হৃদযন্ত্রের নানা জটিল অসুখ। হার্টের বিভিন্ন ঝুঁকির কারন ও হার্ট ভালো রাখার টিপস নিয়ে আলোচনায় কনসালটেন্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ শুভানন রায় বলেন-
হার্টের জন্য রিস্ক ফ্যাক্টর
হার্টের অসুখের ক্ষেত্রে মূলত ৫ টি রিস্ক ফ্যাক্টর রয়েছে। সেগুলি হল-
১. উচ্চ রক্তচাপঃ এই সমস্যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকারক। এতে হার্টের রক্তবাহী ধমনি তথা হার্টের উপর চাপ পড়ে।
২. ব্যক্তিগত পারিবারিক ইতিহাসঃ যাদের একবার কোনও হার্টের সমস্যা হয়েছে বা হার্টের সমস্যার কোনও পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
৩. ধূমপানের অভ্যাসঃ যারা নিয়মিত ধূমপান করেন (তা অল্পই হোক বা বেশি), তারাও কিন্তু হাই রিস্ক গ্রুপের আওতায় পরেন।
৪. ডায়বেটিসঃ উচ্চ রক্তচাপের মতো ডায়বেটিসও হার্টের পক্ষে ক্ষতিকারক। যাদের ডায়বেটিস রয়েছে, তারা নিয়মিত চেক-আপে থাকুন।
৫. ওবিসিটিঃ ওজন অতিরিক্ত হলে শরীরে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি থাকা স্বাভাবিক। তাই ওবিসিটির সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন।
প্রতিরোধের উপায়ঃ
যাদের পরিবারের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস আছে, তাদের খুব ছোটবেলাতেই কার্ডিয়াক অ্যাসেসমেন্ট করা প্রয়োজন। ছোটবেলাতেই অসুখ ধরা পড়লে তার চিকিৎসা দ্রুত করা সম্ভব। হার্টের অসুখ প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক জীবনযাত্রার খুব বড় ভূমিকা রয়েছে।
নিয়মিত শরীরচর্চা, ছোট বয়সে খেলাধূলা, জাঙ্কফুড আসক্তি থেকে সরে আসা, ডায়েটে শাকসবজি ও ফল (বিশেষ করে মৌসুমী ফল) রাখা, মাছ, বাদাম, মুরগী খাদ্যতালিকায় রাখা, রেড মিট পরিহার করা ইত্যাদি খাদ্য তালিকার মাঝে রাখতে হবে এবং হার্টের জন্য ক্ষতিকর জীবন অভ্যাস ও হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য বাদ দিতে হবে।
সুস্থ হার্ট রক্ষায় টিপসঃ
- ব্যাড কোলেস্টেরল হার্টের অন্যতম প্রধান শত্রু। তাই খাওয়াদাওয়ার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিন। জাঙ্ক ফুড যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
- রান্নায় সঠিক তেল বাছুন। ঘি এবং মাখনের পরিবর্তে অলিভ অয়েল, সয়াবিন তেল অথবা সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।
- নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস রাখুন। প্রতিদিন সিড়ি ওঠানামা করা হাঁটা ,সাইক্লিং, হালকা জগিং, ইত্যাদির অভ্যাস থাকলে ভাল।
তথ্যসূত্রঃ হেলথ.গভ










