জীবিকার জন্য অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন, এটা খুবই সিম্পল একটা বিষয়। যেমন কল সেন্টার, টেলিকম, ই-কমার্স কোম্পানি এমন অনেক অর্গানাইজেশন আছে, যেখানে নাইট শিফটে ডিউটি থাকে। নিয়মিত নাইট শিফটে কাজ করতে হলে অনেক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। কারন মানুষ বিবর্তিত হয়েছে দিনে কাজ এবং রাতে ঘুমানোর জন্য। সেক্ষেত্রে রাতের শিফটে কাজ করেন যেসব কর্মী, তাদের নানারকম স্বাস্থ্যঝুকির সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন- হজমের সমস্যা, হার্টের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ওজন বেড়ে যাওয়া, এমনকি ক্যানসার হবার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়াও রাতে কাজ করায় স্লিপিং ডিসঅর্ডার হবার সম্ভাবনা থাকে। যেমন-
- মনোযোগের অভাব
- ইরিটেশন
- অল্পতেই রেগে যাওয়া
- ঘুমের অভাব বা অল্প ঘুম হওয়া
- চুল পড়া
- মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরা
এজন্য রাত জেগে কাজ করলে ঘুম ও খাবারের ক্ষেত্রে মেনে চলতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী রাতের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিচে দেয়া হলো-
খাবার গ্রহনের সময় নির্ধারণঃ
রাতে কাজ করলে সাধারণভাবেই ওই ব্যক্তি দিনের বেলা তার ঘুমের চাহিদা পূরণ করেন। রাতের খাবার ভরপেট না খেয়ে একই পরিমাণ খাবার ২-৩ বারে খাওয়া যেতে পারে। কারণ একবারে খেলে অনেকেরই ঘুম আসতে পারে।
রাতের স্ন্যাকসঃ
রাতে হালকা ক্ষুধা লাগলেই বাদাম এবং আখরোট খাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর হৃদবান্ধব এই ফ্যাট আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে।
হাইড্রেটেড থাকুন:
শরীর আদ্র রাখার জন্য প্রতি ১ ঘন্টা পরপর পানি পান করা ভালো। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত চা-কফি থেকে দূরে থাকা ভালো কারণ মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের জন্য ভালো না।
পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন:
প্রোটিন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘসময় শক্তি প্রদান করতে পারে। সেজন্যে ফলের জুস বা গোটা ফল, সবজি, ভাত, মাছ, মুরগীর মাংস , ডিম এবং চর্বিহীন প্রোটিন সবই ভালো পুষ্টিকর খাবার থেকে আপনার মেনু ঠিক করে খাবার খাবেন।
প্রক্রিয়াজাত এবং উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার সীমিত করুন:
প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং উচ্চ চিনিযুক্ত খাবারগুলি শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ। এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই একদম বাদ না দিতে পারলে, অল্প পরিমান খেতে পারেন।
নার্ভাস সিস্টেম ভালো রাখতেঃ
রাত জাগার পর ঘুমিয়ে ঘুম থেকে উঠার পর ১ চা-চামচ পরিমাণ মধু খাওয়া যেতে পারে। এটি আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে।
নাইট শিফটে ডিউটি থাকলে করণীয় কী কী, সেটা জেনে নিলেন। যেকোনো কাজই আনন্দের, যদি সেটা আপনি মন দিয়ে করেন! তাই মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়া উচিৎ। ঘুমের রুটিন ও হেলদি ডায়েট, এই দু’টো বিষয়কে প্রাধান্য দিন। মানসিকভাবে সুস্থ থাকলে আপনি শারীরিকভাবেও ফিট থাকবেন।
তথ্যসূত্রঃ স্বাস্থ্যকথন










