গেঁটে বাত আসলে একধরনের আর্থারাইটিস। দেহে অতিরিক্ত পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়ার ফলে হয়ে থাকে৷ ইউরিক অ্যাসিড একধরনের টক্সিন বা প্রাকৃতিক বর্জ্য। যদি এই বর্জ্য আপনার দেহে জমা হতে থাকে, তবে তা সাংঘাতিক পরিমান ব্যাথার সৃষ্টি করে।
পুরুষ বা নারী যে কেউ এ রোগে ভুগতে পারেন। তবে, পুরুষদের এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ পাঁচ গুণ বেশি। গেঁটে বাত সাধারণত কম বয়সী পুরুষ ও বেশি বয়সী নারীদের হয়ে থাকে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি বেশি খান, তাদের এই রোগ বেশি হয়।
মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, এই ব্যথা হঠাৎ তীব্র অসহনীয় রকমের হয়ে থাকলেও সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রাকৃতিক এমন কিছু খাবার রয়েছে যা গেঁটে বাতের ব্যথা উপশমে সাহায্য করতে পারে। তারমধ্যে রয়েছে-
১. আদা – গেঁটে বাতের ব্যাথা কমাতে আদার জুরি মেলা ভার। এতে রয়েছে এমন যৌগ যা প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টের ব্যথা এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
২. আমন্ড – দৈনিক ১০ গ্রাম আমন্ড গ্রহনে উল্ল্যেখযোগ্য মাত্রায় ইউরিক এসিড কমতে সাহায্য করে। বাতের ব্যথা কমাতে যা ভূমিকা রাখে। তাই রোজ আমন্ড খান৷
৩. আনারস – এতে রয়েছে ব্রোমেলাইন, যা এনজাইমের একটি গোষ্ঠী যার মধ্যে প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি জয়েন্টের প্রদাহ এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. হলুদ – হলুদে কারকিউমিন নামক একটি যৌগ রয়েছে যার প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব রয়েছে এবং এটি গেঁটেবাত ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। দ্রুত ব্যথা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৫. বেরী – ব্লু বেরী, স্ট্রবেরীতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে যা প্রদাহরোধী উপাদান। এতে করে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমায় এবং যা বাতের ব্যথার জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
৬. সবুজ শাক-সবজি – যেসব সবুজ শাক-সবজীতে পিউরিনের পরিমাণ কম এবং ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি। এতে প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এই খাবারগুলিকে আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে গেঁটে বাতের ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে, তবে সেগুলিকে চিকিৎসার জন্য প্রতিস্থাপন হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একটি সুষম খাদ্য বজায় রাখা এবং হাইড্রেটেড থাকাও গেঁটে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ ভেরিওয়েলহেলথ










