ঘরে বসেই সমাধান করুন গ্যাস্ট্রিক বা জ্বালাপোড়ার

ঘরে বসেই সমাধান করুন গ্যাস্ট্রিক বা জ্বালাপোড়ার

আমাদের অনেকেরই খাবার পরে বুকের মাঝখান থেকে জ্বালাপোড়া করে। এই রোগটা কি আমরা অনেক ধরনের নাম দেই- গ্যাস্ট্রিক, আলসার, অ্যাসিডিটি, হার্টবার্ণ, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ইত্যাদি। তবে ডাক্তারি ভাষায় এই রোগের নাম- Gastroesophageal Reflux Disease (RFD)

কিন্তু প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে আমরা নিজেরাই ঘরে বসে এই সমস্যা কমিয়ে আনতে পারি। এরকম ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা-

১. একবারে পেট ভরে খেলে এই সমস্যা বেশি হয়। তাই অনেক খাবার একসাথে খাবেন না । সারাদিনে ভাগ ভাগ করে অল্প অল্প খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

২. খাবারের সময় অনিয়ম করবেন না। সময়মত খাবার না খেলে পাকস্থলীর আরেকটা রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, নাম – গ্যাস্ট্রাইটিস (Gastritis)। এই রোগে পাকস্থলীর গায়ে ক্ষত দেখা দেয়, ইনফেকশন হতে পারে । আর এই রোগ হলেও আপনার পেটে জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা হতে পারে । আপনার পক্ষেতো বোঝা সম্ভব না জ্বালাপোড়া কোন কারনে হচ্ছে। তাই পাকস্থলী সুস্থ রাখতে আপনাকে নিয়ম করে সময়মতো খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ।

৩. অনেকের মাঝেই একটা ধারণা আছে, যাদের সমস্যা তাদের জন্য দুনিয়ার প্রায় সব খাবারই নিষেধ । শুধুমাত্র সিদ্ধ, মসলা ছাড়া খাবার খেতে হবে, এই ধারণাটা কিন্তু ঠিক না । তাহলে সঠিক টা কি?
একজনের জন্য একেক ধরনের খাবারে সমস্যা সৃষ্টি করে। যেসব খাবারে আপনার বুকে জ্বালাপোড়া করে আপনি শুধু সেই সব খাবার এড়িয়ে চলবেন। সেটা হতে পারে এ মসলা দেয়া, অতিরিক্ত তেল দেয়া খাবার । আপনার প্রিয় চপ পুরি, মুড়ি চানাচুর, চটপটি, এমনকি ডালভাত । আপনার কোন খাবারে সমস্যা হয় সেটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে । আর এড়িয়ে চলতে হবে।

৪. রাতের খাবারটা আগে আগেই সেরে ফেলবেন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন-চার ঘণ্টা আগে। আপনি যদি এগারোটার দিকে ঘুমাতে যান, তাহলে কমপক্ষে সাড়ে সাতটায় খেতে বসে যাবেন। আটটার মধ্যে খাওয়া শেষ। তারপর কিন্তু রাত ১১ টা পর্যন্ত জেগে থাকতে হবে। ভাত খাওয়ার পরে অনেকেরই ঘুম আসে সেটা ফাইট করতে হবে। এটা কেন করবেন? ভরপেটে চিৎ হয়ে শুলে, পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড উপরের দিকে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫. ঘুমানোর সময় বা বিছানায় শোয়ার সময় মাথা আর বুক ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার উঁচুতে রাখবেন কোমরের চেয়ে। সেটা পাকস্থলীর এসিড উপরে ওঠা থামাবে। বালিশ দিয়ে উঁচু করবেন না। কারণ এতে শুধু আপনার মাথাটাই উঁচু হয়। বরং তোষকের নিচে বা খাটের নিচে কিছু দিয়ে খাটের একটা দিক উঁচু করে নিবেন এবং সেই দিকে মাথা দিবে । যাদের রাতের বেলা জ্বালাপোড়া সমস্যা বেশি হয়,
তাদের জন্য এই ধাপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর খেয়াল রাখেন ঘুমের সময় দেহের ভঙ্গিটা যেন স্বাস্থ্যকর থাকে। আঁকাবাঁকা অস্বাস্থ্যকর হলে আবার শরীরে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে । বালিশ বা বালিশ এর উচ্চতা পরিবর্তন করলে অনেকেরই ঘাড় ব্যথা হয়।

৬. এবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলবো। যেটা শুধু আপনার বুকে জ্বালাপোড়াই কমাবে না, আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। আপনার যদি ওজন বেশি হয়, তাহলে সেটা কমানোর চেষ্টা করুন ।
অতিরিক্ত ওজন অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ ইত্যাদি অনেক কিছুই এই অতিরিক্ত ওজনের সাথে সম্পর্কযুক্ত । তাই ওজন কমিয়ে ফেলা এবং কমানোর পর সেটা ধরে রাখাই শ্রেয়।
আপনার বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা সমাধানেও এটা অনেক সাহায্য করবে।

৭. ধূমপান বন্ধ করতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা ধূমপান কমিয়ে ফেলে বা বন্ধ করে দেয়, তাদের এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যায় । আর ধূমপানও নানা ধরনের রোগের কারণ, তাই এই অভ্যাসটা পরিত্যাগ করাই শ্রেয়।

সুতরাং জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন আনার প্রয়োজন। তবে সবার রোগ এমন অবস্থায় থাকবে না যে শুধু জীবনাচরণের পরিবর্তনেই সেরে যাবে। ঔষধের সাহায্য দরকার হতে পারে, তবে ওষুধের পাশাপাশি এই ধাপ গুলোও মেনে চলতে হবে।

পূর্ববর্তী এবার একাদশের নাম দিবে সাংবাদিকরাঃ পাপন
পরবর্তী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়াতে ইসলামিক স্কলারদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর