তুরস্কের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ২০ বছর ক্ষমতায় থাকা রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট থাকবেন কিনা তা নির্ধারণে রায় দিচ্ছেন তুর্কিরা। ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থান থেকে বেঁচে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অর্জিত অনেক ক্ষমতা বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিকদারোগলু।
আধুনিক তুরস্কের ১০০ বছরের ইতিহাসে এটি অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন। দেশটিতে ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কি না, তা আজকের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টা থেকে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় তুরস্কে। ইতোমধ্যে ১৭ লাখের বেশি ভোটার বিদেশ থেকে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো এবার ভোট দিচ্ছেন ৫০ লাখ ভোটার।
নির্বাচনে একজন ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। একটি প্রেসিডেন্টের জন্য, অন্যটি পার্লামেন্টের জন্য।
এ ধাপে কোনও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ৫০ শতাংশের কম ভোট পেলে ২৮ মে শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ভোট হবে।
তুরস্কের ৬ কোটি ৪০ লাখ ভোটার কঠিন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি দেশের ১১টি প্রদেশ সম্প্রতি ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। প্রাকৃতিক ওই দুর্যোগে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু কিছুটা এগিয়ে আছেন। বিরোধী ছয়টি দলের জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিলিচদারোগলু।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান অর্থনীতিতে সংস্কার আনায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। অন্য দেশগুলো যখন সুদের হার বাড়াচ্ছে, তখন তিনি তা কমিয়ে দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ২৪টি রাজনৈতিক দল এবং ১৫১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ৬০০ সদস্যের তুরস্কের পার্লামেন্ট আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটাররা তিন জন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নেবেন। এবার এই পদে লড়ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, প্রধান বিরোধী নেতা কামাল কিলিকদারোগলু ও মুহাররেম ইনসে।
বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলু কিছুটা এগিয়ে আছেন। বিরোধী ছয়টি দলের জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিলিচদারোগলু।
ন্যাটোর সদস্যদেশ তুরস্ক। সাড়ে ৮ কোটি মানুষের বসবাস দেশটিতে। এরদোয়ানের সরকার ক্রমবর্ধমানভাবে কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে। তুরস্কের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা–ও নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে।
নির্বাচনে এরদোয়ানের রক্ষণশীল একে পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কিলিচদারোগলুর নেতৃত্বাধীন নেশন অ্যালায়েন্সের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
তুরস্কের মোট ভোটারের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কুর্দি। নির্বাচনে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা










