ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশ অরুণাচলের নাম বদলে দিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, অরুণাচলের ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে সীমান্তবর্তী ১১টি স্থানের নতুন নামকরণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে দেশটির এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।
চীন অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছে, অরুণাচল প্রদেশ দক্ষিণ তিব্বতের একটি অংশ। এ দাবি প্রতিষ্ঠায় তারা বহুবার অরুণাচল প্রদেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সমালোচনা করেছে।
তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামা যাতে অরুণাচল প্রদেশে না যান, সে জন্য বারবার প্রবল আপত্তি জানিয়ে এসেছে। অরুণাচল প্রদেশের নাগরিকদের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে। গত ২৫ ও ২৬ মার্চ এ রাজ্যের রাজধানী ইটানগরে জি-২০-এর ‘রিসার্চ ইনোভেশন ইনিশিয়েটিভ গ্যাদারিং’ সম্মেলনেও চীন অংশ নেয়নি। অবশ্য অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে তাদের যাবতীয় দাবি ভারত বারবার নাকচ করে দিয়েছে। এবারেও তেমনই করা হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন মতে, গত শনিবার (১ এপ্রিল) অরুণাচলের ১১টি স্থানের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নতুন নামের মধ্যে পাঁচটি পর্বতশৃঙ্গ, দুটি ভূমি এলাকা, দুটি আবাসিক এলাকা ও দুইটি নদী রয়েছে।
পুরো অরুণাচল অঞ্চলকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত নামকরণ করেছে চীন। অর্থাৎ ভারতের এই অঞ্চলকে তিব্বতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশ মনে করছে বেইজিং। এতে নতুন করে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
চীন ও ভারতের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। একে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বলা হয়ে থাকে। অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘদিন থেকে নিজেদের দাবি করে আসছে চীন।
বেইজিং হিমালয় অঞ্চলীয় রাজ্যের ১১ স্থানের নাম পরিবর্তন করার ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানান, ‘অরুণাচল রাজ্য সবসময় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ছিল এবং থাকবে।’
অরবিন্দম আরও বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব রাজ্যের স্থানগুলোর নাম পরিবর্তন করতে পারে না বেইজিং। এমন চেষ্টা চীনের প্রথমবার না। আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’










