বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমূল্য সম্পদ সব প্রজন্মের জন্য: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমূল্য সম্পদ সব প্রজন্মের জন্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বঙ্গবন্ধু ও তার ভাষণের ওপর দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনের আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বলেন, ৫০ বছরে আমাদের যে প্রজন্ম বা তার পরবর্তী প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ভাষণগুলো জানা, তাতে বাংলাদেশটাকে বোঝা, মানুষের মানুষের অবস্থাটা জানা, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি, সবকিছু জানার একটা সুযোগ পাবে। বাংলাদেশটা কীভাবে চলবে সেই দিক-নির্দেশনা তিনি তার ভাষণে দিয়ে গেছেন। কাজেই এটা আমাদের জন্য একটা অমূল্য সম্পদ।

সরকারপ্রধান বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) তার বক্তব্যে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সুতরাং এটি আমাদের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।

দুটি বইয়ের একটি হলো সংসদে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সংকলন ও অন্যটি হলো ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ডাকা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রদত্ত আইনপ্রণেতাদের ভাষণের সংকলন।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ সদস্য (এমপি), জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশ ও এর জনগণকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ৫০ বছরে আমাদের প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বক্তৃতা জানবে এবং এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে বোঝার, জনগণের অবস্থা, তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সবকিছু জানার সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদের বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সংকলনের প্রশংসা করে বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

এ জন্য তিনি স্পিকার, সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সংবিধান প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান, কারণ এতে সর্বস্তরের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতির পিতা বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মাত্র নয় মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের একটি বিরল ঘটনা। এটিকে সম্ভবত গোটা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এর মাধ্যমে গরিব, অভাবী, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে সুবিধাবঞ্চিতসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনে সাতটি ছাড়া বাকি সব আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন। বাসস।

পূর্ববর্তী টুঙ্গিপাড়ার সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে
পরবর্তী চীন অরুণাচলের ১১টি স্থানের নাম বদলে দিয়েছে, ভারতের প্রতিবাদ