পিছু হটলেন নেতানিয়াহু গণবিক্ষোভের মুখে, বিল স্থগিত

পিছু হটলেন নেতানিয়াহু গণবিক্ষোভের মুখে, বিল স্থগিত

ইসরায়েলের বিচারব্যবস্থায় বিতর্কিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে আপাতত সরে এসেছে সরকার। কয়েক মাস ধরে চলা গণবিক্ষোভের মুখে আজ সোমবার এ সংস্কার পরিকল্পনা আগামী মে মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বিচার বিভাগের সংস্কার বিল সাময়িক স্থগিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে বিভক্তি ঠেকাতে বিলটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘জাতীয় দায়িত্ববোধ, মানুষের মধ্যে বিবাদ ঠেকাতে আমি এই বিলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শুনানি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বিতর্কিত এ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে কিছুটা সময় দিতে চান বলেও জানান তিনি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর এ ঘোষণার পর ইসরায়েলে আপাতত স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বিলটি সাময়িক স্থগিত করা হলেও পরে আবার সংসদে উত্থাপন করা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপাতত আগামী অধিবেশন পর্যন্ত এই বিল স্থগিত রাখা হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে ডানপন্থি নেতানিয়াহু সরকারের বিচারব্যবস্থায় সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলে বিক্ষোভ চলছে। আজ সোমবার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে লাখো ইসরায়েলি রাস্তায় নেমে আসেন।

বিচার বিভাগ সংস্কার বিলের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরু থেকেই বিক্ষোভ করে ইসরায়েলের মানুষ। গত ২৭ মার্চ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করার পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। লাখো মানুষ নেমে আসে তেলাবিবের রাস্তায়। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা। তবে নেতানিয়াহুর পক্ষের অনেকেও তাঁর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এমনকি সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করায় গতকাল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকে বরখাস্ত করেন নেতানিয়াহু। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে লিকুদ পার্টির মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, নেতানিয়াহুকে বিচার বিভাগীয় সংস্কার আপাতত স্থগিত রাখতে হবে। জোট শরিকেরা এ নিয়ে গতকাল বৈঠক করেছে। ফলে দল ও জোটেও অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছেন নেতানিয়াহু।

বিচারব্যবস্থায় এই সংস্কার পরিকল্পনায় এমন বিষয়ও রয়েছে—যেখানে বিচারক নিয়োগ কমিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও সরকারের হাতে চলে যাবে। শুধু তাই নয়, সংস্কারকৃত আইনে শাসন কাজে অযোগ্য নেতাকেও আদালতের পক্ষে সরানো কঠিন করে তুলবে। আর এই দিকটিই অনেক ইসরায়েলিকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তারা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহু নিজের স্বার্থের জন্যই এমনটা করছেন। কারণ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে।

অবশেষে সোমবার রাতে সংস্কার বিল সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ জাতির মধ্যে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

‘চরমপন্থী সংখ্যালঘু’ একটি গোষ্ঠী জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেছেন, ‘সংস্কার বিল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সঠিক।’ এর আগে তিনি বিতর্কিত বিলটি বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকার যদি এখন একটি বাস্তবসম্মত সংলাপে বসে, তাহলে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।’

পূর্ববর্তী ক্ষমা চাইবেন না দণ্ডপ্রাপ্ত রাহুল গান্ধী
পরবর্তী ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার করে পাবে প্রতিটি ক্লাব আগামী দুই বিশ্বকাপে