Tag: বাংলাদেশ

  • বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

    বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

    দেশের মোট জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৩ জন, নারী ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১২০ জন, হিজড়া ১২ হাজার ৬২৯ জন এবং ব্যালেন্স পপুলেশন ৮৫ হাজার ৯৫৭ জন।

    রোববার (০৯ এপ্রিল) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ পিইসি জরিপের আলোকে সমন্বয়কৃত জনসংখ্যা সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

    জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন  প্রতিবেদনে বলেন, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের গণনাকৃত মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। পিইসিতে (প্রাথমিক প্রতিবেদন) প্রাপ্ত ২.৭৫ শতাংশ এনইসি-এর প্রেক্ষিতে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ২৯৫ জন যোগ হয়ে দেশের সমন্বয়কৃত মোট জনসংখ্যা হলো ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। সমন্বয়কৃত মোট জনসংখ্যার ৬৮.৩৪ শতাংশ পল্লিতে এবং ৩১.৬৬ শতাংশ শহরে বাস করে।

    বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকার গণনাকৃত জনসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন; সমন্বয়কৃত জনসংখ্যা হলো ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৫ জন, যা দেশের মোট সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার ২৬.৮৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বরিশাল বিভাগে, মোট সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার ৫.৪৯ শতাংশ।

    প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন, নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং হিজড়ার সংখ্যা ১২ হাজার ৬২৯ জন। পিইসি জরিপ অনুসারে, পুরুষের এনইসি ২.৮১ শতাংশ, সে হিসেবে সমন্বয়কৃত পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪০ লাখ ৭৭ হাজার ২০৩ জন; মহিলার এনইসি ২.৬৯ শতাংশ, সে হিসেবে সমন্বয়কৃত নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ১২০ জন।

    এখানে উল্লেখ্য, হিজড়া জনসংখ্যা খুব কম হওয়ায় তার এনইসি হিসাব করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ ১৭ হাজার ৫০৭টি থানার ৮৫ হাজার ৯৫৭ জনের আংশিক তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের লিঙ্গসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনসংখ্যারও এনইসি হিসাব করা সম্ভব হয়নি বিধায় তাদেরকে ব্যালান্স পপুলেশন হিসেবে গণনাকৃত ও সমন্বয়কৃত উভয় অংশে যোগ করা হয়েছে।

  • সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে: সমবায়মন্ত্রী

    সারা বছর ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে: সমবায়মন্ত্রী

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা বছর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

    সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রোববার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আগে আমরা মৌসুমি পরিকল্পনা নিতাম। আমরা এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম পরিচালনা করতাম। এখন বছরজুড়ে করার পরিকল্পনা নিচ্ছি।

    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৮৭৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফিলিপাইনে ১৯ হাজার ৪০৪ জন, জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভিয়েতনামে ১৫ হাজার ১২৯ জন, জানুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ১৪ হাজার ৯৮৯ জন, মালয়েশিয়ায় জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৮৮ জন, সিঙ্গাপুরে জানুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৯৬২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

    এই ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। শহুরে এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এই কারণে আমাদের সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। এখান থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, তা বাস্তবায়ন করতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই কারণে অন্য দেশগুলোর চেয়ে আমরা তুলনামূলক ভালো আছি।

    গত বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি ছিল, সেই হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, গত বছরেও সমসাময়িক দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো ছিল। কিন্তু তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। সে জন্য আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি আছে কি না, আরও কিছু করণীয় আছি কি না, তা খতিয়ে দেখতে এই সভা করা হয়েছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা করব। তবে এই সময়কে পিক সিজন ও লিন সিজনে ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ এডিসের জন্য একটি উর্বর সময়, অন্যটি অনুর্বর মৌসুম। আমরা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

    সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম উপস্থিত ছিলেন।

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, গত বছর যেহেতু আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে আশ্বিন মাস এবং শীতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এ জন্য আমাদের কর্মপরিকল্পনা বছরব্যাপী করেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধী কার্যক্রমের সময় আমরা বাড়িয়েছি। আগে যেমন করা হতো আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র পর্যন্ত। এখন আমরা আশ্বিন মাস পর্যন্ত এটি বাড়িয়েছি।

  • ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের

    ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের

    ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটা সুচারুরূপে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রোববার (৯ এপ্রিল) বনানীতে বিআরটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদ উপলক্ষে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। গাজীপুরে বিআরটি সড়ক সাধারণ মানুষকে অনেক ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    ঈদ যাত্রায় যেন কোন গোলযোগ সৃষ্টি না হয় তার জন্য যেকোন মূল্যে এই রাস্তাটি সচল রাখার কথা বলেন মন্ত্রী।

    ভিভিপিদের আইন মানার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবভুক্ত থেকে মোটরসাইকেল আরোহীদেরকেও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনকে সময় নির্দেশ দেন কাদের।

    তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমলেও তা এখনো বন্ধ হয়নি।

    চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই রাজধানীর রাস্তায় ইলেকট্রিক গাড়ি চলাচল শুরু করবে বলেও বৈঠকে জানান ওবায়দুল কাদের।

    মন্ত্রী বলেন, যার যার যে দায়িতে তিনি যেভাবে প্রতিজ্ঞা করেছেন সেভাবে পালন করুন। এটা হলো আমার আপনাদের কাছে অনুরোধ। যতই আমরা অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করি, সেটা খুবই স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেটা সম্ভব হয়েছে। উন্নয়ন অনেক হয়েছে।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় ঘাটতি আমাদের শৃঙ্খলার। সড়কে সেটা কার্যকর হয়নি। পরিবহনেও হয়নি। আরও অনেক ছয় লেন বা আট লেন হবে পরিকল্পনা আছে। তবে ডিসিপ্লিন কীভাবে কার্যকর করতে পারা যাবে সেটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ। ডিসিপ্লিন থাকলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমে যাবে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন গতানুগতিক একটা মিটিং করে, বক্তৃতা দিয়ে যদি মনে হয় দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে তাহলে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এখানে সবাই পরিকল্পনার কথা বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস মালিকরা কি সেটা শুনবেন সেই গ্যারান্টি কোথায়। প্রতিবার এই নিয়ম চালু হয়। নির্দেশনা দেওয়া হয় কিন্তু পালন করেন কয়জন? খুব সহজে এটা বাস্তবায়ন করা যাবে না এটাই বাস্তবতা। ঈদে ভোগান্তি কমাতে ঢাকার প্রবেশ পথ বিশেষ নজরদারি করতে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএ’কে নির্দেশনা দিয়েছি।

    নবীনগর ও চন্দ্রার যানজট নিয়ে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সেখানে রাত পার হয়ে ভোর হয়। এরপর আনফিট গাড়ি থাকে, চালক অতিরিক্ত গাড়ি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবেই সময় নষ্ট হয়।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা এই কষ্টটা দূর করতে পারছি না। এই কষ্টটা আমারও আছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি মিনিটে ১৬ জন রাস্তায় মারা যায়। সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মধ্যে ২০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আমাদের লোক মারা গেল কেউ তো সেটা নিয়ে কিছু বলে না। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া। শুধু এখনকার ব্যাপার সবার চোখে পড়ে। যেভাবে দোষ দেওয়া হয় তাতে মনে হয় এদেশে সড়কে কিছুই হয়নি। এমনকি বজ্রপাতে প্রাণহানি হলেও সরকারকে দোষ দেওয়া হয়।

    গাজীপুর বিআরটি প্রকল্পকে ভোগান্তির অন্যতম স্থান উল্লেখ করে কাদের বলেন, বিআরটি প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা বললেও কিন্তু শেষ হয় না। যথেষ্ট মানুষকে ভোগান্তি দিচ্ছে। কত মানুষ বিদেশে যাবে অথচ মানুষ মিস করে বিমানের ফ্লাইট।

    মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান, সড়ক ও সেতু সচিব এ বি এম আমান উল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

  • বঙ্গবন্ধুর হাতেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি, দ্বিতীয় উত্থান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগেই: সংসদে রাষ্ট্রপতি

    বঙ্গবন্ধুর হাতেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি, দ্বিতীয় উত্থান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগেই: সংসদে রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেই আমার রাজনীতির হাতে খড়ি ও প্রথম উত্থান এবং দ্বিতীয় উত্থান ঘটে শেখ হাসিনার উদ্যোগেই।

    তিনি আজ জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশেষ অধিবেশনে’ ভাষণ দানকালে একথা বলেন। এটাই রাষ্ট্রপতির হিসেবে সংসদে দেয়া আবদুল হামিদের শেষ ভাষণ। রাষ্ট্রপতি সংসদকে জানান, ‘বঙ্গবন্ধুর হাতে হয়েছিল আমার রাজনীতির হাতেখড়ি ও প্রথম উত্থান আর ১৯৯৬তে দ্বিতীয় উত্থান ঘটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই এবং তার উদ্যোগেই।’

    তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অপার স্নেহ আর তার দূরদর্শিতার কারণেই আমি আজকে এই অবস্থানে পৌঁছেছি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে আমি বেশি গর্ববোধ করি।’

    সংসদে দেয়া তাঁর বিদায়ী ভাষণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেদিন আমাকে ডেপুটি স্পীকারের পদমর্যাদা না দিলে হয়তো বা কিশোরগঞ্জ ঘিরে আমার রাজনীতি আবর্তিত হতো।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি তখন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের ছাত্র। পরিচয় থেকেই  বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের অনুসারী হয়ে যাই।

    আবদুল হামিদ বলেন, মাঝে মাঝে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হতো অনেক সময় তিনি নিজেও ডেকে পাঠাতেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমার একমাত্র ধ্যান-ধারণা তাঁর নীতি, আদর্শ ও নির্দেশনাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় বিষয় ছিল।

    রাষ্ট্রপতি স্মৃতিচারণ করেন, ‘শুধু আমি কেন ওই সময় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অনেক যুবকের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একমাত্র আদর্শ; যার পিঠে একবার বঙ্গবন্ধুর হাত পড়েছে বা স্নেহের ছোঁয়া লেগেছে তার পক্ষে বঙ্গবন্ধুকে ভুলে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।’

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ এপ্রিল। রাষ্ট্রপতি হামিদ আটবার  সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ডেপুটি স্পীকার এবং স্পীকারের দায়িত্ব ও পালন করেছেন।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি গণতন্ত্রের উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতেন। তাই ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেছেন।
    মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি ।

    আবদুল হামিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরেই পুনর্গঠন কর্মকান্ডের সঙ্গে সঙ্গে সংসদকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেন।

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকার তেজগাঁওস্থ সংসদ ভবনে শুরু হয়। গণপরিষদে ১৯৭২ সালের ০৪ নভেম্বর আমাদের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্যকর হয়।

    আবদুল হামিদ বলেন, স্বাধীনতার এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান প্রণয়ন নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রকামী যেকোনো দেশের জন্য গর্বের। এই সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষরকারী আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    তিনি বলেন, ‘আমি স্বাক্ষর করি ৭১ নম্বরে। এ সংবিধানের আওতায় প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এর ঠিক এক মাস পর একই বছরের ৭ এপ্রিল প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। আজ মহান জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে।’

    তিনি ৫০ বছর আগে জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নবনির্বাচিত স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দেয়া বক্তব্যের স্মৃতিচারণ করেন।

    রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, ‘সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-আপনার কর্তব্যপালনে সংসদের সদস্যবৃন্দ সবসময় আপনার সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।’

    ‘আমি আশা করব, যে ট্র্যাডিশন পার্লামেন্টারি সিস্টেমে আছে, আপনি সেটার প্রতি লক্ষ্য রেখে নিরপেক্ষভাবে আপনার কার্য পরিচালনা করবেন। আমাদের কাছ থেকে আপনি সাহায্য ও  সহযোগিতা পাবেন। এই সংসদের মর্যাদা যাতে রক্ষা পায়, সেদিকে আপনি খেয়াল রাখবেন, কারণ আমরা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি, সে ইতিহাসে যেন খুঁত না থাকে।’

    বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘দুনিয়ার পার্লামেন্টারি কনভেনশনে যে সব নীতিমালা আছে, সেগুলো আমরা মেনে চলতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে যেন এমন একটি সংসদীয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি, যাতে দুনিয়া আমাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এখানে কোন দল বা মতের নয়- এখানে এই দেখব যে, প্রত্যেক সদস্য যেন যাঁর যে অধিকার আছে, সে অধিকার ব্যবহার করতে পারেন। সেদিকে আপনিও খেয়াল রাখবেন বলে আমি আশা পোষণ করি।’

    তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে আপনি আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। পার্লামেন্টারি ট্রেডিশন পুরোপুরি ফলো করতে আমরা চেষ্টা করব।’

    রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, গণপরিষদে কোনো বিরোধী দল না থাকলেও সংসদ অধিবেশন হতো প্রাণবন্ত। যুক্তিতর্ক ও মতামত উপস্থাপন ছিল খুবই আকর্ষণীয়।

    তিনি বলেন, ন্যাপ থেকে নির্বাচিত একমাত্র গণপরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পার্লামেন্টে বক্তৃতা করার সুযোগ চাইলে সবসময়ই সুযোগ পেতেন। স্পিকার মাঝে মধ্যে তাঁকে মাইক দিতে না চাইলেও বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘ওকে সুযোগ দেন, বিরোধী পক্ষের কথা আগে শুনতে হবে।’

    সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিটি গঠন প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শুধু যে আমাদের দলীয় সদস্য থেকে কমিটি করব তা নয়, দল-মত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, জনগণকে যাতে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী একটা সুষ্ঠু সংবিধান দেওয়া যায়, এই উদ্দেশ্যে সকলের মতামত চাইব, এই সংবিধানে মানবিক অধিকার থাকবে, যে অধিকার মানুষ চিরজীবন ভোগ করতে পারবে।’

    বঙ্গবন্ধু সংসদ কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দিতেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রথম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসেই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যদের আর একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, কোনো প্রস্তাব আনার আগে পার্টিতে তা আলোচনা করে তারপর উপস্থাপন করবেন। তা না হলে এর দ্বারা পার্টির শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।’

    আবদুল হামিদ বলেন, সংসদ সদস্যদের অভাব-অভিযোগ, সুখ-দুঃখ সবকিছুর খবর রাখতেন বঙ্গবন্ধু এবং প্রয়োজনে তাদের জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করতেন।

    রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শিষ্টাচার ও পরমত সহিষ্ণুতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে স্পীকার অনেক সময় বিব্রত হতেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হতেন না।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের যত অমিলই থাকুক না কেন বঙ্গবন্ধু বিরোধী দলের নেতাদের যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলতেন।

    তিনি বলেন, আসলে রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও পরমত সহিষ্ণুতার কোনো বিকল্প নেই।

    সূত্র : বাসস

  • ৫১তম বাংলাদেশ স্কাউটস দিবসে প্রধানমন্ত্রী

    ৫১তম বাংলাদেশ স্কাউটস দিবসে প্রধানমন্ত্রী

    ‘৫১তম বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

    নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, এখন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শনিবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার রূপকল্প বাস্তবায়নে সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এই অভিলক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে তৈরি হবে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহযোদ্ধা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে স্কাউট সদস্যরা।

    প্রধানমন্ত্রী সব শিক্ষার্থীকে স্কাউট সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করার জন্য সব-স্তরের স্কাউটস নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

    সরকারপ্রধান বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে নব উদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ স্কাউটস। তিনি এ দিনটিকে ‘বাংলাদেশ স্কাউট দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

    শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক সুখী, সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্কাউটরা সর্বদাই সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত দুটি করে স্কাউট দল বা রোভার স্কাউট দল গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক সুখী, সমৃদ্ধ ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জাতির পিতার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্কাউটরা সর্বদাই সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশ স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দু’টি করে স্কাউট দল বা রোভার স্কাউট দল গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছেলেদের পাশাপাশি গার্ল ইন স্কাউট বা মাদ্রাসাগুলোতেও যেন স্কাউট দল গঠন করা হয় সে বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া সকল শিক্ষার্থীকে স্কাউট সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘আমি আশা করি, সকল পর্যাযের স্কাউট নেতৃবৃন্দ এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে’।

    শেখ হাসিনা বলেন, অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ।’তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস দিবসের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

    তিনি বলেন, অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ। সূত্র : বাসস

  • জাতীয় সংসদের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

    জাতীয় সংসদের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ২০০৮ সাল থেকে এই দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত আছে। যার ফলে একটা স্থিতিশীলতা আছে। মাঝে মাঝে আমাদের প্রতিবন্ধকতা, অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়। তারপরও বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দেশের ৫০ বছরের পথ চলায় জাতীয় সংসদ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে।

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে পথ চলি। তাই ধারবাহিকভাবে ২০০৮ সালের পরে এই দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত আছে। যার ফলে একটা স্থিতিশীলতা আছে। মাঝে মাঝে আমাদের প্রতিবন্ধকতা, অনেক চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়। তারপরও বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আশা করি, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

    শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৪৭ বিধিতে দেওয়া প্রস্তাব উত্থাপন-কালে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব তোলার পর এর ওপর সংসদে আলোচনা শুরু হয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম আলোচনায় অংশ নেন। সংসদ সদস্যদের আলোচনা শেষে আগামী রবিবার এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

    সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি ছিল—বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে সংসদের অভিমত এই যে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুরূপে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং আশা আকাঙ্ক্ষা সফলভাবে বাস্তবায়নে অব্যাহতভাবে কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র হবে সুসংহত, শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, সবার জন্য সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, সংবিধানের এ অঙ্গীকারসমূহ পূরণে আমরা সকলে একযোগে কাজ করব, গড়ে তুলব আগামীর সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা- এই হোক আমাদের প্রত্যয়।’

    এ দিন সরকার প্রধান বলেন, পঞ্চাশ বছরের পথ চলায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান জাতীয় সংসদ অনন্য ভূমিকা পালন করছে। প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, আশাকরি ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ৫০ বছরের পথ চলায় জাতীয় সংসদ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। ৫০ বছরের পথপরিক্রমা অনেক ক্ষেত্রেই মসৃণ ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বারবার সামরিক ফরমান জারি করে সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। গণতন্ত্র ও জাতীয় সংসদের ওপর আঘাত হেনেছ। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল সামরিক ও স্বৈরশাসনের পালাবদলের মধ্যদিয়ে সংবিধানের চার মূলনীতিতে আঘাত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে কালো আইনে পরিণত করা ছিল সংসদীয় ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। পরে ৭ম সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মন্ত্রীর পরিবর্তে সদস্যদের নির্বাচিত করা হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যদের থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হচ্ছে।’

    সিপিএ ও আইপিউতে সভাপতিত্ব ছিল বাংলাদেশের সংসদের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আস্থার প্রতীক। নারীর ক্ষমতায় বাংলাদেশের সংসদ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন সংসদ নেতা।

    তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলের নেতা, একজন  হুইপ, চারজন নারী স্থায়ী কমিটির সভাপতির ভূমিকা পালন করছেন। জাতীয় রাজনীতিকে নারীদের উৎসাহিত করতে সংসদে নারী আসন ৫০ এ উন্নীত করা হয়েছে।

    সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান জাতীয় সংসদ অনন্য ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে মন্ত্রীর পরিবর্তে সদস্যদের নির্বাচিত করা হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যদের থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিপিএ ও আইপিউতে সভাপতিত্ব ছিল বাংলাদেশের সংসদের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আস্থার প্রতীক। নারীর ক্ষমতায় বাংলাদেশের সংসদ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন সংসদ নেতা। বর্তমান সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলের নেতা, একজন হুইপ, চারজন নারী স্থায়ী কমিটির সভাপতির ভূমিকা পালন করছেন। জাতীয় রাজনীতিকে নারীদের উৎসাহিত করতে সংসদে নারী আসন ৫০ এ উন্নীত করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, গত তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের ক্ষেত্র রচনা করেছে। জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময়। দারিদ্র বিমোচন, দুর্যোগ মোকাবিলা, নারী ক্ষমতায়ন, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল।

    শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, মহান জাতীয় সংসদ সরকারের সামগ্রিক উন্নয়নে অংশীদার এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমুহ সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বিরল দৃষ্টান্ত জাতির সামনে রেখে গিয়েছিলেন জাতির পিতা। ইচ্ছা থাকলে যে কত দ্রুত একটা দেশকে পুনর্গঠন, পুনর্বাসন এবং উন্নয়ন করা যায়। আজকে তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠত।

  • বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমূল্য সম্পদ সব প্রজন্মের জন্য: প্রধানমন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অমূল্য সম্পদ সব প্রজন্মের জন্য: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।

    আজ বৃহস্পতিবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বঙ্গবন্ধু ও তার ভাষণের ওপর দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনের আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বলেন, ৫০ বছরে আমাদের যে প্রজন্ম বা তার পরবর্তী প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ভাষণগুলো জানা, তাতে বাংলাদেশটাকে বোঝা, মানুষের মানুষের অবস্থাটা জানা, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি, সবকিছু জানার একটা সুযোগ পাবে। বাংলাদেশটা কীভাবে চলবে সেই দিক-নির্দেশনা তিনি তার ভাষণে দিয়ে গেছেন। কাজেই এটা আমাদের জন্য একটা অমূল্য সম্পদ।

    সরকারপ্রধান বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) তার বক্তব্যে বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সুতরাং এটি আমাদের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।

    দুটি বইয়ের একটি হলো সংসদে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সংকলন ও অন্যটি হলো ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে ডাকা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রদত্ত আইনপ্রণেতাদের ভাষণের সংকলন।

    বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ সদস্য (এমপি), জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশ ও এর জনগণকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি বলেন, ৫০ বছরে আমাদের প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বক্তৃতা জানবে এবং এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে বোঝার, জনগণের অবস্থা, তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সবকিছু জানার সুযোগ পাবে।

    প্রধানমন্ত্রী সংসদের বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সংকলনের প্রশংসা করে বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

    এ জন্য তিনি স্পিকার, সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    সংবিধান প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান, কারণ এতে সর্বস্তরের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতির পিতা বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করেন।

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মাত্র নয় মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের একটি বিরল ঘটনা। এটিকে সম্ভবত গোটা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এর মাধ্যমে গরিব, অভাবী, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধানে সুবিধাবঞ্চিতসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনে সাতটি ছাড়া বাকি সব আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন। বাসস।

  • টুঙ্গিপাড়ার সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে

    টুঙ্গিপাড়ার সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়িতে উৎপাদিত সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে। এই সবজির আরো কিছু  বিতরণ করা হয়েছে গণভবনের কর্মচারি ও গণভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের। তিন মাস আগে (৭ জানুয়ারি, ২০২৩) টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী ইউনিয়নের পূর্বের বিলে অনাবাদি পৈত্রিক জমি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি জলাভূমির অন্তর্গত ওই অঞ্চলের জমিগুলোতে ভাসমান বেডে সবজি ও অন্যান্য ফসল চাষের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

    গতকাল এই তথ্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় যান। পরে তিনি পাটগাতি ইউনিয়নের পূবের বিলে পৈত্রিক সম্পত্তি দেখতে যান। সেখানে পতিত জমিতে সবজি চাষের জন্য বলেন।টুঙ্গিপাড়ার সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে
টুঙ্গিপাড়ার সবজি রান্না হয়েছে গণভবণে

    গত বুধবার পূবের বিলের সবজি গণভবনে নিয়ে আসা হয়। এই সবজি অনেকগুলোই চাষ হয়েছে ভাসমান বেডে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা এই সবজি বেডগুলোর দেখাশুনা করেছেন।

    উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে, লাউ, কুমড়া, করলা, কচুর লতি, কলমি শাক, শসা, ধনে পাতা, লাল শাঁক, কলমি শাঁক ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী দেশের খাদ্য চাহিদার কথা বিবেচনা করে দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি চাষাবাদের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এরইঅংশ হিসাবে তিনি নিজেও গণভবনসহ  নিজের পৈত্রিক জমিতে ফসল চাষ করছেন।

  • তখন বাধা না দিলে বঙ্গবাজারে ভালো মার্কেট করে দিতে পারতাম: প্রধানমন্ত্রী

    তখন বাধা না দিলে বঙ্গবাজারে ভালো মার্কেট করে দিতে পারতাম: প্রধানমন্ত্রী

    বঙ্গবাজারের আগুন অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবচেয়ে কষ্ট লাগে বঙ্গবাজারে একবার ১৯৯৫ সালে আগুন লাগে।  এরপর ২০১৮ সালে আবার আগুন লাগে।  তারপর আমরা এখানে সুপরিকল্পিত মার্কেট করবার প্রকল্প গ্রহণ করি।  তখন সরকারের পক্ষ থেকে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করে দেওয়ার চিন্তা থাকলেও ব্যবসায়ীদের বাধায় তা হয়নি।  শুধু বাধা নয়, একটা রিটও করে এবং হাইকোর্ট এটাকে স্থগিত করে দেয়।

    বুধবার (৫ মার্চ) গণভবনে পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

    সরকার প্রধান বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কান্না সহ্য করা যায় না।  ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি আমরা যতটুকু পারি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাহায্য করবো। এবং কার কী রকম ক্ষতি হয়েছে তা আমরা দেখবো।

    বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘সে সময় যদি এটা স্থগিত না করতো, তাহলে আমরা এখানে একটা ভালো মার্কেট তৈরি করে দিতে পারতাম। তাহলে আজ এই ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতো না।’

    গতকাল মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ছয়টার কিছু আগে থেকে বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো পুরোপুরি নেভেনি। এনেক্সকো টাওয়ারের ভেতরে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরদিন এসব কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

    বঙ্গবাজারে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার ব্রিগেডে হামলাকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বলব আমাদের দেশের কিছু লোকের আচরণ আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। যখনই আগুন লেগেছে, ফায়ার ব্রিগেড সেখানে চলে গিয়েছে আগুন নেভাতে। এর সঙ্গে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার বাহিনী, ভলান্টিয়ার প্রত্যেকে সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। কথা নেই বার্তা নেই, দুপুরের পর একদল লোক লাটিসোঁটা নিয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো শুরু করে।

    স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে পুরো বঙ্গবাজারের হাজার হাজার দোকান। এখানকার কয়েকটি মার্কেটের সব দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদিও ব্যবসায়ীদের কারও কারও অভিযোগ এখানে বড় করে মার্কেট নির্মাণের জন্য ‘পরিকল্পিত’ অগ্নিকাণ্ডের।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঈদের আগে এমন একটা দুর্ঘটনায় কত মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, তাদের সত্যিই যে কষ্টটা, তাদের কান্না, এটা সহ্য করা যায় না। ইতোমধ্যে আমি বলে দিয়েছি তাদের যতটুকু পারি সাহায্য করব এবং কার কী রকম ক্ষতি হয়েছে, এটা দেখব।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ।

  • ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিস যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করেছে কিংবা করবে, সেগুলো যেন ব্যবসায়ীরা পরিত্যাগ করেন। বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাটি যাতে আধুনিক ও নিরাপদ মার্কেট হতে পারে সিটি করপোরেশন সে ব্যবস্থা নেবে।

    বুধবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

    এদিকে বঙ্গবাজারের আগুন এখনও পুরোপরি নেভেনি। বুধবার ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অতিরিক্ত পণ্য মজুত থাকায় আগুন স্থায়ীভাবে নেভাতে সময় লাগছে। তবে, পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ফের আগুনের সূত্রপাত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
    মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।