Category: লিড নিউজ

  • যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন ইমরান খান

    যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন ইমরান খান

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আজ যেকোনো সময়ে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলেছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর জামান পার্কের বাড়িতে যেতে পারে ইসলামাবাদ পুলিশ।

    এর আগে একজন নারী বিচারককে হুমকি দেওয়ার মামলায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ইসলামাবাদের দায়রা আদালত।

    জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট এক সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইমরান খান বিচার বিভাগিয় ম্যাজিস্ট্রেট জেবা চৌধুরী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়।

    গতকাল ওই মামলার তিন পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেন সিভিল জজ রানা মুজাহিদ রহিম। একই সঙ্গে তিনি ‘হাজিরায় বারবার অনুপস্থিত’ থাকার কারণ দেখিয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

    জিও নিউজ আরও জানিয়েছে, শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য বিচারকের সামনে শারীরিরকভাবে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতির অবেদন করেছিলেন ইমরান খান। একই সঙ্গে তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে যোগদানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন নাকচ করেছেন।

    পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন শাহবাজ সরকার ইমরান খানকে কারারুদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর আগে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করতে হেলিকপ্টারে করে লাহোরে গিয়েছিল ইসলামাবাদ পুলিশ। কিন্তু সেবার পুলিশ পিটিআই চেয়ারম্যানকে বাড়িতে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়।

    দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার অভিযানে যাওয়ার আগে পুলিশ তাই বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রটি জিও নিউজকে বলেছে, ইসলামাবাদ পুলিশ ও লাহোর পুলিশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইসলামাবাদ পুলিশ যাতে কোনো বাধা ছাড়াই ইমরান খানের জামান পার্কের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে, সে ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে লাহোর পুলিশ।

    ইসলামাবাদ পুলিশ জামান পার্কে যাওয়ার আগে ইমরান খানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

    উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ তোশাখানা মামলায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে লাহোরে তাঁর জামান পার্কের বাড়িতে গিয়েছিল ইসলামাবাদ পুলিশ। তখন পুলিশকে বলা হয়, ইমরান বাড়িতে নেই। ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার না করেই ফিরে যায় পুলিশ।

  • বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে : তথ্যমন্ত্রী

    বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে : তথ্যমন্ত্রী

    আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০০৮ সালে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তারা নির্বাচন করলেও প্রথমে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। পরে উপ-নির্বাচনে আরো দুটি আসন পায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা বিশাল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এ নির্বাচনে তারা প্লেয়ারও হায়ার করেছিল। ওই নির্বাচনে হেভিওয়েট রাজনীতিক ড. কামাল হোসেনকে তারা হায়ার করেছিল। কিন্তু হায়ারে খেলতে গিয়ে তিনি ভালো খেলেননি। এ বিশাল জোট নিয়ে তারা মাত্র ৭টি আসন পেয়েছিল। বিএনপির জনপ্রিয়তা এর থেকেই স্পষ্ট। আমি আশা করব, আগামী নির্বাচনে তারা যেন ৩০টির বেশি আসন পায়।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না। ২০০৮ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সেটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সে নির্বাচনে তারাই ৩০টির বেশি আসন পায়নি। খালেদা জিয়ার সেই ভবিষ্যদ্বাণী তার বেলাতেই কার্যকর হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের ভবিষ্যদ্বাণীও যদি তার বেলাতেই সত্য হয় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। মির্জা ফখরুল যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এ ধরনের অবান্তর কথা বলা সমীচীন নয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশে ভোট হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সুতরাং তারা চাইলেও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে আসতে পারবে না। যেহেতু কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে সেহেতু আশা করব তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।’

     

  • শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে এডিবি’র সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে এডিবি’র সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র কাছ থেকে আরও সহায়তা চেয়েছেন।

    আজ মঙ্গলবার এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাৎসুগু আসাকাওয়া’র নেতৃত্বে ব্যাংকটির সফররত একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ সহায়তা চান।

    বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বাসস

    বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে, প্রধানত, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে আরও সহায়তা কামনা করেন।

    স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিল সম্পর্কিত কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা এডিবিকে এই ব্যাপারে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে এডিবি-র একজন সহ-সভাপতি বাছাই করারও আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এ সময় তিনি এই আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংককে সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য, বিশেষ করে দুঃসময়ে ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাৎসুগু আসাকাওয়া বলেন, এডিবি একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে।

    আসাকাওয়া আরো বলেন, ‘এডিবি বাংলাদেশের সাথে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে। আগামী দিনগুলোতে আমাদের মধ্যেকার এই অংশীদারিত্ব আরো জোরদার হবে।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার আকাক্সক্ষার যাত্রায় এডিবি পাশে দাঁড়াবে।

    এডিবি প্রধান কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

    জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য বজায় রেখে সফলভাবে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

    এ সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, ইআরডি সচিব শরিফা খান এবং বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত আবদুল গাফফার আলবুলুশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ওমানকে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করার আহ্বান জানান।

    তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ প্রতি বছর ১৫ লাখ টন থেকে উন্নীত করতে বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন যে ওমান মাছ, মাংস, চাল, শাকসবজি ও পাটজাত পণ্যসহ কৃষিজাত পণ্য আমদানি করতে পারে।

    তিনি ওমানকে বাংলাদেশ থেকে আইটি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও নার্সসহ দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।

    বর্তমানে ওমানে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। রাষ্ট্রদূত আব্দুল গাফফার আলবুলুশি সরকার থেকে সরকার ব্যবস্থার অধীনে ওমান থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

    তিনি বলেন, ওমানের ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে এ বিষয়ে একটি অনুরোধ পত্র পাঠানো হয়েছে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এমবাসেডার এট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশি-বিদেশি এজেন্সি উন্মুখ হয়ে আছে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে: প্রধানমন্ত্রী

    দেশি-বিদেশি এজেন্সি উন্মুখ হয়ে আছে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে: প্রধানমন্ত্রী

    কাতারে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে সোমবার (১৩ মার্চ) গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অনেক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় এজেন্সি উন্মুখ হয়ে আছে। ৪০ জনের নামে (ওয়াশিংটন পোস্টের বিজ্ঞাপন) যেটা এসেছে, ওটার পেছনেও কিছু অ্যাম্বিশন আছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। যাদের ইচ্ছা, তারা জনগণের কাছে যাবে। নির্বাচন যাতে অবাধ-সুষ্ঠু হয়, তার জন্য নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনী বা সংস্কার আনা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর যে সন্ত্রাস, সংঘাত, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, সেটি যদি ভেবে দেখেন। ২০০৬ সালের পর ভোটারবিহীন ভোটার তালিকা, ২০০৭-এর নির্বাচন। এই ঘটনাগুলোর যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্যই আমরা এই সংস্কারগুলো করে দিয়েছি। এখন জনগণের ওপর নির্ভর করে যে তারা কীভাবে চায়? নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের সবসময়ই আছে, জনগণ যেন ভোট দিতে পারে।’

    সাম্প্রতিক উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছে। তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে গেছে। এই ভোটগুলো নিয়ে তো কেউ একটা কথাও বলতে পারেনি। সরকারে থাকলেও যে নির্বাচন সবসময় নির্বিঘ্ন হতে পারে, শান্তিপূর্ণ হতে পারে, অবাধ নিরপেক্ষ হতে পারে—সেটা তো আমরা প্রমাণ করেছি। আর  কী প্রমাণ করতে হবে, সেটাই আমার প্রশ্ন।’

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আমরা সংগ্রাম করেছি। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। এখন জনগণের এটা হচ্ছে দায়িত্ব।’

  • ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে হবে কেন?: প্রধানমন্ত্রী

    ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে হবে কেন?: প্রধানমন্ত্রী

    সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে বলেন , ‘প্রথমেই একটা কথা বলি, এটা বিবৃতি ঠিক না। এটা একটা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, ৪০ জনের নাম ব্যববহার করা হয়েছে। সেটা একজন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে। এটার উত্তর কী দেবো জানি না। তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে- যিনি এতো নামিদামী নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত তার জন্য ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দিতে হবে কেন বিদেশি পত্রিকায়। এটাই আমার প্রশ্ন, আর কিছু না।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে যাই হোক আমাদের দেশে কতগুলো আইন আছে। সেই আইন অনুযায়ী সব চলবে এবং সেটা চলে। আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করি। যারা ট্যাক্স ঠিক মতো দেয় তার জন্য আলাদা বিভাগ আছে। কেউ যদি এ সমস্ত বিষয়ে আইন ভঙ্গ করে বা শ্রমিকদের কোন অধিকার কেড়ে নেয় শ্রম আদালত আছে সেটা দেখে।’ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে এই কথা গুলো বলেন।

    ড. ইউনূসের জন্য বিশেষ কিছু করার নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ষড়যন্ত্র করার আর কোন সুযোগ নেই কারন পদ্মা সেতু হয়ে গেছে।

    বিশ্বের বরেণ্য ৪০ জন ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি লিখেন। যা ওয়াশিংটন পোস্টে প্রায় কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন আকারে গত ৭ মার্চ এ খোলা চিঠিটি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়: নোবেল পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন অনবদ্য পরিশুদ্ধ মানুষ এবং তার কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশ সরকারের অন্যায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বারবার হয়রানি এবং তদন্তের মধ্যে পড়ছে। এ অবস্থায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরদাতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনায়: প্রধানমন্ত্রী

    ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনায়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সফররত যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফসিডিও) প্রতিমন্ত্রী (ইন্দো-প্যাসিফিক) অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান আজ রোববার গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন।’

    বৈঠকে তারা নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    আগামী সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ওয়েস্টমিনস্টার ধরনের গণতন্ত্র অনুসরণ করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এটি নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গণমাধ্যম এখানে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। একসময় দেশে একটি মাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ছিল, কিন্তু, তার সরকার বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেলকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এখন, ২৪টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে এবং আরও টিভি চ্যানেল পাইপলাইনে রয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের ইন্দো প্যাসিফিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) সদস্য থেকে উত্তোরণের পথে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের পরবর্তী ধাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান বলেন, তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লোকদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।

    রোহিঙ্গা শিবিরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সুন্দরভাবে মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রশংসাও করেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীতে বিপুলসংখ্যক নতুন শিশুর জন্ম হয়, যা বাংলাদেশের ওপর বোঝা আরও তীব্র করছে।

    কোভিড-১৯ মহামারি গোটা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আরও খাদ্য উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে।

    অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন উপস্থিত ছিলেন।

  • সিরিজ জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    সিরিজ জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয় করায় অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটের জয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফম্যান্স করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। তার কারণেই ইংল্যান্ডকে ১১৭ রানে অলআউট করা সম্ভব হয়। তার শিকার হয়ে একের পর এক সাজঘরে ফেরেন মঈন আলী, স্যাম কারেন, ক্রিস ওকস ও ক্রিস জর্ডান।

    একটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ, সাকিব আল হাসান, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ১১৮ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ বলে তিন চারে ৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

  • ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পনের প্রায় আড়াই দশক পেরিয়েছে বাংলাদেশের। দীর্ঘ এ সময়ে টেস্ট খেলুড়ে প্রায় সব দেশকেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হারিয়েছিল টাইগাররা। বাকি ছিল শুধু ইংল্যান্ড। তখন ম্যাচের শেষ মুহূর্ত। বাংলাদেশও জয়ের কাছাকাছি। কিন্তু জোফরা আর্চারের ১৪৮ কিলোমিটার গতির বলটি আফিফের স্টাম্প ভেঙে দিতে আকস্মিকভাবে মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে তখন পরাজয়ের শঙ্ক উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। এবার সেই ইংলিশ দুর্গও ভেদ করতে সক্ষম হলো সাকিব আল হসানের দল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই খেলায় জয়ের মধ্য দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা।

    মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার (১২ মার্চ) বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিল সাকিব আল হসানের দল।

    মিরপুরে জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। হাতে ছিল ৪ উইকেট। এমন সমীকরণের সামনে ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন ক্রিস জর্ডান। এই পেসারের প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করেন শান্ত। এরপর একই ওভারে তাসকিন আরও একটা বাউন্ডারি হাকালে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

    সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি লিটন দাস। ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন তিনি। কিছুতেই যেন খোলস ছেড়ে বের হতে পারছেন না এই ওপেনার। ৯ রান করে লিটন সাজঘরে ফেরায় ভাঙে ১৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।

    লিটনের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রনি তালুকদার। এই সিরিজ দিয়ে দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা এই ওপেনার উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। জোফরা আর্চারের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে নামের পাশে যোগ করেছেন ১৪ বলে ৯ রান।

    ২৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার ফিরলে বাংলাদেশের আকাশে শঙ্কার কালো মেঘ জমে। তবে শান্ত-হৃদয় জুটিতে সেই শঙ্কার মেঘ উড়ে গেছে। দুই তরুণের সাবলীল ব্যাটিংয়ে দশম ওভারে দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করে বাংলাদেশ। তবে এরপর আর বেশি দূর এগোতে পারলেন না হৃদয়।

    ১১তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে আসেন রেহান আহমেদ। অভিষিক্ত এই স্পিনার নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তার করা শট এবং ওয়াইড ডেলিভারীতে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন তিনি।তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৭ রান।

    এরপর মিরাজ এবং শান্তর ৪১ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তবে ২০ রান করে মিরাজ সাজঘরে ফিরলে আবারও ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। এরপর সাকিব-আফিফ দ্রুত ফিরলে চেপে ধরে ইংলিশরা। তবে শান্ত এক পাশ আগলে রেখে ব্যাটিং করেছেন। তার – রানের ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

    এর আগে সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বেশ ধুঁকেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যদিও ভালোই শুরু করেছিলেন দুই ইংলিশ ওপেনার ডেভিড মালান এবং ফিল সল্ট। তবে তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান তাসকিন আহমেদ। দলীয় ১৬ রানে ডেভিড মালানকে ফিরিয়ে ইংলিশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এই পেসার। সাজঘরে ফেরার আগে এই ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

    শুরুতে মালানকে হারালেও খুব বেশি চাপে নেয়নি ইংল্যান্ড। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছিলেন ফিল সল্ট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন মঈন আলি। তবে আক্রমণে এসেই ফিল সল্টকে ফেরান সাকিব আল হাসান। সল্টকে সরে যেতে দেখে অফ স্টাম্পের ওপর বল রেখেছিলেন সাকিব। সে বলে টার্নের সঙ্গে ছিল বাউন্স। গতি বৈচিত্র্যে ডানহাতি ব্যাটারকে পরীক্ষায় ফেলছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সল্ট। ১৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় তার নামের পাশে তখন ২৫ রান।

    ধারাবাহিকভাবে ওপেনিংয়ে খেলা জস বাটলার আজ খেলতে নেমেছিলেন চারে। তবে ব্যাটিং অর্ডার বদলে সুফল পেলেন না তিনি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হাসান মাহমুদের ইয়র্কারে কাটা পড়লেন। আগের ম্যাচে ক্যাচ আউট হলেও এবার আর নিজের স্টাম্প রক্ষা করতে পারলেন না তিনি। হাসানের স্বপ্নের মতো ডেলিভারির কোনো জবাব ছিল না ইংলিশ অধিনায়কের কাছে। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬ বলে ৪ রান।

    সল্ট ও বাটলারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরার দায়িত্বে ছিলেন মঈন আলি। তিনি সেটা মেটাতে গেলেন পাল্টা আক্রমণে। কিন্তু তাতে দলের বিপদ আরও বাড়িয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। মিরাজের বলে সুইপ করে ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েন ডিপ মিডউইকেটে। একটি করে ছক্কা ও চারে মঈন করেন ১৭ বলে ১৫ রান।

    ৫৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে স্যাম কারান এবং বেন ডাকেটের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল ইংল্যান্ড। তবে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না কারান। ১৬ বল খেললেও ১২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এই তরুণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন মিরাজ।

    একই ওভারে রান আউটের শিকার হয়েছেন ক্রিস ওকস। মিরাজের করা ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে প্রান্ত বদল করতে গিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। আর তাতে তিন অঙ্ক ছুতেই সাত উইকেট হারায় ইংলিশরা।

    এরপর নিচের সারির ব্যাটাররাও সুবিধা করতে পারেননি। যারফলে বেশি দূর এগোয়নি তাদের ইনিংস। শেষদিকে অভিষিক্ত রেহান আহমেদের ব্যাট থেকে ১১ রান আসলে ২০ ওভার শেষে ১১৭ রান তুলে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ইনিংসে ১২ রান খরচ করে ৪ উইকেট শিকার করেছেন মিরাজ। যা তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

  • স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়াবে আন্তর্জাতিক বাজারে

    স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়াবে আন্তর্জাতিক বাজারে

    বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের নির্বাহী পরিচালক ওয়েনে গর্ডন বলেন, ‘আশা করছি ২০২৩ সালেই সোনার দাম প্রতি আউন্স দুই হাজার ডলার অতিক্রম করবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলেও এখন আবার দুর্বল হচ্ছে। এ অবস্থায় ডলারের বিপরীতে নিরাপদ ঢাল হতে পারে সোনা।’ বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের কারণে সোনার বার, কয়েন ও অলংকারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান হলুদ ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ায় এ বছর সোনার দাম প্রতি আউন্স দুই হাজার ডলার অতিক্রম করবে এবং বছরজুড়েই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তাঁদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি এবং মন্দা আতঙ্কে বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ করছেন অনেকেই।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স দুই হাজার ডলার ছাড়ায় ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে। এরপর দাম আবার কিছুটা কমে আসে। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল প্রতি আউন্স এক হাজার ৮১৪ ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার মূল্য অনেক। বিশেষ করে অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে। মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামলাল আহমদ বলেন, ‘মূল্যবান ধাতু সোনা সম্পর্কে আস্থা রাখা যায় যে নিকট ভবিষ্যতে এটির দাম কমবে না, বরং বাড়বে। এমনকি আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির কারণে দাম কিছুটা কমলেও এটির স্বাভাবিক প্রবণতা হচ্ছে ঊর্ধ্বমুখী থাকা।’ তাঁর মতে, এ কারণেই সোনার চাহিদা ও দাম বাড়ছে।

     

  • বর্তমানে দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে: প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমানে দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। জনসভায় বিএনপি আমলে দেশে খাদ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো মিথ্যা কথা বলে। ওরা আমাদের স্বাধীনতার সুফল ব্যর্থ করতে চায়। তারা এতে সফল হবে না, আমরা তা হতে দেব না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

    শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহের বিভাগীয় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট ছিল। বোমা হামলা, দুর্নীতি, লুটপাট জঙ্গিবাদ ছিল তাদের শাসনামলে। মানুষকে তারা কিছুই দিতে পারেনি। বিএনপির সময় দেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। এখন দেশে ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নাকি কিছুই করিনি। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে বলে বিদেশে বসে রাজনীতি করতে পারছে। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ দিয়েছি বলেই তো এত কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। তারা আমাদের সুযোগ ভোগ করে আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও করে দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নাকি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি শুধু অঙ্ক আর উর্দুতে পাশ করেছেন। উর্দু পাকিস্তানের ভাষা- এটা তার খুব প্রিয় ভাষা। আর অঙ্কতো টাকা গোণা লাগে- ওই দুইটাতেই পাশ করেছেন আর কোনোটাতে পাশ করতে পারেনি। জিয়াউর রহমান ছিল মেট্রিক পাশ। তাদের ছেলে একবার এই স্কুল ওই স্কুল শেষ কী পাশ করেছে কেউ জানে না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের ঘর দখল করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গৃহহীন ও রাস্তায় মানুষকে ঘর করে দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না।

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা আজকে প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। যেখানে বিদ্যুৎ নাই আমরা সোলার প্যানেল করে দিচ্ছি। অনেক দুর্গম এলাকায়ও সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।

    এর আগে জনসভায় যোগ দিয়ে একযোগে ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সমাবেশস্থল সার্কিট হাউজ মাঠ থেকে একযোগে ১০৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং প্রায় ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান।

    পরে দুপুর ২টা ৫৮ মিনিটে জনসভা মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন।

    একই সঙ্গে নৌকা প্রতীকের রেপ্লিকা দেওয়া হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।