Category: লিড নিউজ

  • কেঁপে গেছে সেন্টমার্টিন, বাতাসের গতি ১৪৭ কিমি

    কেঁপে গেছে সেন্টমার্টিন, বাতাসের গতি ১৪৭ কিমি

    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র তাণ্ডবে এখনো কাঁপছে সেন্টমার্টিনের ভবনগুলো। সমুদ্র পেরিয়ে কক্সবাজারের স্থলভাগে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় মোখা। বর্তমানে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের ওপর দিয়ে ঝড়টি অতিক্রম করছে। সেন্টমার্টিনে এখন বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার।

    রোববার (১৪ মে) আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে এতথ্য জানা যায়। আবহাওয়া অফিস জানায়, মোখার তাণ্ডবে সেন্টমার্টিনের বাড়িঘর ও দুর্বল স্থাপনার রিসোর্ট ভেঙে পড়েছে। তবে ঝড়ের তাণ্ডবে প্রাণহানির বা বড় রকমের ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি। এর আগে আবহাওয়া দফতরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ অতিক্রম করছে। আমরা ১১টার দিকে সেন্টমার্টিনে বাতাসের গতিবেগ পেয়েছিলাম ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। তবে এখন তা ১০০ কিলোমিটারের বেশি। সেখানে থাকা আমাদের কর্মীরা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে সেখানকার ভবন কাঁপছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাতাসের গতি আরও বাড়বে।’

    এদিকে বিকেল ৪টার দিকে জোয়ার শুরু হবে জানিয়ে জলোচ্ছ্বাস হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন এ আবহাওয়াবিদ। তিনি বলেন, ঝড়ের প্রভাবের পাশাপাশি বিকেলে জোয়ার শুরু হলে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হবে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফের নিম্নাঞ্চল। ওই সময় ৮ থেকে ১২ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে সন্ধ্যা নাগাদ পুরো উপকূল অতিক্রম করবে মোখা। যদিও এর অগ্রভাগের প্রভাবে শনিবার গভীর রাত থেকেই উপকূলে শুরু হয় বিরূপ পরিস্থিতি।

    এর আগে দুপুর ১টায় আবহাওয়া অফিসের সবশেষ ব্রিফিংয়ে পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, মোখার কেন্দ্রের আঘাত পড়ছে টেকনাফের ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে মিয়ানমার উপকূলে। এতে পুরো কক্সবাজার উপকূল হুমকিতে থাকলেও, বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা নেই।

    আবহাওয়া দফতর কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

    এ ছাড়া উপকূলীয় আরও ১১টি জেলায় বহাল থাকছে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।

    ঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপর, ভোলাসহ উপকূলীয় ১০ জেলায় ৫ থেকে ৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী ফোরামে তথ্যমন্ত্রী :  যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, পর্তুগালের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক

    ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী ফোরামে তথ্যমন্ত্রী : যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, পর্তুগালের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক

    স্টকহোমে দ্বিতীয় ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টেরিয়াল ফোরামে যোগ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    জনসংযোগ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ জানান, শনিবার স্টকহোমে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ ফোরামের সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং পাশাপাশি বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদজা লাহাবিব (Hadja Lahabib), যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদ (Lord Ahmad) এবং পর্তুগালের সেক্রেটারি অভ স্টেট ফ্রান্সিসকো আন্দ্রের (Francisco Andre) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করবে যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়াম

    যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও জাতিসংঘ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্কের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখবে এবং দেশটি রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সক্রিয় থাকবে।

    ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী ফোরামে তথ্যমন্ত্রী : যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, পর্তুগালের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক
    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সুইডেনের স্টকহোমে শনিবার অনুষ্ঠিত ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টেরিয়াল ফোরামের সাইডলাইনে পর্তুগালের সেক্রেটারি অভ স্টেট ফ্রান্সিসকো আন্দ্রের (Francisco Anfre) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    বৈঠকে তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে বিশেষ আলোকপাত করেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী এ সময় রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার ঐতিহাসিক অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের  অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

    বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদজা লাহাবিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয় এবং বেলজিয়ামের মন্ত্রী এ বিষয়ে আন্তরিক সহায়তার মনোভাব জানান। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন তারা।

    আগামী বছর ঢাকায় কনসুল্যার মিশন খুলতে পারে পর্তুগাল

    পর্তুগালের সেক্রেটারি অভ স্টেট ফ্রান্সিসকো আন্দ্রে বৈঠকে মন্ত্রী হাছান মাহমুদকে জানান, পর্তুগাল সরকার আগামী বছরের মধ্যে ঢাকায় একটি কনস্যুলার মিশন খোলার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশিদের পর্তুগাল ভ্রমণ সহজ হবে। তথ্যমন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

    ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মন্ত্রী ফোরামে তথ্যমন্ত্রী : যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, পর্তুগালের সাথে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক
    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সুইডেনের স্টকহোমে শনিবার অনুষ্ঠিত ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টেরিয়াল ফোরামের সাইডলাইনে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী লর্ড আহমদের (Lord Ahmad) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    ফ্রান্সিসকো আন্দ্রে পর্তুগালে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশিদের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মকান্ড এবং পরিশ্রমী মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, পর্তুগিজ সমাজের সাথে মিলেমিশে তারা অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

    সুত্রঃ পরিচালক-জনসংযোগ মন্ত্রণালয়

  • দেশবিরোধী প্রচারণা রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নিন : স্টকহোমে তথ্যমন্ত্রী

    দেশবিরোধী প্রচারণা রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নিন : স্টকহোমে তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ইউরোপে বসবাসের সুবিধার অপব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে দেশবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত। ইউরোপ প্রবাসী দেশপ্রেমিক বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব হীন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।
    আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুইডেনের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় ‘ইইউ ইন্দো-প্যাসিফিক মিনিস্টেরিয়াল ফোরামে’ অংশ নিতে আজ শনিবার স্টকহোমে পৌঁছালে তথ্যমন্ত্রীকে বিমান বন্দরে স্বাগত জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেহেদী হাসান এবং সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ২০০৭-২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনের সময় সবক্ষেত্রে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রেখে চলেছেন।’
    সুইডেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ড. ফরহাদ আলী খান, সহ-সভাপতি সিরাজুল হক খান রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন দুলু, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক আফসার আহমেদসহ সুইডেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ নরডিক শাখার নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
    ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) ৬০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আসছে। আমরা ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রেখেছি ও ঝড়টি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।’
    ঘূর্ণিঝড়ের সময় পানি জমে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুতরাং সেই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।’
    তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ (গ্যাস ও বিদ্যুত বন্ধ) সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।
    শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমরা এই ধরনের ব্যবস্থা নিব ও নিচ্ছি।’
    পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
    মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান জানান, আজ এক বিশেষ আবহাওয়া ব্রিফিংয়ে সর্বশেষ সমুদ্র উপকূল বন্দর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে।
    আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ ১৪ মে রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-মিয়ানমার উত্তর উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
    কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় আজ সন্ধ্যার মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র : বাসস

  • পাঁচ বোর্ডের রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

    পাঁচ বোর্ডের রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

    ঘূর্ণিঝড় মোকার কারণে এসএসসি/সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী রোববারের (১৪ মে) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ মে) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’র কারণে চলমান এসএসসি/সমমান পরীক্ষা ২০২৩-এর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন আগামী ১৪ মে (রোববার) অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হলো।

    এতে আরও বলা হয়, অন্যান্য বোর্ডের এই তারিখের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    সারাদেশে গত ৩০ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এখন মাঝপথে। ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়, যার নাম দেওয়া হয়েছে মোখা। এটি বাংলাদেশে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আগামীকাল শনিবার উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করবে এবং রোববার দেশের উপকূলে এটি আঘাত হানবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পাঁচটি বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করল কর্তৃপক্ষ।

  • ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য ৬টি অগ্রাধিকার উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত মহাসাগর অঞ্চলের সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য ৬টি অগ্রাধিকার উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা জোরদার করা, অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য সামুদ্রিক কূটনীতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
    আজ সন্ধ্যায় এখানে ২ দিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স (আইওসি) উদ্বোধনকালে তিনি একটি টেকসই পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে প্রত্যাবাসনে সক্রিয় বৈশ্বিক সহায়তা কামনা করেছেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, “ভারত মহাসাগর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং এ অঞ্চলের সব দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। আমি এ ৬ষ্ঠ ভারত মহাসাগর সম্মেলনে ছয়টি অগ্রাধিকারের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। আমরা সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক প্রণয়ন করেছি।”
    বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এই সম্মেলনের আয়োজন করছে।
    মরিশাসের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২৫টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।
    এছাড়া ডি-৮, সার্ক ও বিমসটেকের প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০ জন বিদেশী অতিথি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
    উদ্বোধনী অধিবেশনে মরিশাসের প্রেসিডেন্ট পৃথ্বীরাজসিং রূপন, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসেম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সেকেন্ড মন্ত্রী ড. মালিকী ওসমান সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
    প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী ভারত মহাসাগরে সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের উন্নয়নের জন্য “সামুদ্রিক কূটনীতি” গড়ে তুলতে হবে, যার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ অঞ্চলের অনেক দেশের জলবায়ু ঝুঁকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
    তিনি সমুদ্রে জরুরী পরিস্থিতিতে সাড়াদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নৌচলাচল ও ওভারফ্লাইটের স্বাধীনতার অনুশীলনকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে ‘শান্তি সংস্কৃতি’ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেক নারীদের বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
    তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, নিয়ম-ভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এই অঞ্চলে ও অঞ্চলের বাইরেও ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই উন্নয়নকে সহজতর করবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি নাগরিককে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে।
    তিনি বলেন, “এই দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ঠেকিয়েছে। এখন, আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন চাই।”
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসাবে বহু শতাব্দী ধরে সামুদ্রিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল এবং এটি অনেক আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। বাংলাদেশ ভারতীয় মহাসাগর রিম অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের কাউন্সিলেরও বর্তমান সভাপতি।
    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুরনো ও অপ্রচলিত চ্যালেঞ্জে বিশ্বাস করে।
    তিনি বলেন, “আমরা এই অঞ্চলে শান্তির জন্য আমাদের ভূমিকা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি এবং একটি সহনশীল ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে অন্য সব দেশও একই কাজ করবে বলে আশা করি।”
    তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০% এবং তেল পরিবহনের ৬০% এই অঞ্চলের মহাসাগর ও সমুদ্র পথে পরিচালিত হয় এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রকৃত ব্যয় গত ১৫ বছরে তিনগুণ বেড়েছে।
    তিনি বলেন, “মহাসাগর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। তবুও অনেক সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। ”
    তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক ও আফ্রিকান অঞ্চলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। এ অঞ্চলে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৬৪% এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৬০% রয়েছে।
    তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, অঞ্চলটি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলিকে সকলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
    তিনি আরো বলেন, একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘মেরিটাইম জোন’-এর সীমানা নির্ধারণ করতে, সীমানার মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষমতা গড়ে তুলতে করতে এবং সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানের সুবিধার্থে “টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪” প্রণয়ন করেছিলেন।
    তিনি বলেন, এই আইনটি “সমুদ্রের আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশন, ১৯৮২” গৃহীত হওয়ার ৮ বছর আগে কার্যকর হয়েছিল, যখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে উপলব্ধি সীমিত ছিল।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের থিম – “শান্তি, অংশীদারিত্ব ও সমৃদ্ধি: একটি সহনশীল স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যতের দিকে”- খুবই উপযুক্ত ও সময়োপযোগী।
    তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে এ থিমটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
    তিনি বলেন, “এগুলি বিশ্বের সকল দেশের জন্য অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বৈশ্বিক মন্দা, খাদ্য, জ্বালানি এবং সার সংকটের ফলে বিশ্বের সকল মানুষের জীবনযাত্রার অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলও জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ”
    তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে, এই অঞ্চলের দেশগুলিকে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে এবং একটি উজ্জ্বল অঞ্চলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
    তিনি বলেন, কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে “শান্তির গ্যারান্টি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ ডায়ালগ, ২০২৩” শীর্ষক একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।
    তিনি বলেন, সেই প্রস্তাবে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতার দেয়া ভাষণ থেকে ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি রেজুলেশনের ১৪তম অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নীতিমালার অংশ।
    এতে লেখা আছে: “দারিদ্র্য, ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি, নিরক্ষরতা ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং গঠনমূলক সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার চেতনায় সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরীতা না করার উপর জোর দান এই উদ্দেশ্যগুলি অর্জনে সহায়ক হবে।”
    তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক, কারণ বাংলাদেশ একটি সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছে।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদ্ধৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে অর্থপূর্ণ সহযোগিতা, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার আকারে বাংলাদেশের কার্যকর ‘অংশীদারিত্ব’ প্রয়োজন।
    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মানবজাতির টিকে থাকার জন্য শান্তি অপরিহার্য; এটি সারা বিশ্বে নারী ও পুরুষের গভীরতম আকাঙ্খার প্রতিফলন।” সেই ভাষণে তিনি ভারত মহাসাগরকে একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বজায় রাখার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছিলেন।
    তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে জুলিও-কুরি শান্তি পদক দেওয়া হয়েছিল।
    বঙ্গবন্ধুর দর্শন অনুসরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তির প্রবল প্রবক্তা হয়ে উঠেছে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, আমরা “শান্তির সংস্কৃতি” বিষয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করি যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল।
    তিনি বলেন, পরবর্তীকালে, জাতিসংঘ ২০০০ সালকে “শান্তির সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক বছর” হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং ২০০১-২০১০ সালকে “শান্তির সংস্কৃতি ও অহিংসার দশক” হিসাবে মনোনীত করেছে।
    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ “শান্তির সংস্কৃতি”কে একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে দেখে যা শান্তির সকল দিককে শক্তিশালী করবে। এ কারণেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা ও শান্তি-নির্মাণের প্রচেষ্টায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় আমাদের সৈন্যদের অবদান বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।”
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬%-এ নেমে এসেছে এবং আমাদের মাথাপিছু আয় এক দশকের মধ্যে তিনগুণ বেড়ে ২৮২৪ ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব মানদ- পূরণ করেছে”।
    শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য সহায়ক শক্ত ভৌত অবকাঠামোসহ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চাইছে। গত বছর আমরা নিজস্ব-অর্থায়নে নির্মিত ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ উদ্বোধন করেছিলাম।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমরা রাজধানীতে প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা উদ্বোধন করেছি। আমরা শীঘ্রই চট্টগ্রামে নদীর তলদেশে ৩.২ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল সম্পূর্ণ করব যা দক্ষিণ এশিয়ায় এই ধরণের প্রথম টানেল।
    তিনি বলেন, “আমাদের আকাঙ্খা হল ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক, উন্নত দেশ, ‘সোনার বাংলা’তে রূপান্তর করা এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও জলবায়ু সহনশীল ব-দ্বীপ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য আমাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার এবং সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

    সূত্র : বাসস

  • অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোখা’

    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোখা’

    দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
    আজ সকাল সাড়ে ৮টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আজ ভোর ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।
    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
    চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
    উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং সেইসাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

    সূত্র : বাসস

  • সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় তহবিল বিতরণ করে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধনী দেশগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। অনেক দেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তাদের সহায়তা প্রয়োজন।’ তিনি নগরীর একটি হোটেলে ‘অ্যাকসিলারেটিং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ টুওয়ার্ডস স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন।
    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, সিআরআই, সুচনা ফাউন্ডেশন ও চ্যাথাম হাউস লন্ডনের মতো বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইভেন্টের দুটি অংশ ছিল। প্রথম অংশে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিশেষজ্ঞদের প্রশোত্তরপর্ব। মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র  মহাপরিচালকের উপদেষ্টা এবং চ্যাথাম হাউস কমিশনের ইউনিভার্সাল হেলথ বিষয়ক সম্মানিত কমিশনার  সায়মা ওয়াজেদ এটি পরিচালনা করেন। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চ্যাথাম হাউস কমিশনের কো-চেয়ার হেলেন ক্লার্ক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
    শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে এখনও উন্নয়ন হয়নি বা যেগুলো স্বাস্থ্যের দিকে খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারেনি, সেখানে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে সহায়তার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য তহবিল গঠন করা উচিত। কারণ স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা করা উচিত।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরপর বোঝা যাবে কোন দেশের বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এটি নির্দিষ্ট করা যেতে পারে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সকলকে একসাথে এটি করতে হবে।’
    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউএইচসি বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের  বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য ও যুব নেতৃবৃন্দসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

  • ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন সুপার সাইক্লোনের দিকে

    ঘূর্ণিঝড় মোখা এখন সুপার সাইক্লোনের দিকে

    দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হতে চলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। বুধবার সকালেই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ আরও পশ্চিমে সরে গিয়ে পরিণত হয়েছে অতি গভীর নিম্নচাপে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই সেই অতি গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নেবে ঘূর্ণিঝড় মোখা।

    আবহবিদরা বলছেন, দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে ‘মোখা’। আর সেই জন্যই এক দিনের মধ্যেই তা পরিণতি পেতে চলেছে গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে।

    আবহবিদরা মনে করছেন, এভাবে শক্তি সঞ্চয় করলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পর তা দু’দিনের মাথাতেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে।

    ১৩ মে সন্ধ্যা থেকে ১৪ মে ভোরে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় আকারে আঘাত হানতে পারে। কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনের নিম্ন এলাকায় আঘাত হানবে প্রথমে। এরপর চট্টগ্রাম এলাকায় আঘাত করবে। তবে এর গতি পরিবর্তন হতে পারে যেকোনও সময়।

    নিম্নচাপ সংক্রান্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৃতীয় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি (বুধবার) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১৫ কি.মি. দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৩৫ কি.মি. দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৪৬৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল পর্যন্ত উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে ক্রমান্বয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

    দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

     বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থান করছে অতি গভীর নিম্নচাপটি। তবে ক্রমেই সেটি সরে যাচ্ছে আরও পশ্চিমে এবং উত্তর-পশ্চিমে। সেখানেই সরে গিয়ে তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড়।

    বুধবার সকালের তুলনায় পোর্ট ব্লেয়ারের থেকে দূরত্ব কমিয়েছে অতি গভীর নিম্নচাপটি। বর্তমানে এই অতি গভীর নিম্নচাপ পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

    অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ১৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে। মিয়ানমারের সিতওয়ে থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৩৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

    অতি গভীর নিম্নচাপটি বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে। এই অঞ্চলেই শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপ দ্রুত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে।

    অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মোখার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। সমুদ্রে বাধা না পেয়ে তা হু-হু করে এগিয়ে আসবে উপকূলের দিকে। তবে উপকূলে আছড়ে পরার আগেই শক্তিক্ষয় করতে শুরু করবে মোখা। শনিবার থেকে ধীরে ধীরে শক্তি কমতে শুরু করবে মোখার। রোববার দুপুরের দিকে কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের কাউকপুর ওপর আছড়ে পড়তে পারে মোখা। এরপর তা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ এবং উত্তর মায়ানমারের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূলে সর্বোচ্চ ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।

  • ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন নিরহংকার ও প্রচারবিমুখ : তথ্যমন্ত্রী

    ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন নিরহংকার ও প্রচারবিমুখ : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন নির্লোভ, নিরহংকার ও প্রচারবিমুখ। তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ  বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া প্রধানমন্ত্রীর স্বামী পরিচয়  কখনো ব্যবহার করতেন না। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যার জামাতা সেই পরিচয়ও দিতেন না। নিরহংকার এই মানুষটির আচরণে এই পরিচয়গুলো কখনো বোঝার উপায় ছিলো না। তিনি বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ড. ওয়ায়জেদ মিয়া পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পরমাণু শক্তি কমিশনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে এর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। আজকে যে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে, এটির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিলো। অর্থাৎ এই কনসেপ্টটি ধারণ করার ক্ষেত্রে এবং এটি করলে পরে দেশের জন্য কি ভালো হবে, সেটি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিলো।
    ড. হাছান বলেন, ‘২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করা হয়েছিলো এবং তারপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তার অসুস্থতাও বেড়ে যায়।  পরবর্তীতে তিনি ২০০৯ সালে ৯ মে ইন্তেকাল করেন। তার এই মৃত্যু দিবসে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া অনেক বইও লিখেছেন। তার কর্ম, প্রজ্ঞা এবং দেশের প্রতি অবদানের কারণে যুগ যুগ ধরে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
    সাংবাদিকরা এ সময় বিএনপি মহাসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন যে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের কথা তিনি বিশ্বাস করেন না। আর জনগণ মনে করে, মির্জা ফখরুল সাহেব সবসময় মিথ্যা কথা বলেন -এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। মির্জা ফখরুল সাহেবের এটা গুণ না দোষ, যেটিই হোক- সাধারণ মানুষ এটিকে দোষই বলবে। তিনি অবলীলায় সুন্দরভাবে মিথ্যা কথা বলতে পারেন, যা দু:খজনক হলেও সত্য।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক যে কথাটি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আমরা বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ চাই এবং সেই ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। আমাদের সদিচ্ছার কথাই আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেছেন। যারা নির্বাচনই চায় না, যারা নির্বাচনকে ভয় পায়, তাদের কাছে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য এতো শ্রুতিমধুর হবে না, এটি খুবই স্বাভাবিক।’
    বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর মন্তব্য ‘সরকার নির্বাচনে আসতে বিএনপিকে প্রলোভন দেখাচ্ছে’- এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখুন বিএনপিকে প্রলোভন দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা চাই বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’ হাছান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও, বিএনপির নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এটি মির্জা ফখরুল ও রিজভী সাহেবরা দেখতে পারবেন।’ সূত্র : বাসস