Category: লিড নিউজ

  • দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৫ দিনের সফর শেষে আজ সকালে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন।
    প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান সকাল ১০টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
    এর আগে, সোমবার (লন্ডন সময়) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বিমানটি লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
    প্রধানমন্ত্রী তার তিন দেশ সফরের প্রথম ধাপে ২৫ এপ্রিল জাপানে পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি১৪০৩) বিকাল ৪ টা ৪৫ মিনিটে (স্থানীয় সময়) টোকিওর হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপান লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং বিমানবন্দরে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করে।
    টোকিওতে অবস্থানকালে তিনি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী আটটি চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে কৃষি, মেট্রো-রেল, শিল্পের উন্নয়ন, জাহাজ-রিসাইক্লিং, মেধা সম্পদ, প্রতিরক্ষা, আইসিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা ও কাস্টমস খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
    শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল জাপান সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর একই দিনে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
    প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন এবং একটি কমিউনিটি সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার পাশাপাশি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অফ লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করেন।

    এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির সঙ্গে জাইকা, জেট্রো, জেইবিআইসি, জেবিপিএফএল এবং জেবিসিসিইসি-এর নেতৃবৃন্দের সাথে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন।
    তিনি জাপানের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে এবং জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর সাথেও বৈঠক করেন।
    শেখ হাসিনা জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে টোকিওতে চার দিনের সরকারি সফর শেষ করে তাঁর তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেন।
    যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং কিছু পার্শ্ব ইভেন্ট যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক এবং বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভার সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি একটি নাগরিক সংবর্ধনাতেও যোগ দেন।
    প্রধানমন্ত্রী তিন দেশ সফরের তৃতীয় ধাপে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) রাজা ও রানী হিসেবে তৃতীয় চার্লস এবং তার স্ত্রী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়াাশিংটন ডিসি থেকে ৪ মে লন্ডনে পৌঁছেন।
    যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ৬ মে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানীর রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
    লন্ডনে শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
    ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুসানা স্পার্কসও লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী একই দিনে ক্লারিজ হোটেলের ফয়ের প্রাইভেট ডাইনিং রুমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।
    যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে অবস্থান করেন।
    তিনি সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক এবং রানী জেটসুন পেমার সঙ্গে বৈঠক করেন।
    এছাড়া শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে মিশর ও রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, গাম্বিয়া, নামিবিয়া ও উগান্ডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
    যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডও ৭ মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অবস্থানকরা হোটেলে সাক্ষাৎ করেন।
    একই দিনে লন্ডনের ম্যারিয়ট হোটেলে প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা নাগরিক সংবর্ধনা দেয় এবং শেখ হাসিনা বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকারও দেন।

    সূত্র : বাসস

  • কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার আর নেই

    কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার আর নেই

    প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার আর নেই। সোমবার সন্ধ্যায় কোলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। উত্তরাধিকার, কালপুরুষ, কালবেলাসহ একাধিক কালজয়ী উপন্যাসের লেখক সমরেশ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। আজ সোমবার (০৮ মে) স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে কলকাতায় একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

    গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন সমরেশ মজুমদারের বড় মেয়ে দোয়েল মজুমদার। এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্রের জানা যায়। এরপর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে থাকে। সমরেশ মজুমদারের শ্বাসনালীতে গভীর সংক্রমণ ছিল। গত এক যুগ ধরেই ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। হাসপাতালে ‘ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা’ (স্লিপ অ্যাপমিয়া) বাড়তে থাকে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এরপর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে থাকে।

    গত ২৯ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় সমরেশ মজুমদারের বড় মেয়ে দোয়েল মজুমদার জানান, গত দুই দিন কেবিনেই রাখা হয়েছিল তার বাবাকে। ওই দিন বিকেলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউতে) স্থানান্তরিত করা হয়।

    সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪২ সালের ১০ মার্চ। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি আনন্দবাজার পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডএর সাথে যুক্ত ছিলেন। গ্রুপ থিয়েটারএর প্রতি তার প্রচণ্ড আসক্তি ছিলো। তার প্রথম গল্প ‘অন্যমাত্রা’ লেখাই হয়েছিলো মঞ্চনাটক হিসাবে, আর সেখান থেকেই তার লেখকজীবনের শুরু। তার লেখা অন্যমাত্রা ছাপা হয়েছিলো দেশ পত্রিকায় ১৯৬৭ সালে।

    সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিলো দেশেই ১৯৭৫ সালে। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার ট্রিলজি ‘উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ’ বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী করেছে।

  • আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে : প্রধানমন্ত্রী

    আগামী নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত চক্রকে ভোট চোর হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশবাসীকে তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশকে ধ্বংস করতে চায়।
    তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামায়াত) বাংলাদেশকে ধ্বংস করবে। তাই, সতর্ক থাকুন, যাতে বিএনপি-জামায়াত চক্র আবার ক্ষমতায় না আসে।’
    রোববার (স্থানীয় সময়) লন্ডন ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তারা সবসময় জনগণের পাশে থাকায় আগামী সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হবে।
    তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, জনগণ আমাদের তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে। সকলকে (নেতা-কর্মী) আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করতে হবে, কারণ, নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হব।’
    দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতের ওপর আস্থা রাখবে বলে তিনি মনে করেন না।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং এভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে। তাহলে, জনগণ কীভাবে তাদের প্রতি আস্থা রাখবে।’
    শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে জেনে গেছে যে তারা চোর, দুর্নীতিবাজ, খুনি, গ্রেনেড হামলাকারী ও লুটেরা এবং তারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষক।
    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট অর্থ আত্মসাৎ করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানকে তার দুর্নীতির দায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর পাচারকৃত প্রায় ৪০ কোটি টাকা সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। আমরা ‘ডেল্টা ২১০০’ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
    তিনি বলেন, দেশে আর কোন গৃহহীন, ভূমিহীন মানুষ থাকবে না।
    ‘আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। বাংলাদেশের কোনো মানুষের আর খাদ্যের অভাব থাকবে না,’ বলেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী আবারও বিএনপিও এর নেতাদের ভোট চোর আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তারেক রহমান একজন ভোট চোর এবং তার মা ও ভোট চোর।’
    সরকার প্রধান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মত আওয়ামী লীগ ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় আসেনি।
    ‘আওয়ামী লীগ সব সময় দেশ ও দেশের মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে; জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা দখল বা চুরি করে ক্ষমতায় আসেনি।
    প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চান, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে কয়টি দল অংশ নিয়েছিল এবং কতটি ভোট পড়েছিল।
    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
    ‘আমরাই এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কারো কিছু বলার নেই।
    তিনি বলেন, ‘সেই নির্বাচনের ফলাফল কী ছিল? বিএনপির ২০ দলীয় জোট কতটি আসন পেয়েছিল? ২০-দলীয় জোট নির্বাচনে ২৯টি আসন এবং পরে উপনির্বাচনে ১টিসহ মোট ৩০টি আসনে জিতেছিল। আর বাকি আসন ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের। আমরা বাকী সব আসন পেয়েছিলাম। জনগণের কাছে তাদের অবস্থান কোথায় যে তারা এত লাফালাফি করে?’
    প্রধানমন্ত্রী গত ১৪ বছরে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি সংক্ষেপে বর্ণনা করেন। সূত্র : বাসস

  • বিশ্বাঙ্গণে শেখ হাসিনার উচ্চাসন ও সরকারের প্রতি সমর্থন অনুধাবনে ব্যর্থ হলে বিএনপি ভুল করবে : তথ্যমন্ত্রী

    বিশ্বাঙ্গণে শেখ হাসিনার উচ্চাসন ও সরকারের প্রতি সমর্থন অনুধাবনে ব্যর্থ হলে বিএনপি ভুল করবে : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্ব অঙ্গণে জননেত্রী শেখ হাসিনার উচ্চতা আর তার সরকারের প্রতি বিশ্ব অঙ্গণের সমর্থন কোন জায়গায় সেটি নিশ্চয়ই বিএনপি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। সেটি না করতে না পারলে বিএনপি ভুল করবে।

    মন্ত্রী আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরের শেষ পর্যায়ে এখন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, ৯ মে তিনি দেশে ফিরে আসবেন। তার এই সফর অত্যন্ত সফল একটি সফর। জাপানের সরকার ও জনগণ রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভাবনীয় মর্যাদা দিয়েছে এবং আমাদের নানা প্রকল্পে ৩০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার চুক্তি সই করেছে। পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বিশ্বব্যাংক ভুল উপলব্ধি করে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে এখন ২.২৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

    সেইসাথে যুক্তরাজ্যের নতুন রাজার অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে রাজা চালর্সের সাক্ষাৎ ও কুশলবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বলেছেন যে- শেখ হাসিনা হচ্ছেন আমার ‘আইডল’। এবং শুধু তারই নয়, তার মেয়েদেরও ‘আইডল’। পাশাপাশি ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কমনওয়েলথ মহাসচিবসহ অনেকেই শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন।’
    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই সফরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচন করার ঐকান্তিক ইচ্ছার কথা এবং সকল পর্যবেক্ষককে নির্বাচন দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর সেই সময় বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছে। নির্বাচন প্রতিহত করার বা বর্জনের ঘোষণা গণতন্ত্রকে প্রতিহত করা বা ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘোষণার মতো। আসলে বিএনপি দেশে গণতন্ত্র চায় না। বিএনপি সবসময় পানি ঘোলা করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করতে পারে কিন্তু নির্বাচন বন্ধ করা কিম্বা ঠেকিয়ে দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ নাই। এ দেশের মানুষ বিএনপিকে সেই সুযোগ দেবে না।’

    বিএনপির ঘোষণা যে তারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না -এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাই বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপি অতীতের মতো নির্বাচন থেকে পালিয়ে বেড়াক সেটি আমরা চাই না। আমরা বিএনপির সাথে খেলতে চাই কিন্তু ওরা খেলা থেকে বারবার পালিয়ে যায়, এটিই হচ্ছে দু:খজনক।’

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  বলেন, ‘আসলে বিএনপি নানা ভাষায়, নানা ছুতোয়, নানা কৌশলে বলে কিন্তু তাদের সমস্ত কথার সারমর্ম হচ্ছে এমন ব্যবস্থা চাই যার মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা পাবে। সেটি তো নির্বাচন কমিশন দিতে পারবে না, এদেশের জনগণও দিতে পারবে না। এ দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির শরিকরা আসন বন্টন নিয়ে আলোচনা করছে তার অর্থ হচ্ছে বিএনপি নির্বাচন না চাইলেও শরিকরা নির্বাচন চায়। বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে শরিকরাও বিএনপি থেকে পালিয়ে যাবে।’

    ড. ইউনুসের বিষয়টি নোবেল পুরস্কারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে : সাংবাদিকরা এ সময় ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের পাওনা বঞ্চিত করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন করলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘ড. ইউনুসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলতে চাই, যেভাবেই হোক তিনি নোবেল লরিয়েট এবং একজন নোবেল লরিয়েটের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা মামলা করেছে, অন্য কেউ নয়। এ রকম একজন নোবেল লরিয়েট শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেননি, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বুঝিয়ে দেননি বরং অসাধু উপায়ে সেটি সুরাহা করার অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন -এ সমস্ত  অভিযোগ গুরুতর এবং অত্যন্ত দু:খজনক। এগুলো আসলে নোবেল পুরস্কারকে কলংকৃত এবং প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, ড. ইউনুসের আবেদন খারিজ করে আদালত বলেছে মামলা চলবে। আশা করবো, মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তার পক্ষ থেকে পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে বিষয়টি ফয়সালা হবে।’

    সূত্র : বাসস

  • সরকার অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বাচন করতে চায় : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী

    সরকার অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বাচন করতে চায় : ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারও বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন যুক্তরাজ্যের মত অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানস্থল ক্লারিজ হোটেলের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার পত্নী সুজানা স্পার্কস-এর অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমার দল সব সময় দেশে গণতন্ত্র বজায় রেখেছে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছি।’

    বৈঠক শেষে শনিবার হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলেন।

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে, কেউ যাতে নির্বাচনে কারচুপি করতে না পারে সেজন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তৈরি করা হয়েছে।

    উল্টো বিএনপি ভোট কারচুপির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার যুক্ত করে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল।

    তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা ওয়েস্টমিনিস্টারের আদলে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, যার অনুসরণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছে।

    মোমেন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও জলবায়ুু, ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচনায় এসেছে।
    বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ব্রিটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

    মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে একটি বিল তুলেছে এবং রেজুলেশন পাস করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

    যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনে এলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর পর থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে।

    জেমস ক্লিভারলি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হয়েছে এবং দিন যতই এগিয়ে আসছে এ সম্পর্ক ততই জোরদার হচ্ছে।’

    তিনি শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং স্মরণ করেন যে রানী সর্বদা তাঁর এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার খোঁজ খবর নিতেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, কমনওয়েলথ লিডারস ইভেন্টের সময় শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী রাজাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং রাজা ইতিবাচক সাড়া দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম প্রমুখ অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতির সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সাথে আজ বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো: জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, সাক্ষাতকালে সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    সেনাপ্রধান ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও রাষ্ট্রপ্রধানকে জানান।

    এ সময় তিনি তার সম্প্রতি ভারত সফরের নানাদিক রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ সময় বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের দেশের গৌরব।

    সেনাবাহিনীকে ঐতিহ্যের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো প্রয়োজনে সব সময় তারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
    রাষ্ট্রপতি সেনা বাহিনীর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। এ সময় বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

  • ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা না ফিরলে দেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না : তথ্যমন্ত্রী

    ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা না ফিরলে দেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২০০৭ সালের ৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে দেশে না ফিরতেন তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রও ফিরতো না।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালে ১৭ মে তিনি প্রথম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশে পদার্পণ করেছিলেন। আজ ৭ মে তার বিদেশ থেকে দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবর্তনের দিন এবং প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মানসকন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।’
    মন্ত্রী আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলার স্থপতি’ শীর্ষক ৭ খন্ড বইয়ের প্রকাশনা এবং গ্রন্থকার অ্যালভীন দীলিপ বাগচীর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খ্রিস্টান যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইলারিশ আর গোমেজের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক সচিব মো: শহীদ উল্লাহ খন্দকার, বিশপ থিওটোনিয়াস গোমেজ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন।

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ৭ মে একটি ঐতিহাসিক দিন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিলো, এরপর তার দেশে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেছিলেন যে, আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে আমি ঢাকায় গিয়ে মামলা লড়বো। আমি তখন তার বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। বিমানবন্দরে আমি নিজেও গিয়েছিলাম। বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় কোনো মানুষ দেখিনি, বিমানবন্দর থেকে তিনি আসছিলেন তখন রাস্তার দু’ধার ছাপিয়ে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ চলে আসলো শেখ হাসিনাকে বরণ করার জন্য।’

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন অসীম সাহসী ছিলেন আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকন্যাও অসীম সাহসী। তার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে তিনি প্রচন্ড সংকটের মধ্যে ধৈর্য্য হারান না, যেমন বঙ্গবন্ধু হারাননি। বঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন শুধু সেনাবাহিনী গিয়েছিলো তা নয়, তাকে গ্রেপ্তারের আগে চারপাশে বিভিন্ন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, ধানমন্ডি এলাকায় গোলাগুলি করা হয়। তিনি সে সময় ধৈর্য্য হারাননি। বঙ্গবন্ধু বরং পাকিস্তানিদের বলেছিলেন- তোমাদের এতো গোলাগুলি-বিস্ফোরণ ঘটানো, মানুষকে কষ্ট দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। আমার কাছে আসলেই তো আমাকে নিয়ে যেতে পারতে। তাকে গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও প্রচন্ড সংকটে ধৈর্য্য হারাননি।’

    তিনি বলেন, ‘বিবিসির অনলাইন জরিপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এর কারণ বিশ্লেষণে বলতে হয়, বাঙালি জাতিসত্ত্বার উন্মেষের ৫ হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখনো স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে নাই। বাংলা ভাষাভাষীর কিছু অঞ্চল নিয়ে কোনো কোনো সময় স্বাধীন রাজা ছিলো কিন্তু কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্খা ছিলো। তিতুমীর, সূর্যসেন, নেতাজী সুভাষ বসু অনেকেই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, বিদ্রোহ করেছেন, কিন্তু স্বাধীনতা আসেনি। বঙ্গবন্ধুই সেই নেতা যিনি বাঙালি জাতিকে ধীরে ধীরে, পলে পলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার লক্ষ্যে মনন তৈরি করে চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং তার সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছে, জয় বাংলা শ্লোগানে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল। এ জন্যই ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, জাতির পিতা মুজিব, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।’

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় ‘বাংলার স্থপতি’ বইয়ের গ্রন্থকার অ্যালভীন দীলিপ বাগচীকে অভিনন্দন জানান। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ওপর বিশ্লেষণধর্মী ইতিহাস ভিত্তিক এই গ্রন্থ রচনার জন্য দীলিপ বাগচী এবং তার পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং আগামীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গ্রন্থ রচনার জন্য তাকে অনুরোধ জানান।’

    ড. হাছান বলেন, এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন জন প্রচুর বই লেখে, অনেক ক্ষেত্রে লেখার প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে এবং সেটি করতে গিয়ে অনেক ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে এবং বইয়ের মান রক্ষিত হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর ওপর দেশে-বিদেশে যে সমস্ত বই রচিত হয়েছে সেগুলো নির্দিষ্ট মানদন্ড মেনে চলা প্রয়োজন এবং বইতে কোনোভাবেই যেন ন্যূনতম ইতিহাস বিকৃতি না ঘটে সে ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

    সূত্র : বাসস

  • শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।’

    সুনাক বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। আপনি একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা।’

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাককে উদ্ধৃত করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম এ কথা বলেন।

    তাসনিম বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী তার (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত। তিনি গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার মেয়েরা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন।’

    সুনাক বলেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    কভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ছয় শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।’ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ৩৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে দুই নেতা উভয় দেশের পারস্পরিক সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চমৎকার সম্পক বিদ্যমান’ উল্লেখ করে সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্য দেয়।’

    বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় ঋষি সুনাককে অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এশীয় ঐতিহ্য থেকে আপনি এত অল্প বয়সে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমন তরুণ নেতৃত্ব দেখে আমার ভালো লাগছে।’

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকার ইতোমধ্যে সাত লাখ পরিবারকে বাড়ি দিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কাছে আরও বড় বিনিয়োগ চেয়েছেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নত করেছি।’ তিনি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে একটি যৌথ ইস্তেহার সই করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই নেতা রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও কথা বলেন।

    সুনাক বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। সুনাক বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বুঝতে পেরেছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা।’

    শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বড় বোঝা এবং বড় নিরাপত্তা হুমকি।’

    রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানালে সুনাক ইতিবাচক সাড়া দেন।

    লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা লন্ডনে পৌঁছেছেন।

    দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের মধ্যে মাত্র সাত জনের সঙ্গে সুনকের বৈঠক হয়েছে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।’

    রাষ্ট্রদূত মুনা তানিম বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

    ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র: বাসস

  • সিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    সিংহাসনে আরোহণ করলেন রাজা তৃতীয় চার্লস

    আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা হিসেবে যুক্তরাজ্যের সিংহাসনে আরোহণ করেছেন প্রয়াত রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হিসেবে প্রায় পুরো একটি জীবনকাল পার করে দেওয়া ৭৪ বয়সী তৃতীয় চার্লস। স্থানীয় সময় ১২টা ২ মিনিটে ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি রাজার মাথায় রাজকীয় কর্তৃত্বের পবিত্র ও প্রাচীন প্রতীক হিসেবে সেন্ট এডওয়ার্ড স্বর্ণমুকুট পরিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন।’

    শপথ গ্রহণের পর তাঁকে মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি সিংহাসনে বসেন। পরে রানি ক্যামিলাকেও মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। শনিবার দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অভিষেক হয় রাজা তৃতীয় চার্লস ও তাঁর স্ত্রী কুইন কনসোর্ট ক্যামিলার। জীবনে একবারই এই মুকুট পরার সুযোগ পেলেন রাজা। ঘণ্টাখানেকের মুকুটটি তার মাথায় থাকবে। মুকুট পরিয়ে দেওয়ার পর শুরু হয় সিংহাসনে আরোহণের পর্ব। ক্যান্টারবেরি ও ইয়র্কের আর্চবিশপ এবং তাঁদের সহকারীরা রাজাকে সিংহাসনের দিকে নিয়ে যান। এরপর সিংহাসনে বসেন রাজা তৃতীয় চার্লস। এটি অভিষেকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাজা-রানির সিংহাসনে বসার মুহূর্তে অ্যাবের ঘণ্টা বাজতে থাকে। পাশে থাকা হর্স গার্ড প্যারেড থেকে দেয়া হয় গান স্যালুট। রাজা সিংহাসনে আরোহণের পর তার ডান হাতে চুমু খেয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেন প্রিন্স উইলিয়াম।

    সর্বশেষ ১৯৫৩ সালে নিজের আভিষেকে সেইন্ট এডওয়ার্ড মুকুটটি পরেছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এবার ৭০ বছর পর তাঁর ছেলে চার্লস নিজের অভিষেকে মুকুটটি পরলেন। এই মুকুটটি ১৬৬১ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজা ও সেন্ট এডওয়ার্ড দ্য কনফেসরের নামানুসারে মুকুটটির নাম দেওয়া হয়েছে। এডওয়ার্ড মুকুটটিকে পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি কয়েক শ বছর ধরে অভিষেকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এর আগে যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্রের ৪০তম সিংহাসন আরোহী হিসেবে শপথ নেন চার্লস। ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক শপথের আইনি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাজাকে আর্চবিশপ বলেন, নতুন রাজা যেন তাঁর শাসনকালে আইনের শাসন ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখেন।

    রাজা তৃতীয় চার্লস পবিত্র গসপেলে হাত রেখে শপথ নেন। এ সময় তিনি আইনের শাসন ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া একজন ‘একনিষ্ঠ প্রোটেস্ট্যান্ট’ হিসেবে দ্বিতীয় শপথও নেন রাজা তৃতীয় চার্লস।

    এর আগে অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে পৌঁছান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং তাঁর স্ত্রী কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা। বাকিংহাম প্যালেস থেকে একটি ঘোড়ার গাড়িতে করে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে পৌঁছেন তাঁরা। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে সংগীত ও প্রতীকী আয়োজনে আরও নানা কর্মসূচির পর, রাজা ও রানি ক্যাথেড্রলটি ছেড়ে যান।

    সেসময় সেখানে উপস্থিত সবাই যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংগীত ‘গড সেভ দ্য কিং’ (ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন) গাইতে থাকেন।

    রাজা চার্লসের অভিষেকে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের নেতা ও তারকারাও ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে জড়ো হয়েছেন। বিশ্বের প্রায় ১০০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে চার্লস যুক্তরাজ্যের রাজা হন।

    সূত্র : বাসস

  • কোভিড মহামারির জরুরি অবস্থা আর থাকছে না

    কোভিড মহামারির জরুরি অবস্থা আর থাকছে না

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, কোভিড-১৯ এখন আর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা থাকছে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারির পর্ব শেষ হলো।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি করে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি।

    এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ২০২১ সালে প্রতি সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ মারা যেত। সে হার ২৪ এপ্রিল ৩ হাজার ৫০০ জনে নেমে এসেছে।

    ডব্লিউএইচও’র প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, আশার বিষয় হচ্ছে আমি কোভিড-১৯ কে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নয় বলে ঘোষণা করেছি। তার মানে এই নয় যে, করোনা বিশ্বব্যাপী আর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকছে না।

    তিনি বলেন, গতকাল জরুরি কমিটি ১৫তম বারের মতো বৈঠক করেছে। তারা আমাকে সুপারিশ করেছে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দিতে। আমি সেই পরামর্শটি গ্রহণ করেছি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান, করোনা মহামারিতে বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষ মারা গেছে। তবে তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি।