Category: লিড নিউজ

  • ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২,৫০০ অভিবাসীর মৃত্যু

    ২০২৩ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২,৫০০ অভিবাসীর মৃত্যু

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: নুন্নত ও দরিদ্র দেশের মানুষেরা উন্নত জীবন ধারণ ও অর্থ উপার্জনের জন্য অনেক সময় অবৈধভাবে সাগরপথে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, ২০২৩ সালের এই পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকালে ২,৫০০ জনেরও বেশি অভিবাসী মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছে।

    ইউএনএইচসিআর নিউইয়র্ক অফিসের পরিচালক রুভেন মেনিকদিওয়েলা নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, ‘২০২৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২,৫০০ জনেরও বেশি লোককে মৃত বা নিখোঁজ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।’

    এই সংখ্যাটি ২০২২ সালের একই সময়ের মধ্যে ১,৬৮০ মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসীর চেয়ে অনেক বেশী।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের মনোযোগ থেকে দূরে, স্থলেও অনেকে  প্রাণ হারিয়েছে।’

    মেনিকদিওয়েলা বলেন, ‘সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলো থেকে স্থলপথে যাত্রার পর অভিবাসীরা তিউনিসিয়া এবং লিবিয়ান উপকূল থেকে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার এই রুট ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’

    তিনি বলেন, অভিবাসী এবং উদ্বাস্তুরা ‘প্রতি পদক্ষেপে মৃত্যু এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ ইউরোপে সমুদ্রপথে মোট প্রায় ১৮৬,০০০ লোক ইতালি, গ্রীস, স্পেন, সাইপ্রাস এবং মাল্টায় এসেছে।  সংখ্যাগরিষ্ঠ, ১৩০,০০০ এরও বেশি মানুষ ইতালিতে এসেছেন, যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার প্রস্থান পয়েন্ট হিসাবে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে অনুমান করা হয়, ১০২,০০০ এরও বেশি শরণার্থী এবং অভিবাসী তিউনিসিয়া থেকে এবং ৪৫,০০০ লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

    মেনিকদিওয়েলা বলেন, তিউনিসিয়ায় আনুমানিক ৩১,০০০ জনকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বা আটকানো বা নামানো হয়েছে এবং লিবিয়ায় ১০,৬০০ জনকে আটকানো বা নামানো নামানো হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিবাসী এবং উদ্বাস্তুদের এভাবে অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি কোন মতে থামানো যাচ্ছেনা। ববং তা দিন দিন বাড়ছে। এর প্রধান কারণ দারিদ্র থেকে বাঁচার আশা ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনধারণ করা।

    সূত্র: বাসস

  • চিত্রতারকা দম্পতি ওমর সানী-মৌসুমীর ছেলে ফারদিন প্রতারণার শিকার

    চিত্রতারকা দম্পতি ওমর সানী-মৌসুমীর ছেলে ফারদিন প্রতারণার শিকার

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩: ঢাকাই সিনেমার চিত্রতারকা দম্পতি ওমর সানী-মৌসুমীর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন প্রতারণার শিকার হয়েছেন । নিশাত বিন জিয়া রুম্মান নামে এক ব্যক্তি ব্যবসার কথা বলে তার ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ এনেছেন তিনি।

    ফারদিন জানান, বিট কয়েন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিশাতকে এ টাকাগুলো ধার হিসেবে দিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ অভিযোগ আনেন ফারদিন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আইনি নোটিশ ও ডিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফারদিন।

    ফেসবুকে ফারদিন লেখেন,  আজ একজন ভণ্ড প্রতারক এবং অর্থ পাচারকারীর বাস্তব ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। নিশাত বিন জিয়া রুম্মানের সঙ্গে আমার পরিচয় ২০২২ সালের মাঝামাঝি। পরিচয় হওয়ার চার মাস পর আমাকে এবং আমার কিছু পরিচিত মানুষদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গভীর হয়। তাই কিছু নগদ অর্থ ব্যবসায়িক পুঁজি হিসেবে নিতে শুরু করেন তিনি। যদিও পরে জানা যায়, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তো দূরের কথা, বৈধ কোনো ট্রেড লাইসেন্সই নেই।

    ফারদিন আরও জানান, তিনি ১০ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফার ফাঁদে পড়েছেন। বলেন, আমার টাকাকে এক প্রকার ব্যবসায়িক লোন বলতে পারেন। এসব লেনদেন যেন বাংলাদেশ সরকারের চোখে না পড়ে, তাই বিটকয়েন কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে করে থাকে তারা। যা আমি পরে জেনেছি। ধাপে ধাপে তাকে ব্যবসায়িক ইনভেস্টমেন্ট ধার আকারে ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করেছি এবং তার বিপরীতে তাকে আমি বলেছি, আমাকে সিকিউরিটি হিসেবে আমার ইনভেস্টমেন্ট মূল্যের ব্যাংকের চেক প্রদান করতে হবে। সেই চেক প্রদান করে তিনি আমার থেকে গত জানুয়ারি মাসে ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা বুঝে নেন। বিভিন্ন সময় তার কাছে আমার হকের টাকা চাইতে গিয়ে আমাকে এবং আমার অফিসের কর্মচারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

    তিনি বলেন, আমি ঢাকা ডিবি অফিসে গত এক মাস আগে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সব ভুক্তভোগীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। অনেকেই এখন মামলা করবে বলে এগিয়ে যাচ্ছেন। চেক দিয়েছে, অর্থ আমাকে প্রদান করতে পারেনি তাই আমি চেকের মামলা দিচ্ছি, কিন্তু এত প্রতারণা অর্থপাচার এগুলোর জন্য কি কোনো বিচার হবে না?

    ছেলের প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়েছেন চিত্রতারকা ওমর সানীও।

  • আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    www.HelloBangla.News –  জাতীয় – ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ :  মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) কে বলা হয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মাদ ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ রবিউল আউয়াল) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ সালের এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ আবির্ভাব ঘটে।

    দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

    মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃংখলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ।

    তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করতো। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

    মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুর আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন।

    পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

    মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মুহাম্মাদের নিকট আসা ওহীসমূহ কুরআনের আয়াত হিসেবে রয়ে যায় এবং মুসলমানরা এই আয়াতসমূহকে “আল্লাহর বাণী” বলে বিবেচনা করেন। এই কুরআনের উপর ইসলাম ধর্মের মূল নিহিত। কুরআনের পাশাপাশি হাদিস ও সিরাত (জীবনী) থেকে প্রাপ্ত মুহাম্মাদের শিক্ষা ও অনুশীলন (সুন্নাহ) ইসলামি আইন (শরিয়াহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

    ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এ সকল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর জীবনের ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

    এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। এর আগে বাদ আসর তিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্ত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন করবেন।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

    এছাড়াও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    সূত্র: বসস

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আজ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আজ

    www.HelloBangla.News –  জাতীয় – ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ :  স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা‘র জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি, দেশের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর অন্যান্য বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে ইউএনজিএ’র সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।

    সেখানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য জাতিসংঘ স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন এখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর অবস্থানস্থল দি লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে প্রশংসাপত্রটি হস্তান্তর করেন।

    কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকৃতির প্রদান করায় ব্রাউনের ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুল তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একজন সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

    বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ৪ মাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

    এছাড়া তিনি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, বিধবা ভাতা, বৃদ্ধভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চাল, ডাল ও তেল বিপণনসহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্য সামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে কার্ডধারীদের। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ একটি সরকারি প্রকল্প যার মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন এবং যার জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করা হয়। যে প্রকল্পটি নাম দেওয়া হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প।

    বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেভাবেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, প্রায় এক দশক পর ২০২৩-২৪ অর্থবছর বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার পরিমাণ কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে। সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন বিবেচনায় সভায় অংশ নেওয়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগী বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ভাতা সকল কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ২৩,৭৪,০০০ বাড়ানোর প্রস্তাব করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাতে সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছর ব্যয় বৃদ্ধি পেত ৩,৪৪৫ কোটি টাকা।

    সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮১৫ জন থেকে ৬ হাজার ৮৮০ জনে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ হাজার ৬২০ জনে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাতাভোগীর সংখ্যা ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮২ হাজার। জিটুপি পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রায় ৯০ লাখ বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষকে ভাতা দিতে কাজ করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

    ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেতা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

    দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

    শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।

    বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তার শহর বাসের পালা।

    তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

    বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড.ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

    শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কান্ডারি হয়েছেন তারই ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু  যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫শ’ নেতা-কর্মী আহত হন।

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

    শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যঅন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তাঁর লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহে না মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

    এক কথায় বলা যায়, শেখ হাসিনা উন্নয়নের বিস্ময়কর জাদুকর, তাঁর হাত ধরে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই সম্মিলিতভাবে শেখ হাসিনার এ উন্নয়নের ধারায় শামিল হতে হবে।

    সূত্র: বসস

  • কে কাকে নিষেধাজ্ঞা দিল সেটা নিয়ে ভাবে না আওয়ামী লীগ: সেতুমন্ত্রী

    কে কাকে নিষেধাজ্ঞা দিল সেটা নিয়ে ভাবে না আওয়ামী লীগ: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News –  রাজনীতি – ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : কে কাকে নিষেধাজ্ঞা দিল সেটা নিয়ে ভাবে না আওয়ামী লীগ। পর্যবেক্ষক কারা আসবে না আসবে সেটা ভাবার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতের দান। আমরা গত বছরের নির্বাচন ইশতেহার করেছি। ইশতেহার পড়ে কয়জন? বুলেট পয়েন্টে করুন ইশতেহার। কোনো দরকার নেই বিশাল একটা পুস্তক রচনা করার, এ ধরনের ইশতেহার কেউ পড়বে না। মানুষের সময়ও নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সব জায়গায় আছে। আমাদের সময়ের সঙ্গে বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলতে হবে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতায় থাকতে হলে এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।

    তিনি বলেন, জো বাইডেন বলেছেন আমি আবারও ক্ষমতা থাকতে চাই, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে আমেরিকার গণতন্ত্র নষ্ট হবে। আমেরিকার গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার বয়স কোনো ব্যাপার না, গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য আমি আবারও ক্ষমতা থাকতে চাই। আমিও (ওবায়দুল কাদের) একইভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। এই স্পিরিটটা আমাদের রাখতে হবে।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা অতি আমরা কঠিন সময় অতিক্রম করতে পারবো, কারণ আমাদের দলের অধিনায়ক সাহসী। তার অসীম সাহসের জন্য আমরা দুর্লভ সাগর পাড়ি দিতে পারবো।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব তো বলেই দিয়েছেন আর মাত্র কয়টা দিন, আপনারা কোথায় যাবেন? মির্জা আব্বাস বলেন তারা নাকি চাঁদ রাত দেখতে পান। তারা নাকি আমাদেরকে তাঁড়িয়ে দেবেন, আর কয়েকটা দিন পরেই নাকি আমাদেরকে চলে যেতে হবে। আমি গতকাল টঙ্গীতে বলেছি- আমরা এই অক্টোবরও আছি, আগামী অক্টোবরেও থাকবো।

    তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট না বড় হবে এ সব এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি চাইলে সেটাকে ছোটও করতে পারেন, আবার বড়ও করতে পারেন।

    নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও  সেভাবে হবে। কে এলো, কে এলো না, এটা আমাদের বিষয় না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। আমরা কারো উপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। কে আসবে, কে আসবে না এটা তাদের ব্যাপার। কে কাকে নিষেধাজ্ঞা দিল সেটাও আমাদের কোনো বিষয় না। নিষেধাজ্ঞা আমাদের বিষয় না, কারণ আমরা তো ইলেকশন করব। নির্বাচনের বাধা যারা দেবে তারাই তো নিষেধাজ্ঞায় পড়বে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বাক ড. আবদুর রাজ্জাক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম মাহমুদ, ড. বজলুল হক খন্দকার, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. শামসুল আলম, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, শেখর দত্ত, ড. মাকসুদ কামাল, ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, সাজ্জাদুল হাসান, তারানা হালিম, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জুনায়েদ আহমেদ পলক, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

  • এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার কে পাচ্ছেন বাছাই করা খুব কঠিন হবে

    এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার কে পাচ্ছেন বাছাই করা খুব কঠিন হবে

    www.HelloBangla.News –  আন্তর্জাতিক – ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : বিশ্বে প্রতি বছর শান্তিতে যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় এই প্রেক্ষিতে শাস্তিকামী মানুষ একটি নতুন বার্তা পায়। যা অনেক সময় প্রায় থামিয়ে দেয়ে অনেক উত্তেজনা। এই প্রেক্ষিতে আসছে ৬ অক্টোবর আসলোতে শাস্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। কিন্তু চলমান বিশ্ব এতটাই অস্বস্তির মধ্যে আছে যে এবার শাস্তি পুরস্কার নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সম্ভাব্য শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে আসতে বিপাকে পড়বেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় বছরে পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি আফ্রিকান অভ্যুত্থান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে অবশ্যই অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলেছে।

    দ্বন্দ্বের প্রতিফলনে স্টকহোমে ডিসেম্বরে নোবেল পুরস্কারের ভোজসভায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণ ক্ষুব্ধ প্রতিবাদের মুখে পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সুইডিশ অধ্যাপক পিটার ওয়ালেনস্টিন এএফপি’কে বলেছেন, ‘কমিটির পক্ষে এই বছর কোনো পুরস্কার না দেওয়া অনেক দিক থেকেই উপযুক্ত হবে।’

    অর্ধ শতাব্দী আগে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মধ্যে ১৯৭২ সালে শেষবার যেটি ঘটেছিল। কোন প্রশংসনীয় প্রার্থী খুঁজে পাওয়া এই দিনটি একটি ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ওলাভ এনজোলস্টাড এএফপি’কে বলেছেন, ‘এটা ভাবা খুব কঠিন যে এরকম পরিস্থিতি আবারো হতে পারে। তবে আমি বলব না এটা অসম্ভব।’

    ‘বিশ্বের সত্যিই এমন কিছু দরকার যা একটি ভাল দিক নির্দেশ করতে পারে। এই বছরও নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের জন্য প্রতিটি প্রয়োজন রয়েছে।’

    মনোনয়নের তালিকা গোপন থাকলেও ৩৫১ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ইরানি নারী, ইউক্রেন নাকি জলবায়ু? সুতরাং, কে সম্মতি পেতে পারে?

    কিছু নোবেল পর্যবেক্ষক ইরানের নারীদের উপর আরোপিত কঠোর পোষাক কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার মাহসা আমিনির এক বছর আগে হেফাজতে মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবাদী ইরানি নারীদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

    অ্যালায়েন্স ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ফ্রিডম ইন ইরানের অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ এবং নার্গেস মোহাম্মদীকে এই ধরনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    অন্যান্য সম্ভাবনাগুলো হল ইউক্রেনের যুদ্ধাপরাধের নথিভুক্ত সংস্থাগুলো, বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যা একদিন তাদের বিচার করার জন্য আহ্বান জানাতে পারে। জলবায়ু কর্মীদের আরও উল্লেখ করা হয়েছে রেকর্ডে সবচেয়ে গরম গ্রীষ্মের পরে এক বছরের চরম আবহাওয়া মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান ড্যান স্মিথ এএফপি’কে বলেছেন, ‘আমি মনে করি যে জলবায়ু পরিবর্তন এই বছরের শান্তি পুরস্কারের জন্য সত্যিই একটি ভাল ফোকাস।’

    তিনি সুইডিশ অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থানবার্গ এবং ব্রাজিলের আদিবাসী প্রধান রাওনি মেটুকটায়ার দ্বারা শুরু করা ভবিষ্যৎ আন্দোলনের জন্য শুক্রবারের কথা তুলে ধরেন, যিনি বন উজাড়ের বিরুদ্ধে এবং আদিবাসীদের অধিকারের জন্য প্রচারণা চালান।

    গত বছর পুরস্কারটি রাশিয়ান মানবাধিকার গোষ্ঠী মেমোরিয়াল, ইউক্রেনের নাগরিক স্বাধীনতা কেন্দ্র এবং জেলে বন্দী বেলারুশিয়ান অধিকার আইনজীবী আলেস বিলিয়াতস্কির মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। এই তিনটিই ইউক্রেনের যুদ্ধের কেন্দ্রে থাকা দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে যা তারা বিরোধিতা করে।

    এদিকে, সুইডিশ একাডেমি ৫ অক্টোবর স্টকহোমে সাহিত্য পুরস্কারের জন্য তার বাছাই ঘোষণা করবে।

    সাহিত্যের বৃত্তে যে নামগুলো ঘুরছে তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ান লেখক এবং স্পষ্টভাষী পুতিন সমালোচক লিউডমিলা উলিটস্কায়া, চীনা অ্যাভান্ট-গার্ড লেখক ক্যান জু, ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি, ক্যারিবিয়ান-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেড এবং নরওয়েজিয়ান নাট্যকার জন ফসে।

    সুইডিশ একাডেমি প্রায়শই স্বল্প পরিচিত লেখকদের স্পটলাইট করেছে, যদিও গত বছর এটি ফরাসি নারীবাদী আইকন অ্যানি আর্নাক্সের কাছে গিয়েছিল।

    ১৯০১ সালে পুরষ্কারটি প্রথম হস্তান্তর করার পর থেকে তিনি জয়ী ১৭ তম মহিলা ছিলেন।

    ২০১৮ সালে একটি বিধ্বংসী মেটো কেলেঙ্কারির পর থেকে একাডেমি বড় ধরনের সংস্কার করেছে। আরও বিশ্বব্যাপী এবং লিঙ্গ-সমান সাহিত্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    স্টকহোম ইউনিভার্সিটির সাহিত্যের অধ্যাপক ক্যারিন ফ্রানজেন এএফপি’কে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, আরও সচেতনতা রয়েছে যে আপনি ইউরোকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে থাকতে পারবেন না। সেখানে আরও সমতা থাকতে হবে এবং পুরস্কারটি সময়ের প্রতিফলন করতে হবে।’

    তবে বিশ্বের চোখ থাকবে শাস্তি পুরস্কারের দিকে। কেননা বিশ্বজুড়ে যে অশান্তি বিরাজ করছে সেখানে পুরস্কার কে পাচ্ছে তা নিয়ে চলছে উত্তেজনা, দেখা দিয়েছে নানা পশ্ন।

    সূত্র: বাসস

  • এমন কিছু করা উচিত হবে না যার ফলে দেশ পিছিয়ে পড়ে: রাষ্ট্রপতি

    এমন কিছু করা উচিত হবে না যার ফলে দেশ পিছিয়ে পড়ে: রাষ্ট্রপতি

    www.HelloBangla.News –  জাতীয় – ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে দলমত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার আহ্বান  জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এমন কিছু করা উচিত হবে না যার ফলে দেশ ও জনগণ আবারো পিছিয়ে পড়ে।’

    তিনি আজ বুধবার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘স্মার্ট চিলড্রেন কার্নিভাল ২০২৩’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, পরমত সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

    রাষ্ট্র্র প্রধান শিশুদেরকে আগামী দিনের ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’র দক্ষ, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক   দেশপ্রেমিক ও ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার তাগিদ দেন।

    শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে রাষ্ট্র প্রধান বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা যেখানে সব ধরনের কাজ, সেবা, আর ব্যবস্থাপনা বিশ্বমানের ও স্মার্ট প্রযুক্তি নির্ভর’।

    রাষ্ট্রপতি আরও বলেনম,‘তোমাদের এখন থেকেই শিখতে হবে হতে হবে অপ্রতিরোধ্য। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে  জানতে হবে।’

    আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিনে তাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি এবং এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশের সকল শিশু-কিশোরকে আন্তরিক স্নেহ-ও শুভেচ্ছা জানান।

    আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই আয়োজন শিশুদের সবাইকে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন বন্ধু তৈরিসহ আরো অনেক কিছুর সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিবে।

    তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার করার জন্য এখন তোমাদের সুযোগ কম হলেও যতটা পারা যায় খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করবে।’

    রাষ্ট্রপতি স্থানীয় জন প্রতিনিধিদেরকে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার ও আহ্বান জানান।

    তিনি শিশু-কিশোরদেরকে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বাইরের অনেক কিছু নিয়ে লেখাপড়া করে নিজ নিজ জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার পথের জোর দেন।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন উপদেশ দেন, ‘সব সময় মনে রাখবে, দেশটাও তোমার পরিবারের মতো। আর পরিবারে সবাই যেমন অবদান রাখে, তোমরাও সেভাবে অবদান রাখবে। এ জন্য নিজে দেশকে জানতে হবে, পড়তে হবে অনেক কিছু।’

    বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের সাফল্যের পথ ধরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার  ২০৪১ সালে মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ ও একটি স্মার্ট  বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে ।

    রাষ্ট্রপতি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ‘২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ কেমন হবে’-এর উপর নির্মিত একটি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী উপভোগ করেন।

    ‘স্মার্ট চিলড্রেন কার্নিভাল ২০২৩’ এ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রনজিত কুমার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং শিশু – সুমাইয়া আক্তার রুমি এবং মো. রেজওয়ান মাহবুব নেহাল।

    সূত্র: বাসস

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আগামীকাল

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আগামীকাল

    www.HelloBangla.News –  জাতীয় – ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রামান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা’র জ্যেষ্ঠ সন্তান দেশের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন আগামীকাল। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর অন্যান্য বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহনে ইউএনজিএ’র সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।

    সেখানে অবস্থান কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য জাতিসংঘ স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন এখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর অবস্থানস্থল দি লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে প্রশংসাপত্রটি হস্তান্তর করেন।

    কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলের উদ্যোগ গ্রহনের জন্য জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীকে স্বীকৃতির প্রদান করায় ব্রাউনের ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুল তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একজন সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

    বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ৪ মাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা যেমন বলি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখতো না। শেখ হাসিনার জন্মের সফলতা ও স্বার্থকতা কর্মের মধ্য দিয়ে।

    দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার জন্মদিন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। তিনি নিজে যা অর্জন করেছেন, তা নজিরবিহীন। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তাঁর জন্মদিন পালন না করলে আমরা জাতির কাছে অকৃতজ্ঞ থেকে যাব।’

    ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেতা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

    দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের নির্মম বুলেটে নিহত হন।

    শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।

    বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তার শহর বাসের পালা।

    তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

    বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড.ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তার প্রথম সন্তান ‘জয়’-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

    শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কান্ডারি হয়েছেন তারই ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু  যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫শ’ নেতা-কর্মী আহত হন।

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

    শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যঅন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তাঁর লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহে না মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

    সূত্র: বাসস

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News –  জাতীয় – ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী তিক্ততা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করছে।

    গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ড. মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যে নীতি ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র সেই নীতি ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ হচ্ছে সেই দেশ যেখানে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই সংগ্রাম করেছি। আমরা জনগণের ভোটে জয়লাভ করলেও ১৯৭১ সালে আমাদের সরকার গঠন করতে দেয় নাই। বরং আমাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল আর তখন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। এজন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ দিতে হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এত অল্প সময়ে এত মানুষ আত্মত্যাগ করেনি। আমরা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র জাতি যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে।’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রে ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের মতের, চিন্তার মিল আছে। নীতিগতভাবে আমাদের দুদেশের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে তাদের কোনো কোনো ব্যক্তিবিশেষ হয়তো আমাদের উন্নয়ন পছন্দ করছেন না, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    কেউ বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করলে তাদের মিথ্যাচারকে চ্যালেঞ্জ করতে দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানান তিনি।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে আমরা ২৬তম বড় অর্থনীতিতে পরিণত হব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রয়েছে ১৭ কোটি মানুষ, তাই আমাদের নিজস্ব বাজারও অনেক বড়। সেজন্য আমাদের দেশের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ বেড়েছে, কারণ আমাদের মাথাপিছু আয় পাঁচ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার অর্ধেকের বেশি কমেছে। এসবই শেখ হাসিনার সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কারণে সম্ভব হয়েছে।’

    ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাছ ও সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয়। চাল উৎপাদনে আমরা বিশ্বে চতুর্থ। আমাদের কৃষি জমি অনেক কমে গেছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন চার গুণ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। তবে আমরা এই উন্নতি করছি বলে অনেকেরই গাত্রদাহ হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না। কারণ এখন আমরা বিদেশির পয়সায় চলি না। আর আমরা উন্নতি করেছি বলে অনেকের আগ্রহ বেড়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা কারো লেজুরবৃত্তি করতে চাই না। আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আমরা বিজয়ের জাতি।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি সুন্দর পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে গেছেন। আর এই নীতি হচ্ছে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা একটা ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ড. মসিউর মালেক।

    অন্যান্যের মধ্যে কবি ও সাহিত্যিক ফকির ইলিয়াস, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল খালেক মিয়া, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার নিউইয়র্ক প্রতিনিধি লাভলু আনসার, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতৃবৃন্দ ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দলের ১৫ সদস্যের নাম ঘোষণা বাংলাদেশের

    তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দলের ১৫ সদস্যের নাম ঘোষণা বাংলাদেশের

    www.HelloBangla.News –  খেলাধুলা – ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ : অনেক নাটকীয়তার পর বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়নি তামিমকে। আসন্ন আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের  জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষনা করা হয়েছে।

    পিঠের ইনজুরি থেকে সুস্থ হবার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দলে ফিরেন ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। এই ইনজুরির কারণেই বাধ্য হয়ে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম।

    প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হবার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। এই ৪৪ রানের ইনিংস দেখে কখনও মনে হয়নি তামিম ইনজুরিতে আছেন। কিন্তু ইনজুরির শঙ্কা থাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে না খেলার  সিদ্ধান্ত নেন তামিম। টানা দুই ম্যাচ খেলার পর পিঠের ব্যথাটা আবারো দেখা দিয়েছে  বুঝতে পারেন তামিম।

    জাতীয় দলের নির্বাচক জানিয়েছেন, ‘পিঠে ইনজুরির কারনে তাকে দল থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’

    নির্বাচকরা আরও বলেন, ‘অধিনায়ক, প্রধান কোচ, মেডিকেল টিমসহ টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে , যেকোন সময় তার ব্যথা পুনরায় দেখা দিতে পারে।  এজন্য তাকে নিয়ে আমরা ঝুঁকি নিতে পারি না।’

    বিকেলে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার কথা থাকলেও সেটি বিলম্বিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাতে ঘোষণা করা হয়। দল ঘোষনার আগেই তামিম  নিজের ইনজুরির  বিষয়টি মাথায় রাখতে নির্বাচকদের  বলেছিলেন   জানা গেছে। বিশ্বকাপে  সব ম্যাচ খেলতে পারবেনা বলেও  জানিয়েছিলেন  তামিম।

    যে সকল খেলোয়াড়  সব ম্যাচ খেলতে পারবে না  অধিনায়ক সাকিব ও কোচ হাথুরু তাদের  দলে না রাখার পক্ষে  ছিলেন  বলে জানা গেছে।

    পুরোপুরি ফিট না  হওয়া তামিমকে দলে রাখা হলে সাকিব অধিনায়কত্ব করবেন না বলে  গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    তবে সব কিছু গুঞ্জনকে  উড়িয়ে দিয়ে প্রধান নির্বাচক  নান্নু বলেছেন এ সব গুঞ্জনের  কোন ভিত্তি নেই।

    নান্নু বলেন,‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  বিষয়গুলো  আমরাও দেখেছি।  আমাদের জানামতে  এসব কিছুই ভিত্তিহীন।’

    গত মাসে  ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের  বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে হঠাৎ করেই  জাতীয় দল থেকে  অবসর ঘোষণা করেন তামিম।  তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর  নিজের সিদ্ধান্ত থেকে  সরে আসেন তামিম।

    নিজের পিঠের ইনজুরি থেকে সুস্থ হতে পরে তিনি লন্ডনে  ইনজেকশন  নেন তিনি।   তবে ইনজেকশনের প্রতিক্রিয়া কমে গেলে আবারো  তিনি পিঠে ব্যাথা অনুভব  করতে পারেন বলে  জানিয়েছিলেন ডাক্তার।

    ‘একই ইনজুরি সমস্যা তার বার বার দেখা দিচ্ছে। দেশের এ যাবত কালের সেরা ব্যাটারদের  একজন হওয়ায়  পুরোপুরি  ফিট তামিম  বাংলাদেশের জন্য।  তার ফিটনেসের  অবস্থা বুঝতে তাই আমরা তাকে  নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলে ডেকেছিলাম। প্রথম ম্যাচ  বৃষ্টিতে  ভেসে  গেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে সে ব্যাটি-ফিল্ডিং করেছে। তার পিঠে  আবারো ব্যথা  দেখা দিয়েছে।

    দুই জেনুইন ওপেনার লিটন দাস ও  তানজিদ হাসানকে  দলে ডেকেছে  বাংলাদেশ।  গত বেশ কিছু দিন যাবত ব্যাট হাতে লিটনের  সময়টা ভাল যাচ্ছেনা। এদিকে গত এশিয়া কাপে অভিষেক হওয়া  তানজিদ এখনো  বড় কোন ইর্নিংস খেলতে পারেনি।

    তবে নান্নু আবারো বলেছেন  অফ ফর্ম কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত তারা  ওপেনারদের প্রতি  সমর্থন  অব্যাহত রাখবে।

    নান্নু বলেন,‘তানজিদ খুবই  সম্ভাবনাময়ী  একজন ওপেনার।  বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে  সে ভার করেছেন।  তার  সেরাটা  বের করে আনতে  আমাদের উচিৎ তাকে সমর্থন   দিয়ে যাওয়া।’

    ফিটনেস  এবং তার ফর্ম দলের জন্য সহায়ত হবে  বিবেচনায়  সিনিয়র খেলোয়াড়  মাহমুদুল্লাহকে  দলে রেখেছেন নির্বাচকরা।

    গত মাচে  ইংল্যান্ড সিরিজে  দুর্বল ফর্মের কারণে বাদ পড়ার পর  পুনরায় জাতীয় দলে ফিরেছেন মাহমুদুল্লাহ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে  দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ৪৯ ও  ২১ রান করেছেন।

    নান্নু বলেন,‘ মাহমুদুল্লাহ সব সময়ই  আমাদের  বিবেচনায় ছিল। আমরা বলেছিলাম  বিশ্বকাপের আগে আমরা সব খেলোয়াড়কে কিছু সুযোগ দিতে চাই  এবং যে কারণে মাহমুদুল্লরাহকে  দুই  সিরিজে দলে রাখা হয়নি।

    আজ  ভারতের উদ্দেশে  দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল।  বিশ্বকাপ শুরুর আগে  আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর  গুয়াহাটিতে এবং  ২ আগস্ট শ্রীলংকার বিপক্ষে  দু’টি  প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।  ধর্মশালায়  ৭ অক্টোবর  আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে  বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে  সাকিব আল হাসানের  নেতৃত্বাধীন  বাংলাদেশ।

    দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, তানজিদ হাসান  তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, (সহ-অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, মাহেদি হাসান, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল  ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।

    সূত্র: বাসস