Category: লিড নিউজ

  • নানান বাধা পেরিয়ে মেয়েরা আজ সফল হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

    নানান বাধা পেরিয়ে মেয়েরা আজ সফল হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: নানান বাধা পেরিয়ে মেয়েরা আজ সফল হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনে বলেন, “মেয়েরা সাফ্যলের সঙ্গে যে কোনো কাজ সম্পন্ন করে। পড়াশোনায় নারী আজ এগিয়ে। কর্মক্ষেত্রেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। বিভিন্ন পেশায় ভালো করছে। নানান বাধা পেরিয়ে মেয়েরা আজ খেলাধুলার মাঠে আসছে। এখানেও এগিয়েছে তারা। এখন মেয়েরা অনেক পদক আনছে।”

    আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

    ১৯৮১ সালে দেশের ফেরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে ফিরে আমি পেয়েছিলাম সারি সারি কবর। সেই কবরের মাটি ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে পারে না। এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেবো না। আমার যাত্রাপথ এত সহজ ছিল না। নানা ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছিল, এখনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আছে।”

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল জনসভায় আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশের জনগণই আমার পরিবার। বাংলাদেশের জনগণই আমার আপনজন। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যেভাবে আমার বাবা তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, যেভাবে আমার মা, আমার ভাইয়েরা জীবন দিয়ে গেছেন, আমিও আমার বুকের রক্ত ঢেলে দেবো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আমার চলার পথ, প্রতি পদে পদে বাধা। এখনো মনে পড়ে সেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আমাদের কত জন জীবন দিয়েছে। কত রকম অত্যাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেই, সংগ্রাম করে আমরা ক্ষমতায় ফিরতে পেরেছি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন তা ব্যর্থ হতে পারে না। সে আদর্শকে ধরে রাখতেই দেশে ফিরে আসা। কবরের মাটি ছুঁয়ে শপথ নিয়েছিলাম, এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেবো না। তাই করেছি। তবে সে চলার পথ সহজ ছিল না।”

    তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সব সময় অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছে। জেল-জুলুম সব সহ্য করেই ক্ষমতায় এসেছি। জীবনের হুমকি ছিল বারবার। লক্ষ্য ছিল, যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করা এ দেশকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আজ তা অর্জন করেছি।”

    তিনি বলেন, “মেয়েরা খেলতে পারবে না, ব্যবসা করবে না- ইসলাম ধর্মেও এমন বলা নেই। প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একজন নারী, কোনো পুরুষ নয়। সাহস করে বিবি খাদিজা এগিয়ে এসেছেন। তিনি ব্যবসা করতেন।”

    এসময় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তিনি বলেন, “কাউকে পেছনে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবো। ১৫৫৩ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাই প্রমাণ করে যে নারী জাগরণ ঘটেছে। তারাও এগিয়ে এসেছে। তবে এত প্রার্থীর মধ্য থেকে ৪৮ জনকে বেছে নেওয়া কঠিন কাজ। আপনাদের দিলেও তা আপনারা করতে পারবেন কি?”

  • কে সাংবাদিক হবেন এর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    কে সাংবাদিক হবেন এর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: কে সাংবাদিক হবেন এর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন, বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেন, “কে সাংবাদিক হবেন সে ব্যাপারেও একটি নীতিমালা থাকার প্রয়োজন বলে সাংবাদিকরা বলেছেন। আমরা বলবো গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকার এত বেশি উদার নৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন যে গণমাধ্যমে পেশাদারত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন তাদের বাইরে অনেক অপেশদার লোকজনও সাংবাদিকতায় চলে এসেছে, এখানে নীতি-নৈতিকতা বহির্ভূতভাবে, নিয়ন্ত্রণ তো বাদই দেই, মাশরুমের মতো গজিয়ে গেছে, এটা কিন্তু আপনারাই আমাদের বলছেন, আমরা বরং এখানে উদার, আমরা কাউকে আটকাইনি। এ উদার নৈতিকতার ফলে সাংবাদিকতার জায়গায় প্রফেশনালিজম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আপনারা বলছেন। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা এগুলো নিয়েও নীতিমালা তৈরি করব। যেন গণমাধ্যমের পরিবেশের মধ্যে ডিসিপ্লিন আসে।”

    আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি একটি নির্দেশনা দেব- আপাতত কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে কোনো প্রতিষ্ঠান শর্ট নোটিশে চাকরিচ্যুত করতে পারবে না। কমপক্ষে তিন মাসের নোটিশ দিতে হবে। কোনো গণমাধ্যমকর্মীও যদি মনে করেন তার মালিক পক্ষকে তিন মাসের নোটিশ দেবেন, সেটি দুই মাসও হতে পারে, তা দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারি। কিন্তু সিদ্ধান্ত আমরা নিলাম মন চাইলো হুট করে চাকরিচ্যুত করা বা মন চাইলো হুট করে চাকরি ছেড়ে দেন, এটা হতে পারে না। সকল গণমাধ্যমে এই নির্দেশনা অফিসিয়ালি পাঠাব।”

    মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা, জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। এটি সাংবাদিকরা বলেছেন, আপনাদের দাবির সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি। সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এ বিষয়ে উদ্যোগ দেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা চাচ্ছেন এখানে অফিস খুলতে হবে। আপনারা সবাই মিলে যখন মানববন্ধন করবেন, তখন বিদেশি মোড়লরা বলবে আমরা সাংবাদিকতার স্পেস সংকোচিত করার জন্য করছি, তখন আপনাদের ভয়েজ রেইজ করতে হবে। এদেশে যদি আমরা সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রবাহকে অবাধ করতে পারি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এখান থেকে বেনিফিটেড হবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধ সত্য। বিকৃত যারা করেছে, অসত্য যারা করে তাদেরকে যখন আটকে দিতে যাবেন তখন উঠে আসে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে আটকে দেওয়ার প্রশ্ন “

    টিভিতে গ্র্যাচুয়িটি দেওয়ার বিষয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিষ্ঠান লাভজনক না হলে এটি করা কঠিন হয়। আইন বাস্তবায়নের অনুপস্থিতিতে অনেকে যে সুযোগ নেন না এমন না। আইএসপির যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। ক্লিন ফিড বাদ দিয়ে প্যাকেজ দিতে পারেন না। এ বিষয়ে আমরা সবাইকে নোটিশ দেব, এরপর আইনি ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ডিজিটাল করতে সব বডিকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে নিয়ে কো-অর্ডিনেশন সেল করছি। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিনিধি দেব।”

  • আগামীকাল মিয়ানমারে ফেরত যাবে ৩৩০ জন

    আগামীকাল মিয়ানমারে ফেরত যাবে ৩৩০ জন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপিসহ ৩৩০ জন নাগরিককে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সেখাকার চলমান যুদ্ধে বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে এরা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

    আজ বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে কক্সবাজারের ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটিঘাটে আশ্রয় গ্রহণকারীদের মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহীদের গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না টেকনাফ-তুমব্রুর গ্রামগুলোর।

    বিদ্রোহীদের আক্রমণে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি, সেনাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের সদস্যরা। কাল তারাই ফেরত যাবে মিয়ানমারে।

  • পাকিস্তানে জোট সরকার গঠনের ঘোষণা

    পাকিস্তানে জোট সরকার গঠনের ঘোষণা

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: পাকিস্তানের ভোটের ফলাফল ও এরপর নানা জটিল সমীকরণ মিলিয়ে অবশেষে জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলীম লীগ-পিএমএল-এন ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পিএমএল-এন বলছে, দলীয় প্রধান নওয়াজ শরিফ নয়, এই সরকারের প্রধান হিসেবে থাকবে তার ভাই শাহবাজ শরিফ।

    পাকিস্তানের নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার গঠনে তাদের সাথে যোগ দিচ্ছে ছোট ছোট আরও কয়েকটি দল।

    এদিকে পাকিস্তানের প্রধান যে দুই দল পিএমএল-এন ও পিপিপি ২০২২ সালে ইমরান খান সরকারকে উৎখাত করে পরে পিএমএল-এন প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন করেছিল তারাই নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিল।

    মঙ্গলবার রাতে ইসলামাবাদে দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি নতুন জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এ সময় শাহবাজ শরিফও একই কথা বলেন।তিনি এই নতুন সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন।

    নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে ছোট ভাই শাহবাজকে মনোনীত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের নাম ঘোষণা করেন।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে একযোগে জাতীয় ও চার প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে ভোট হয়। এতে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জাতীয় পরিষদে ইমরান খান-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৯২, নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন ৭৫ ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি ৫৪ আসন পেয়েছে। বাকি আসন পেয়েছে অন্য দলগুলো।

    পাকিস্তানে সরকার গঠন করতে জাতীয় পরিষদে অন্তত ১৩৪ আসন দরকার। এ জন্য জোট সরকার গঠন করতে শুরু থেকেই পিপিপি এবং জাতীয় পরিষদে ১৭ আসন পাওয়া মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানের (এমকিউএম-পি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন পিএমএল-এন নেতারা।

    এমনকি তারা সাবেক ক্রিকেটার ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহেরিক-ই-ইনসাফের(পিটিআই) সাথেও আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করা ইমরান খান কোন ধরনের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান।

    সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, আমরা পিএমএল-এন, পিপিপি কারো সাথেই বসবো না।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে লাহোরে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বাসায় দুই দলের নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দুই দল জানায়, পাকিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঐকমত্যে পৌঁছেছে তারা। তবে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে চলছিল আলোচনা। পিপিপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে বিলাওয়ালকে চাওয়া হচ্ছিল।

    এসব বিষয় নিয়ে গত সোমবার ও মঙ্গলবার পিপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হয়। এরপর গতকাল বিলাওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি নিজেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থিতা থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

    বিলওয়াল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট  হিসেবে তিনি তার পিতাকে আবারো দেখতে চান।

    তিনি বলেন, তিনি আমার পিতা এ জন্যে আমি এ কথা বলছি না। দেশ এখন এক সংকটময় মুহুর্তে আছে। এ আগুন নেভানোর ক্ষমতা আসিফ আলী জারদারিই আছে।

  • দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক পাচ্ছেন একুশে পদক

    দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক পাচ্ছেন একুশে পদক

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে চলতি বছরের একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    মঙ্গলবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আইরীন ফারজানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এবার ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন ২ জন। তারা হলেন- মৌ. আশরাফুদ্দীন আহমদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া।

    শিল্পকলার বিভিন্ন শ্রেণিতে ১১ জন পেয়েছেন এই পদক। সংগীতে পেয়েছেন জালাল উদ্দীন খাঁ (মরণোত্তর), বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, বিদিত লাল দাস (মরণোত্তর), এন্ড্রু কিশোর (মরণোত্তর) ও শুভ্র দেব। অভিনয়ে ডলি জহর ও এমএ আলমগীর, আবৃতিতে খান মো. মুস্তাফা ওয়ালীদ (শিমুল মুস্তাফা) ও রূপা চক্রবর্তী, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ এবং চিত্রকলায় শাহজাহান আহমেদ বিকাশ।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও আর্কাইভিংয়ে কাওসার চৌধুরী, সমাজসেবায় মো. জিয়াউল হক ও আলহাজ রফিক আহামদ।

    ভাষা ও সাহিত্যে এবার একুশে পদক পেয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন মুহাম্মদ সামাদ, লুৎফর রহমান রিটন, মিনার মনসুর ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (মরণোত্তর)। এছাড়া শিক্ষায় প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু রয়েছেন এ তালিকায়।

    রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে চালু করা একুশে পদক সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেয়া হচ্ছে।

  • আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা

    আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে । এবার এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে সারা দেশে ২৯ হাজার ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে বলে ।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসএসসিতে ১৬ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯ জন, দাখিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৪০ জন, এসএসসি (ভোকেশনাল) ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৩ জন। আর বিদেশের ৮ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হবে বেলা ১টায়।

    কেন্দ্র পরিদর্শনের কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের হয়রানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি হয় এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয় সে কারণে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন না।  শিক্ষামন্ত্রী বেলা ১১টায় ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা উপলক্ষে ব্রিফিং করবেন ।

    পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে কিছু ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর তপন কুমার সরকার।

     

    পরীক্ষায় যে সব নির্দেশনা থাকছে:

    • পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় সকাল ১০টা এবং শেষ হওয়ার সময় দুপুর ১টা। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থীকে এর পরে প্রবেশ করতে দিলে তাদের নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্ব হওয়ার কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে।
    • ট্রেজারি থেকে নির্দিষ্ট তারিখের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সকল সেট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।
    • পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট পূর্বে এসএমএসর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের নিকট প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেওয়া হবে।
    • কেন্দ্র সচিব ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না; শুধু কেন্দ্র সচিব মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন (ছবি তোলা যায় না, এমন ফোন)।
    • পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (পরীক্ষার্থী, কক্ষ প্রত্যবেক্ষক, মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন টিম, বোর্ডের পরিদর্শন টিম, জেলা ও উপজেলা পরিদর্শন টিম, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য) ব্যতীত অন্য কেউই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।
    • ২০২৪ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    আরও কিছু তথ্য:

    • পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে।
    • সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসমূহ: তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ মার্চ শুরু হয়ে ২০ মার্চ শেষ হবে।
    • মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মার্চ শুরু হয়ে ২১ মার্চ শেষ হবে।
    • কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ মার্চ শুরু হয়ে ২১ মার্চ শেষ হবে।

    আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

    • শিক্ষা বোর্ডসমূহের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো অনলাইনে সার্বক্ষণিকভাবে তথ্যাদি আদান-প্রদান করবে।
  • আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে বাড়িতে বসে করতে পারবেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে বাড়িতে বসে করতে পারবেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: আমাদের আঙ্গুলে রয়েছে খুব সূক্ষ্ম কিছু শিরা উপশিরা। আঙ্গুলের ওপর চাপ দিয়ে  আপনার শরীরের শিরা উপশিরা ধমনি দিয়ে রক্তসহ অন্যান্য তরলের সঞ্চালন ঠিকঠাক আছে কিনা তা বুঝতে এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।

    এজন্য আপনি এক হাত দিয়ে আরেক হাতের কোনো একটি আঙ্গুলের নখের অংশটি চেপে ধরে রাখুন, যতক্ষণ না সেই অংশটির রঙ হালকা হয়ে যায়। এরপর আঙ্গুলটি ছেড়ে দিন। এখন নখের নীচের অংশটির স্বাভাবিক রঙে ফিরতে যদি দুই সেকেন্ডের বেশি সময় লাগে তাহলে বিষয়টি অস্বাভাবিকতার লক্ষণ হতে পারে।

    সাধারণত এটি ‘পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ’ আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ হচ্ছে আমাদের হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক বাদে শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন, হাতে পায়ে যে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হওয়া।

    সাধারণত রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার শরীরে পানিশূন্যতার কারণে বা রোগী শকে চলে গেলেও আঙ্গুল স্বাভাবিক রঙে ফিরতে সময় লাগতে পারে। বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

    এখন প্রশ্ন করতে পারেন সামান্য আঙ্গুলের আগা চেপে ধরে পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালনের ধারণা কীভাবে পাওয়া যায়?

    এর কারণ আমাদের আঙ্গুলে রয়েছে খুব সূক্ষ্ম কিছু শিরা উপশিরা। এ কারণে এই অংশটি চেপে ধরলে ওইসব শিরা থেকে রক্ত সরে গিয়ে রং হালকা হয়ে যায়। তাই, যখন আমরা আঙ্গুল ছেড়ে দিই, তখন কী গতিতে সেই রক্ত ফিরে আসছে তা থেকে ধারণা করা যায়, আমাদের রক্ত সঞ্চালন কতটা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • ভ্যালেন্টাইন নিয়ে গল্পের পেছনে গল্প

    ভ্যালেন্টাইন নিয়ে গল্পের পেছনে গল্প

    www.HelloBangla.News – মতামত – ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়  সাধারণত সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ব্যক্তির উদার মানবিক বন্ধকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। কিন্তু এই ভ্যালেন্টাইন ব্যক্তির কোন অস্তিত্ব আছে কি না তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে নানা চর্চা ও গবেষণা। জানা গেছে রেমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস ক্লাডিয়াস ২১৪ থেকে ২৭০ পর্যন্ত এমন এক শাসক ছিলেন যিনি তার শাসনামলে তিনি সৈন্যদের বিয়ে করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

    তিনি অনুভব করেছিলেন যে যোদ্ধার কোনো পারিবারিক বন্ধন নেই, সে ততো বেশি সাহসী। কেননা তার কোন পিছুটান থাকেনা বা আপনজন থাকেনা। তখন ওই যোদ্ধা তার জীবনের ঝুঁকি নিতে কম ভয় পায়। আর এই পরিস্থিতিতে আবির্ভূত হন ভ্যালেন্টাইন নামের একজন বিশপ, যিনি প্রেমে বিশ্বাস করতেন, তিনি সৈন্যদের বিয়ে দিয়ে তা উদযাপন করতেন, এভাবে তিনি তৎকালীন সাম্রাজ্যেরে শাসনের আদেশের বেড়াজাল ভেঙ্গে দিয়েছিলেন।

    ভ্যালেন্টাইন নামে আরেক ধার্মিক ব্যক্তিকে ঘিরে ভিন্ন ধরনের গল্প রয়েছে। ওই গল্প অনুযায়ী তিনি রাস্তায় রাস্তায় গোলাপ বিতরণ করতেন।

    আরেকটি গল্প অনুসারে ভ্যালেন্টাইন নামে এক ব্যক্তি কাগজে হৃদয় কেটে সৈন্যদের দিতেন, যাতে তারা সেই কার্ডগুলি দেখে তার প্রিয়জনকে মনে রাখতে পারে।

    এমন গল্পও আছে যেখানে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন ধর্মযাজক তার প্রভাবশালী আত্মীয়দের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি প্রেমের প্রকৃত অনুভূতি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

    সেই উপলব্ধি থেকে তিনি একজন খ্রিস্টান তরুণ এবং তার প্যাগান বান্ধবীর মধ্যে মিলনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে অর্থাৎ তাদের বিয়ে দিতে সম্মত হয়েছিলেন।

    প্যাগানরা মূলত বহু-ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন। যাদের সাথে খ্রিস্টানদের ব্যাপক বিরোধ ছিল।

    আর বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয় বন্ধুত্ব, আস্থা, ভালোবাসাসহ হৃদয়ের বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। অবশ্য রাজনৈতিক বিরোধ মিটিয়ে দিতে এই দিন প্রতীতি নেতার ভূমিকায় অভিনয় করে ফুল বিনিময় করা হতো। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা ভালোবাসা ফিরেছে বোধগম্য নয়।  বলা যায় এভাবেই বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন ডের যাত্রা শুরু। তবে সবথেকে আনন্দের বিষয় এই দিনটিতে প্রচুর তরুণ তরুণী দল রাস্তায় নেমে আসে হাতে ফুল নিয়ে। এটা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অন্য রকমের একটা ভালোবাসা বা ভালো লাগার প্রতিচ্ছবি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা দিনটি রঙ্গিন থাকে।

     

    ইতিহাসে ভ্যালেন্টাইন নামে একাধিক সেইন্টের দেখা মেলে তাই নানা মতামত:

    ক্যাথলিক সেইন্টদের রেকর্ড অনুযায়ী, ভ্যালেন্টাইন নামে মোট ১১ জন সেইন্ট আছেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন প্রেমের বার্তা ছড়ানোর জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।

    সেইন্টদের জীবনী বা হ্যাজিওগ্রাফি গবেষক, ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অফ সাও পাওলো (ইউনিফেস্প) এর গবেষক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যাজিওগ্রাফি সোসাইটির সহযোগী থিয়াগো মায়েরকি এই তথ্য দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, “এই তিনটি চরিত্র নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা দেয়, একজনের সাথে আরেকজনকে গুলিয়ে ফেলা হয়”,

    তিনি আরও বলেন, “গির্জা বা চার্চে যে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদযাপন করা হয় তিনি, রোমের সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন। তার সাথে একজন ডাক্তারের গল্পও মিলে যায় যিনি পরবর্তীতে একজন ধর্মযাজক হয়েছিলেন এবং সম্রাটের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে সৈন্যদের বিয়ে দেয়া উদযাপন করেছিলেন। কিন্তু তার আসলেই কোনো অস্তিত্ব ছিল কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে।”

    যদি একজন ভ্যালেন্টাইনকে আরেকজন ভ্যালেন্টাইন থেকে আলাদা করা কঠিন হয় তবে এটা প্রমাণ করা আরও কঠিন হবে যে সত্যিই কী ঘটেছে। সেইসাথে এই প্রশ্নও ওঠে যে শত শত বছর ধরে চর্চিত এই কিংবদন্তি চরিত্রের আদৌ কোনো অস্তিত্ব ছিল নাকি সবই মনগড়া?

    যেহেতু ১৪ই ফেব্রুয়ারি উদযাপন করা চরিত্রটি নিয়ে ক্যাথলিক ধর্মে এতো বিতর্ক রয়েছে, ফলে বাস্তবতা কী এবং পৌরাণিক কাহিনী কী তা নিশ্চিত করতে না পারায় ক্যাথলিক চার্চ নিজেরাই তাদের প্রথাগত লিটার্জিকাল ক্যালেন্ডার থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারির উৎসবটিকে সরিয়ে দেয়।

    ১৯৬০ সালে দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের পরে তা করা হয়। তারপরও সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের সম্মানে কিছু কিছু সম্প্রদায় আজও এই উৎসব উদযাপন করে, যেখানে ঐতিহ্য বেশ শক্তিশালী।

     

    পৌরাণিক কাহিনীর জন্ম যেভাবে:

    চার্চের দাপ্তরিক নথিতে, বেশ সংক্ষেপে এ সংক্রান্ত তথ্য দেয়া আছে। সেই তথ্য থেকে একজন ভ্যালেন্টাইনকে অন্য ভ্যালেন্টাইনের থেকে আলাদা করা যায় না।

    রোমান মার্টায়রোলজি, যেখানে সেইন্টদের জীবনী পাওয়া যায়, সেখানেও এ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়া আছে।

    সেখানে ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে তিনি “রোমে, ভিলা ফ্ল্যামিনিয়ায়, মিলভিয়ান ব্রিজের পাশে” মারা গিয়েছিলেন। এরচেয়ে বেশি কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

    ব্রাজিলের অ্যাকারাউ ভ্যালির স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেইন্টদের জীবনী গবেষক ড. হোসে লুই লিরা বলেন, “দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের আগে বিভিন্ন বিশেষ দিন উদযাপনের বিষয়ে যে বই প্রকাশ হয় সেই মিসালেও বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে বলা হয়েছে যে ভ্যালেন্টাইন একজন ধর্মযাজক এবং শহীদ ছিলেন। ২৭০ সালের দিকে তিনি মারা গিয়েছিলেন।”

    তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভ্যালেন্টাইনস ডে সম্পর্কে এখন যেসব কল্পনাপ্রসূত ধারণা পাওয়া যায় সেগুলো মূলত সম্পূর্ণ “মৌখিক এবং লিখিত সাহিত্য”।

    তার মতে, যারা প্রথম খ্রিস্ট ধর্মে গ্রহণ করেছিল তাদের নিয়ে নানা গল্প কথা প্রচলিত আছে তাদের মতো এদের নিয়েও নানা গল্পকথা তৈরি হয়েছিল।

    আর এই রীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমে আরও শক্তিশালী আসন গেড়ে বসে। যতদিন পর্যন্ত না চার্চ এগুলোকে একটা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

     

    তবে গল্পের পেছনে আরও গল্প আছে:

    এত দ্বন্দ্বের মধ্যে, আসল ভ্যালেন্টাইনস ডে কী হতে পারে সেই তথ্য বিভিন্ন সূত্র দ্বারা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। তৃতীয় শতকে রোমে বসবাস করেছেন, আবার সে সময় তৎকালীন সম্রাট ক্লডিয়াসের সরকারের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন এসব তথ্য থেকে ওই প্রেমের সেইন্টকে খুঁজে বের করা সম্ভব।

    সেইন্টদের জীবনী বা মার্টায়রোলজিতে বলা হয়েছে, এই ইতিহাসের সাথে রোমের টাইবার নদীর উপর মিলভিয়ান সেতুর অস্তিত্ব জুড়ে আছে।

    “এই সেতুটি প্রায় ২০৭ সাল থেকে আছে”, লিরা জোর দিয়ে বলেন। “এটি দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধের সময়, ব্যাটেল অব মেটাউরোর ফিরে আসা উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছিল।”

    এটিও বিশ্বাস করা হয় যে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন শহীদ হয়েছিলেন, তখনকার যুগে অনেক বিশিষ্ট খ্রিস্টানদের মেরে ফেলার বিষয়টি সাধারণ ছিল। বিশেষ করে রোম সাম্রাজ্যের আদেশ পালন না করলে তাদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেয়া হতো।

    তার মৃত্যুর তারিখ ১৪ই ফেব্রুয়ারি হওয়ার বিষয়টি সম্ভবত একটু দেরিতে সামনে এসেছে। এখানে চার্চ তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় একটি সুবিধাজনক সময় বেছে নিয়েছে। বিশেষ করে চতুর্থ শতক থেকে যখন খ্রিস্টান ধর্ম আনুষ্ঠানিক ধর্মে পরিণত হয়, যার লক্ষ্য ছিল নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্যাগানদের আচার অনুষ্ঠানগুলো তুলে দেয়া।

    ভ্যাটিকানবাদী ফিলিপ ডমিঙ্গুয়েস, রোমের পন্টিফিকাল গ্রেগরিয়ান ইউনিভার্সিটির ডাক্তার এবং রোমের লে সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন, “এমনকি খ্রিস্টান ধর্ম এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেলেও, প্রথমে রোমানদের প্যাগান বা পৌত্তলিক রীতিগুলো খ্রিস্টধর্মের সাথে সহাবস্থান করতো সেই সময়ের চার্চ ধীরে ধীরে প্যাগান বা পৌত্তলিক রীতিগুলো দমন করার জন্য নিজেদের কিছু উৎসব, স্মৃতিস্মারক এবং অভ্যাস তৈরি করতে শুরু করে। প্যাগান মন্দিরগুলোকে গির্জায় পরিণত করা হয় এবং আচারগুলোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা শুরু হয় সেই সময় থেকেই।”

    এই কারণে, ৪৯৬ সালে, পোপ গেলাসিয়াস (৪১০ থেকে ৮৯৬ সাল) ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা উচিত বলে প্রতিষ্ঠা করেন। সিদ্ধান্তটি আকস্মিকভাবে নেয়া হয়নি।

     

    প্যাগানদের উৎসব ও তীর্থস্থান:

    উত্তর গোলার্ধে বসন্ত শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস আগে, প্রাচীন রোমে লুপারক্যালিয়া নামে একটি উৎসব হতো। এটি ছিল মূলত জমির উর্বরতা লাভের আশায় এক ধরনের আচার অনুষ্ঠান।

    ডমিঙ্গুয়েস বলেন, “এটি এমন এক সময় ছিল যখন ধর্মীয় আচার হিসাবে একজন আরেকজনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যৌন সম্পর্কে মিলিত হতো। এর মাধ্যমে ফসল বপনের সময়কেও বোঝাতো এবং তারা এই উপায়ে দেবতাদের আশীর্বাদ চাইতো যাতে প্রচুর ফসল ফলে এবং একটি উর্বর বছর যায়”,

    এজন্য পোপ এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা খ্রিস্টান নৈতিকতার সাথে যায়।

    ভ্যাটিকানবাদী ডমিঙ্গুয়েস আরও বলেন, “তিনি ওইসব আচার অনুষ্ঠানের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন এবং তাই তিনি এই অনুষ্ঠানের একটি খ্রিস্টান পরিচয় তৈরি করেছিলেন। তিনি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে প্রেমিকদের, দম্পতিদের পৃষ্ঠপোষক প্রতিনিধি হিসাবে রাখেন। চার্চ বিদ্যমান অভ্যাসগুলোকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেনি তবে সেগুলোকে সমন্বয় করেছে, যেন প্যাগান আচার এবং সামাজিক রীতিগুলোকে একটি খ্রিস্টান ন্যায্যতা দেওয়া যায়।”

    সেই অর্থে, ভ্যালেন্টাইনকে বেছে নেয়ার বিষয়টি হঠাৎ করে সামনে আসতে পারে বলে ডমিঙ্গুয়েস মনে করছেন।

    তিনি বলেন, “আমরা যতদূর জানি এর পেছনে নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই,” তিনি বলেন এবং পরবর্তীতে হয়তো প্রেমের গল্প ভরা কিংবদন্তি চরিত্র তৈরি করা হতে পারে।

    গবেষক মায়েরকি বলেন, “সেই মুহূর্তে ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর স্মৃতিটি প্রেমের সাধনা, প্রেমিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার সাথে যুক্ত হতে শুরু করে।”

    ম্যাকেঞ্জি প্রেসবিটারিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইতিহাসবিদ ডেনিস ওয়ান্ডারলি পেস ডি ব্যারোস বলেছেন, “চার্চ একটি প্রাচীন ঐতিহ্যকে খ্রিস্টান রূপ দিতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে প্রতিষ্ঠা করেছে।”

    আশ্চর্যজনকভাবে, যে উৎসবের আর্বিভাব হয়েছিল প্যাগানদের থেকে তা পরে খ্রিস্টধর্ম তাদের নিজেদের মতো করে উদযাপন করে।

    তবে আজ এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন ভ্যাটিকানবাদী ডমিঙ্গুয়েস। তিনে বলেন, “এখানে খ্রিস্টান সেইন্টের নাম ব্যবহার করা হলেও এটি খ্রিস্টানদের ছুটির দিন নয়।”

    পরে সম্ভবত ভ্যালেন্টাইনের যে জীবনী তৈরি করা হয়েছিল– বা যতো ভ্যালেন্টাইনের কথা হচ্ছে, তাদের গল্পের পুরোটাই হয়তো কল্পকাহিনীতে পূর্ণ।

    দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিল শুরুর সময় থেকে চার্চের একটি প্রচেষ্টা ছিল “সেইসব সেইন্টদের স্মৃতি মুছে ফেলা যারা একটি পৌরাণিক গল্প ছাড়া আর কিছুই ছিল না, এরপরও এক সময় তারা কিংবদন্তি চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন”, ব্যাখ্যা করেন গবেষক মায়েরকি।

    “কাউন্সিল চলাকালীন, নির্দিষ্ট কয়েকজন সেইন্টের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল”, লিরা জোর জানান।

    “ফলস্বরূপ, কেউ কেউ বাধ্যতামূলক এই উৎসব উদযাপনকে ঐচ্ছিক উৎসবে পরিণত করে। ষষ্ঠ সেন্ট পল (১৮৯৭ থেকে ১৯৭৮ সাল), পোপ, ১৯৬৯ সালে, সেইন্টদের উদযাপনের জন্য ক্যালেন্ডারের সংস্কার করেন এবং তখন থেকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের স্মৃতিচারণ ঐচ্ছিক হয়ে ওঠে।”

    “মার্টায়রোলজিতে একাধিক ভ্যালেন্টাইনের অস্তিত্ব থাকার কারণে এবং তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো বিবরণ না থাকার কারণে এমনটা হয়।”

    “মারা যাওয়া সেইন্টদের রেকর্ড প্রতিটি চার্চের দায়িত্বে ছিল, তাই এসব তথ্যের সম্পূর্ণ সত্যতা দেওয়া সম্ভব না”, হ্যাজিওলজিস্ট যোগ করেন।

    এর আরও অনেক পরে, নিজেকে একজন খ্রিস্টান সেইন্ট ঘোষণা করার ক্ষেত্রে মানদণ্ড আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়। সহজ করে বললে সেইন্ট উপাধি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

    গবেষক মায়েরকির মতে “ভ্যালেন্টাইনস ডে বলে কিছু ছিল না এটা বলা খুবই কঠিন” এর একমাত্র কারণ “আমার অন্তত মনে আছে, এই দিনটির অস্তিত্ব ছিল এবং আছে। যেহেতু চার্চের বিভিন্ন দল লম্বা সময় ধরে দিনটি উদযাপন করে আসছে।”

    গবেষক পায়েস ডি বারোস বলেন, “ক্যাথলিক চার্চ মনে করেছিল যে তাদের সকলের (ভ্যালেন্টাইনদের) ঐতিহাসিক গুরুত্বের অভাব ছিল।

    বিভিন্ন নথিপত্র এবং প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করার সময় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় সমাহিত ভ্যালেন্টাইন নামের সেইন্টদের তথ্যে ঐতিহাসিক অসঙ্গতি আছে।

    সেইন্টদের সমাধিগুলো যদি ধর্মীয় তীর্থস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’কে ঘিরে ইতালিতে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।

    রোমের কসমেডিনে ব্যাসিলিকা অব সান্তা মারিয়ায় রিলিকোয়ারি নামক বাক্সে একজন মানুষের খুলি রাখা আছে। বলা হয় এটি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের খুলি।

    বাকি দেহাবশেষ টারনি শহরের সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ব্যাসিলিকায় পাওয়া যায়।

    সেন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি হয়ে ওঠার আগে উমব্রিয়ার ইন্টারামনার বিশপ ছিলেন যে শহরটি এখন টারনি নামে পরিচিত।

    এছাড়া ইতালিতে, পাদুয়া প্রদেশের মনসেলিসে সেন্ট জর্জের চার্চে, অন্য এক ভ্যালেন্টাইনের সমাধি রয়েছে।

    সেইন্ট এবং অন্যান্য প্রাচীন ব্যক্তিত্বদের ফেসিয়াল রিকন্সট্রাকশন বা মুখের পুনর্গঠনের বিশেষজ্ঞ ও ব্রাজিলিয়ান ডিজাইনার সিসেরো মোরেস ওই সংরক্ষিত মাথার খুলির অবয়ব থেকে থ্রিডিতে উভয় ভ্যালেন্টাইনের সম্ভাব্য ছবি প্রকাশ করেছেন।

    তবে যাই হোকনা কেন ব্যালেন্টাইন ডে সম্পর্কে একটা বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।  এই বিতর্কের মধ্যে থেকেও বিশ্বের প্রতিটি মানুষ ভালোবাসা প্রকাজের বিষয়টি বশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। তবে এই ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালাবাসা দিবসে অনেক দেশেই যুদ্ধ চলছে। কেউ অস্ত্র নিয়ে ছুটছে কেউবা ফুল নিয়ে ভালোবাসার প্রতিক্ষায় আছে। তবে ফুল নিয়ে যারা ঘোরাঘুরি করছে তাদের সংখ্যই বেশি।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • প্রকল্প দ্রুত শেষ না করলে খরচ বাড়ে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রকল্প দ্রুত শেষ না করলে খরচ বাড়ে: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: প্রকল্প দ্রুত শেষ না করলে খরচ বাড়ে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “প্রকল্প সম্পন্ন করে ফেললে আমরা নতুন প্রকল্প নিতে পারবো। কিছু কিছু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সেগুলোও দ্রুত শেষ করা উচিত। দ্রুত শেষ না করলে খরচও বাড়ে, কালক্ষেপণও হয়। সেটা যেন না হয়।”

    আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সভায় সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “তার কার্যালয় থেকেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় যেন এ বিষয়ে একটু নজর দেয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেসব প্রকল্পগুলো অল্প খরচ করলেই শেষ হয়ে যাবে, সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে ফেলা।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য যে প্রকল্পগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সেগুলো আমাদের নিতে হবে। প্রকল্প বাছাই করার সময় সেটা আমাদের দেখা দরকার। আমাদের যে লক্ষ্যটা আছে সেটা আমরা অর্জন করতে পারি।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্বব্যাপী অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, যার জন্য বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জিনিসের দামও বেড়ে যাচ্ছে, পণ্য আনতে সময়ও লেগে যাচ্ছে। নানা কারণে বহির্বিশ্বের চাপটা আমাদের ওপর এসে পড়ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাইরের দেশের ওপর আমাদের নির্ভরশীল থাকার দরকার নেই, আমরা নিজেরা সব উৎপাদন করবো। এজন্য সবাইকে বলেছি এক ইঞ্চি জমিও যেন পড়ে না থাকে।”

    তিনি বলেন, “কিছু কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের বাইরের দেশ থেকে আনতেই হচ্ছে। আমরা নিজেরা যদি উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা করি, সেটা কিন্তু আমরা পারবো। ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশে যেভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল, অগ্রগতি হচ্ছিল তখন প্রথমে আসলো কোভিড-১৯ অতিমারি, তার ধাক্কায় সারা বিশ্বব্যাপী, সব কিছু স্থবির। এরপর আসলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা, এখন আবার গাজায় গণহত্যা, আক্রমণ চলছে।

     

  • অনেক সময় গণমাধ্যম সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে: সিইসি

    অনেক সময় গণমাধ্যম সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে: সিইসি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪: অনেক সময় গণমাধ্যম সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে, বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, “ক্ষমতা নয় দায়িত্বই আমাদের গ্রহণ করতে হয়। ক্ষমতা শব্দটিকে যদি আমরা পরিহার করতে পারি তাহলে দেশ ও সমাজ অনেক বেশি এগিয়ে যেতে পারে।গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে লম্বা বক্তৃতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো কাজ করে না, তখন সবগুলো কাজ গণমাধ্যম একাই করে সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সিইসি বলেন, “গণমাধ্যমকে আমরা অনেকে পছন্দ করি না। যখন আমার প্রশংসা করা হয় তখন ভালো লাগে। তবে সমালোচনার জায়গায় ছাড় দেওয়া যাবে না। এই সাহসী ভূমিকা গণমাধ্যমকেই পালন করতে হবে। এটাই গণমাধ্যমের ভূমিকা। সাধারণ মানুষ দেশের গণমাধ্যমের প্রতি যথেষ্ট আস্থাশীল। অনেক পেপার পত্রিকা পড়ি, চ্যানেল দেখি-আমাদের গণমাধ্যমের ভূমিকা যে খুব নেতিবাচক তা বলা যাবে না। আমি তখনই ক্ষুব্ধ হয়ে যাই, যখন আমার বিরুদ্ধে কিছু থাকে; এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

    কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “নির্বাচনটা ভালো হয়েছে কী খারাপ হয়েছে সেটা আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। সামনে আরও অনেকগুলো নির্বাচন আছে, উপ-নির্বাচন আছে, সেগুলোকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে তোলার যে দায়িত্ব, সেখানে নেতৃত্ব যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়েও নেতৃত্ব শক্তিশালী হবে না। তৃণমূলের সংস্থাগুলোয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। সেখানেও গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে। সেখানে গণতন্ত্র কতটা কাজ করছে, কতটা কাজ করছে না, এগুলো তুলে আনতে হবে “

    তিনি বলেন, “বস্তনিষ্ঠতা, এটা খুবই কাম্য। আরেকটা হচ্ছে অতিরঞ্জিত, এটাকে আমি মন্দভাবে দেখি না। অতিরঞ্জনের মধ্যে সাহিত্যের উপাদান থাকে, কিন্তু বিকৃত হলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। মিস ইনফরমেশন, অতিরঞ্জন হতে পারে। কিন্তু বিকৃত হলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। জনগণকে সচেতন করতে কমিশন কতটা দায়িত্ব পালন করেছে। সরকার কতটা সহায়তা করছে কী করছে না, এগুলো প্রচার হলে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।”

    সিইসি বলেন, “নির্বাচনকে যাতে আরও স্বচ্ছ, উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন।”

    উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “দলীয় প্রতীক না থাকলে এটারও ভালো দিক আছে। এটা তো জাতির জন্য নয়, এলাকার জন্য। স্থানীয় সরকার ছোট একটা এলাকায় পরিচালিত হয়, সীমিত ক্ষমতা নিয়ে। পাকিস্তানেও বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে একটা অংশগ্রহণমূল নির্বাচন হয়েছে। দলীয় প্রতীক হোক কিংবা না হোক আমরা চাই সুন্দর নির্বাচন।”

    বিএনপি প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য ফোনে কথা বলেছি, ডিও লেটার দিয়ে আহ্বান জানিয়েছি। তারা আহ্বানে সাড়া দেয়নি। আমরা নির্দ্বিধায় বলেছি, তারা যদি নির্বাচনে অংশ নিতেন তাহলে সেটি অনেক বেশি অংগ্রহণমূলক হতো, ভোটার উপস্থিতিও বেশি হতো। নির্বাচনটা সার্বজনীন হোক। বড় বড় দল অংশ না দিলে নির্বাচন অবৈধ হবে না। তবে নির্বাচনের ন্যায্যতা, গ্রহণযোগ্যতা খর্ব হবে। আমরা যদি সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারি নির্বাচন আরও সুন্দর হবে।”

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় এটা আদায় করে নিতে হয়। স্বাধীনতা সব সময় থাকবে না। তবে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও সব সময় চাপ আসবে তা নয়। গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।”