Category: শিক্ষা

  • দ্রুত এবং স্মার্টলি শেখার কৌশল

    দ্রুত এবং স্মার্টলি শেখার কৌশল

    দ্রুত শেখা একটি দক্ষতা যা জীবনের সকল ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। আপনি পরীক্ষায় সফল হওয়ার চেষ্টা করছেন এমন একজন শিক্ষার্থী? নতুন দক্ষতা বিকাশের চেষ্টাকারী একজন পেশাদার? বা শুধুমাত্র এমন কেউ যিনি তাদের জ্ঞানের ভিত্তি প্রসারিত করতে চান? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যেই। দ্রুত শেখা একটি মূল্যবান সম্পদ হতে পারে। এখান থেকে আমরা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শেখার জন্য কিছু টিপস এবং কৌশল খুঁজে বের করবো।

    আপনার শেখার শৈলী সনাক্ত করুন

    প্রত্যেকে আলাদাভাবে শেখে, এবং আপনার শেখার শৈলী বোঝা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। কিছু লোক ভিজ্যুয়াল লার্নার যারা দেখে শিখে, অন্যরা শ্রবণ বা কাইনেস্থেটিক উপায়ে আরও ভাল শিখে। একবার আপনি আপনার শেখার শৈলী সনাক্ত করার পরে, আপনি সেই শৈলীটি পূরণ করে এমন কৌশলগুলিতে ফোকাস করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, তথ্য সংগঠিত করার জন্য ভিজ্যুয়াল লার্নার্স ডায়াগ্রাম বা মাইন্ড ম্যাপ ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারে। যেমন, কাইনেস্থেটিক শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে উপলব্ধিগত কার্যক্রম পছন্দ করতে পারে।

    স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

    মনের মধ্যে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য থাকা আপনাকে শিখতে অনুপ্রাণিত করে। আপনি কী অর্জন করতে চান তা নির্ধারণ করুন। এবং নির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি নতুন ভাষা শিখছেন, তাহলে প্রতিদিন ১০ টি নতুন শব্দ শেখার বা প্রতি সপ্তাহে একটি বিদেশী ভাষার বইয়ের নির্দিষ্ট সংখ্যক পৃষ্ঠা পড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। একটি পরিষ্কার লক্ষ্য মাথায় রাখা, আপনাকে ট্র্যাকে থাকতে সহায়তা করতে পারে।

    সক্রিয় শেখার কৌশল ব্যবহার করুন

    একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী কৌতুহলী হয় এবং প্রশ্ন করে। তথ্যগুলোকে গুছিয়ে নিয়ে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করুন। সেগুলোর থেকে নোট করা, সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে তা নিজের পরিবেশ বা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সামঞ্জস্যতা ঘটান। এভাবে বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে আপনার শিক্ষাকে নিয়ে আসুন। সেই জ্ঞান অন্যান্যদের সাথে ভাগ করে নিতে আনন্দ লাভ করুন। যা শিখলেন বা অর্জন করলেন সেটাকে বারবার স্মরণ করুন।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফোকাস

    আপনি যখন দ্রুত কিছু শেখার চেষ্টা করছেন, তখন মনোযোগকে বিক্ষিপ্ত করে এমন কোনো বস্তু বা পরিবেশের থেকে সরে আসতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের উপর ফোকাস করা। তথ্যগুলোর মূল বিষয়টাকে অগ্রাধিকার দিন এবং বিশদ বিবরণে আটকাবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত সনাক্ত করতে, স্কিমিং এবং স্ক্যান করার মতো কৌশলগুলি ব্যবহার করুন। তারপর সেই ক্ষেত্রগুলির আরও গভীরে যান৷

    বিরতি নিন

    আপনি যখন দ্রুত শেখার চেষ্টা করছেন তখন আপনার মস্তিষ্ককে বিরতি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিরতি নেওয়া আসলে শেখা এবং মনে রাখাকে উন্নতি করতে পারে। প্রতি ঘন্টায় একটি ছোট বিরতি নিন এবং সেই সময়টিকে আরামদায়ক বা আনন্দদায়ক কিছু করতে ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে আপনার ব্যাটারি রিচার্জ করতে এবং নতুন উদ্যোমে ফিরে আসতে সাহায্য করবে।

    নিয়মিত অনুশীলন করুন

    দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শেখার জন্য নিয়মিত অনুশীলন অপরিহার্য। আপনি যা শিখছেন তা অনুশীলন করার জন্য প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় আলাদা করুন। নিয়মিত অনুশীলন ও অধ্যবসায়ই মানুষকে তাঁর কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছে দেয়। তাই নিত্য অনুশীলনকে অভ্যাসে পরিণত করুন। এটি আপনার গতিবেগ তৈরি করতে এবং দ্রুত লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করবে।

    দ্রুত শেখা একটি মূল্যবান দক্ষতা যা অনুশীলন এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিকাশিত হয়। উপরের কৌশলগুলো কাজে লাগিয়ে সহজেই দ্রুত সময়ে শেখা সম্ভব। মনে রাখতে হবে- ধৈর্যশীল এবং অবিচল থাকতে হবে। শেখার জন্য প্রশ্ন করতে ভয় পাওয়া যাবে না। সঠিক পদ্ধতির সাথে, আপনি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শিখতে পারবেন।

  • জেনে আসুন, দেখে আসুন- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

    জেনে আসুন, দেখে আসুন- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

    ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (Liberation War Museum)। বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকজন মুক্তিপাগল মানুষের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর এক দুর্লভ সংগ্রহশালা। ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ বেসরকারি উদ্যোগে ঢাকার সেগুনবাগিচার একটি ভাড়া বাসায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অসংখ্য মানুষের সমর্থন ও সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বর্তমানে পনেরো হাজারেরও অধিক সংগ্রহ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

    প্রায় আড়াই বিঘা জমির উপর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনের গ্যালারিগুলো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও ইতিহাসের রুপে সাজানো হয়েছে। প্রায় ২১ হাজার বর্গফুট আয়তনের চারটি গ্যালারীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী নানা স্মারকের মধ্যে রয়েছে দেহাবশেষ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বিমান ও হেলিকপ্টার, আলোকচিত্র, অস্ত্র, দলিল, চিঠিপত্র ইত্যাদি মিলিয়ে ১৭ হাজারের বেশি নিদর্শন রয়েছে। এছাড়া জাদুঘরের প্রথম তলায় শিখা অম্লানের পাশেই আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার ব্রোঞ্জের তৈরি ম্যুরাল স্থান পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।

    প্রথম গ্যালারির নাম “আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংগ্রাম’। এই গ্যালারিতে সংগৃহীত আছে প্রাচীন বঙ্গের মানচিত্র, পোড়ামাটির শিল্প, টেরাকোটা, নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন, ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপট এবং সত্তরের সাধারণ নির্বাচনের নানা স্মারক।

    দ্বিতীয় গ্যালারির নাম “আমাদের অধিকার, আমাদের ত্যাগ”। এই গ্যালারীতে আছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের বিশাল আলোকচিত্র, ভাষণের ভিডিও চিত্র, আওয়ামী লীগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার নানা নিদর্শন।

    তৃতীয় গ্যালারির নাম “আমাদের যুদ্ধ, আমাদের মিত্র’। এই গ্যালারীতে যুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জীবনযাত্রা, বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রিন্ট, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, রাজাকারদের তৎপরতা, মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলাযুদ্ধের আশ্রয়স্থল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সহায়তাকারী দেশে-বিদেশের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।

    আর চতুর্থ ও সর্বশেষ গ্যালারিটির নাম ‘আমাদের জয়, আমাদের মূল্যবোধ’ এতে আছে নৌযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শ্ন। বিলোনিয়ার যুদ্ধের রেলস্টেশনের রেলিং, ট্রলি ইত্যাদি। এছাড়া আছে মিত্রবাহিনীর ছত্রীসেনাদের আক্রমণ, দগ্ধ বাড়িঘর। সবশেষে বিজয় অর্জন। শেষ হয়েছে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানের অনুলিপিটি দিয়ে।

    ভ্রাম্যমান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরঃ বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদবুদ্ধ করতে ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় ঘুরে প্রদর্শণী করা হয়। ২০০১ সাল থেকে দু’টি বড় বাসের মাধ্যমে এ ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর ইতিমধ্যেই ৬৪ জেলা ভ্রমন করেছে, তুলে ধরেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস।

    প্রবেশ টিকেট মূল্য ও সময়সূচী

    মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রবেশের জনপ্রতি টিকেটের মূল্য ২০ টাকা। সপ্তাহের প্রতি রবিবার বাদে জাদুঘরটি গ্রীষ্মকালীন (মার্চ-সেপ্টেম্বর) সময়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং শীতকালীন (অক্টবর-ফেব্রুয়ারী) সময়ে সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

  • শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানো হবে তৃতীয় শ্রেণি থেকে : শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানো হবে তৃতীয় শ্রেণি থেকে : শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছেন, তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের কোডিং শেখানো হবে। এছাড়া ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোডিং, ডিজাইন- এগুলো শেখানো হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে আমরা শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করছি। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করেছি, সেটি চালু হয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ প্রাথমিক ও পুরো মাধ্যমিকে বাস্তবায়ন হবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) রাজধানীর আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন,  প্রতিটি পর্যায়ে বয়স অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থী যত বিষয়ই পড়ুক না কেন, ভাষা, আইসিটি, সফট স্কিল শিখবে। ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আর ধাক্কা খাবে না।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা আগে মুখস্থ করতো, আত্মস্থ করতে পারতো না। এখন আনন্দের মধ্যদিয়ে শিখবে। অভিজ্ঞতাভিত্তিক সক্রিয় শিখন হবে। যা শিখবে বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে শিখবে। এতে পরীক্ষাভীতি আর থাকবে না। পরীক্ষা কিছু থাকবে কিন্তু অধিকাংশই হবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন।’

    ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অধ্যাপক রওনক জাহান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা ভিসি অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যান্য সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এম এম শহিদুল হাসান, প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক মামুন, ট্রেজারার ইশফাক ইলাহী চৌধুরীসহ শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস