Category: বাংলাদেশ

  • মন্ত্রণালয় থেকে ক্রোড়পত্র ডিএফপির লিস্ট দেখে দিচ্ছি না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    মন্ত্রণালয় থেকে ক্রোড়পত্র ডিএফপির লিস্ট দেখে দিচ্ছি না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৩ মে, ২০২৪: মন্ত্রণালয় থেকে ক্রোড়পত্র ডিএফপির লিস্ট দেখে দিচ্ছি না, বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে ক্রোড়পত্র দেই, তা কিন্তু ডিএফপির লিস্ট দেখে দিচ্ছি না। আমি কিন্তু একটি লিস্ট বানিয়েছি, বিশেষ সোর্সের মাধ্যমে। যেটি আমাকে মোটামুটি সঠিক একটি সার্কুলেশনের চিত্র দিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি এখন সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। কারা কত ক্রোড়পত্র পেয়েছে, তা এক্সেল সিটের মাধ্যমে মেইন্টেইন করি। কাছাকাছি সার্কুলেশনের দুটি পত্রিকার মধ্যে একটি পত্রিকা কম পেলে পরে তা ব্যালেন্স করার চেষ্টা করি। আমি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করি।”

    আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ বার্তা’র মোড়ক উম্মোচন ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) পত্রিকার সার্কুলেশন সংখ্যা প্রকাশ করে, সেটা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরাফাত বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি ইতোমধ্যে কাজ করছি। বিষয়টি একটু জটিল। জটিল এই কারণে যে, সংখ্যা নির্ণয় করার যে ফর্মুলাটা আছে, তার মধ্যেও কিছু গলদ আছে, সেটিকেও ম্যানুপুলেট করা যায়। যদি বলি ফর্মুলা অলরেডি আছে, সেটি দিয়ে সঠিক তালিকা করে ফেলব, এরমধ্যেও দেখা যাবে সঠিক হয়তো অনেক কিছু হবে না। কারণ পেছন দিকে ম্যানুপুলেশন সমস্যা। যে কারণে আমি ফর্মুলাটা নিয়ে কাজ করছি।”

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, “৬০-৭০ শতাংশ সিদ্ধান্ত সার্কুলেশনের ওপর ভিত্তি করে নেই। কারণ এখানে সরকারের স্বার্থ আছে, বেশির ভাগ মানুষের হাতে এটি আমি পৌঁছাতে চাই। কিছু পত্রিকা আছে সার্কুলেশনের চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু তার একটি ইতিহাস ঐতিহ্য আছে, কিছু পত্রিকা আছে সার্কুলেশনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেখানে নামকরা সম্পাদক আছেন, যার নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্য ব্র্যান্ডিং আছে, এগুলোকে যাচাই বাছাই করে ব্যালেন্স করে ক্রোড়পত্র দিয়েছি, কোনো ব্যক্তির সুপারিশে ক্রোড়পত্র দেইনি। সুপারিশ করেছে নিয়েছি, দেখেছি, কিন্তু দিন শেষে আমার যে ফর্মুলা সেটি অ্যাপ্লাই করেছি।”

    ডিএফপিতে নতুন ডিজি নিয়োগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “যারা সার্কুলেশনের কাজ করে তাদের নিয়ে আমি বসব। ফর্মুলাকে একটি ফাইন টিউন করে একটি ফর্মুলা আনার যে সত্যিকার অর্থে সার্কুলেট, অর্থাৎ শুধু প্রিন্ট করলে হবে না, বিক্রিত নম্বরটা আমরা পাওয়ার ফর্মুলা বের করব, যেখানে ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকবে না। আমার কাছে আসল লিস্টটা যাতে থাকে। সব জায়গায় আমি এক ধরনের স্বচ্ছতা ও অবজেকটিভিটি আনার চেষ্টা করছি। আপনারা সবার সামনে যে বিষয়টি বলবেন, আমাকে একা পেলেও সেই কথাটিই বলবেন।”

    সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি নিয়ে এ মুহূর্তে আমি বলতে পারব, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এ মুহুর্তে আমি গণমাধ্যমকর্মী আইন নিয়ে কাজ করছি। গণমাধ্যমকর্মী আইন পাস হলে এটি মোটামুটি সবকিছু কাভার করে ফেলবে। কারণ এখানে অনলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মোটামুটি সবকিছুই কাভার করবে। গণমাধ্যমের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।”

    তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শ্রম আইনের অধীনে যত সুরক্ষা দেওয়া আছে সেগুলোকে রেখে বাকি বিষয়গুলো গণমাধ্যমকর্মী আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার কাজ করা হচ্ছে।”

    বিটিভির দিকে নজর দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, “বিটিভিসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৫টি ডিপার্টমেন্টের দিকেই তাকাব। সব জায়গায় কিছু না কিছু পরিবর্তন আপনারা দেখতে পাবেন।”

  • ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু

    ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৩ মে, ২০২৪: ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে তিনি এসব কার্ড বিতরণ করেন। প্রথমদিন সারাদেশের ১০৪ জনকে এই জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এরপরে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এই কার্ড দেওয়া হবে।

    নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব মো. আহসান হাবিব খান, বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী প্রমুখ।

    উল্লেখ্য গত ৭ মে (মঙ্গলবার) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এ পরিচয়পত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এদিন দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত জাতীয় পরিচয়পত্রটি হস্তান্তর করেন।

  • এমপি আনোয়ারুলের অপকর্ম করলে তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে: সেতুমন্ত্রী

    এমপি আনোয়ারুলের অপকর্ম করলে তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – রাজনীতি – ২৩ মে, ২০২৪: এমপি আনোয়ারুলের অপকর্ম করলে তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে, বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “ভারতে নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার অপকর্মে জড়িত কিনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলতে পারছি না। আওয়ামী লীগে অপরাধীদের কোনো ঠাই নেই।”

    আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নবগঠিত কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপ কমিটির সদস্যদের পরিচিতি সভায় এ কথা বলেন তিনি।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “আনারকে তৃতীয়বার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল তার জনপ্রিয়তার জন্য। এলাকায় গিয়ে দেখেন, এলাকার মানুষরা তার জন্য শোকার্ত। ভেতরে সে কোনো অপকর্ম করে কিনা এসব যখন প্রমাণ হয় তখন শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেন না, দলের লোক হলেও। জিরো টলারেন্স নীতি তার। ভারতের গণমাধ্যমে এসেছে চোরাচালানের কথা। তার মৃত্যুর আগে দেশের কোনো সাংবাদিকের অনুসন্ধানে প্রতিবেদনে কেন বিষয়টা এলো না?”

    অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের ডলার সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক নানাবিধ কারণে ডলার সংকট, দ্রব্য মূল্যও বৃদ্ধি হয়েছে। তবে সরকার বসে নেই। কাজ করে যাচ্ছে।”

    যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে পরিচিত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপকমিটির কো চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য সচিব ও হুইপ মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খান প্রমুখ।

  • এমপি আনোয়ারুল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতীয় পুলিশ আসছে ঢাকায়

    এমপি আনোয়ারুল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতীয় পুলিশ আসছে ঢাকায়

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২৩ মে, ২০২৪: ভারতের কলকাতায় গিয়ে পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য ঢাকায় আসছে ভারত পুলিশের একটি স্পেশাল টিম।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মে) তাদের ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খ. মহিদ উদ্দিন জানান, আজ দুপুর ২টা নাগাদ ভারতীয় পুলিশের দুইজন সদস্য ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। তারা আনোয়ারুল আজীমের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন তিন আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

    সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম গত ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভারতের কলকাতায় গিয়ে তার পূর্বপরিচিত বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ওঠেন। ১৩ মে দুপুর ২টার দিকে তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে গোপালের বাসা থেকে বের হন।

    কিন্তু এরপর আজীম আর বাসায় না ফেরায় ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস।

    গতকাল বুধবার (২২ মে) জানা যায়, কলকাতার নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন। তবে সেখানে তার মরদেহ মেলেনি।

  • ইউসেফ এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে: স্পিকার

    ইউসেফ এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে: স্পিকার

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: ইউসেফে এর মাধ্যমে বঞ্চিত শিশুরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে, বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অস্বচ্ছল পরিবারের সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা আজ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন-এটাই ইউসেফের সফলতা।”

    আজ রাজধানীর শাহবাগস্থ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব কনভেনশন হলে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্পিকার বলেন, “দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেফ) বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কারিগরি শিক্ষা ও শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউসেফ নামক কর্মজীবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।

    ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও বিকাশের পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। যুব সমাজকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে হবে।”

    তিনি বলেন, “উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণ প্রজন্ম নিজেদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”

    এসময় স্পিকার ইউসেফ এর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ইউসেফের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    ইউসেফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নির্বাহী পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্যসচিব ড. মো. আব্দুল করিম। ইউসেফ বোর্ড অফ গভর্নরস এর সাবেক চেয়ারম্যান পারভীন মাহমুদ, ইউসেফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জেবা রশীদ চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকলস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বক্তব্য রাখেন।

  • বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই: ডরিন

    বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই: ডরিন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই, বলে জানিয়েছেন কলকাতায় নিহত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারে মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি বলেন, “আমার বাবাকে হত্যার বিচার চাই। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, এটি আমি দেখতে চাই। কাউকে সন্দেহ করছি না। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের আমি দেখতে চাই।”

    আজ বুধবার (২২ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমনটি জানান।

    ডরিন বলেন, “বাবাকে হত্যা করা হয়েছে শুনেই আমি ডিবিপ্রধানের কাছে এসেছি। তারা এরইমধ্যে তিনজনকে ধরেছেন। আমি মামলা করব। ডিএমপি কমিশনার, ডিবিপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ডিবি আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার একটিই অনুরোধ, আপনারা আমার বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার করুন। এক সময় আমার বাবা ১৪ বছর মিথ্যা মামলায় পালিয়ে থেকেছেন। তখন আমি অনেক ছোট, তখনো আমি আমার বাবাকে কাছে পাইনি। এখন আবার আমার বাবাকে হারিয়ে ফেললাম। আপনারা কেউ আমার বড় ভাই, কেউ বাবার মতো। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। আমি স্বচক্ষে দেখতে চাই, কারা আমাকে এতিম করল, কেন করল।”

    বাবার সঙ্গে আপনার বা পরিবারের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, জানতে চাইলে ডরিন বলেন, “আমার সঙ্গে বাবার সর্বশেষ ভিডিওকলে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আম্মু আমি ইন্ডিয়ায় যাচ্ছি। দু-একদিনের মধ্যে চলে আসব। তোমাকে দাঁতের ডাক্তার দেখানোর কথা। আমি ফিরে এসে তোমাকে দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব, তুমি যেও না। ডাক্তার কল করলে বলবে, বাবা ইন্ডিয়াতে গেছে, ফিরে আসলে যাব। তুমি থাকো, আমি আসছি।’ তারপর আর বাবার সঙ্গে কথা হয়নি।

    কাউকে সন্দেহ করছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি আগে দেখতে চাই কারা এ কাজ করেছে। তারপর আমি আমার সন্দেহের কথা বলব।”

  • দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে: আইজিপি

    দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে: আইজিপি

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে, বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদে নির্ভীকচিত্তে নিজ নিজ ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধনে আমাদের দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে।”

    আজ বুধবার (২২ মে) সকালে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

    আজিপি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমরা আজ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের সাথে উৎসবের আনন্দে মিলিত হতে এখানে এসেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করছেন।”

    আইজিপি বলেন, “ভারতে নিখোঁজ সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি আমাদেরকে নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোঃ আতিকুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) ড.খঃ মুহিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি প্রকৌশলী দিব্যেন্দু বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্মমিত্র মহাথের প্রমুখ।

  • এমপি আনোয়ারুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    এমপি আনোয়ারুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল আজিম আনারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।

    আজ বুধবার (২২ মে) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, বুধবার সকালে কলকাতার অভিজাত এলাকা নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্স থেকে আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করে কলকাতা পুলিশ।

    এর আগে গত ১১ মে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার চিকিৎসার জন্য ভারতে যান।   সেখানে কলকাতার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান নেন। ১৩ মে স্থানীয় সময় (কলকাতা) বেলা পৌনে ২টার দিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ারুল আজিম। সন্ধ্যায় ফিরবেন জানালেও এরপর আর ফেরেননি।

  • কলকাতায় এমপি আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার

    কলকাতায় এমপি আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধার

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    গত ১২ মে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এমপি আনার। নদীয়া সীমান্ত অতিক্রম করার পর সন্ধ্যায় কলকাতার অদূরে ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকার বরাহনগর থানার ১৭/৩ মন্ডলপাড়া লেনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান। পরদিন দুপুর ১টা ৪০ নাগাদ ওই বাড়ি থেকে কিছুটা হেঁটে বিধানপার্ক কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে গিয়ে একটি গাড়িতে উঠেন। ওই সময় তিনি হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।

    চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আর ফেরেননি জানিয়ে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন গোপাল বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

    গোপাল বিশ্বাস জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে তার ২৫ বছর ধরে পারিবারিক সম্পর্ক। ১২ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনোয়ারুল আজিম কলকাতার মণ্ডলপাড়া লেনে তার (গোপাল বিশ্বাস) বাড়িতে আসেন। তিনি কলকাতায় আসেন চিকিৎসা করাতে। পরদিন (১৩ মে) স্থানীয় সময় (কলকাতা) বেলা পৌনে ২টার দিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ারুল আজিম। যাওয়ার সময় তিনি (আনোয়ারুল) বলে যান, দুপুরে খাবেন না। সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন। পরে তিনি কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে এসে নিজেই গাড়ি ডেকে চলে যান। ’

    জিডির তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারুল আজিম সন্ধ্যায় গোপাল বিশ্বাসের বাসায় ফেরেননি।

    এমপি আনোয়ারুল আজিমের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পরে মেসেজ আসে। তাতে লেখা ছিল, ‘আমি বিশেষ কাজে দিল্লিতে চলে যাচ্ছি। ফোন করবো, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই’।

    এরপর ১৫ মে বেলা ১১টা ২১ মিনিটে ফের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ আসে, ‘আমি দিল্লিতে পৌঁছেছি। আমার সাথে ভিআইপিরা আছেন। ফোন করার দরকার নেই’।

    এই একই মেসেজ নিজের বাড়িতে এবং নিজের পিএকে ফরওয়ার্ড করা হয় এমপির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে।

    থানার ওই ডায়েরিতে গোপাল আরও জানান, গত ১৬ মে সকালে এমপির পিএ ফোনকল করলেও তা রিসিভ করেননি তিনি। পরে কলব্যাকও করেননি। এরপর ১৭ মে এমপির মেয়ে তাকে ফোন করে বলেন, ‘আমার বাবার সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না’। এরপরই আমি ওনার যাবতীয় পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সবাই তারপর থেকে ওনাকে ফোনকল করেও সাড়া পাচ্ছেন না। সে কারণেই আমি বরানগর থানায় মিসিং ডায়েরি করছি।’

    তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান এমপি আনোয়ারুল আজিমের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) আব্দুর রউফ।

     

    এমপি আনোয়ারুল আজিম কে হত্যা প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন:

    কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একজন ক্যাবচালক জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশের বাংলাদেশের ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।কলকাতা বিধান নগর পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মানব শ্রিংলা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “ ক্যাব চালক স্বীকারোক্তি দিয়েছে ১৩ই মে যে ব্যক্তিকে সে গাড়িতে তুলেছিল তাকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে লাশ ছড়িয়ে দিয়েছে”।

    তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা, অথবা মরদেহ পাওয়া গেছে কিনা, সেই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ফ্ল্যাটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সেখানে কাউকে এখনও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে তিনজনকে ঢুকতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। এদের মধ্যে একজন মহিলা। তবে ওই তিন জনকে সেখান থেকে বের হতে আর দেখা যায় নি।

    কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিবা টাউনের একটি ফ্ল্যাট ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কলকাতা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

    মি. আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন সকালে কলকাতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের হাইকমিশন।

    এর আগে ২০শে মে মি. আজিমের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেছিল।

    তারা জানতে পেরেছে কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ই মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারের কোনও জায়গায়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস কর্তৃপক্ষ, এমনটাই জানিয়েছিলেন উপ-দূতাবাসের এক কর্মকর্তা, যিনি তার নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    কলকাতার উত্তর শহরতলি বরাহনগর এলাকার সিঁথিতে যে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন মি. আজিম, সেই গোপাল বিশ্বাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে, ১৩ই মে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে ভাড়া করা গাড়িতে উঠেছিলেন মি. আজিম, সেটির চালকের সন্ধান পেয়েছে বলেই স্থানীয় পুলিশের তরফে তাকে জানানো হয়েছে।

    “পুলিশের কাছে আমি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলাম। তারা ওই গাড়িটিকে খুঁজে বার করেছে আর চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই চালক নাকি পুলিশকে জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এদের দুজনকে তিনি কলকাতা সংলগ্ন নিউ টাউন এলাকায় ছেড়ে দেন ১৩ই মে,” জানাচ্ছিলেন মি. বিশ্বাস।

    এর বাইরে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ সংসদ সদস্যের ব্যাপারে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ২০শে মে উপ-দূতাবাসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস সচিব রঞ্জন সেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংসদ সদস্যের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের শনিবার জানানো হয়। তারপরই আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা খোঁজখবর করছেন এমনটাই আমাদের জানানো হয়েছে।”

    আবার শেষবার যেহেতু নিখোঁজ সংসদ সদস্যকে কলকাতায় দেখা গিয়েছিল, তাই কলকাতা পুলিশের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখছিল বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস।

    কলকাতার সিঁথি অঞ্চলের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাস এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে তার পারিবারিক সম্পর্ক।

    মি. বিশ্বাস বলছিলেন, “এবারে তিনি এসে আমাকে বলেছিলেন যে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন। কোন ডাক্তার ভালো হবে, সেটাও জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমার জানাশোনা কোনও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই, তাই আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম সল্ট লেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেন”।

    “আমরা একসঙ্গে সকালের জলখাবার খেয়েছিলাম। তারপরে এটাও তাকে বলেছিলাম যে আমার গাড়ি সেদিন নেই, উনি যেন গাড়ির বন্দোবস্ত করে নেন। এরপরে আমি বাড়ির একতলায় অফিসে চলে আসি।”

    “এরপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দুপুরে বেরনোর সময়ে আমাকে বলে যান যে তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবেন। তার খোঁজ না পাওয়ার পরে আমি যখন সিসিটিভি ফুটেজ দেখি, তখন জানতে পারি যে উনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন দুপুর একটা ৪১ মিনিটে,” বলছিলেন গোপাল বিশ্বাস।

    বরাহনগর থানায় যে নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন গোপাল বিশ্বাস সেখানে তিনি লিখেছেন, তার বাড়ির অদূরে বিধান পার্ক এলাকা থেকে ভাড়ার গাড়িটিতে ওঠেন আনোয়ারুল আজিম। তাকে গাড়িতে উঠতে দেখেছেন, এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন মি. বিশ্বাস।

    সন্ধ্যায় বন্ধুর বাড়িতে ফিরে আসার কথা থাকলেও সেখানে ফেরেননি মি. আজিম।

    হোয়াটস্অ্যাপে ১৩ই মে তিনি মেসেজ পাঠান যে “বিশেষ কাজে দিল্লি চলে যাচ্ছি এবং পৌঁছে ফোন করবো, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই।”

    কলকাতার গোপাল বিশ্বাসের গহনা রফতানির ব্যবসা আছে। তিনি জানাচ্ছিলেন, দুই আড়াই দশকের বন্ধুত্ব সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের সঙ্গে।

    “বাংলাদেশে বিএনপির জমানায় ও ভারতে থাকত। আমাদের বাড়ি মাঝদিয়ায়। সেখানে সুভাষ আগরওয়ালের বাড়িতে থাকত আনার। আমার সঙ্গে সেখানেই পরিচয়, তারপরে বন্ধুত্ব। সম্পর্কটা এখন পারিবারিক স্তরে চলে গেছে,” জানালেন গোপাল বিশ্বাস।

    সে কারণেই চিকিৎসা করাতে এসে বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন আনোয়ারুল আজিম।

    সেদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরে মি. আজিম যে ভাড়াচালিত গাড়িতে উঠেছিলেন সেটির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এরপর গোপাল বিশ্বাসকে পুলিশ জানিয়েছে, মি.আজিমের সাথে আরেকজন বাংলাদেশি নাগরিককে নিউ টাউন অঞ্চলে ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন ওই চালক। এরপর ১৫ই মে সকালে গোপাল বিশ্বাস মি. আজিমের কাছ থেকে আবারও একটি হোয়াটস্অ্যাপ মেসেজ পান যে তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং তার সঙ্গে ‘ভিআইপিরা’ আছেন, তাই তাকে যেন ফোন না করা হয়।

    এর দু’দিন পরে, ১৭ই মে গোপাল বিশ্বাসকে মি. আজিমের মেয়ে ফোন করে জানান যে তার বাবার সঙ্গে কিছুতেই তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না।

    “সে খবর জানতে পেরে কলকাতায় ওর যত ঘনিষ্ঠ মানুষ আছেন বলে আমি জানি, সবাইকে বিষয়টা জানাই। তারাও খোঁজ খবর করতে শুরু করেন। কিন্তু কোনোভাবেই আজিমকে ফোনে পাওয়া যায়নি,” বলছিলেন মি. বিশ্বাস।

    পরের দিন, ১৮ই মে বরাহনগর থানায় যান তিনি।

    মি. বিশ্বাস বলছিলেন, “সেখানে আমাকে সারাদিন বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সেসব খতিয়ে দেখে আমার নিখোঁজ ডায়েরি নেওয়া হয়। তারা ওই ভাড়ার গাড়িটির নম্বরও পেয়ে যায়। চালকের সঙ্গে কথা বলেছে। নিশ্চয়ই পুলিশ খোঁজখবর করছে, আমাকে তো আর সব তথ্য জানাচ্ছে না।”

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস যে তথ্য পেয়েছিল, সে অনুযায়ী ১৭ই মে মি. আজিমের মোবাইল নম্বরটি কিছুক্ষণের জন্য বিহারে অবস্থান করছিল। আবার এটাও জানতে পেরেছে তারা যে মোবাইল সেট থেকে সিম কার্ডটি আলাদা করে রাখার কারণে সঠিক অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    এর আগে, ঢাকায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “ তার দুটি বাংলাদেশি নম্বর আছে আর একটি ভারতের নম্বর। আমরা ভারতীয় পুলিশের সহযোগিতায় তার ভারতীয় নম্বরটি দেখলাম মুজাফফরাবাদ অর্থাৎ বিহারের দিকে।“

    ঘটনাচক্রে বিহারে মুজাফফরাবাদ নামের জায়গা নেই। পাকিস্তান শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানীর নাম মুজাফফরাবাদ, আর প্রায় কাছাকাছি যে নামের জায়গা বিহারে আছে, সেই জায়গার নাম মুজফ্ফরপুর। ডিবির প্রধান সেদিন জানিয়েছেন, “আমরা বিষয়টার খোঁজখবর রাখছি। ভারতের যারা বাংলাদেশে আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, আবার ভারতীয় পুলিশের সঙ্গেও কথা বলছি। উনার পরিবারও যোগাযোগ রাখছে আমাদের সঙ্গে। তার মেয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন।”

    ডিবি কার্যালয়ে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন সংসদ সদস্যের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

  • এমপি আনোয়ারুল হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    এমপি আনোয়ারুল হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ মে, ২০২৪: এমপি আনোয়ারুল হত্যার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, “আজ বুধবার সকালে ভারতীয় পুলিশ আমাদেরকে জানিয়েছেন এমপি আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন। ভারতীয় পুলিশ যে তথ্য আমাদেরকে দিয়েছিলেন সে তথ্যনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ তিনজন অপরাধীকে ধরেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তদন্ত চলছে।”

    আজ বুধবার (২২ মে) দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ঝিনাইদহ সন্ত্রাসপূর্ণ সীমান্ত এলাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আনার সাহেব এবারও সেখান থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যাওয়ার পরে এ ঘটনাটি ঘটে। বাংলাদেশ পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে, শিগগির খুনের মোটিভ নিয়ে জানাতে পারবো। ভারতীয় পুলিশ আমাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে।”

    এ বিষয়ে যা যা করা দরকার আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মরদেহ আমাদের হাতে এখনো আসেনি। দুই দেশের পুলিশ কাজ করছে। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে সবগুলো প্রকাশ করছি না। তদন্তের স্বার্থে এখন আমরা অনেক কিছুই বলবো না। কোথায় খুন হয়েছে, কীভাবে খুন হয়েছে, কে কে খুন করেছে, কী ধরনের অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে তদন্ত শেষে সবকিছু জানানো হবে।”

    তিনি বলেন, “ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, এমপি আনার খুন হয়েছেন এটি নিশ্চিত। খুনের পেছনে কী কারণ তা পরে জানাবো।”