সৌম্যর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে জেতালেন ইয়াং ও হেনরি

সৌম্যর ম্যাচে জয় নিউজিল্যান্ডের - খেলাধুলা - ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
সৌম্যর ম্যাচে জয় নিউজিল্যান্ডের - খেলাধুলা - ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩: অনেক দিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন সৌম্য। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলেছেন ১৬৯ রানের অনবদ্য ইনিংস। বলা যায় এই রানের উপর ভোর করেই বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করে করেছে ২৯১ রান।কিন্তু জয়ের জন্য ২৯২ রান তাড় করতে নিউজিল্যান্ড হারিয়েছে মাত্র ৩ উইকেট।খেলেছে ৪৬.২ ওভার। আর এই জয়ের নাক হচ্ছে উইল ইয়াং ও হেনরি নিকোলাস। ইয়াং করে ৮৯ রান আর হেনরির ব্যাট থেকে আসে ৯৫ রান। যদিও ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন সৌম্য সরকার। বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বচ্চ রান হচ্ছে মুশফিকের। তিনি করেন ৪৫ রান।

নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন উইল ইয়াং কিংবা হেনরি নিকোলস। এত ভালো খেলেও নিজের উইকেট খুইয়েছেন সেঞ্চুরির ঠিক আগে। একইভাবে নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন বাংলাদেশের সৌম্য সরকার। রেকর্ডবুক তোলপাড় করা এক ইনিংস খেলেও হারের মুখ দেখেছেন তিনি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আউট হওয়ার শুরুটা হয় এনামুল হক বিজয়কে দিয়ে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো টম লাথামকে ক্যাচ দেন তিনি। এডাম মিলনের বলে আউট হওয়ার আগে ১২ বলে করেন ২ রান। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ বলে ৬ রান করে ফ্লিক করতে গিয়ে কাভারে দাঁড়ানো হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দেন । লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে ওই ডাফির করা পরের ওভারে ফিরে যান লিটন দাসও। ১১ বলে ৬ রান করে উইল ইয়াংয়ের হাতে ধরা দেন তিনি।

৪৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তরুণ তাওহীদ হৃদয় সঙ্গী হন সৌম্য সরকারের। তাদের দুজনের জুটিতে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছিল রান। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক ভাবে রানআউট হয়ে

যান হৃদয় ১৬ বলে ১২ রান করে। তবে একপ্রান্তে ঠিকই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। শেষ অবধি এসে একজন ভালো সঙ্গীও পেয়ে যান তিনি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে মিলে দলের বিপর্যয় সামাল দেন সৌম্য। এ দুজনের জুটিতে ১০৮ বলে আসে ৯১ রান।

৫৭ বলে ৪৫ রান করে মুশফিক উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে এই জুটি ভাঙে। পরে সঙ্গী বদলালেও সৌম্যর রানের গতি থামেনি। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।

ইনিংসের শেষ ওভারে গিয়ে যখন আউট হন, তখনও অনেক রেকর্ড তার নামের পাশে। ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা লিটন দাসের ১৭৬ রানের ইনিংসের পর দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস এখন সৌম্যের। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনো এশিয়ান ব্যাটারেরও সর্বোচ্চ রানও তার ১৬৯। আগেরটি ছিল ২০০৯ সালে শচীনের করা ১৬৩ রান।

নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলে ফেলার পর আউট হন সৌম্য। তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৪৯। সৌম্য আউট হওয়ার পর দলের ইনিংসও আর বেশিদূর যায়নি। যোগ করতে পেরেছে কেবল এক রান।

ছোট মাঠ আর ব্যাটিং উইকেটে রান তাড়ায় নেমে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নিউজিল্যান্ডকে। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ৬১ রান করে নিউজিল্যান্ড, হারায়নি কোনো উইকেট। ঠিক পরের ওভারে এসেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন হাসান মাহমুদ। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ বলে ৪৫ রান করে আউট হন রাচিন রবীন্দ্র।

পরের উইকেট বাংলাদেশ যতক্ষণে পায়, ততক্ষণে ম্যাচের মোড় ঘুরে গেছে পুরোপুরি। ১২৮ রানের জুটিতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ইয়াং এদিন পুড়েন সেঞ্চুরি আক্ষেপে। তাকেও ফেরান হাসান মাহমুদ। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৯৪ বলে ৮৯ রান করেন ইয়াং।

ইয়াংয়ের সঙ্গী নিকোলসও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। সেঞ্চুরি থেকে কেবল ৫ রান দূরে থাকতে শরিফুল ইসলামের বলে রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দেন তিনি। কেউই সেঞ্চুরি করতে না পারলেও জিততে কোনো সমস্যা হয়নি কিউইদের। কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম (৩৪*) ও উইকেটকিপার-ব্যাটার টম ব্লান্ডেল (২৪*) মিলে বাকি পথ অনায়াসেই পাড়ি দেন।

ম্যাচ সেরা হয়েছেন সৌম্য সরকার।

পূর্ববর্তী গণভবনে কাতারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
পরবর্তী কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো বং দি বেস্ট কুলিনারি অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড