উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে জেল হতে পারে অরুন্ধতী রায়ের

www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৮ জুন, ২০২৪: উসকানিমূলক ব্যক্তব্যের জেরে জেল হতে পারে ভারতের বুকার পুরস্কারজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের। ১৪ বছর আগের করা এক মন্তব্যের জেরে এই লেখিকার এই শাস্তি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা তার বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act)-র অধীনে মামলা শুরু করার অনুমতি পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

২০১০ সালে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য গঠিত সমিতি আয়োজিত এক সম্মেলনে অরুন্ধতী রায় বলেছিলেন, কাশ্মীর কখনই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না। এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। এমনকি ভারত সরকারও এটা মেনে নিয়েছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই সভায় উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়েছিলেন অরুন্ধতী রায়। এর প্রেক্ষিতেই দিল্লি পুলিশ অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্ত করছে। যথাসময়ে তদন্ত শেষ করতে না পারায় কয়েকটি মামলা তামাদিও হয়ে গেছে। সেই মামলাই নতুন করে শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা।

২০১৬-২০২০ সময়কালে চব্বিশ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির উপরে ইউএপিএ আরোপ হয়েছিল, তাদের সাতানব্বই শতাংশই জেলবন্দি হয়ে আছেন, অপরাধী প্রমাণ হয়েছেন ২১২ জন। কারণ, এই মামলায় জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

প্রশ্ন উঠেছে, অরুন্ধতীর ওই মন্তব্যের ফলে কাশ্মীরে অস্থিরতার নিদর্শন মিলেছে? বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের কোনও সংযোগ মিলেছে তার বক্তব্যের? এমন কোনও প্রমাণ আদালতে কখনও পেশ করা হয়নি, জনসমক্ষেও আসেনি। বরং এ বছরের সাধারণ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট হয়েছে কাশ্মীরে।

এর মধ্যে এমন কী নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ খুঁজে পেল পুলিশ, যার ভিত্তিতে ১৪ বছর আগের একটি বক্তৃতার জন্য ইউএপিএ-র মতো কঠোর ধারা আরোপ করার দরকার পড়ল? সে বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করেনি পুলিশ। ফলে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো, এই ধারার প্রয়োগ কি ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে, নাকি রাজনৈতিক?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘অরুন্ধতী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখিকা। পাশাপাশি তিনি ফ্যাসিজ়মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্র মৌলিক অধিকারকে ধ্বংস করছে। হতাশা থেকেই এটা করছে কেন্দ্র।’

পূর্ববর্তী তানজিম সাকিবের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি ফার্গুসনের
পরবর্তী ভারতে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির সতর্কতা