www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১ আগস্ট, ২০২৪: অলিম্পিকেই ইতিহাসে এই ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি। এক রাতে দুই সোনার পদক জয় করে সেই রেকর্ড গড়লেন ফরাসি সাঁতারু লিওঁ মারশাঁ। একটি ইভেন্টে সোনা জয়ের পর সময়ের ১০০ মিনিটের ব্যবধানটা এক রাতেই জয় করলেন নিজের দ্বিতীয় সোনা। ঢুকলেন রেকর্ডবুকে। অলিম্পিকের ইতিহাসে এক রাতে দুই সোনা জয়ের কীর্তি ছিল না আর কারোরই।
এনিয়ে এবারের আসরে তিনটি ইভেন্টে নেমে তিনটিতেই স্বর্ণ জিতলেন এই ফরাসি সাঁতারু। সবগুলোতেই নতুন করে খোদাই করেছেন অলিম্পিক রেকর্ড। শুধু শুধুই তো তাকে নিজের যোগ্য উত্তরসূরি ভাবছেন না ফেলপস। তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা এই অলিম্পিয়ানের মতে, পুলের দীর্ঘদিন দাপট দেখাবেন লিওঁ। ৪৮ বছর পর প্রথম সাঁতারু হিসেবে একরাতে তার ডাবল সোনা জয়ের কীর্তিটি ফেলপসের চোখে ইতিহাসের সেরা।
মারশাঁ নামলেন, সাঁতরালেন, রেকর্ড গড়লেন, জয় করলেন! ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্ট পার হলো এভাবেই। টোকিও অলিম্পিকে হাঙ্গেরির ক্রিস্তভ মিলাক রেস শেষ করেছিলেন ১ মিনিট ৫১.২৫ সেকেন্ড। মারশাঁ তারই সামনে এই রেকর্ড ভাঙলেন। ১ মিনিট ৫১.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করে জয়ে করেছেন স্বর্ণপদক। মারশাঁর চেয়ে ০.৫৪ সেকেন্ড পেছনে থেকে রুপা জিতেছেন মিলাক। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন কানাডার ইলিয়া খারুন।
প্রথম সোনা জয় হয়ত উদযাপনই করা হয়নি তার। দেড়ঘণ্টা পর হাজির হয়েছেন আবারও। এবারের ইভেন্ট ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক। নতুন অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে ব্রেস্টস্ট্রোক জিততে মারশাঁ সময় নিয়েছেন ২ মিনিট ৫.৮৫ সেকেন্ড। অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক স্টাবলেটি–ক্রুক ২ মিনিট ৬.৭৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে জিতেছেন রুপা। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের কাসপার কোরবু।
অলিম্পিক সাঁতারে একই দিনে দুটি ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিততে পারেননি রেকর্ড ২৩ সোনার মালিক ফেলপসও। এবারের অলিম্পিকে তৃতীয় সোনা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন মারশাঁ। এর আগে ৪০০ মিটার মিডলেতে ভেঙেছেন মাইকেল ফেলপসের রেকর্ডটা। সাঁতারের জগতে তাকে নতুন রাজাও হয়ত বলা যায় অনায়াসে।
লিওঁ মারশাঁর এমন উত্থানের গল্পটা অবশ্য একদিনের না। নিজেকে সাঁতারের পুলে জানান দিয়েছেন বেশ কয়েকবছর ধরেই। ২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার ও ৪০০ মিটার মিডলেতে সোনা এবং ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে পেয়েছিলেন রুপা। ২০২৩ সালে এসে ২০০ মিটার মিডলে, ৪০০ মিটার মিডলে ও ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে জিতেছেন সোনা। বর্তমানে ৪০০ মিটার মিডলেতে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক মারশাঁ।
মারশাঁর এমন সাফল্যের পেছনে পরিবারকেও অবদান দেয়া যায়। বাড়ির ছোট ছেলে মারশাঁ নিজের ঘরে চতুর্থ সাঁতারু। বাবা জেভিয়ার ১৯৯৬ সালে আটালান্টায় এবং ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি ছিলেন। জেভিয়ার অবশ্য বড় কিছু করতে পারেননি। ইন্ডিভিজুয়াল মেডলিতে তার সাফল্য ৭ম হওয়া।
মা সেলিন অংশ নিয়েছিলেন ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে। ৪ ইভেন্টে থেকেও বড় কিছু করা হয়নি তার। ২০০ মিটারে ছিলেন ১৪তম। চাচা ক্রিস্টোফার খেলেছিলেন ১৯৮৮ অলিম্পিকে। তিনি ১৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ছিলেন ১২তম। মা-বাবা আর চাচার না পারার আক্ষেপ যেন ঘোচালেন লিওঁ মারশাঁ। সেটাও করেছেন নিজের দেশ ফ্রান্সে।










