উড়ন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন মোস্তাফিজ

Mustafiz brought the United States to the ground - Sports - 26 May 2024
Mustafiz brought the United States to the ground - Sports - 26 May 2024

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ২৬ মে, ২০২৪: যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ। সদ্য ক্রিকেটে নাম লেখানো এই দেশটির কাছে বাংলাদেশের পরাজয় মেনে নিতে পরেনি দেশের ক্রিকেট প্রেমিকরা। দারুন সমালোচনার মধ্যে পড়ে দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে হারিয়ে যেন আকাশে উড়তে থাকে। এই অবস্থায় তৃতীয় ম্যাচে উড়ন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে মাটিতে নামিয়ে আনলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনো বোলার ইনিংসে ৫ উইকেটের বেশি পাননি। শনিবার সে রেকর্ড ভাঙলো। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে এই ফরম্যাটে ৬ উইকেট নেয়ার কীর্তি দেখালেন মোস্তাফিজুর রহমান।

হিউস্টনে গতকাল রাতে মোস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়েই ৯ উইকেটে ১০৪ রানে আটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে বাংলাদেশ পায় ১০ উইকেটের বিশাল জয়। যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা হলো বেশ ভালো। কিন্তু সাকিব আল হাসান প্রথম উইকেট তুলে নেওয়ার পরই ভেঙে পড়লো তারা।

আসলে ভেঙে দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, তিনি একাই নিলেন ছয় উইকেট। অল্প রান তাড়া করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তানজিদ হাসান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সৌম্য সরকার।

এ ম্যাচের একাদশে সবমিলিয়ে চারটি বদল নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল, ওপেনার স্টিভেন টেলর, প্রথম ম্যাচ জয়ের নায়ক হারমিত সিং ও দ্বিতীয় ম্যাচ জেতানো আলী খান ছিলেন না। তবুও শুরুটা ভালো হয় যুক্তরাষ্ট্রের। প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৩৫ রান তোলে তারা। পঞ্চম ওভারেও সাকিবকে ছক্কা হাঁকান দলটির ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীর।

এক বল পর সাকিবের বলে ক্যাচ ছেড়ে দেন গুসের ক্যাচ ছেড়ে দেন শান্ত। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে গিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। সাকিবের বলেই লং অফে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন গুস। ১৫ বলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করেন তিনি।

ভেঙে যায় ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরের ওভারে আরেক ওপেনার জাহাঙ্গীরকেও ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তানজিম হাসানের হাতে ক্যাচ দেন জাহাঙ্গীর। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২০ বলে ১৮ রান করেছিলেন তিনি।

দুই ওপেনারকে হারানোর পর অনেকটাই খেই হারিয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংসও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। তৃতীয় উইকেটিও পান মোস্তাফিজুর রহমান। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৯ বলে ৩ রান করা নিতিশ কুমার।

উইকেট পান আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিবও। ৭ বলে ২ রান করে তার বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

আগের ওভারে ক্যাচ ধরা রিশাদ হোসেন পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজেই উইকেট পান। ২০ বল খেলে স্রেফ ৭ রান করা মিলিন্দ কুমারকে আউট করেন তিনি। মাঝে কোরি এন্ডারসন এসে ইনিংস গোছানোর চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু ১৮তম ওভারে এসে দুই উইকেট নেন মোস্তাফিজ। প্রথমে ১২ বলে ১৭ রান করা ভ্যান স্কালওয়েকে আউট করেন। এরপর ১৮ বলে ১৮ রান করা অ্যান্ডারসন হয়ে যান বোল্ড। শেষ ওভার করতে এসে জাতিন্দর সিংকে বোল্ড করে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ।

শেষ বলে গিয়ে তার বলে ক্যাচ দেন নিসর্গ প্যাটেলও। ৬ বলে ২ রান করেছিলেন তিনি। এই উইকেট নিয়ে একটি রেকর্ডেও নাম লেখান মোস্তাফিজ। প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ছয় উইকেট পেলেন তিনি। সবমিলিয়ে ৪ ওভারে স্রেফ ১০ রান দিয়ে ৬ উইকেট পেলেন তিনি। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে ২২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং ফিগার।

রান তাড়ায় নেমে কোনো কষ্টই করতে হয়নি বাংলাদেশকে। লিটন দাস একাদশে থাকলেও এদিন ইনিংস উদ্বোধনে আসেন সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে তারা তুলে নেন ৪৭ রান। ১১তম ওভারে গিয়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি দেখা পান তানজিদ হাসান।

উদ্বোধনী জুটিতেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ৪২ বল খেলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৫৮ রান করেন তানজিদ হাসান। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ২৮ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য। তাদের কল্যাণে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

এই জয়ের ফলে হাতাশায় নিমর্জিত বাংলাদেশের সমর্থকদের কিছুটা আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।

এই ম্যাচেই অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন সাকিব:

প্রথম দুই ম্যাচে বল হাতে হতাশ থাকতে হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে পেলেন কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেটের দেখা। আন্দ্রিয়েস গুসকে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাতেই গড়েন অনন্য এক রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে একইসঙ্গে ১৪ হাজার রান ও ৭০০ উইকেট ঝুলিতে নেই আর কোনো ক্রিকেটারের। সাকিবই সেখানে প্রথম নাম লেখালেন। ব্যাট হাতে আগেই ১৪ হাজারের মাইলফলককে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় প্রোটিয়া কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকে টপকে ১৭ নম্বরে আছেন সাকিব। সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৩৪৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষে লঙ্কান কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন। তবে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সাকিবের আগে আছেন কেবল ড্যানিয়েল ভেট্টরি। আর  ছয়টি উইকেট পেলেই কিউই স্পিনারকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।

পূর্ববর্তী বিএনপি থেকে ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার
পরবর্তী আজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু