বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশে তাঁদের তাবেদার সরকার চায়: প্রধানমন্ত্রী

তাবেদার সরকার চায় প্রধানমন্ত্রী, - জাতীয় - ৩১ আগস্ট ২০২৩
তাবেদার সরকার চায় প্রধানমন্ত্রী, - জাতীয় - ৩১ আগস্ট ২০২৩

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩১ আগস্ট, ২০২৩: বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশে তাঁদের তাবেদার সরকার চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কিছু (বড়) দেশ বাংলাদেশে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেটি তাদের চাটুকার হবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার (৩০ আগস্ট) আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এর আগে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে এবং কমিশনকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করেছে।
তারা (কিছু বড় দেশ) গণতন্ত্র ও নির্বাচনের অতীত সম্পর্কে নাও জেনে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ, তারা আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং ভোট দেওয়ার অধিকার খুঁজছে।’
সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান, প্রথমে হ্যাঁ/না ভোট এবং রাষ্ট্রপতির ভোটের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সংস্কৃতি চালু করে নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেন এবং এরশাদ ও খালেদা জিয়া (জিয়াউর রহমানের স্ত্রী) জিয়ার পথই অনুসরণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বড় দেশগুলো সব সময় বিশ্বের সর্বত্র মাতবরি করার চেষ্টা করে।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অমানবিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের (বড় দেশ) তাদের মতো বন্ধু আছে তাদের শত্রুর কোন প্রয়োজন নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ ও নূরকে আশ্রয় দিয়েছে এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুনি রাশেদকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছি কারণ আমাদের বিচার বিভাগের বিচারে সে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার তাদের নেই। তারা এখন খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’
তিনি আরও বলেন, খুনি ডালিম ও রশিদ পাকিস্তান ও লিবিয়ার মধ্যে তাদের আস্তানা পরিবর্তন করে চলছে, অন্য একজন খুনির হদিস এখনও পাওয়া যায়নি এবং বাকি খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুনিদের বিচারের জন্য আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি দেশবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনি ছিলেন এবং তিনি খুনিদের বিচার বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন এবং তাদের বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে পোস্টিং দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম।
ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মোন্নাফী এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাদেক খান এমপি, আবদুল কাদের খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম মাজহার আনাম ও মো. আজিজুল হক রানা, পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মেহেরুন্নেছা মেরি ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়, মিজবাউর রহমান ভূঁইয়া রতন ও সাজেদা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোরশেদ কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন ও গোলাম সারোয়ার কবির প্রমুখ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা ও ভাইদের হত্যার পর ৩৫ বছর ধরে তারা ন্যায়বিচার পাননি।
যেসব দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে, তারা কেন বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তোলেনি এ প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কি মানবাধিকার নেই? ন্যায়বিচার দাবির অধিকার নেই?’
তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পথকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং আদালতের আদেশ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল–বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অবৈধ।
তিনি বলেন, বিএনপি শুধু হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং ও চোরাচালান বা অস্ত্রের রাজনীতি জানে।
তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, বিএনপি দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে দেশে শান্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীও বিএনপিকে সমর্থন করে আসছে।
১৫ আগস্ট যখন পুরো জাতি জাতির পিতার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যার জন্য জাতীয় শোক দিবস পালন করছে তখন ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের সংগঠন। আসুন আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে, জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো।
সূত্র: বাসস

পূর্ববর্তী এশিয়া কাপে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ
পরবর্তী বিএনপির গুমের নাটক দেশবাসীর অজানা নয়: সেতুমন্ত্রী