www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৩ মে, ২০২৪: এখন চলছে তীব্র গরম। কিন্তু তাই বলে অনুষ্ঠানের আয়োজনের কমতি নেই। আর একটা অনুষ্ঠানে গেলে আকর্ষণীয় পোশাকের পাশাপাশি চাই ফ্যাশনেবল গয়না। যা গরমে পরতে আরামদায়ক আবার দেখতেও চমৎকার। সোনা, রুপা বা ইমিটেশনের গয়নার বিকল্প গয়না হিসেবে গামছা, পাট, মাটি, কাঠ, কড়ি ও উল দিয়ে আকর্ষণীয় গয়না তৈরি করেছে শাহনাজ’স কালেকশনের স্বত্বাধিকারী শাহনাজ পারভীন। ইতিমধ্যে শাহনাজ এইসব মাধ্যমে গয়না তৈরি করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।বিশেষ করে গামছার তৈরি গয়না নারী মহলে সাড়া ফেলেছে। পাল্টে দিয়েছেন তরুণী এবং মধ্যবয়সী নারীদের গয়না পরার ধারণা। আজ তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা।দেশ থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে শাহনাজ’স কালেকশন ব্যতিক্রমি সব সৃষ্টির মহিমা। কিভাবে তিনি একজন সাধারণ নারী থেকে সফল হয়ে উঠলেন সেটা গল্প শুনিয়েছেন শাহনাজ পারভীন নিজেই।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতে খুব ভালোবাসতাম । কখন যেনো এই স্বপ্নগুলো আমার ভিতরের প্রতিভাগুলোকে টেনে বের করে নিয়ে আসে । কেমন যেনো একটা আত্ম তৃপ্তি অনুভব করলাম । মনে হল যেনো এই স্বপ্নগুলোই আমার মনের চাওয়া পাওয়া আকাঙ্ক্ষা গুলোকে জাগ্রত করে তুলছে । নিজের মনকে প্রশ্ন করলাম আসলে কোন কাজটা করলে আমি সত্যিই খুব ভালো থাকবো ? কোন কাজটা আমাকে সত্যিই খুব আনন্দ দেয় ? নিজেকে ভালো রাখার একটা জায়গা তৈরি হয় । আমরা নিজেকে যদি ভালবাসতে না পারি, ভালো রাখতে না পারি, তাহলে অন্যকে কিভাবে আমি ভালো রাখবো ? বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি । কারন আমার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসটা ছিল সব সময় ই একটু বেশি । আর নিজের কাজের প্রতি এই আত্মবিশ্বাস টা ছিল বলেই আজ আমি নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে পেরেছি ।
ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন রকম হ্যান্ডিক্রাফট এর কাজ করতে আমি খুব পছন্দ করতাম । ক্রিয়েটিভ জিনিসগুলো আমাকে খুব অনুপ্রাণীত করে । খুব সাধারণ জিনিসের ভেতর থেকে অসাধারণ কিছু তৈরি করতে ই আমি খুব পছন্দ করি । পড়াশুনার পাশাপাশি অবসর সময়ে বিভিন্ন রকম পোটারির কাজ , এমব্রয়ডারি কাজ , ব্লক বাটিক গয়না এরকম বিভিন্ন ধরনের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম ।
আমি খেয়াল করতাম ছোট ছোট যে কাজগুলোই আমি করে থাকি সবাই খুব প্রশংসা করতো , সেখান থেকেই আমার নিজের কাজের প্রতি একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং কাজের প্রতি আস্তে আস্তে আরো আগ্রহ বেড়ে গেল, বিভিন্ন মহল থেকে অনুপ্রাণিত হলাম । পরের অধীনে থেকে কাজ করার ইচ্ছাটা কখনোই আমার মনকে সারা দিত না । স্বাধীনভাবে কিছু করার ইচ্ছাটা ছিল সব সময় । ইউনিক কিছু কাজ করার বা নিজে পরিধান করার মধ্যে অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করতো সব সময় । আর সেই ভালো লাগার থেকেই শুরু হয় আমার এই পথ চলা । আর এভাবে হয়ে গেলাম একজন উদ্যোক্তা।
কাজ করছি আমাদের দেশের ঐতিহ্যপূর্ণ এবং মানসম্মত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে । আমি চাই আমাদের দেশের এই ঐতিহ্যপূর্ণ পণ্যগুলো সারা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়ুক । এই প্রোডাক্টগুলোর সম্বন্ধে সবাই জানুক এবং ব্যবহার করুক । আমাদের দেশে এখন অনেক মানসম্মত পণ্য সামগ্রী তৈরি হচ্ছে যা বিদেশি পণ্যগুলোর থেকেও কোন অংশে কম নয় ।
আমি কাজ করছি আমাদের দেশের ঐতিহ্য গামছা দিয়ে তৈরি ইউনিক জুয়েলারি নিয়ে। এই জুয়েলারিগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পড়ার জন্য খুবই মানানসই । এই গামছা জুয়েলারি গুলো খুবই কালারফুল হয়, তাই যেকোনো শাড়ি কিংবা ড্রেস এর সাথে খুব সুন্দর মানিয়ে যায় ।আলহামদুলিল্লাহ আমার নিজের হাতে বানানো এই জুয়েলারি গুলো আমেরিকা এবং কানাডা সহ বেশ কয়েকবার দেশের বাইরে পৌছে গেছে ।
খাঁটি সরিষার তেল ও নারিকেল তেল । শ্রীমঙ্গলের বেস্ট কোয়ালিটি চা পাতা ( ফ্রেশ টি ও গ্রিন টি ) , কুষ্টিয়া কুমারখালীর ঐতিহ্যপূর্ণ গামছা , রকমারি চাদর এবং আমার হ্যান্ডিক্রাফট’স এর ইউনিক জুয়েলারি সহ বিভিন্ন রকম পণ্য সামগ্রী ।
আসলে যেকোনো কাজ ভালোবেসে করলে সেটা অবশ্যই সুন্দর হবে । দরকার শুধু একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, সততা এবং দৃঢ় মনোবল । তবে প্রদিটি নারীর উচিত পরিবারের মানুষদের নিজের কাজের গুরুত্বটা বোঝানো, কারণ একজনের পক্ষে পুরো পরিবারের। দায়িত্ব বহন করা সত্যিই খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার । পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যদি এগিয়ে আসতে পারে তাহলে পরিবার টাও আরও স্বাচ্ছন্দ্য এবং সুখের হতে পারে।
আজ আমার পাশে আমার পুরো পরিবার এবং গুণীজনেরা এসে দাঁড়িয়েছেন । সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ । আজ তারা আমার পাশে না থাকলে আমার একার পক্ষে কখনোই সফল হওয়া সম্ভব ছিল না । ইনশাআল্লাহ এভাবেই সকলের ভালোবাসা এবং সর্বাত্মক সহযোগিতায় আমার উদ্যোগ শাহনাজ’স কালেকশনের একদিন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।










