www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ২৫ অক্টোবর, ২০২৩: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গতকালের (২৪ অক্টোবর) অধিবেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ৫৬ বছর ধরে ফিলিস্তিনের জনগণ দখলদারিত্বের শিকার হয়েছেন। তারা তাদের ভূখণ্ড (ইসরায়েলি) বসতিতে পরিণত এবং সহিংসতায় জর্জরিত হতে দেখেছেন। তাদের অর্থনীতি থমকে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দুর্দশার রাজনৈতিক সমাধানের আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
উত্তর গাজা খালি করার ইসরায়েলি নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে মহাসচিব বলেন, ১০ লাখ মানুষকে দক্ষিণে চলে যেতে বলাকে সুরক্ষা দেওয়ার বলা যায় না, যেখানে কোনো আশ্রয় নেই, খাবার নেই, পানি নেই, ওষুধ নেই, জ্বালানি নেই। আর মানুষকে দক্ষিণে যেতে বলে সেখানে বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা হামাসের ভয়ংকর হামলাকে ন্যায্যতা দেয় না। আর ওই ভয়ংকর হামলার কারণে ফিলিস্তিনি মানুষদের সম্মিলিতভাবে যে শাস্তি দেওয়াও ন্যায্যতা পায় না।
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ প্রসঙ্গে গুতেরেস এমন মন্তব্যের পর তার সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন। এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলার্ড এরডান মহাসচিবকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমি তাকে এ মুহূর্তে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। ইসরায়েলের জনগণ ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে চালানো সবচেয়ে জগণ্য অপরাধের প্রতি যারা সহানুভূতি দেখায় তাদের সঙ্গে কথা বলার যৌক্তিকতা নেই।
এদিকে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেন, বলেন: ‘হিজবুল্লাহ আগুন নিয়ে খেলছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা আমাদের উত্তর সীমান্তে কোনও সংঘাত চাইছি না। কিন্তু যদি হিজবুল্লাহ আমাদের যুদ্ধে টেনে নেয়, তবে এটা পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, লেবাননকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’
মূলত গাজা ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত। ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এমনকি হিজবুল্লাহর তীব্র হামলার মুখে সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে করে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠার শঙ্কা তৈরি হয়েছে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রত্যেক দিনই উত্তর ইসরায়েলে রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।
গত শনিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাষা, ধর্ম এবং সুরক্ষিত বেড়ায় বিভক্ত হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের উভয়পাশের বাসিন্দারা ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে উভয়পাশের হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।










