সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক: প্রধানমন্ত্রী

নির্যাতনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক প্রধানমন্ত্রী - জাতীয় - ০২ নভেম্বর ২০২৩ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News –  জাতীয় –  ২ নভেম্বর, ২০২৩: সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজন, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন আরও বলেন, যারা এ ধরনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তাদের আহত করেছে, পুলিশকে হত্যা করেছে, তাদের ওপর আক্রমণ করেছে, শাস্তি এদের পেতেই হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। করোনা শুরু হওয়ার পর বাইরে যাওয়া একবারে বন্ধ ছিল। সাক্ষাৎকার বন্ধ ছিল। মনে হয় এখনো একটা বড় জেলে বন্দি। আজ আসতে পেরেছি, সেজন্য শুকরিয়া।’

তিনি বলেন, ‘বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে যেন দাঁড়াতে পারে, এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য। জাতির পিতার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। তিন বছর সাত মাস তিনি সময় পেয়েছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে তিনি স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের সাংবাদিক এবং কলাকৌশলীসহ মানুষের কর্মসংস্থান যাতে ব্যাপকহারে হয় তার জন্য বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিই। আমাদের একটি মাত্র টেলিভিশন ছিল। যারা সরকারের থাকত তাদেরই অধীন ছিল। কে আমার গুণগান গাইল, কে আমার গুণগান গাইল না, সেটা আমি দেখি না। আমি সব কিছু মুক্ত করে দিই। ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখন তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করি। তথ্য কমিশন গঠন করি, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষ যত বেশি, ‘সংবাদপত্রও তত বেশি। অনেক উন্নত দেশ কিংবা ধনী দেশেও এত সংবাদপত্র নেই। বর্তমানে আমাদের পত্রিকার সংখ্যা ৩২৪১টি। অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল রয়েছে ৩৮৭টি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি ৩৩টি টেলিভিশন সম্প্রচারে রয়েছে।’

টেলিভিশন মালিকদের উদ্দেশ করে সরকারপ্রধান কলেন, ‘টেলিভিশনের মালিকরা কিন্তু টেলিভিশন চালাচ্ছে। এত সহজ করে দিলাম মালিকরা কেন কল্যাণ ট্রাস্টে অনুদান দেয় না, সেটাই আমার প্রশ্ন। কয়েকজন দিয়েছে কিন্তু বেশির ভাগ মালিকই দেয়নি। সেটা হিসাব করা যায়– কারা দিল, কারা দেয়নি। না দিলে বন্ধ করে দিতে পারি, সেটা করতে চাই না।’

আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যারা আছেন—সামান্য ঘটনা হলেও বড় বড় বিবৃতি দেন; তারা এখন কোথায়? তাদের তো এখন আমরা দেখি না, সুশীল বাবুরা এখন কোথায়?’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিএফইউজে মহাসচিব দীপ আজাদ।