নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া কখনো বিদেশিরাও সমর্থন করে না: তথ্যমন্ত্রী

বিদেশিরাও সমর্থন করে না তথ্যমন্ত্রী - জাতীয় - ০৬ অক্টোবর ২০২৩
বিদেশিরাও সমর্থন করে না তথ্যমন্ত্রী - জাতীয় - ০৬ অক্টোবর ২০২৩

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ০৬ অক্টোবর, ২০২৩: কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালালে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এসময় তিনি আরও বলেছেন, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া কখনো বিদেশিরাও সমর্থন করে না।

আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একুশে পত্রিকা’র সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আজাদ তালুকদার স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না, এতেই প্রমাণিত হয় তারা নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে।

সরকারকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এ রকম আল্টিমেটাম তো বিএনপি গত ১৩-১৪ বছরে বহুবার দিয়েছে। গত ডিসেম্বরেও তাদের আল্টিমেটাম ছিল, তারপর খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশ পাঠানোর আল্টিমেটামও ছিল। এখন ১৮ তারিখ আবার আল্টিমেটাম দিয়েছে।বিএনপির আল্টিমেটাম ফাঁকা বুলি ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব চট্টগ্রামে রোডমার্চ শেষে বক্তব্য রাখার সময়ে সেখানে যে সংখ্যক মানুষ হয়েছে, চট্টগ্রামের লালদিঘির পাড়ে অনেক সময় যখন পাগল নাচে তখনও এর কাছাকাছি মানুষই হয়। সুতরাং কর্মসূচিতে লোক সমাগম সেভাবে না হওয়ায় তারা প্রচন্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জি-২০ সম্মেলনে জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর যে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বৈঠক হয়েছে, এতেও বিএনপি হতাশ হয়ে পড়েছে।’

এর আগে শোকসভায় প্রয়াত একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি যেমন অকুতোভয় সাংবাদিক ছিলেন, একই সাথে তিনি একজন লড়াকু মানুষ ছিলেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তিনি জানতেন, ধীরে ধীরে তার জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে।  তিনি কিন্তু ক্ষান্ত হননি, দমে যাননি, অবিরত লড়াই করেছেন।

একজন মেধাবী সাংবাদিক অল্প বয়সে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনার উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজাদ তালুকদারের মৃত্যুর ক’দিন আগে আমি যখন হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যাই, তখন তিনি যেভাবে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং মৃত্যুর পর কি করতে হবে দু’একটি কথাও আমাকে বলেছেন, মৃত্যুপথযাত্রীর সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা আমি তার মধ্যে দেখেছি।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের অনেক বিষয় অনেকের চোখ এড়ালেও আজাদ তালুকদারের চোখ এড়ায়নি। অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সঠিক রিপোর্টটি করেছেন, যেটি কেউ সাহস করে করেননি। অসংখ্য পত্রিকার ভিড়ে একটা পত্রিকা দাঁড় করানো খুব সহজ কাজ নয়। আবার সেটি পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া আরো কঠিন কাজ। কিন্তু তিনি নিজে একা লড়াই করে কোনো বড় গ্রুপের কাছে বিক্রি না হয়ে একুশে পত্রিকা দাঁড় করিয়েছেন। আমরা তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কাজী মহসিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবেল খান, সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক।

পূর্ববর্তী প্রযুক্তিতে আমরা আসক্ত হবো না, দক্ষ হবো: শিক্ষামন্ত্রী
পরবর্তী ইরানের কারাবন্দি নার্গিস মোহাম্মদী এবার শান্তিতে নোবেল পেলেন