www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১১ জুলাই, ২০২৪: দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিপিএসসি’র চাকরি পেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কর্মকর্তাদের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিপিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থেকে কাজ করবে। সংসদে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে এরই মধ্যে চেয়ারম্যান সাহেব বলেছেন। বিষয়গুলো প্রমাণ হতে হবে এবং তার জন্য প্রচেষ্টা চলছে।”
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কিন্তু চাকরিতে আসতে হবে। পিএসসিরও কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেখানেও কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না- তার একটা ব্যাপার আছে। আমার মনে হয় আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি কিন্তু সবার মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আমরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।”
সুনির্দিষ্টভাবে নাম এলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি না- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, “অবশ্যই আইনানুগভাবে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের চাকরিবিধি যেটি আছে, যদি সেটি কেউ ভঙ্গ করে, শঠতা বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আগে বিষয়টি প্রমাণিত হতে হবে, আদৌ এটি সঠিক কি না। এখানে একটি কথা বলে রাখি, যে ড্রাইভার এ কথা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রমাণিত হবে যে সে সত্য বলছে নাকি মিথ্যা বলছে, ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।”
ফরহাদ হোসেন বলেন, “সে (পিএসসির সাবেক গাড়িচালক) একটি দলের ষড়যন্ত্রের ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে কাজ করছে কি না। অনেকগুলো বিষয় কিন্তু এখানে আছে। সে তো একটি দলের হয়ে কাজ করছে, সরকারের ইমেজ নষ্ট করার জন্য। অনেকদিন আগে সে কাজের কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছে।”
আবেদ আলীর বিষয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী আরও বলেন, “সে একটি দলের হয়ে, যারা মাঠে সরকার পতনের আন্দোলন করে, সরকারের উন্নয়নের কাজে বাধা দিতে চায়, তাদের হয়ে সে স্লোগান দিচ্ছে। আসলে সে কোনো এজেন্ডা নিয়ে কথা বলছে, সেটি একটি বিষয়। তবে তার কথা সত্য না মিথ্যা সেটি সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান চলছে।”
কোটাবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, “তারা ভালো আইনজীবী নিয়ে যদি আদালতে যান, তাহলে সেটার সমাধান হবে। আমি মনে করি, কোটার সংস্কার থাকার দরকার, যেটা এরইমধ্যে আমরা বলেছি। আমাদের মেয়েরা যেভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিষয়টি সংবিধান খুব সুন্দরভাবে দেখছেন। নারী-পুরুষের কাজের সমতা যাতে থাকে, এটার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের সমাজব্যবস্থাকে সুন্দর করতে পারব।”
মন্ত্রী বলেন, “যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তাদের কথাগুলো থাকবে। সব সমন্বয় করে সেখান (আদালত) থেকে সমাধান হবে। আপনাদের একটা পরিসংখ্যান দিচ্ছি। ৪০তম বিসিএসে সতের জেলা থেকে পুলিশে ছেলে-মেয়ে কেউই সুযোগ পায়নি। ৫৯টি জেলা থেকে মেয়েদের কেউই সুযোগ পাননি। বিষয়টি হচ্ছে, কোটা বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে যৌক্তিক আলোচনা হতে পারে। কোটা কতটুকু থাকবে, সেটা আলোচনা হতে পারে।”
তিনি বলেন, “কোটাবিরোধীরা যখন আদালতে যাবেন, তাদের যুক্তি যখন আদালত শুনবেন, তাদের বোনদের কী হবে, জেলা কোটার কী হবে, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা পোষ্যদের জন্য কী হবে, সেটা বিস্তারিত আলোচনা হলে সমাধান সম্ভব।”










