www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩: ঢাকা টেস্টে জয়ের আশা জাগিয়েও বাংলাদেশ ৪ উইকেটে হেরে যায় নিউজিল্যান্ডের কাছে।ফলে দুই টেস্ট সিরজ ড্র হয়েছে। সিলেটে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ১৫০ রানে জিতে এগিয়ে গিয়েছিলো।ঢাকা টেস্টে টস জিতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ১৭২ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করেছিলো ১৮০ রান। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৪ রান করলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ১৩৮ রান।৬ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এক সময় নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট পড়ে যায় ৬৯ রানে।কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের ৪০ ও মিচেল স্যান্টনার ৩৫ রানের সুবাদে জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
২ উইকেট হারিয়ে ৩৮ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ। এদিন সকাল ছিল কুয়াশা ঢাকা। প্রথম ওভারে এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে থাকেন জাকির হাসান। পরের ওভারে টিম সাউদিকে দুই বলে দুটি চার হাঁকান তিনি। এরপর মাঝখানে এক ওভার বিরতি দিয়ে প্রতিটিতেই একটি করে চার হাঁকান বাংলাদেশি দুই ব্যাটার।
কিন্তু মুমিনুলের বিদায়ে সেটি শেষ হয়। এজাজ প্যাটেলের বলে পুল করতে গেলে তার প্যাডে লাগে তার। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দেন সঙ্গে সঙ্গে। ১৯ বল খেলে ১০ রানে আউট হন তিনি। এরপর মুশফিকুর রহিমও ফেরেন ৯ রানে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে এর মধ্যেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন জাকির হাসান। কিন্তু তার সঙ্গীরা কেউই স্থায়ী হতে পারলেন না। মেহেদী হাসান মিরাজ এজাজ প্যাটেলকে তুলে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে দাঁড়ানো স্যান্টনার ক্যাচ নেন। জাকিরের সঙ্গে নুরুল হাসান সোহান ছিলেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার।
কিন্তু তার তিন বলের ইনিংস ছিল অস্বস্তির। আম্পায়ারের দেওয়া আউটে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়ার পরের বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় সোহানকে। এ দফায়ও তিনি এলবিডব্লিউ হন এজাজ প্যাটেলের বলে। এরপর কিছুক্ষণ টেল এন্ডারদের নিয়ে লড়াই করেন জাকির। নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৫৯ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।
তবে তার বিদায়ের পর শেষ উইকেট জুটিতে ১৬ রান যোগ করেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৬ বলে ৮ রান করে এজাজ প্যাটেলকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন শরিফুল। ২১ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল। ১৮ ওভার বল করে ৫৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন এজাজ। তিনটি উইকেট পান মিচেল স্যান্টনার, একটি টিম সাউদি।
১৩৭ রান তাড়া করাও যে নিউজিল্যান্ডের জন্য সহজ কাজ হবে না, সেটি আঁচ করা যাচ্ছিল আগেই। তবুও চার ওভার খেলে কোনো উইকেট না হারিয়ে কিছুটা স্বস্তি নিয়েই লাঞ্চে যায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ফিরে এসে দ্বিতীয় ওভারেই সেটি উবে যায়। শরিফুল ইসলাম বিরতির আগে দুর্দান্ত একটি ওভার করেও উইকেট পাননি, তিনিই পান প্রথম উইকেট।
শরিফুল ইসলামের অফ স্টাম্প থেকে ভেতরে ঢোকা বল কিছুটা নিচু হয়ে ডেভন কনওয়ের পায়ে গিয়ে লাগে। ১৫ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরত যান কনওয়ে। দ্বিতীয় উইকেট আসে তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। এই সিরিজে চার ইনিংসে তৃতীয়বারের মতো কনওয়েকে সাজঘরে ফেরান তিনি। তাইজুলের বলে স্টাম্পিং হন ২৪ বলে ১১ রান করা উইলিয়ামসন।
এরপর সফরকারী ব্যাটারদের দারুণভাবে চাপে ফেলেন বাংলাদেশের বোলাররা। সাফল্যও মেলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। তার বলে এলবিডব্লিউ হন হেনরি নিকোলস। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ১০ বলে ৩ রান করা এই ব্যাটার। ম্যাচ আরও জমিয়ে তোলেন মিরাজই। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া টম লাথামকে ৬০ বলে ২৬ রান করার পর আউট করেন তিনি। স্লিপে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন মিরাজ।
পরের ওভারে টম ব্লান্ডেলকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। কিন্তু এর মধ্যে ফিলিপসের ক্যাচ ছেড়ে দেন অধিনায়ক শান্ত। সেটিই পরে কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। প্রথমে মিচেলের সঙ্গে ৩১ বলে ১৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। সেটি অবশ্য ভেঙে দেন ড্যারল মিচেল। ৩৬ বলে ১৯ রান করার পর মিচেলকে আউট করে আবারও বাংলাদেশের আশার পালে হাওয়া এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
কিন্তু এরপর আর কুলিয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ। ফিলিপসের সঙ্গে মিচেলের জুটিই তাদেরকে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। ৪৮ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন আগের ইনিংসেও দুর্দান্ত খেলে ম্যাচের মোড় ঘোরানো ফিলিপস। ৩৯ বলে ৩৫ রান করেন স্যান্টনার।
স্কোর কার্ড : (টস-বাংলাদেশ)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৭২/১০, ৬৬.২ ওভার (মুশফিক ৩৫, শাহাদাত ৩১, ফিলিপস ৩/৩১)
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ১৮০/১০, ৩৭.১ (ফিলিপস ৮৭, মিরাজ ৩/৫৩)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস (আগের দিন ৩৮/২, ৮ ওভার, জাকির ১৬, মোমিনুল ০)
জাকির ক মিচেল ব প্যাটের ৫৯
জয় ক মিচেল ব প্যাটেল ২
শান্ত ক উইলিয়ামসন ব সাউদি ১৫
মোমিনুল এলবিডব্লু ব প্যাটেল ১০
মুশফিকুর ক মিচেল ব স্যান্টনার ৯
শাহাদাত এলবিডব্লু ব স্যান্টনার ৪
মিরাজ ক স্যান্টনার ব প্যাটেল ৩
নুরুল এলবিডব্লু ব প্যাটেল ০
নাইম ক সাউদি ব স্যান্টনার ৯
তাইজুল অপরাজিত ১৪
শরিফুল স্টাম্প ব্লান্ডেল ব প্যাটেল ৮
অতিরিক্ত (বা-১০, লে বা-১) ১১
মোট (অলআউট, ৩৫ ওভার) ১৪৪
উইকেট পতন : ১-৩ (জয়), ২-৩৮ (শান্ত), ৩-৭১ (মোমিনুল), ৪-৮২ (মুশফিকুর) ৫-৮৮ (শাহাদাত), ৬-৯৭ (মিরাজ), ৭-৯৭ (নুরুল), ৮-১১২ (নাইম), ৯-১২৮ (জাকির), ১০-১৪৪ (শরিফুল)।
নিউজিল্যান্ড বোলিং :
প্যাটেল : ১৮-১-৫৭-৬,
স্যান্টনার : ১১-০-৫১-৩,
সাউদি : ৬-১-২৫-১।
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস :
লাথাম ক শান্ত ব মিরাজ ২৬
কনওয়ে এলবিডব্লু ব শরিফুল ২
উইলিয়ামসন স্টাম্প নুরুল ব তাইজুল ১১
নিকোলস এলবিডব্লু ব মিরাজ ৩
মিচেল ক শান্ত ব মিরাজ ১৯
ব্লান্ডেল ক নুরুল ব তাইজুল ২
ফিলিপস অপরাজিত ৪০
স্যান্টনার অপরাজিত ৩৫
অতিরিক্ত (বা-১) ১
মোট (৬ উইকেট, ৩৯.৪ ওভার) ১৩৯
উইকেট পতন : ১-৫ (কনওয়ে), ২-২৪ (উইলিয়ামসন), ৩-৩৩ (নিকোলস), ৪-৪৮ (লাথাম), ৫-৫১ (ব্লান্ডেল), ৬-৬৯ (মিচেল)।
বাংলাদেশ বোলিং :
শরিফুল : ৫-২-৯-১,
মিরাজ : ১৬.৪-২-৫২-৩,
তাইজুল: ১৪-২-৫৮-২,
নাইম: ৩-০-১৫-০,
মোমিনুল: ১-০-৪-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: গ্লেন ফিলিপস(নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ সেরা: তাইজুল ইসলাম(বাংলাদেশ)
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।










