www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৭ নভেম্বর, ২০২৩: গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইমড আউটে অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউসকে মাঠ ছাড়ার মধ্য দিয়ে ঘটনাবহুল বিতর্কের সৃষ্টিহয়। অবশ্য বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ পর বাংলাদেশ জয়ের দেখা পেয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সমান সংখ্যাক ম্যাচ খেলে দুই দলই পয়েন্ট পেয়ছে চার করে। তবে ভালো রান রেটের কারণে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার উপরে। তবে অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউসের টাইম আউট হওয়ার বিষয়টি খুব ভালোভাবে নেয়নি শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে ম্যাথিউস বলেছেন, সাকিব ও বাংলাদেশ যা করেছে, তা অসম্মানজনক। অপর দিকে সাকিব বললেন, এটা নিয়মে আছে; জানি না সেটা ভুল নাকি সঠিক। মনে হচ্ছিল যেন যুদ্ধে আছি, তাই যা করার ছিল, সেটা করেছি আমি। এনিয়ে বিতর্ক হবে। কিন্তু এটা যদি নিয়মে থাকে, আমি সেই সুযোগ নিতে পিছুপা হব না। অবশ্যই এটা (টাইমড আউট) আমাদের সাহায্য করেছে সেটা অস্বীকার করবো না। ‘
নিয়মে থাকলেও ১৪৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে এমনটা আগে কখনো ঘটেনি। তবে এই ম্যাচ আশা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের। এতে টিকে আছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা। প্রথমে চারিথ আসালাঙ্কার সেঞ্চুরিতে বেশ ভালো সংগ্রহ পেয়েছিল লঙ্কানরা। পরে সাকিব ও শান্তর দুর্দান্ত জুটি আর ব্যাটিং নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের জয়।
গতকাল সোমবার (৬ নভেম্বর) দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান করে শ্রীলঙ্কা। ৪১ ওভার এক বলে ওই রান তাড়া করে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে হারালো তারা, সেটিও দলটির বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ খেলতে নামে ভীষণ চাপ নিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন আক্ষরিক অর্থেই টিকিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। শুরুটাও ভালো হয় বাংলাদেশের।
প্রথম ওভারেই ৫ বলে ৪ রান করা কুশল পেরেরাকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। তাতে অবশ্য বড় কৃতিত্ব মুশফিকুর রহিমের। পাখির মতো উড়ে বাঁদিকে দাঁড়ানো প্রথম স্লিপ ফিল্ডারের সামনে থেকে ক্যাচ নেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
১০ ওভারে লঙ্কান ব্যাটাররা তোলেন ৫২ রান। ১২তম ওভার করতে এসে দ্বিতীয় উইকেট এনে দেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এবার ৩০ বলে ১৯ রান করা কুশল মেন্ডিসকে ফেরান তিনি। তার বলে লং অনে দারুণ ক্যাচ নেন শরিফুল।
দলের অষ্টম ম্যাচে এসে একাদশে সুযোগ পাওয়া তানজিম হাসান সাকিবও পান উইকেটের দেখা। ৮ চারে ৩৬ বলে ৪১ রান করা পাথুম নিশাঙ্কাকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর ৬৩ রানের জুটি গড়েন সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথ আসালাঙ্কা।
তাদের জুটিও ভাঙেন সাকিব। ৪২ বলে ৪১ রান করে সামারাবিক্রমা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দেন। এরপরই ঘটে বিরল এক ঘটনা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘টাইমড আউট’ হন অ্যাঞ্জেলা ম্যাথিউস।
ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে পরে আরও এক দারুণ জুটি গড়েন আসালাঙ্কা। ‘টাইমড আউট’ নাটকীয়তার চাপ সামলে তারা ব্যাট করতে থাকেন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন ৩৬ বলে ৩৪ রান করা ধনঞ্জয়া।
প্রথম দফায় বল তালুবন্দি করতে না পারলেও পরে স্টাম্প ভাঙতে পারেন মুশফিক। তাতে ভাঙে আসালাঙ্কা ও ধনঞ্জয়ার ৮২ বলে ৭৮ রানের জুটি। আরেক প্রান্তে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন আসালাঙ্কা। তিনি পান সেঞ্চুরির দেখাও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে ১০৫ বলে ১০৮ রান করে তানজিম হাসান সাকিবের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর আর কেবল এক রান করতে পারে শ্রীলঙ্কা।
রান তাড়ায় নেমে আরও একবার উদ্বোধনী জুটিতে বড় রান পায়নি বাংলাদেশ। কেবল ভারত ম্যাচ ছাড়া কোনোটিতেই রান করতে না পারা তানজিদ হাসান তামিম এদিন ফেরেন তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে। ৫ বলে ২ চারে ৯ রান করে দিলশান মাদুশঙ্কার বল ব্যাটের আগায় লেগে ক্যাচ যায় কাভারে দাঁড়ানো পাথুম নিশাঙ্কার হাতে।
আরেক ওপেনার লিটন দাসও নিজের রানটা বড় করতে পারেননি। ২২ বলে ২৩ রান করার পর মাদুস্কার বল লিটনের পায়ের আগায় গিয়ে সরাসরি আঘাত করে। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় লিটনকে। এরপরই দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে তোলেন সাকিব আল হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাথিউসের বলে সাত রানে থাকতে জীবন পান সাকিব। এরপর থেকে সাকিব হয়ে ওঠেন বিধ্বংসী। পুরো ইনিংসে দেখার মতো বেশ কিছু শট খেলেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সমালোচনার ভেতর থাকা সাকিব। ২ ছক্কা ও ১২ চারের ইনিংসে ৬৫ বলে ৮২ রান করে আউট হন ম্যাথিউসের বলে।
ফ্লিক করতে গিয়ে তার স্লোয়ার সাকিবের ব্যাটের আগায় লেগে ক্যাচ যায় আসালাঙ্কার হাতে। সাকিবকে আউট করার পর হাতে ঘড়ি দেখানো উদযাপন করেন ম্যাথিউস। প্রথম ইনিংসে হওয়া ‘টাইমড আউট’ নিয়ে খোঁচা দেন তিনি।
সাকিবের সঙ্গে ১৪৯ বলে ১৬৯ রানের জুটি গড়েন শান্ত। সঙ্গীর বিদায়ের দুই ওভার পর ফিরে যান তিনি, ওই ম্যাথিউজের বলেই। শান্ত আউট হন নার্ভাস নাইন্টিজে। এক রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় পড়ে বাংলাদেশ।
সেটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে এক ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন রিয়াদ। কিন্তু দুজনেই ফিরে যান সাজঘরে। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ২২ রান করেন রিয়াদ। তার আউট হওয়ার আগেই মুশফিককে ফিরিয়ে লঙ্কানদের ব্রেকথ্রু এনে দেন মাদুশঙ্কা।
পরে মেহেদী হাসান মিরাজও থিকশানার বলে লং অফ দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। তবে ম্যাচ শেষ করেই ফেরেন তাওহীদ হৃদয় ও তানজিম সাকিব। দুটি দারুণ ছক্কা হাঁকানো হৃদয় ৭ বলে করেন ১৫ রান। আর ৬ বলে ৫ রান আসে তানজিম সাকিবের ব্যাটে।
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান(বাংলাদেশ)।
স্কোর কার্ড :
শ্রীলংকা ইনিংস :
নিশাঙ্কা ব তানজিম ৪১
পেরেরা ক মুশফিক ব শরিফুল ৪
মেন্ডিস ক শরিফুর ব সাকিব ১৯
সামারাবিক্রমা ক মাহমুদুল্লাহ ব সাকিব ৪১
আসালঙ্কা ক লিটন ব তানজিম ১০৮
ম্যাথুজ টাইমড আউট ০
ধনাঞ্জয়া স্টাম্প মুশফিকুর ব মিরাজ ৩৪
থিকশানা ক নাসুম ব শরিফুল ২১
চামিরা রান আউট (মুশফিকুর) ৪
রাজিথা ক লিটন ব তানজিম ০
মাদুশঙ্কা অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-৪) ৭
মোট (অলআউট, ৪৯.৩ ওভার) ২৭৯
উইকেট পতন : ১/৫ (পেরেরা), ২/৬৬ (মেন্ডিস), ৩/৭২ (নিশাঙ্কা), ৪/১৩৫ (সামারাবিক্রমা), ৫/১৩৫ (ম্যাথুজ), ৬/২১৩ (ধনাঞ্জয়া), ৭/২৫৮ (থিকশানা), ৮/২৭৮ (আসালঙ্কা), ৯/২৭৮ (রাজিথা), ১০/২৭৯ (চামিরা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
শরিফুল : ৯.৩-০-৫১-২ (ও-১),
তাসকিন : ১০-১-৩৯-০ (ও-১),
তানজিম : ১০-০-৮০-৩ (ও-২),
সাকিব : ১০-০-৫৭-২,
মিরাজ : ১০-০-৪৯-১।
বাংলাদেশ ইনিংস :
তানজিদ ক নিশাঙ্কা ব মাদুশঙ্কা ৯
লিটন এলবিডব্লু ব মাদুশঙ্কা ২৩
নাজমুল বোল্ড ব ম্যাথুজ ৯০
সাকিব ক আসালঙ্কা ব ম্যাথুজ ৮২
মাহমুদুল্লাহ ব থিকশানা ২২
মুশফিক ব মাদুশঙ্কা ১০
হৃদয় অপরাজিত ১৫
মিরাজ ক আসালঙ্কা ব থিকশানা ৩
তানজিম অপরাজিত ২
অতিরিক্ত (লে বা-৯, ও-১০) ১৯
মোট (৭ উইকেট, ৪১.১ ওভার) ২৮২
উইকেট পতন : ১/১৭ (তানজিদ), ২/৪১ (লিটন), ৩/২১০ (সাকিব), ৪/২১১ (শান্ত), ৫/২৪৯ (মুশফিক), ৬/২৫৫ (মাহমুদুল্লাহ), ৭/২৬৯ (মিরাজ)।
শ্রীলংকা বোলিং :
মাদুশঙ্কা : ১০-১-৬৯-৩ (ও-৪),
থিকশানা : ৯-০-৪৪-২ (ও-৩),
রাজিথা : ৪-০-৪৭-০,
চামিরা : ৮-০-৫৪-০ (ও-২),
ম্যাথুজ : ৭.১-১-৩৫-২ (ও-১),
ধনাঞ্জয়া : ৩-০-২০-০,
ফল : বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী।










