Author: Hello Bangla News

  • ঢাকা ও কলকাতা আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে না: হারুন

    ঢাকা ও কলকাতা আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে না: হারুন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: ঢাকা ও কলকাতা আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে না, বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।তিনি বলেন, “দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। ঢাকা ও কলকাতা এ বিষয়ে তৎপর। আমাদের সিস্টেম আরও উন্নত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমেই ঘটনার সমাধান হয়। ভারত ও বাংলাদেশের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে, তা ক্ষুণ্ন হবে না।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) কলকাতা থেকে ঢাকায় ফেরার আগে এমন বার্তা দেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা, কলকাতা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বেড়েছে। আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোতে উত্তরোত্তর এতে উন্নতি আসবে।”

    ডিএমপির এ অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “কলকাতা পুলিশের সঙ্গে আমাদের যে পারস্পরিক সম্পর্ক, হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্য তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী অপরাধ করে কলকাতাকে স্বর্গীয় স্থান মনে করবে, তা আমরা হতে দেব না। এটি মনে করার প্রশ্নই আসে না। দুই বাংলার সহযোগিতায় এখন থেকে আরও দ্রুত দুষ্কৃতকারীদের ধরতে পারব।”

    ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওয়াটার থিওরি অনুসরণ করেই সফলতা এসেছে। আলোচিত এ তদন্তে ওয়াটার থিওরি-ই আমাদের সফলতা দিয়েছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে ধরা পড়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদেই ওয়াটার থিওরির প্রসঙ্গ উঠে আসে। এরপর পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডিকে অনুরোধ করে কমোড, সেপটিক ট্যাংক, নিকাশী লাইন পরীক্ষা করানো হয়। এরপরই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েক কেজি মাংস।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া মাংস এমপি আনারের মনে করা হলেও শতভাগ নিশ্চিত হতে ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা জরুরি। আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডিকে চিঠি দিয়ে দেহাংশ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হবে।”

    উদ্ধার দেহাংশ এমপি আনারের কি না, তা পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যেই নমুনা পাঠানো হয়েছে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। এরপর করা হবে ডিএনএ পরীক্ষাও। সেক্ষেত্রে কলকাতায় আসতে পারেন এমপি আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন এবং এমপির ভাই।

    ২৬ মে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল কলকাতায় আসে। পরে হারুন দলের সদস্যরা কলকাতা থেকে যান নিউটাউন থানায়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) সঙ্গে নিয়ে তারা কৃষ্ণমাটি বাগজোলা খাল পরিদর্শন করেন। এরপর যথাক্রমে নিউটাউনের সঞ্জীভা গার্ডেন আবাসন, সিআইডি ভবন, হাতিশাল খালসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল, সিআইডি প্রধান রাজাশেখরণের সঙ্গে কথাও বলেন।

    হারুন অর রশীদ জানান, “এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে কলকাতা ও বাংলাদেশে দুটি জায়গায় মামলা হয়েছে। সেই কারণেই তদন্ত করতে তারা কলকাতায় এসেছেন। সিআইডির প্রতিনিধিদলও তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অনেক কিছুই স্বীকার করেছেন। কীভাবে তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন, বাংলাদেশের কোথায় কোথায় তারা বৈঠক করেন, কলকাতায় এসে কোন কোন বাসায় ছিলেন এসব যাচাই-বাছাই করার দরকার ছিল।”

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের পেনাল কোডের ৩৬২, ৩৬৪ ধারা অনুযায়ী, “লাশ বা লাশের টুকরো বা অন্য কোন অংশ বিশেষ উদ্ধার না হলে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হয়। আর সেই কারণে আমরা এসেছি। আমাদের মূল কাজটি ছিল বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো। কলকাতায় ধরা পড়া কসাই জিহাদকে নিয়েও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই গা ঢাকা দিয়েছেন এই আখতারুজ্জামান শাহীন। সেক্ষেত্রে নেপাল হয়ে দুবাই, তারপরে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে পারেন এ শাহীন। অন্যদিকে আরেক অভিযুক্ত সিয়াম বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন। তাদের ফিরে পেতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”

    হারুন অর রশীদ বলেন, “আমাদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা সিআইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, যেহেতু তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের আছে, তাই তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনতে ভারত যেন কথা বলে। পাশাপাশি আমরাও বাংলাদেশের পুলিশের আইজির সাথে কথা বলেছি। তাকে ফেরত পেতে ইন্টারপোলকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হবে। আবার বাংলাদেশে যে আমেরিকান দূতাবাস আছে, সেখানেও চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি গিয়ে কথা বলে আখতারুজ্জামান শাহীনের বিষয়টি জানানো হবে।”

    তিনি বলেন, “অন্যদিকে কাঠমান্ডুতে সিয়ামের অবস্থানের বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে একটি চিঠি নেপালে পাঠিয়েছি। নেপালের সব সংস্থাকে আমরা জানিয়েছি যে, সিয়াম বর্তমানে নেপালে অবস্থান করছেন। আমরা মনে করছি খুব শিগগিরই ভালো খবর আসবে।”

  • গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি সাইক্লোন শেল্টার করেছি, সেখানে মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। যারা গৃহহীন, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি। যে কারণে মানুষ অন্তত আশ্রয়ের জায়গা পেয়েছে। পশুপাখি আশ্রয়ের ব্যবস্থা পেয়েছে।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রাণ বিতরণের পরে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাঁধ দ্রুত মেরামতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে যে সমস্ত রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে বাঁধগুলো ভেঙে গেছে, সেগুলোও মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। যাতে বর্ষার আগেই আমরা বাঁধগুলো নির্মাণ করে জলোচ্ছ্বাস বা পানির হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারি।” ‘

    তিনি বলেন, “আমরা চাই দুর্যোগ থেকে এই এলাকার মানুষ যেন মুক্তি পায়। আমরা জানি, এই এলাকা সবসময়ই দুর্যোগপ্রবণ।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “আজ ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র আছে বলেই দুযোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ করে দিয়ে আপনাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সব করে দিয়েছি।”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি, সেখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ আর বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। মায়ের নামে আমরা বৃত্তির টাকা পাঠাই। যারা একেবারে হতদরিদ্র বিনা পয়সায় খাদ্য সাহায্য দিই। এখন দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, যারা কিনতে পারে না তাদের জন্য পারিবারিক কার্ড করে দিয়েছি। অল্প টাকায় চাল, ডাল, তেল কিনে নিতে পারবে সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিয়েছি। দেশের মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।পাশাপাশি মানুষের সার্বিক উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”

     

    সরকারপ্রধান বলেন, “আজকে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে এই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায়। আগে কিন্তু আসা যেতো না। পাশাপাশি গ্রামে গঞ্জে রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। এই দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে অবহেলিত ছিলো। এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের কথাও তুলে ধরেন তিনি।”

    তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলেই এই অঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে। এর আগে অনেকেই ছিলো, কেউ দৃষ্টি দেয়নি। এই অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে লিপ্ত হয়। আজকে অন্তত এটা বলতে পারি, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে কিন্তু সেটিকে মোকাবিলা করে মানুষের জীবনমান রক্ষা করা সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

    ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে দুর্গত এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। দুর্যোগকবলিত মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা এলাকা পরিদর্শন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার পর কলাপাড়ার খেপুপাড়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন হেলিপ্যাডে নামেন।

    গেল রবিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে তাণ্ডব চালায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। মধ্যরাতে ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু বরিশাল বিভাগেই মৃত্যু হয় ১৯ জনের।

    ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যায় গাছপালা, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধ। দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক মাছের ঘেরও তলিয়ে যায়।

    রাতভর তাণ্ডবের পর ঘূর্ণিঝড় রিমাল সোমবার সকালের পর আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে দুর্বল হতে থাকে।

  • বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনে বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিশ্বশান্তি জীবনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে আমি রয়েছি। আমরা চাই বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক, তাকে সুসংহত করা হোক। শান্তির জন্য ব্যাকুলতা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের অপরিহার্য অংশ। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এইসব চিন্তাধারা এবং শান্তির জন্য তার আহ্বান পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যায়ন হয়।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০মে) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু: এ চ্যম্পিয়ন অব ওয়ার্ল্ড পিস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ভাষণজুড়ে তিনি বিশ্বশান্তির পক্ষে কথা বলেছেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, আমি জানি, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য বাঙালি জাতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমাদের এই অঙ্গীকারের সাথে শহীদদের বিদেহী আত্মাও মিলিত হবে।”

    তিনি বলেন, “বিশ্ব শান্তি পরিষদের দেওয়া ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক ছিল জাতির পিতার বিশ্বমানবতার প্রতি কর্ম, ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতি। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর মৌলিক দর্শন ও অবদানের মূল্যায়ন ছিল এই পদক।”

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সাল থেকে প্রতি দুবছর পরপর সম্মানজনক বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। সেই সঙ্গে একটি নীতিমালাও করা হবে। এই নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ও বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত বা বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে কয়েকটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পুরস্কার দেওয়া যাবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা, যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও অবদান রাখা, দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা, টেকসই সামাজিক পরিবেশগত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন- এইসব ক্ষেত্রগুলো পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান এএফএম গাওসুল আজম সরকার। এসময় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়: সেতুমন্ত্রী

    ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: ফিটনেসবিহীন গাড়ির রং-চং করা সমাধান নয়, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “প্রথম প্রয়োজন ফিটনেস, লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িতে রং দিয়ে কী হবে! আমি চাই ফিটনেস, জীর্ণ-শীর্ণ গাড়িগুলোর দিকে তাকানো যায় না।”

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর বিআরটিএ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    তরঙ্গ প্লাসসহ কয়েকটি বাসের নাম উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ এত এগিয়ে গেল আর বাসমালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি এত নিচে নেমে গেল? বারবার ভিজিট করেছি, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই।”

    বিষয়টি সমাধানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারকে সিটি করপোরেশন, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, “ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া যেন কেউ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে তৎপর থাকতে হবে। এছাড়া, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি বলেন, “ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোর বাইরে যেন কোনও বাস দাঁড়িয়ে না থাকতে পারে, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও বাস যেন অতিরিক্ত ভাড়া না আদায় করে, সেই বিষয়ে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে।”

    সেতুমন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লা থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে যায়, কিন্তু ফ্লাইওভারে এক ঘণ্ট-দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকা থাকতে হয়। এটা কেন হচ্ছে… সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন।‌ হেলমেট ছাড়া সিএনজি স্টেশনে যেন কেউ তেল দিতে না পারে, আমি মন্ত্রীর লোক, এমপির লোক… এসব বলে যেন কেউ ছাড় না পায়।”

    জানা গেছে, প্রধান সড়কের পাশে যেন কোরবানির পশুর হাট না বসতে পারে, সভায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, বিআরটিএ, পুলিশ কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সওজ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    তাছাড়া, দেশের সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল-যাত্রী পরিবহন না করা, নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ঈদের দিনসহ এর আগের তিন দিন ও পরের তিন দিন মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনকে এর আওতামুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

    গাজীপুর ও চালনা থেকে গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য বিআরটিসির গাড়ি দেওয়ার নির্দেশনাও দেন মন্ত্রী।

    পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহর কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ওনার (এনায়েত) গাড়ি ঠিক আছে, ওই গাড়িগুলোর ফিটনেস থাকে। কিন্তু অন্যদের থাকে না।”

    বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সব জেলার সংশ্লিষ্টরা সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

  • কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আসন্ন কোরবানির ঈদে পশু কোরবানির পরদিন সূর্যোদয়ের আগে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। সম্ভব হলে বর্জ্য রাতের মধ্যে শেষ করতে হবে। ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে কোরবানি শুরু হবে। এরপরদিন অর্থ্যাৎ তাদের আগে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হলেও এবার নির্দিষ্ট করে দিয়েছি সূর্যোদয়ের আগে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এরপরে যেন কোথাও কোনো রকমের বর্জ্য না দেখি। এরপর যদি কোনো বর্জ্য থেকেও যায় সেটা পরিবেশ দূষণ করবে না। আমি মনে করি দুই সিটি করপোরেশন সফলতার পরিচয় দেবে। এরপরেও যদি কোনো কোরবানি করে থাকে সেটাও অপসারণ করতে হবে। কেননা ঈদের পর কয়েক দিন পশু কোরবানি হয়ে থাকে। সেজন্য পররের কয়েকদিন একটু বেশি নজর দিতে হবে।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, নিদিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির বাস্তবায়ন করা ও কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি কথা বলেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্তমর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “সূর্যোদয়ের পরে কোথাও যেন বর্জ্য পরিলক্ষিত না হয়। ঢাকা শহরে ২৫ লাখ পশু কোরবানি হবে। এত বড় একটা কর্মযজ্ঞে কোথাও যদি একটু সময় ক্ষেপণ হয় সেটা মেনে নেওয়া যায়। এর বেশি হলে সহ্য করা যায় না। ঈদের কয়েকদিন আন্তরিকতার সঙ্গে যারা কাজ করে তাদের এ একটু আধটু ত্রুটি মেনে নেওয়া যায়৷ অতীতেও প্রতিকূলতা ছিল তারমধ্যেই কাজ করেছেন। সারা পৃথিবীতেই এটা হয়ে থাকে।

    এবছরও কি দুই সিটি কর্পোরেশন পশু কোরবানির জন্য নিদিষ্ট স্থান নির্বাচন করে দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “অতীতে তারা সামাজিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে করেছে। বিশেষ করে কোভিডের সময়ে করা হয়ছিল। এবার কিছু কিছু এলাকায় সামাজিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করবে। একই সঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করবে সেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরা সমাজের লোকজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই ব্যবস্থা করবে।”

    তিনি বলেন, “জাল টাকা শনাক্তকরণে যে মেশিন সেটা মোবাইল মেশিন। ফলে সব জায়গায় এ মেশিন থাকবে।”

    ঈদের আগে অতীতে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, না হলে কেন হলো না সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,  “এ পর্যন্ত যতগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদের দুই সিটি করপোরেশন সফলতার সঙ্গে করেছে। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের কথা বলেছি সেটা পূর্বের বছরগুলোতে করে দেখিয়েছে। এখানে ব্যর্থতার কোনো নজির আমাদের কাছে নেই। সাংবাদিকরাও এমন কোনো খবর প্রচার করেনি যে যেখানে সেখানে বর্জ্য পড়ে আছে। সিটি করপোরেশন সেখানে দায়িত্ব পালন করছে না।”

    সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আজকে সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আমরা সর্বসম্মতিক্রমে নিয়েছি। কোরবানিকৃত পশুর রক্ত/ বর্জ্য দ্বারা যাতে ঢাকা শহরসহ সারাদেশে পরিবেশ দূষিত/নোংরা না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সূর্যোদয়ের আগে কোরবানির সব প্রকার বর্জ্য অপসারণ এবং কোরবানির স্থান পরিষ্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে কোরবানিদাতারা যাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোরবানির স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন, সেজন্য উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে “

    এছাড়া গাবতলী ব্রিজের ওপরে চামড়ার বাজার স্থাপন করা যাবে না এবং ময়লার গাড়ি নির্বিঘ্নে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে যাতায়াতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    কোরবানির পশুরহাট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাজুল ইসলাম বলেন, “সড়ক ও মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট ইজারা প্রদান না করা। সড়ক/ মহাসড়কের ওপর বা রাস্তার পাশে যেখানে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘ্নিত না হতে পারে সেখানে কোনোক্রমেই পশুরহাট বসানো যাবে না। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

    কোরবানির পশুর হাটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করতে হবে। রাস্তাঘাট বা পশুরহাটে যাতে কোনো রকম চাঁদাবাজি বা অবৈধ আর্থিক লেনদেন না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ/প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

    এছাড়া বিভিন্ন পশুর হাটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের সহায়তায় এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস মেশিন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে ক্যাশলেস বা নগদ টাকাবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন হাটবাজার ও কোরবানির পশু পরিবহনকালে অজ্ঞান/মলম পার্টি যেন অপরাধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ তদারকি বাড়াতে হবে।

    নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ/উৎসাহিত করতে হবে। পশু জবাইয়ের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষাকাল বিবেচনায় সামিয়ানা/ত্রিপল টানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পশু জবাইয়ের স্থান, ইমাম ও কসাইয়ের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং কসাইদের বিশেষ করে মৌসুমী কসাইদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

     

    ওয়েবসাইট/ ডিজিটাল ডিসপ্লে/ মাইক/লিফলেট/ব্যানার/কেবল অপারেটর এ ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। যুব সংগঠন ও সমবায় সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণকৃত ও রোগমুক্ত গরু সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও প্রতিটি হাটে একটি বুথ স্থাপন করতে হবে।

    রেল ও সড়ক কর্তৃপক্ষের অব্যবহৃত স্থান, কলোনি, রাজউকসহ বান্যান্য প্রতিষ্ঠানের জায়গা অস্থায়ীভাবে পশু কোরবানির স্থান হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকাভিত্তিক পশুর হাট ও পশু কোরবানির নির্দিষ্ট স্থানের তালিকা জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে ব্যাপকভাবে প্রচার করবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় কেবল টিভি অপারেটরদের সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে। কোরবানির পর পশুর চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে লবণ ব্যবহারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “এসব সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকরা পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদের ইমামরা নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি এবং কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করবেন। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে যেন পশুর চামড়ায় লবণ দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।”

    সভায় মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২৫ লাখ পশু কোরবানি হবে। সারা দেশের চার ভাগের এক ভাগ পশু ঢাকায় কোরবানি হয়। এজন্য যা যা দরকার সব কিছু আমরা নিয়ে নিয়েছি। ৪৮০টি যানবাহন ব্যবহৃত হবে। জাপান থেকে ড্রাম লোডার আনা হচ্ছে। ১০ হাজার জনবলকে কাজে লাগানো হবে। ১০ লাখ ৪০ হাজার পলিব্যাগ নগরবাসীকে বিতরণ করা হবে। এই ব্যাগ ৩৫ কেজি পর্যন্ত লোড নিতে পারবে। প্রত্যেক বাড়িতে দুটি করে পলিব্যাগ বিতরণ করা হবে।”

    তিনি বলেন, “আমরা সবাই ঈদের দিন মাঠে থাকি। উত্তর সিটির প্রত্যেকটি হাটে ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রথমবারের মতো এবার হাসিলের টাকাও অনলাইনে দিতে পারবে। ১৬১০৬ হটলাইন নম্বর খোলা থাকবে। আমিন বাজার ব্রিজের ওপরে কোনোভাবেই যেন চামড়ার হাট বসতে না পারে।”

    উত্তর সিটি মেয়র আরও বলেন, “কোরবানি প্রথম দুদিনের মধ্যে করার অনুরোধ করছি। কারণ, ঈদের মধ্যে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর অধিক চাপ থাকে। তারা দুইদিন নিরলসভাবে কাজ করে। তাদের কথা চিন্তা করে আমি এই অনুরোধ জানিয়েছি। যাতে তারাও একটু রিল্যাক্স পায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এইজন্য আমি ঈদের তৃতীয় দিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে আনন্দ আয়োজন করছি।”

  • তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে

    তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ মে, ২০২৪: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দেশের ৮৭ উপজেলায় ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইস) বিদায়ী সচিব জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, “তবে ভোট পড়ার এ হার আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনো ৮৭ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।”

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিদায়ী সচিব ও নবাগত সচিব শফিউল আজিমের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

    গতকাল (বুধবার) ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এ যাবৎ উপস্থিতির যে তথ্য পেয়েছি, সেটি আমাদের পর্যালোচনায় ৩৫ শতাংশের কম-বেশি হতে পারে। বেশিও হতে পারে। নিশ্চিত করে বলত হয়তো আরও ২৫ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিদায়ী সচিব জাহাংগীর আলম বলেন, “আপনারা আমার কাছে তথ্য চাইতেন। অনেক সময় তথ্য থাকতো না। আপনারা আমাকে খোঁচা দিতেন। আমি হয়তো আপনাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছি, যা শোভন নয়। তবে, আমাদের স্বচ্ছতার কোনও ঘাটতি ছিল না। আমার আচরণে আপনাদের সহসা কষ্ট দিতে চাইনি। তবুও বিদায় বেলায় আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

    গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে ইসির বিদায়ী সচিব বলেন, “আপনারাই আমাদের জনগণের কাছে চিনিয়েছেন।”

    গত ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জাহাংগীর আলমকে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব পদে বদলির আদেশ হয়। পটুয়াখালীর সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাহাংগীর বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ত্রয়োদশ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসাবে ১৯৯৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগেই যুগ্ম সচিব এবং অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন এবং ইসিতে দায়িত্বে আসেন। তার মেয়াদের মধ্যেই এই বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জও ছিল ইসির সামনে।

    নতুন সচিব শফিউল আজিম বলেন, “আমরা তো রাজনীতির ভেতরেই বসবাস করি। গণতন্ত্র, সরকার, রাজনৈতিক দল ও জনগণ সবকিছু মিলিয়েই গণতন্ত্র। কাউকে আইনের বাইরে গিয়ে সেবা দেওয়া যাবে না। আপনাদের যেটি প্রাপ্য সেটি শতভাগ দেওয়া সম্ভব।”

    ২১ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিউল আজিমকে পদোন্নতি দিয়ে ইসি সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। শফিউল আজিমের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি হন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রশাসনের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে শফিউল আজিমকেই প্রথম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হলো। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন ও বিধি অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন শফিউল আজিম। সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিলেন তিনি।

    এবার তৃতীয় ধাপে নির্বাচিত হলেন যারা:

    গতকাল দেশের বিভিন্ন উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন যারা। তাদের নাম এখানে দেওয়া হলো।

    মুন্সীগঞ্জ :

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন কোলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এম মাহবুব উল্লাহ্ কিসমত। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন মৃধা।

    বগুড়া :

    বগুড়া  উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে তিন উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত  হয়েছে বগুড়া সদরে শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, শাজাহানপুর উপজেলায় সোহারাব হোসেন ছান্নু ও  শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে  মোস্তা  উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    নাটোর :

    নাটোরের বড়াইগ্রাম এবং গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আরিফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারী ফলাফল বুধবার রাতে প্রকাশ করা হয়।

    বড়াইগ্রাম উপজেলায় মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন আনারস প্রতীকে ৪০ হাজার ২৪৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    গুরুদাসপুর উপজেলায় আহম্মদ আলী আনারস প্রতীকে ২০ হাজার ৩৫৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    দিনাজপুর :

    সদরে ইমদাদ সরকার, চিরিরবন্দরে সুনীল কুমার ও খানসামায়-সহিদুজ্জান শাহ  উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

    রাঙ্গামাটি :

    তৃতীয় ধাপে রাঙ্গামাটির ২টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারি ভাবে লংগদু উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক  বাবুল দাশ বাবু।

    নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী অমর জীবন চাকমা বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

  • গাজা ও মিশর সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েল

    গাজা ও মিশর সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েল

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৩০ মে, ২০২৪: গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলছে ইসরায়েলি হামলা। এই হামলায় ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বহু স্থাপনা। এর মধ্যে আছে হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়। সেখানে দেখা দিয়েছে ওষুধ ও খাদ্যের অভাব। ইতিমধ্যে ইসরায়েল আশ্রয় শিবিরগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড ও মিসর সীমান্তের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এই এলাকাটি একটি বাফার জোন এবং এটি ফিলাডেলফি করিডোর নামে পরিচিত।

    এই অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সমগ্র স্থল সীমান্তের ওপর কার্যকর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ পেল ইসরায়েল। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) এই তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ভূখণ্ড এবং মিসরের মধ্যে সীমান্ত বরাবর অবস্থিত একটি বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী বুধবার জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সমগ্র স্থল সীমান্তের ওপর কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করল ইসরায়েল।

    বুধবার রাতে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সরু ফিলাডেলফি করিডোরের ‘অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে নিয়েছে। মিসর এবং গাজার মধ্যে অবস্থিত এই বাফার জোনটি ১৯৭৯ সালের ইসরায়েল এবং মিসরের মধ্যে শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল।

    সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, আমাদের বাহিনী ফিলাডেলফি করিডোরের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’

    ওই মুখপাত্র বলেছেন, সেখানে তারা এমন বিশটির মতো টানেল খুঁজে পেয়েছে যা হামাস অস্ত্র চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করতো।

    যদিও মিসরীয় টেলিভিশনে একটি সোর্সকে উদ্ধৃত করে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাতে নিজেদের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝানোর চেষ্টা করছে।

    মূলত ইসরায়েলের ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন মিসরের সাথে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এই করিডোরকে হামাসের ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, এই পথে হামাস নিয়মিত গাজা উপত্যকায় অস্ত্র আনার কাজ করে। তিনি বলেন, সৈন্যরা ‘অনুসন্ধান করে দেখছে এবং ওই এলাকার টানেলগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করার’ কাজ করছে।

    যদিও সবগুলো টানেল মিসরের সাথে গিয়ে যুক্ত হয়েছে কি না তা তিনি নিশ্চিত নন বলে ওই মুখপাত্র পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

    এদিকে মিসরের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল কাহেরা নিউজ বলেছে ‘রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধকে প্রলম্বিত করা এবং ফিলিস্তিনি শহর রাফাতে অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েল এসব অভিযোগ ব্যবহার করছে।’

    প্রসঙ্গত, তিন সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি সেনারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে রাফা ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাফার কাছে সীমান্ত এলাকায় মিসর ও ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনায় এক মিসরীয় সৈন্যের মৃত্যু হয়।

    মিসর ফিলিস্তিনের শক্তিশালী সমর্থক এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে।

    উল্লেখ্য, ফিলাডেলফি করিডোর একটি বাফার জোন বা নিরাপদ অঞ্চল, যা মাত্র একশ মিটার প্রশস্ত। আর মিসর সীমান্ত থেকে গাজার দিকে ১৩ কিলোমিটারের মতো। মিসর এর আগে বলেছে, তারা আন্তঃসীমান্ত (উভয় সীমান্তের সাথে সংযুক্ত) টানেলগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে এগুলোর মাধ্যমে অস্ত্র চোরাচালান অসম্ভব।

  • জেনে নিন ধূমপান থেকে বেরিয়ে আসার কিছু কৌশল

    জেনে নিন ধূমপান থেকে বেরিয়ে আসার কিছু কৌশল

    www.HelloBangla.News – লাইফস্টাইল – ৩০ মে, ২০২৪: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একবার কৌতূহল বশত একটি সিগারেট পান করেছে তাদের অনেকেই পরবর্তীতে পুরাদস্তুর ধূমপায়ী হয়ে গেছেন। যারা ধূমপান করে তারা যেমন নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তেমনি আশেপাশের যারা থকে তারাও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। তবে শিশু, বৃদ্ধ এবং নিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ধূমপানের বিরুপ প্রভাবে পড়ে খুব তাড়াতাড়ি।ধুমপান সাধাণত একজনের দেখে অন্যজন বেশি আসক্ত হয়।

    তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে ৬০ লাখ মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে ধূমপানের বিষয়টি সবচেয়ে সামনে আসে।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আপনি কিভাবে ধূমপান ছাড়বেন:

    চিকিৎসকদের মতে ধূমপান একটি আসক্তির মতো। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে নিম্নোক্ত পন্থাগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ১. আজ এখুনি ধূমপান ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করুন। টেবিল কিংবা পকেটে রাখা সিগারেটের প্যাকেট ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলুন

    ২. একদিন ধূমপান না করে দেখুন। এরপর পার্থক্য অনুভব করার চেষ্টা করুন। এরপর দুইদিন, তিনদিন ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। তাহলে অভ্যাস গড়ে উঠবে।

    ৩. আপনার আশপাশে যারা ধূমপান বর্জন করেছে তাদের অনুসরণ করুন। তাদের স্বাস্থ্যগত কী পরিবর্তন এসেছে সেটি জানার চেষ্টা করুন।

    ৪. একটা হিসেবে করে দেখুন তো সিগারেট কিংবা তামাকজাত পণ্যের জন্য প্রতিমাসে আপনার কত টাকা খরচ হয়? হিসেব করে দেখলে ধূমপান ছাড়া আপনার জন্য সহজ হবে। সে টাকা জমিয়ে অন্য খাতে খরচ করতে পারেন।

    ৫. আপনার ধূমপায়ী বন্ধুদের সঙ্গ সুকৌশলে এড়িয়ে চলুন।

    ৬. সিগারেট ছাড়ার পর মুখে চুইংগাম কিংবা আদা চিবোতে পারেন। তাহলে ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমে আসবে।

    ৭. যে সময়টিতে আপনার ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে সে সময়ে রাস্তায় হাঁটুন। তাহলে ধূমপানের চাহিদা থাকবে না।

    ৮. যে কোন জায়গায় ধূমপান কর্নার থেকে দূরে থাকুন

    ৯. ধূমপান বিরোধী এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বই পড়তে পারেন

    ১০. নিরুপায় হলে সর্বশেষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং-এর সহায়তা নিতে পারেন।

    ধূমপান ছাড়ার জন্য আপনার একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের থিম সং প্রকাশ করেছে ‘রবি’

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের থিম সং প্রকাশ করেছে ‘রবি’

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ৩০ মে, ২০২৪: আর মাত্র দুই দিন পরেই শরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই উপলক্ষে ‘বাজে ডঙ্কা নাই শঙ্কা, জানি পারবে তুমিও’ এই শিরোনামে থিম সং প্রকাশ করেছে মোবাইল ফোন অপারেটর ‘রবি’। বিশ্বকাপের উন্মাদনা ভ্ক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং খেলায় ক্রিকেটারদের উদ্দীপ্ত করতেই দারুণ এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে ‘রবি’। সেই ভিডিওতেই গাওয়া হয়েছে থিম সংটি। আগামী ২ জুন থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ৮ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। তার আগে ১ জুন ভারতের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

    বিসিবির পেজে ট্যাগ করা সেই পোস্টে রবি লিখেছে, ‘বাজে ডঙ্কা নাই শঙ্কা, জানি পারবে তুমিও’ গানের সাথে এবার গর্জন তুলবে সারা বাংলাদেশ! বাংলার টাইগাররা মাঠ কাঁপাবে, পিচ দাপাবে, বিজয় নিশান উড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, আর বিশ্ব দেখবে টাইগারদের দাপট। কোটি কোটি ক্রিকেট ফ্যানদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জন্য ভালোবাসা ও শুভকামনা।

    এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে ডি-গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল।

  • রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৭০ কোটি ডলার সহায়তা

    রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৭০ কোটি ডলার সহায়তা

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৩০ মে, ২০২৪: বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭০ কোটি ডলার সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ।

    মৌলিক সেবা প্রদান এবং দুর্যোগ ও সামাজিক সহিষ্ণুতা তৈরিতে দু’টি প্রকল্পের আওতায় গতকাল বুধবার এ অনুদান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

    ২০১৭ সাল থেকে সহিংসতার কবলে পড়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম।

    বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, আমরা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের উদারতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করি। আমরা স্থানীয় আশ্রয়দাতা গোষ্ঠীর বিষয়টিও উপলব্ধি করি। এই সংকট এরই মধ্যে ৭ বছরে পদার্পণ করেছে এবং তাদের স্বল্পমেয়াদী ও জরুরি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই সমাধান অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। আমরা এই জটিল সংকট মোকাবিলায় এবং রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

    সংকটের ৭ বছরে পদার্পণের এই সময়ে ৩৫ কোটি ডলারের ‘ইনক্লুসিভ সার্ভিসেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ ফর হোস্ট কমিউনিটি অ্যান্ড ডিসপ্লেসড রোহিঙ্গা পপুলেশন (আইএসও)’  প্রকল্প এবং ৩৫ কোটি ডলারের ‘হোস্ট অ্যান্ড রোহিঙ্গা এনহান্সমেন্ট অফ লাইভস (হেল্প)’ প্রকল্প দুটি বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের ‘আইডিএ২০ উইন্ডো ফর হোস্ট কমিউনিটিজ অ্যান্ড রিফিউজিস’ এর আওতায় এই অর্থায়ন করা হবে। এ ৭০ কোটি ডলারের পুরোটাই অনুদান।

    ‘ইনক্লুসিভ সার্ভিসেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ ফর হোস্ট কমিউনিটি অ্যান্ড ডিসপ্লেসড রোহিঙ্গা পপুলেশন’ প্রকল্পটি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অন্তত: ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জীবিকা ও অপরিহার্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, জেন্ডার সহিংসতা মোকাবিলা ও  প্রতিরোধ সেবার জন্য বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি ১২ বছরের কম বয়সী ৩ লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে শিক্ষাসহ মানব পুঁজি উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে।

    আইএসও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার এস. আমের আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে এ বাস্তুচ্যুতির যে সংকট মোকাবিলা করছে- সেটি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী হোক আর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীই হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষকে সহায়তার চ্যালেঞ্জ। আইএসও  প্রকল্প অস্থায়ী কাজ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং জেন্ডার–ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা ও  প্রতিরোধ সেবা প্রদানে বিনিয়োগ করতে, সুরক্ষা দিতে ও মানব পুঁজি ব্যবহার করতে উভয় জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য করবে।

    সূত্র: বাসস