Author: Hello Bangla News

  • নির্বাচন উপলক্ষ্যে সেনা মোতায়েনের নীতিগত অনুমোদন রাষ্ট্রপতির

    নির্বাচন উপলক্ষ্যে সেনা মোতায়েনের নীতিগত অনুমোদন রাষ্ট্রপতির

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। বিশেষ ভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কবে থেকে সেনা মোতায়েন হবে তা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

    আজ রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ও ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। এ সময় তিনি এ অনুমোদন দেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

    ইসি সচিব বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

    এরইমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন।

  • আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না, বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এটার প্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কে কি বলল না বলল, এটা তাদের মাথাব্যথা। আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের ভারসাম্য কূটনীতি নিয়ে আমরা চলতে চাই।’

    বাংলাদেশে আরব বসন্ত নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার এমন বক্তব্যের পেক্ষিতে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্যা করেন।

    আজ রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্জন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাশিয়া কি বলেছে, এটা আমাদের ইস্যু না। এটা ওদের জিজ্ঞেস করেন। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে কিন্তু আমরা এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা সার্বভৌম, আমাদের ভারসাম্য পররাষ্ট্রনীতি।’

    আরব বসন্তের সম্ভাবনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না। এ ধরনের কোনো সুযোগ নাই। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। শেখ হাসিনার কারণে আমাদের দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত আছে। আর আমরা ৭ জানুয়ারি নির্বাচন করব। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেটা করব। আমরা খুব ভালোভাবে চলছি।’

    মোমেন বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন হয়েছে, এটা সম্ভব হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে। আমরা আমাদের লক্ষ্য নিয়ে সামনে যেতে চাই। অন্য কিছু আমাদের দরকার নাই। আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।

  • জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে: সেতুমন্ত্রী

    জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে: সেতুমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন ভাগাভাগি নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নিজস্ব চাওয়া আছে। তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেসব আসনে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।’

    আজ রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। কোনো অশোভন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। প্রার্থিতার বিষয়ে আজ বিকেল ৪টার মধ্যে ফাইনাল হবে।’

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপিসহ কয়েকটি দল এই নির্বাচনকে ‘ভাগাভাগি’ বলছে। যে নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দল এবং প্রায় ২২শ প্রার্থী আছে, সে নির্বাচন কীভাবে ভাগাভাগির নির্বাচন হয়?’

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনআওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম ।

    আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ও আপিল নিষ্পত্তির পর বৈধতা পেয়েছেন দুই হাজার ২৬০ জন প্রার্থী। আজ বিকেল ৪টার মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কেউ নিজেকে ভোট থেকে সরিয়ে নিতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

    এবার ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র মিলে এখন পর্যন্ত ২২৬০ জনের মতো বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। ৩০০ আসনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন। স্ব স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন অনেক প্রার্থীই। এরপর চূড়ান্ত হবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী; যারা ভোটের মাঠে প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

  • রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে

    রিজার্ভ বেড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বিতীয় ধাপের ৬৯ কোটি ( ৬৮৯ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ৪০ কোটি (৪০০ বিলিয়ন) ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এ‌তে ক‌রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বে‌ড়ে ২০ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁ‌ছে‌ছে।

    আজ রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক এ তথ্য জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে এটি আয়োজিত হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইএমএফ চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোট ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় এ ঋণ দেওয়া হয়। ঋণ অনুমোদনের পরপরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সাত কিস্তিতে পুরো অর্থ দেওয়ার কথা রয়েছে। ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের জন্য গত জুন ভিত্তিক বিভিন্ন সূচকে শর্ত পালনের অগ্রগতি দেখতে গত ৪ অক্টোবর আইএমএফের একটি মিশন ঢাকায় আসে। মিশনের নেতৃত্ব দেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দ। অবশেষে সেই ঋণ যোগ হলো।

    মেজবাউল হক বলেন, পাঁচ ব্যাংকের তারল্য সমস্যা নিয়ে যেসব কথা, তা সঠিক নয়। পাঁচ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে তারল্যের ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে তা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

    বাংলাদেশ গত জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারায় আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যে অব্যাহতি চেয়েছিল, তা অনুমোদন করেছে সংস্থাটির পর্ষদ। একই সঙ্গে ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ থাকার কথা ছিল ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। জুন শেষে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়নি।

  • লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৬০ জনের মৃত্যু

    লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৬০ জনের মৃত্যু

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে আবারও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

    বেঁচে ফেরাদের কয়েকজন ১৬ ডিসেম্বর আইওএম  জানিয়েছে, জুওয়ারা শহর ছেড়ে আসা নৌকাটিতে মোট ৮৬ জন যাত্রী ছিল।

    বিবিসির খবর অনুসারে, সাগরের উচ্চ ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি যাত্রীসহ ডুবে যায়। এতে শিশুসহ ৬০ অভিবাসন প্রত্যাসী নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাসীদের জন্য প্রধান পয়েন্টগুলোর মধ্যে লিবিয়া উল্লেখযোগ্য। চলতি বছর তিউনিসিয়া ও লিবিয়া থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাসী ইতালিতে পৌঁছেছে।

    আইওএম এই রুটকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোর একটি করে তুলেছে। এই পথে শুধু এ বছরই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২ হাজার ২শ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

    গত জুনে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলে একটি মাছ ধরার নৌকাডুবিতে অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যু হয় এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ১০০ জনকে।

  • নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৪৪ রানে

    নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৪৪ রানে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: ডানেডিনে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ৩০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান করে স্বাগতিকরা। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হয় ২৪৫ রানের। জবাবে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করেছে বাংলাদেশ। ডিএলএস মেথডে ৪৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

    টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন শরিফুল ইসলাম। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা রাচিন রবীন্দ্র আউট হয়ে যান কোনো রান করার আগেই। শরিফুলকে প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন উইল ইয়াং। পরের বলে প্রান্ত বদল হয়। এক বল বিরতি দিয়ে শরিফুল উইকেট নেন আরও একটি। এবার অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন হেনরি নিকোলস। প্রথম ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫ রান করে নিউজিল্যান্ড।

    এরপর উইল ইয়াং ও টম ল্যাথামের জুটি পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে। মাঝে আরেক দফা বৃষ্টিতে ম্যাচ চলে আসে ৪০ ওভারে। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলেও জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। এই জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। দুজনই হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন। এর মধ্যেই বৃষ্টি আসে আবার।

    এ দফায় প্রায় ঘণ্টাখানেক খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ চলে আসে ৩০ ওভারে। তাতে বাংলাদেশ পড়ে যায় বিপত্তিতে, একজন বোলার করতে পারবেন সর্বোচ্চ ৬ ওভার। হাসান মাহমুদ সেটি করে ফেলেন আগেই, শরিফুল ও মোস্তাফিজুর রহমানের বাকি ছিল এক ওভার। বাংলাদেশকে তখন ভরসা করতে হয় সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজদের ওপর।

    তাদের ওপর চড়াও হন টম ল্যাথামও উইল ইয়াং। বৃষ্টির পরে ২১তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দুই ছক্কাসহ ১৩ রান আসে। পরের ওভারে মিরাজ ১০ ও এরপর আবার এসে সৌম্য টানা তিনচারসহ দেন ১৫ রান। বাধ্য হয়ে বোলিংয়ে শরিফুলকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক শান্ত। দিনের সফল পেসারও দেন ১০ রান।

    পরের ওভারে নিয়ে আসা হয় আফিফ হোসেনকে। কিন্তু তাকেও স্বস্তি দেননি লাথাম-ইয়াং জুটি। ওই ওভারে দুই ছক্কাসহ আসে ১৫ রান। ইয়াং-ল্যাথামজুটি যখন ক্রমেই ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। এর মধ্যে লাথামকে আউট করে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন মিরাজ। শুরুতে স্লিপে ক্যাচ ছাড়েন সৌম্য। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ভালোভাবেই আঘাত করেন তিনি।

    মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে ব্যাট হয়ে পায়ে লেগে বল স্টাম্পে যায়। এর আগে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ বলে ৯২ রান করেন তিনি। ইয়াংয়ের সঙ্গে ১৪৫ বলে ল্যাথামের জুটি ছিল ১৭১ রানের। পরে চাপম্যানের সঙ্গেও ২২ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন ইয়াং।

    দুই ব্যাটারই হন রান আউট। তার আগেই অবশ্য ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ‍তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে ফেলেছেন তিনি। ১৪ চার আর ৪ ছক্কার ইনিংসে ৮৪ বলে ১০৫ রান করে ফেলেন তিনি। শেষ ওভারে তিন রান আউটে ২৩৯ রানে থামে নিউজিল্যান্ড।

    রান তাড়ায় নেমেও স্বস্তি পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে নেমে অ্যাডাম মিলনের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য কোনো রান করার আগেই।

    শুরুর ধাক্কা সামলাতে নাজমুল হোসেন শান্ত সঙ্গী হন এনামুল হক বিজয়ের। কিন্তু তাদের ৪৬ রানের জুটি ভাঙে শান্ত রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ইশ সোধির বলে বোল্ড হলে। ২ চারে ১৩ বলে ১৫ রান করেন তিনি। এরপর এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাধেন লিটন দাস। তারা দুজন রান তোলার গতিতেও পাল্লা দিচ্ছিলেন।

    কিন্তু জশ ক্লার্কসনের শর্ট বলে পুল করতে যান বিজয়। সেটি উপরে উঠে ধরা পড়ে বোলারের হাতেই, ৫ চারে ৩৯ বলে ৪৩ রান করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট পান ক্লার্কসন। তার বলেই আউট হন লিটন দাসও। ক্লার্কসনের স্লোয়ার বাউন্সারে হুক করবেন কি না দ্বিধায় ছিলেন তিনি। পরে ব্যাটে লেগে সহজ ক্যাচ যায় উইটেকরক্ষকের হাতে।

    মুশফিকুর রহিমও রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ১০ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে যান। ১০৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ফের আশা জাগায় হৃদয়-আফিফ জুটি।

    কিন্তু ৩৮ বলে ৫৬ রানের এই জুটিটি ভাঙে হৃদয় স্লগ সুইপ করতে গেলে। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৩ রান করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন হৃদয়। শুরুতে বাউন্ডারিতে রান তোলা আফিফও পরে কিছুটা চুপসে যান। মাঝে একবার এলবিডব্লিউ আউট হলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন। কিন্তু এরপরও অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলতে পারেননি তিনি।

    ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৩৮ রান করেন আফিফ। তার বিদায়ের পর স্বভাবতই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের সব আশা। শেষে এসে মেহেদী হাসান মিরাজের ২১ বলে ২৮ রানও কোনো কাজে আসেনি। কিউইদের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মিলনে, সোধি ও ক্লার্কসন।

    সেঞ্চুরি করায় ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়াং।

  • কাশ্মীরে আছে এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’

    কাশ্মীরে আছে এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: ইতিহাস কখন কিভাবে মোড় নেয় এবং এক প্রকা রোমাঞ্চ জন্ম দেয় তা অনুভবে এক ধরনের তৃপ্তি দেয় বাংলাদেশের মানুষদের। বিশেষ ভাবে ৫৩ তম বিজয় দিবসে এসে এই ধরনের একটি খবরে বাংলাদেশের মানুষদের  পুলকিত হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্ত কি সেই আনন্দ আর পুলকিত হওয়ার গল্প। এমন তো কথা ছিলোনা। কিন্তু কেন হলো। আর সেই খবরটি হচ্ছে ‘ভারতের কাশ্মীরেও আছে বাংলাদেশ নামে আস্ত একটা গ্রাম। সেখান থেকে ৫৩ বছর আগে সদ্য স্বাধীন দেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়ছিলো। ইতিহাসবিদরা কাশ্মীরে একখন্ড বাংলাদেশের অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই ধরেণের তথ্য পেয়েছে। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও অজানা অনেক অধ্যায়।

    শুধু তা-ই নয়, আরও জাান গেছে এই ‘বাংলাদেশ’ নামে গ্রামটা নাকি গিলানি সাহেবের জন্মস্থান জুরিমাঞ্জ-এর ঠিক পাশেই! পরে গুগল ম্যাপেও খুঁজে বের করে গবেষকরা সেই বাংলাদেশ।

    মাসকয়েক আগে কাশ্মীরেরই একটা খবরের কাগজে চোখে পড়ে, সেই ‘বাংলাদেশ’ গ্রামের লোকেশনে উলার লেকের ধারেই শুরু হয়েছে বিগ বাজেট একটি দক্ষিণী ছবির শ্যুটিং। এমন কী, বলিউড ছবিরও সেট পড়েছে ‘বাংলাদেশে’ – এমনটাও জানানো গিয়েছিল।

    , কাশ্মীরের ‘বাংলাদেশ’ ইদানীং ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে, ওই এলাকার অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও আসতে শুরু করেছেন দলে দলে।

    তখনই ইতিহাসবিদরা স্থির করে ফেলে, কীভাবে এই ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ হল, সেটা জানতে একবার গিয়েছিলেন ওই গ্রামে।

    শ্রীনগর শহর থেকে এমনিতে ওই জায়গাটার দূরত্ব আশি কিলোমিটার। তবে নানা কারণে সোপোর-বান্দিপোরা রোড হামেশাই বন্ধ থাকে বলে প্রায়শই পুরো উলার লেক পরিক্রমা করে পৌঁছতে হয় সেই গ্রামে – রাজধানী থেকে পাড়ি দিতে হয় অন্তত সোয়াশো কিলোমিটার রাস্তা।

    তবে বিস্তর মেহনত করে একবার ‘বাংলাদেশে’ পৌঁছলে বোঝা যায়, কেন গ্রামটি বাইরের দুনিয়ার কাছে এভাবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গ্রীষ্মের পিক সিজনে তো বটেই, ডিসেম্বরের কনকনে ঠান্ডাতেও সেখানে এখন পর্যটকদের ঢল ও ট্রেকারদের তাঁবু।

     

    প্রচলিত আছে, মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরই না কি কাশ্মীর নিয়ে একদা বলেছিলেন :

    “আগর ফিরদৌস বার রু-য়ে জমিন অস্ত- হামিন অস্ত-ও হামিন অস্ত-ও হামিন অস্ত “

    বাংলায় এই অমর পংক্তির অনুবাদ করা যেতে পারে, ‘এই পৃথিবীর বুকে কোথাও যদি স্বর্গ থেকে থাকে তাহলে তা এখানেই, তা এখানেই, তা এখানেই!’

    এখন এই লাইনগুলো আসলে কবি আমীর খসরুর লেখা, না কি অন্য কারও – তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে।

    কিন্তু এই ‘জন্নত-ই-জাহান’ বা ‘ভূস্বর্গ’ খেতাবের সবচেয়ে বড় দাবিদার যে কাশ্মীর – তা নিয়ে বোধহয় বিন্দুমাত্র বিতর্ক নেই!

    আর সেই ভূস্বর্গের বুকে আজ বাহান্ন বছর ধরে এক টুকরো ‘বাংলাদেশ’ও যে বহাল তবিয়তে টিঁকে আছে এবং ক্রমশ বিখ্যাত হচ্ছে, এ খবরও রীতিমতো রোমাঞ্চ জাগায় বই কী!

     

    যেভাবে এই নামকরণ:

    ডিসেম্বরের এক হিমেল সকালে যখন বান্দিপোরা জেলার এই বাংলাদেশ গ্রামে পৌঁছনের কোন এক ইতিহাসবিদ, তখন মুষলধার বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে জনপদ। উলার লেক থেকে আসা ঠান্ডা হওয়ায় হাত-পা অবশ হওয়ার উপক্রম।

    উলারের অন্য পারে মাউন্ট হরমুখের তুষারধবল চূড়া কুয়াশাতে আবছায়া। আর লেকের বুকে রাজহাঁসের ঝাঁক আর সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের উদ্দাম দাপাদাপি। বাংলাদেশ গ্রামের কূলে কয়েকটা নৌকা ওই তুমুল বৃষ্টিতেও মাছ ধরতে ব্যস্ত। আর পর্যটকদের জন্য চালু হওয়া শিকারাগুলো লেকের জলে ভেসে বেড়াচ্ছে ইতিউতি।

    গ্রামবাসীদের দেখা মিলল দুপুরের ঠিক আগে আগে, যখন জোহরের নামাজের ঠিক আগে লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মসজিদের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন।

    কীভাবে তাদের গ্রামের নাম ‘বাংলাদেশ’ হল, সেই প্রশ্নের জবাবে নবীন যুবক নিসার আহমেদ দার কিংবা প্রবীণ পঞ্চায়েত সদস্য গুলাম আহমাদের কাছে মোটামুটি একই রকম বিবরণ পাওয়া যায়।

    আসলে পাশের জুরিমাঞ্জ গ্রামে (যেটা আবার সৈয়দ আলি শাহ গিলানির জন্মস্থান, তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ আমলে খাল খনন বিভাগের একজন ভূমিহীন শ্রমিক) ’৭১ সালের শীতে এক ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড হয়েছিল।

    সেই আগুনে প্রায় পুরো গ্রামটাই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গ্রামের এক পাশে উলার লেকের কোল ঘেঁষে অনেকটা ফাঁকা জমি ছিল, তখন সেখানেই সর্বস্ব-হারানো পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করে দেয় সরকার।

    এরপর প্রশ্ন ওঠে, নতুন এই জনপদটা তো জুরিমাঞ্জ থেকে বেশ খানিকটা দূরে – তো এই গ্রামের নাম কী দেওয়া হবে?

    তখন একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনা ও মুক্তিবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে, সারা পৃথিবীর সঙ্গে জুরিমাঞ্জও সে খবর রেডিওতে শুনেছে।

    সেই নবীন রাষ্ট্রকে সম্মান জানাতে নতুন গ্রামটির নামও দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ’ – এমনটাই সেদিন স্থির করেছিলেন ওই জনপদের বাসিন্দারা।

    বাংলাদেশের নামে গ্রামটির নামকরণের মূল আইডিয়াটা কার, এটা নিয়ে অবশ্য দুরকম ব্যাখ্যা পাওয়া গেল।

    নিসার আহমেদ দার জানালেন, তিনি বাপ-চাচাদের কাছে শুনেছেন তখন কাশ্মীর সরকারের একজন মন্ত্রীই না কি পরামর্শ দিয়েছিলেন নতুন গ্রামটির নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখা হোক, আর গ্রামবাসীরা সানন্দে সেটা মেনেও নিয়েছিলেন।

    তুলনায় প্রবীণ গুলাম আহমাদ বা গুলাম নবি বাট অবশ্য বললেন বাইরের কারও পরামর্শে নয় – গ্রামের তখনকার মুরুব্বিরা মিলেই না কি স্থির করেছিলেন নতুন জনপদের নাম দেবেন তারা বাংলাদেশ, সদ্য স্বাধীন দেশটিকে স্বীকৃতি জানাবেন।

    দুটোর যে কোনও ব্যাখ্যাই সত্যি হতে পারে, তবে ‘বাংলাদেশ’ নামটা নিয়ে ওই গ্রামের যে আলাদা একরকম গর্ব আছে তা টের পেতে কোনও অসুবিধা হয় না।

    প্রথম দিকে নামটা মুখে মুখে চালু থাকলেও ২০১০ সালে বান্দিপোরা জেলার ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার অফিসও বাংলাদেশ নামটিকে নথিভুক্ত করেছে, এখন প্রায় ৭০টি পরিবারের সাড়ে তিনশো লোকের বসবাস সেখানে।

    গ্রামের আশি বছরের প্রবীণা আজাইব বিবি বিকেলের দিকে খুব যত্ন করে নিজের বাড়ির দাওয়ায় বসিয়ে কাশ্মীরের বিখ্যাত ‘কাহওয়া চা’ খাইয়ে আপ্যায়ন করছিলেন।

    তাঁর সন্তানদের মধ্যে দু’জন মূক ও বধির, কোনও ক্রমে হাঁস ও মুরগী প্রতিপালন করে তিনি নিজের বিরাট সংসার চালান।

    এত কষ্টের মধ্যেও আজাইব বিবি হাসিমুখে বলছিলেন, “আমাদের গ্রামের নামটা কিন্তু একেবারে অন্য রকম! গোটা কাশ্মীরে এরকম নাম আপনি আর কোথাও পাবেন না!”

    গ্রামের সব লোকজন মাথা নেড়ে তাঁর কথায় সায় দেন, জানাতে ভোলেন না এই যে অন্য একটি দেশের নামে তাদের গ্রামের নাম – বিষয়টা তাদের অন্য রকম একটা ভালো লাগা দেয়!

    বেড়াতে বা কাজে কাশ্মীরের অন্যত্র গেলেও তারা প্রথমেই বলেন, “আমরা বাংলাদেশ গ্রাম থেকে এসেছি!” আগে লোকজন শুনে একটু অবাক হত, কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সবাই চিনে গেছে এই অভিনব নামের গ্রামটিকে।

     

    ‘বাংলাদেশে’র পুনর্জন্ম:

    তবে প্রায় বাহান্ন বছর আগে এই নামকরণ হলেও পরবর্তী প্রায় চার দশক ‘বাংলাদেশ’ একটি অখ্যাত জনপদ হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হালে সেই ছবিটা খুব দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে।

    আর এর পেছনে খুব বড় ভূমিকা রয়েছে উলার লেককে ঘিরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন প্রসারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার।

    উলার লেক হল সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াতে বৃহত্তম মিঠা পানির লেক, কাশ্মীরের সুপরিচিত ডাল লেকের অন্তত সাড়ে আট গুণ এর আয়তন।

    কিন্তু শ্রীনগরের ডাল লেক পর্যটকদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হলেও তুলনায় উলারে ‘ট্যুরিস্ট ফুটফল’ অনেক কম, যদিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে উলারের আকর্ষণ বোধহয় বেশি ছাড়া কম নয়।

    সম্প্রতি সেই ছবিটাই বদলে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ‘উলার কনজার্ভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’, সরকারি অর্থায়ন আর বেসরকারি সহযোগীদের নিয়ে তারা নতুন করে আঁকছেন উলার লেকের চালচিত্র।

    “আমাদের এই প্রকল্পে একটা খুব বড় জায়গা নিয়ে আছে বাংলাদেশ গ্রাম, কারণ ওই এলাকাটার পর্যটন সম্ভাবনা অপরিসীম”, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর মুদাসির মেহমুদ।

    গত দু-তিন বছরের মধ্যে ‘বাংলাদেশে’র সৌন্দর্যায়নে তারা বেশ কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন।

    জুরিমাঞ্জ-বাংলাদেশ-ওয়াতলাব গ্রামগুলোকে ঘিরে উলারের তীর ঘেঁষে তৈরি হচ্ছে একটি আধুনিক বুলেভার্ড।

    ইতিমধ্যেই লেকের বুক চিরে তৈরি হয়েছে প্রায় দুশো মিটার লম্বা একটি বোর্ডওয়াক, যেটির ওপর দিয়ে হেঁটে চলে যাওয়া যায় একদম উলারের বুকে। পদ্মের বনের ওপর দিয়ে ডানা ঝাপটাতে দেখা যায় নানা প্রজাতির মাইগ্রেটরি বার্ডদের।

    ‘বাংলাদেশ’ গ্রামের বাসিন্দারা এই বোর্ডওয়াকেরই নাম দিয়েছেন ‘ভিউপয়েন্ট’।

    নিসার আহমেদ বলছিলেন, “বছরতিনেক আগে এই ভিউপয়েন্ট খোলার পর থেকেই হঠাৎ করে আমাদের গ্রামে ট্যুরিস্টদের আনাগোনা খুব বেড়ে গেছে।”

    “ভারতের নানা প্রান্ত থেকে তো বটেই, অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া-ইউরোপ থেকেও আজকাল দলে দলে পর্যটকরা আসছেন।”

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য গুলাম আহমাদ জানাছেন, ২০২২ আর ২০২৩র গ্রীষ্মে এমন কী বাংলাদেশ থেকেও জনাকয়েক পর্যটক তাদের গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। মানে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে কাশ্মীরের বাংলাদেশ দেখতে!

    এমনিতে বাংলাদেশ গ্রামের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা অনেকটাই উলার লেক-নির্ভর।

    তারা কেউ লেকে মাছ ধরেন, কেউ আবার লেকের তীরে হাঁসের চাষ করেন।

    অনেকে আবার নৌকায় লেকের বুক থেকে তুলে আনেন ওয়াটার চেস্টনাট, জলের যে কাঁটাওলা ফসল অনেকটা বাংলার ‘পানিফলে’র মতো দেখতে। কাশ্মীরিরা স্থানীয় ভাষায় বলেন ‘সিংগারা’।

    উলার লেকের বুকে পদ্মবন থেকে পদ্মের কন্দ বা ‘নদরু’ তুলে আনাটাও বাংলাদেশে অনেকেরই পেশা। এই নদরু দিয়ে তৈরি ‘ইয়াখনি’ নামে একটি পদ কাশ্মীরে খুবই জনপ্রিয়, আর বাংলাদেশের ‘নদরু’ এখন পাড়ি দিচ্ছে দিল্লি-মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোরের বাজারেও।

    সব মিলিয়ে উলার লেকের তীরে একদা অপরিচিত ‘বাংলাদেশ’ যেন সম্প্রতি নতুন জীবন পেয়েছে, প্রতিবেশী দেশের নামে নামাঙ্কিত গ্রামটির নামডাক ছড়িয়ে পড়ছে দূর-দূরান্তে।

    “রাস্তাটা যদি আর একটু ভাল করা হয় আর উলার লেকে নিয়মিত ড্রেজিং-টা চালু রাখা যায় তাহলে দেখবেন আমাদের বাংলাদেশ ট্যুরিস্টদের সামলাতে কূল পাবে না”, একগাল হেসে বলেন প্রবীণ গ্রামবাসী গুলাম নবি বাট।

     

    ‘হামলা আওয়ার খবরদার!’:

    বাংলাদেশ গ্রাম থেকে সন্ধ্যার দিকে যখন শ্রীনগরে ফিরছি, তখনও কিন্তু একটা খটকা রয়েই গিয়েছিল।

    ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ‘ইন্ডিয়া’র বিরোধিতা এবং পাকিস্তানের প্রতি প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি নিয়ে এত কথা শোনা যায়, সেই কাশ্মীর কীভাবে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন হওয়া একটি দেশের জন্মকে ‘সেলিব্রেট’ করেছিল সে প্রশ্নটার জবাব কিন্তু সেদিন বাংলাদেশ গ্রামে পাইনি।

    পরে কাশ্মীরি গবেষক ও ‘কে ফাইল’ গ্রন্থের লেখক বশির আসাদ এর একটা চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দিলেন।

    তিনি জানাচ্ছেন, “সাতচল্লিশে ভারত ভাগ থেকে পরবর্তী তিরিশ বছর কিন্তু সাধারণ কাশ্মীরিদের সমর্থন পুরোপুরি ভারতের দিকেই ঢলে ছিল। ছবিটা তখন মোটেই আজকের মতো ছিল না, বরং কাশ্মীরিরা তখন সবাই পাকিস্তানি দখলদারির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন।”

    “এমন কী সাতচল্লিশ সালের শেষ দিকেই যখন পাকিস্তানি হানাদাররা কাশ্মীরে হামলা চালায়, তখন শ্রীনগর-সহ গোটা ভ্যালিতে তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছিল ‘হামলা আওয়ার খবরদার, হাম কাশ্মীরি হ্যায় তৈয়ার’! মানে তারা তখন পাকিস্তানিদের উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত ছিলেন!”

    ফলে একাত্তরের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের দু-টুকরো হওয়াকে কাশ্মীরের একটি জনপদ যে ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করেছিল, তাতে বশির আসাদ এতটুকুও বিস্মিত নন।

    “এমন কী সাতাত্তর সালের আগে জামাত-ই-ইসলামীও কিন্তু কাশ্মীরে সেভাবে পায়ের তলায় জমি পায়নি। ফলে একাত্তরে পূর্ব পাকিস্তানে জামাতের নির্যাতন-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়”, বলছিলেন তিনি।

    বশির আসাদ আরও মনে করেন, ১৯৮৯ সালে কাশ্মীরে উগ্রপন্থা আর জঙ্গীবাদের রমরমা শুরু হওয়ার আগে কাশ্মীর ছিল সম্ভবত সমগ্র উপমহাদেশেই সবচেয়ে উদার ও সহিষ্ণু একটি সমাজ – কাজেই সেখানে অবাধ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে চেতনাও ছিল খুব শক্তিশালী।

    এছাড়া ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের আর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও হয়তো আছে – যার আভাস নিহিত ছিল “কাশ্মীর সরকারের একজন মন্ত্রীই এই পরামর্শ দিয়েছিলেন”, নিসার আহমেদ দারের এই কথাতে।

    সে সময় জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সৈয়দ মীর কাশিম।

    কংগ্রেসের এই সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন, কাশ্মীরে কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তোলার কৃতিত্ব অনেকে তাঁকেই দিয়ে থাকেন।

    একাত্তরের যুদ্ধ ছিল ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    ফলে তাঁকে সম্মান জানাতে মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মীর কাশিম বা তাঁর কংগ্রেসি মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য নতুন একটি গ্রামের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখার সুপারিশ করেছিলেন, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    সত্যিটা ঠিক কী ছিল, আজ হয়তো তা পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়।

    কিন্তু সুদূর উত্তর কাশ্মীরের এক প্রান্তে, সুবিস্তীর্ণ উলার লেকের এক তীরে বাংলাদেশ নামে একটি ছোট্ট গ্রাম যে অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরনো ইতিহাসকে নিজের বুকে আজও ধরে রেখেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

     

    সূত্র: বিবিসি বাংলা (শুভজ্যোতি ঘোষ-বিবিসি নিউজ বাংলা, বান্দিপোরা )

  • অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে

    অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে

    www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩: দুবাইতে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়াকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ভারতকে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে পরাজিত করে। আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ শিবলির সেঞ্চুরিতে  ৮ উইকেট হারিয়ে করে ২৮২ রান। এখন ২৮৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করবে আরব আমিরাত।

    অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনার জিশান ইসলাম (৭) বিদায় নেন দ্রুতই। কিন্তু এরপর ১২৫ রানের জুটি গড়ে মোড় বদলে দেন শিবলি এবং চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান।

    রিজওয়ান ৭১ বলে ৬০ রান করে বিদায় নিলেও চাপে পড়েনি বাংলাদেশ। কারণ এরপর ফের আরিফুল ইসলামকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি জুটি গড়েন শিবলি। এর মাঝেই আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। অন্যপ্রান্তে আরিফুল হকও রানের চাকা সচল রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ব্যাট হাতে দৃষ্টিনন্দন কিছু শট খেলে তিনি তুলে নেন ফিফটিও।

    ব্যক্তিগত ফিফটির পর অবশ্য টিকতে পারেননি আরিফুল। ৪০ বলে ৬ চারে সাজানো এই ইনিংসটি শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু তার বিদায়ের পর দ্রুত আরেকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫ বলে ৫ রান করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন আহরার আমিন। মোহাম্মদ শিহাব জেমসও (৩) পারেননি দাঁড়াতে। তবে অপরপ্রান্তে অটল থাকেন শিবলি। যদিও স্ট্রাইকরেট তুলনামূলক কম ছিল তার, তবে শেষদিকে অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি মাত্র ১১ বলে ২ ছক্কা ১ চারে ২১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে রানের গতি ঠিক রাখেন।

    শেষ ওভারে অবশ্য বেশি রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। উইকেটও হারিয়েছে ৩টি। আমিরাতের পেসার আয়মান আহামেদের করা ওভারের দ্বিতীয় বলেই লং অনে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটার রাব্বি। পঞ্চম বলে একই পথ ধরেন শিবলি। ১৪৯ বলে ১২৯ রানের ইনিংসটি খেলার পথে ১২টি চার ও ১ ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার। ওভারের শেষ বলে অষ্টম উইকেট হিসেবে বিদায় নেন রোহানাত দৌল্লা বর্ষণ। ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮২ রান।

    বল হাতে আমিরাতের আয়মান তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া ওমিদ রহমান ২টি এবং হার্দিক পাই ও ধ্রুব পারাশার ১টি করে উইকেট নেন।

    শেষ খবর : সংযুক্ত আরব আমিরাত ২২ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে করে ৮০ রান।

  • বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধা

    বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধা

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

    আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ৫৩তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টা ৩৩ মিনিটে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে।

    পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে করুন সুর বেজে ওঠে।

    রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সেখানে রাখা একটি দর্শনার্থী বইতেও স্বাক্ষর করেন।

    বায়ান্ন বছর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। ত্রিশ লাখ শহীদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে একটি নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

  • ৫৩তম বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে গণমানুষের ঢল

    ৫৩তম বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে গণমানুষের ঢল

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩: আজ ৫৩তম মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে চুড়ান্ত বিজয় লাভ করে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এরপরই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করতে থাকে রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী, ও সরকারি-বেসরকারি সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষক। আও ছিলেন সাধারণ মানুষ। তাই স্মৃতিসৌধে নামে গণমানুষের ঢল। তিব্র শীত উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে এসেছে ৭১এর শাহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে।

    পরাধীনতার শিকল ছিড়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ডাকে লাখ লাখ বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। যে যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালি মায়ের সন্তান শহীদ হন। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীনতা। সেই বাঙ্গালি মায়ের সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে গোটা জাতি।