Author: Hello Bangla News

  • ভূমি সেবা নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে: ভূমিমন্ত্রী

    ভূমি সেবা নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে: ভূমিমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৬ মার্চ, ২০২৪: ভূমি সেবা নিশ্চিতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে, বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, “ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। ভূমির বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয় জেলা প্রশাসকদের ওপর। ভূমি কমিশনারদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এসিল্যান্ড পর্যন্ত বিসিএস ক্যাডার, তাই আশা করছি স্বচ্ছতা বাস্তবায়ন করতে পারবো। ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা আনতে ভূমিসেবা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।”

    আজ বুধবার (০৬ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

    খাস জমির স্বচ্ছতা বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা ডিসিদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই স্বচ্ছতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নজরদারি কীভাবে থাকবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয় নজরদারি করবে। এছাড়া ডিসি, এসিল্যান্ড ও ইউএনও আছে। আমরা স্থানীয়ভাবে সরাসরি পরিদর্শন করছি। জনগণের কাছ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    আপনাদের নির্দেশনা কি ছিল জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, “আমরা যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছি সেগুলো তাদের জানানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া তারা খাস জমি নিয়ে কতগুলো সুপারিশ করেছে, আমরা সেগুলো উত্তর দিয়েছি। যে-সব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা সহজভাবে কাজ করতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “ভূমি অপরাধ আইন হলে বিধির দরকার হয়। বিধির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এই আইন হলে জনগণ উপকৃত হবেন। ফলে কেউ দখলে থাকলে তিনি সুবিধা পাবেন না। কাগজই হবে শেষ কথা।”

    ভূমি মন্ত্রী বলেন, “অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত অনেক আইন চলমান। ওগুলো তো আমরা নিষ্পত্তি করতে পারবো না। তবে এর বাইরে যেগুলো আছে সেগুলো যা যা করার দরকার সেসব আমরা করছি। একটি পরিপত্র ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। স্পষ্ট করে যদি বলি, একটা খতিয়ান থেকে কেউ হয়ত বের হয়ে গেছে, ওই খতিয়ান ধরে অনেকে খাজনা দিতে পারছেন না। যারা বের হয়ে গেছে তাদেরটা আলাদা করে যারা বের হয়নি তাদের পৃথক খতিয়ান করে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যারা বের হয়ে গেছেন, তাদের খাস খতিয়ানে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। একটা পর্যায়ে খ তফসিল থাকবে না।

    ভূমির ডিজিটালাইজেশন, প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন হলে অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। যখন ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে তখন তো প্রত্যেকটা খতিয়ান পৃথক ব্যক্তি নামে হচ্ছে। সেই পৃথক খতিয়ান অনুযায়ী ম্যাপিং হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে চললে সাব রেজিস্ট্রার যখন রেজিস্ট্রি করবেন তা অনলাইনে চলে যাবে এসিল্যান্ডের কাছে। এসিল্যান্ড অফিসে কিন্তু সমস্ত ছবি আসছে ম্যাপসহ। কখন আর নোটিশ হবে না, অটোমেটিক নামপত্র হয়ে তার কাছে চলে যাবে। এখন আমরা যদি ভুল ম্যাপ দেই অথবা ম্যাপ যদি ডিজিটালাইজড করতে না পারি তাহলে নোটিসটা পৃথক নামেই থেকে যাবে।”

    এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে থাকছে ৩৫৬ প্রস্তাব। প্রস্তাবগুলোর জনসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ হ্রাস করা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনেন বিকাশ, আইন- কানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২২টি প্রস্তাব পড়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে। সম্মেলনে সর্বমোট অধিবেশন ৩০টি। এর মধ্যে কার্য-অধিবেশন ২৫টি (একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি স্পীকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় এবং একটি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সদয় নির্দেশনা গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা দুইটি। এছাড়া অংশগ্রহণকারী কার্যালয়: একটি (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)।

  • জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলবে ১১ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত

    জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলবে ১১ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৬ মার্চ, ২০২৪: দেশে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে আগামী ১১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান।

    আজ বুধবার (৬ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের  সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন তথ্য জানান।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১১ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ পালন করা হবে। এ জন্য সাতদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ১১ মার্চ চাঁদপুরের সদর উপজেলার মোলহেড প্রাঙ্গণে এ বছরের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হবে।”

    তিনি বলেন, “এ দিন মেঘনা নদীতে নৌ র‌্যালি করা হবে। বর্তমান সরকার জাটকা রক্ষায় কেবল আইন প্রয়োগ করছে না বরং এই মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

    মন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সাল থেকে প্রতি মৎস্যজীবী পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভিজিএফের পরিমাণ ১০ কেজি থেকে চল্লিশ কেজিতে উন্নীত করেছেন।”

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০ জেলায় ৯৭ উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৭১টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ৫৭ হাজার ৭৭১ মে.টন ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ মাছ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “একইসাথে দেশের চাহিদা পূরণের পর বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ, র‍্যাব, আনসার-ভিডিপি ও বিজিবি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।”

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. জুলফিকার আলী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন

  • অনন্ত আম্বানির বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন পপ তারকা রিয়ানা ও বলিউড স্টাররা

    অনন্ত আম্বানির বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন পপ তারকা রিয়ানা ও বলিউড স্টাররা

    www.HelloBangla.News – বিনোদন – ৬ মার্চ, ২০২৪: ভারতীয় ধনকুবের শিল্পপতি রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন জুলাই মাসে। তবে উৎসব শুরু হয়ে গেল মার্চে মাসেই।

    ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজস্থানের নাথদ্বারার শ্রীনাথজি মন্দিরে রাধিকা মার্চেন্টের সঙ্গে তার বাগদান সম্পন্ন করেন অনন্ত আম্বানি। এবার সাতপাকে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন অনন্ত-রাধিকা।

    অনন্তের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বলিউড স্টাররা - বিনোদন - ৬ মার্চ ২০২৪
    অনন্তের বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বলিউড স্টাররা – বিনোদন – ৬ মার্চ ২০২৪

    আর জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানে গাইতে ভারতে উড়ে এসেছেন পপতারকা রিয়ানা। তাছাড়াও অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে শাহরুখ খান সালমান খান, সাইফ আলী খান, আমির খান, রাণবীর কাপুর, রানভীর সিং সহ অনেক বলিউড তারকা উপস্থিত হয়েছিলেন। নারী তারকাদের মাঝে দীপিকা পাড়ুকোন, বলিউড খ্যাত ননদ-ভাবী শ্বেতা বচন-ঐশ্বরিয়া রায়, আলিয়া ভাট, শ্রদ্ধা কাপুর সহ অনেকের সমাগম হয়েছিলো এখানে। তাদের সবার সাজপোশাকও আলদা নজর কেড়েছিলো দর্শকদের। আর এই খবর যেমন এসেছে গণমাধ্যমে তেমনি এসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তাই কারো চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। কেননা এই বিয়েতে প্রথমবারের মত ভারতে এসেছেন পপ তারকা বিয়ানা। আবার এক মঙ্গে নেচেছেন শাহরুখ, সালমান ও আমির খান। কোন পরিচালক যেখানে এই তিন খানকে এক ছবিতে আনতে পারেনি সেখানে মুকেশ আম্বানি নিয়ে এলন তাদের এক মঞ্চে। এতেই প্রমানিত হয়  ‍অনুষ্ঠানটি কতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিলো। এছাড়া, শ্রেয়া ঘোষাল,অরিজিৎ সিং, লাকি আলী, উদিত নারায়ণসহ অনেকে গানও গেয়েছেন।

    বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের মাঝে অন্যতম হলেন বিল গেটস এবং মার্ক জাকারবার্গ।

    কারণ মি. আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি ও হবু পুত্রবধু রাধিকা মার্চেন্টের বিবাহ পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান হয় ভারতের গুজরাটের জামনগরে। পহেলা মার্চ থেকে তেসরা মার্চ, টানা তিন ধরে এই অনুষ্ঠান চলে।

    রাধিকা মার্চেন্ট হলো বিজনেস টাইকুন বীরেন মার্চেন্ট ও শায়লা মার্চেন্টের মেয়ে। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়া রাধিকা তার শাশুড়ি নীতা আম্বানির মতো একজন প্রশিক্ষিত ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী।

    বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া আগে রাধিকা ও অনন্ত দীর্ঘদীন প্রেম করেছেন। কিন্তু তাদের এই বিবাহ-পূর্ববর্তী অনুষ্ঠান নিয়ে এত আলাপ-আলোচনার মূল কারণ এর চোখ ধাঁধানো জাঁকজমক। সেই চোখ ধাঁধানো আয়োজনের আলোচিত কিছু বিষয় সম্বন্ধে জেনে নেয়া যাক।

     

    বিয়ের মোট খরচ:

    আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ধনকুবের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি হলেন বিশ্বের নবম ধনী ব্যক্তি। রিটেইল থেকে শুরু করে তেল শোধনাগার পর্যন্ত তার বিশাল বিনিয়োগের সাম্রাজ্যের পরিমাণ ১১৭ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ, ১১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার।

    তেল, টেলিকম, কেমিক্যালস, প্রযুক্তি, ফ্যাশন থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য; এমন বহু খাতে রিলায়েন্সের বিনিয়োগ আছে। ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের প্রায় সর্বক্ষেত্রে আম্বানিদের উপস্থিতি থাকায় আম্বানিদের নিয়ে জনগণের আগ্রহও ব্যাপক।

    সেই কৌতুহল থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, মুকেশ আম্বানি তার ছোট ছেলের প্রাক-বিয়ে অনুষ্ঠান বাবদ মোট কত টাকা খরচ করেছেন? মানুষ আরও জানতে চায়, বিবাহ পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানেরই যদি এত এলাহী আয়োজন হয়, তাহলে চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মূল বিয়ের আয়োজনে কী কী হবে। যদিও আম্বানি পরিবার এখন পর্যন্ত এই প্রাক-বিয়ে আয়োজনের জন্য কত টাকা খরচ করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি।

    তবে দ্য গার্ডিয়ান বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেছে যে বিবাহ পূর্ববর্তী এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে আম্বানি পরিবার। যদিও বিজনেস ইনসাইডার এই তথ্যটি দ্য ডেইলি মেইল থেকে নিয়েছে এবং ডেইলি মেইল এই তথ্য কোন সূত্র থেকে পেয়েছে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি।

    তবে প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য এত খরচ দেখে অবাক হওয়ার সেরকম কোনও ব্যাপার নেই। কারণ এর আগেও ২০১৮ সালে মুকেশ আম্বানি তার মেয়ে ঈশা আম্বানির বিয়ে বাবদ ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলো।

     

    হাজারের ওপর অতিথি:

    মুকেশ আম্বানির ছেলের বিয়েতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে হাজারের ওপর অতিথি এসেছেন। গুজরাটের স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আয়োজন এত বিশাল ছিলো যে স্থানীয় বিমানবন্দর যেন এক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত হয়েছে।

    বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আয়োজনের জন্য জামনগর বিমানবন্দরে প্রায় ১৩০টি বিমান নেমেছে। বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের মাঝে অন্যতম হলেন বিল গেটস এবং মার্ক জাকারবার্গ।

    আগত অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল অনুষ্ঠানস্থলের কাছে বিলাশবহুল ‘গ্ল্যাম্পিং’-এ (গ্ল্যামারাস এবং ক্যাম্পিং এর মিশেলে তৈরি শব্দ)। এই তাবুগুলো এত বেশি বিলাশবহুল ছিলো, যা অনেকটা কল্পনারও বাইরে। এছাড়া, অতিথিদের খাবারের জন্য ছিলো থাই, জাপানিজ, মেক্সিকান, পার্সি এবং প্যান এশিয়ান ইত্যাদির পাঁচ শতাধিক পদ, তা থেকে নিজেদের পছন্দ মতো খাবার বেছে নিতে পারতেন অতিথিরা।

    রান্নার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক ডজন বিখ্যাত শেফ বা বাবুর্চিকে নিয়ে আসা হয়েছিলো। রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদন বলছে, বাবুর্চি সংখ্যা ছিলো প্রায় ১০০ জন।

    এছাড়া, অনুষ্ঠানে একাধিক থিম ছিল। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতিথিদের প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে মেকআপ এবং কেশ শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন নামী স্টাইলিস্টও। লন্ড্রি পরিষেবাও রাখা হয়েছিল।

     

    পপ তারকা রিয়ানার পারিশ্রমিক:

    এই বিয়েতে আমন্ত্রিতদের মাঝে অন্যতম হলেন ‘পপ কুইন’ খ্যাত তারকা রিয়ানা। অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিকতার প্রথম দিনে প্রায় ১২০০ দর্শকের সামনে নাচে গানে মঞ্চ মাতিয়েছেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের জন্য তাকে ৭০ লক্ষ ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

    ভারতের মঞ্চে এর আগে কখনও গান পরিবেশন করেননি রিয়ানা। তাই, তাকে নিয়ে সবার অনেক আগ্রহ ছিলো। ফ্লুরোসেন্ট সবুজ রঙের একটি শিমারি গাউন পরে খালি পায়ে মোট ৪০ মিনিট মঞ্চে ছিলেন রিয়ানা। দর্শক এবং ভক্তরা তাকে খালি পায়ে পারফর্ম করতে দেখে অবাক হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমের এক প্রতিবেদন বলছে, এটি তিনি ভারতীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখাতেই এটি করেছেন। উল্লেখ্য, রিয়ানা প্রায় সাত বছর পর এই প্রথমবার লাইভ অর্থাৎ সরাসরি মঞ্চে পরিবেশন করেছেন।

    এছাড়া, ২০১৮ সালে ঈশা আম্বানির বিয়েতেও আম্বানি পরিবার মেগাস্টারদেরকে নিয়ে এসেছিলো। সে বার বিখ্যাত মার্কিন সংগীত শিল্পী বিয়ন্সে-কেও মোটা আংকের পারিশ্রমিক দিয়ে আনা হয়েছিলো। পরের বছর কোল্ডপ্লে’র লিড ভোকালিস্ট ক্রিস মার্টিনকে আম্বানির বড় পুত্র আকাশ আম্বানির বিবাহ পূর্ববর্তী অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য আনা হয়েছিলো।

     

    বলিউডের তিন খানের নাচ:

    আম্বানি পুত্রের বিয়েতে গোটা বলিউড এক ছাদের তলায় এসেছে। অনন্ত আম্বানি-রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে তারকাদের মিলনমেলা বললেও ভুল হবে। এই তিন দিন এখান অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে শাহরুখ খান সালমান খান, সালমান খান, সাইফ আলী খান, আমির খান, রাণবীর কাপুর, রানভীর সিং সহ অনেক বলিউড তারকা উপস্থিত হয়েছিলেন। পপ তারকা রিয়ানার

    নারী তারকাদের মাঝে দীপিকা পাড়ুকোন, বলিউড খ্যাত ননদ-ভাবী শ্বেতা বচন-ঐশ্বরিয়া রায়, আলিয়া ভাট, শ্রদ্ধা কাপুর সহ অনেকের সমাগম হয়েছিলো এখানে। তাদের সবার সাজপোশাকও আলদা নজর কেড়েছিলো দর্শকদের। তবে মুকেশ আম্বানির ছেলের বিবাহ পূরবর্তী অনুষ্ঠানে বলিউড প্রসঙ্গ এলেই সবার আগে চোখে ভেসে ওঠে বলিউডের তিন খান খ্যাত শাহরুখ, সালমান ও আমিরের একই মঞ্চে যৌথ নাচ।

    ক্যারিয়ারের এত দীর্ঘ সময়ে এই তিন খানকে এর আগে কখনও এক পর্দায় দেখা না গেলে এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিন সুপারস্টারকে এক মঞ্চে একসাথে নাচতে দেখে আনন্দিত তাদের ভক্তরা। তাদের নাচের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিওতে তাদেরকে ‘আর আর আর’ সিনেমার ‘নাটু নাটু’ গানের তালে নাচতে দেখা যায়।

    তবে এখানে একটা বিষয় হলো, কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য সাধারণত এইসব তারকারা মোটা অংকের পারিশ্রমিক নেন। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, আম্বানি পুত্রের বিয়েতে নাচার জন্যও কী তারা টাকা নিয়েছেন?

    রিয়ানাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও তিন খান সত্যিই কোনও পারিশ্রমিক নিয়েছে কিনা, এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। যদিও ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে যে শাহরুখ প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা নিয়েছেন অম্বানীদের থেকে। আলিয়া ভাট পেয়েছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে ভারতের মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের বহুতল অ্যান্টিলিয়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদান হয়েছিলো অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের। তখনও পুরো বলিউড সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো। তবে সে বার করণ জোহর, হৃত্বিক রোশান প্রিয়াংকা চোপড়া, কৃতি শ্যানন, আনুশকা শর্মা সহ আরও অনেক তারকা উপস্থিত থাকলেও এবার তাদেরকে দেখা যায়নি।

     

    কঙ্গনা রানাউতের ইন্সটাগ্রাম পোস্ট:

    বলিউডে যেসব বিতর্কিত অভিনেত্রী আছেন, তাদের মাঝে কঙ্গনা রানাউত অন্যতম। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে। তবে আম্বানিপুত্রের বিয়ের পর নতুন করে তাকে নিয়ে এখন আলোচনা চলছে তার এক ইন্সটাগ্রাম স্টোরির জের ধরে। স্টোরিতে তিনি নিজেকে ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্য তুলনা করেছেন।

    স্টোরিতে রানাউত একটি আর্টিকেলের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেই আর্টিকেলে লতা মঙ্গেশকরের সাক্ষাৎকার ছিলো। আর্টিকেলের শিরোনাম হলো: “এমনকি আপনি যদি আমায় পাঁচ মিলিয়ন ডলারও দেন, আমি যাবো না: একটি বিয়েতে গান গাওয়া প্রসঙ্গে লতা মঙ্গেশকর”।

    মঙ্গলবার সেই আর্টিকেলের স্ক্রিনশটের উপড়ে, এক পাশে অভিনেত্রী লিখেছেন, “আমি অনেক খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে গেছি। কিন্তু লতাজি এবং আমার কৃতিত্ব নেওয়ার মতো অনেক বিখ্যাত গান আছে।”

    তিনি আরও বলেন, “কিন্তু অনেক প্রলোভন পাওয়া সত্ত্বেও আমি কখনও কোনও বিয়েতে নাচিনি….খ্যাতি এবং অর্থকে ‘না’ বলার জন্য শক্তিশালী চরিত্র এবং মর্যাদা লাগে।”

    হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে কঙ্গনার এই পোস্ট সম্বন্ধে বলা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে সেলিব্রিটিদের, বিশেষ করে বিনোদন শিল্পের, যারা অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা আম্বানির তিন দিনের প্রাক-বিবাহ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন এবং নাচগান করেছিলেন, তাদেরকে ইঙ্গিত করেই অভিনেত্রী এই পোস্ট দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, তিন খান ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে দীপিকা, রানভীর, কিয়ারা আদভানি, কারিনা কাপুরসহ অনেকে মঞ্চে নেচেছিলেন। এছাড়া, শ্রেয়া ঘোষাল,অরিজিৎ সিং, লাকি আলী, উদিত নারায়ণসহ অনেকে গানও গেয়েছেন।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলা শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্বরতা: এরদোয়ান

    গাজায় ইসরায়েলি হামলা শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্বরতা: এরদোয়ান

    www.HelloBangla.News – আন্তর্জাতিক – ৬ মার্চ, ২০২৪: গাজায় ইসরায়েলি হামলা শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্বরতা, বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। একইসঙ্গে নেতানিয়াহু সরকার ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্লজ্জ গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন। আজ বুধবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে গত পাঁচ মাস ধরে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জার পাশাপাশি হামলা হচ্ছে হাসপাতালেও। এতে করে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে। এরসঙ্গে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলে এই হামলাকে শতাব্দীর শেষ্ঠ বর্বরতা বলে উল্লেখ করেছেন।

    আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মঙ্গলবার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান ‘বর্বরতার’ বিরুদ্ধে আবারও নিন্দা জানিয়েছেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত ১৫১ দিন ধরে আমরা গত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় বর্বরতার সাক্ষী হয়েছি।’

    ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ গণহত্যা’ চালানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে অভিযুক্ত করে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর এই বর্বরতা ‘পশ্চিমা শক্তির সীমাহীন সমর্থনে’ ঘটছে।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “নেতানিয়াহু এবং হত্যাকাণ্ডে তার সহযোগীদের অবশ্যই আইন ও জনসাধারণের বিবেকের সামনে প্রতি ফোঁটা রক্তের জন্য জবাবদিহি করা হবে।”

    এরদোয়ান বলেন, “ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমি দখল করে আছে তারা, আর এটি সংকট সমাধানের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে একটি।”

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে কট্টরপন্থি ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের করা ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক’ দাবির নিন্দা করে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সকল ধর্মের ধর্মীয় স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    এছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সিকে (ইউএনআরডব্লিউএ) অসম্মান করার জন্য ইসরায়েলের প্রচেষ্টাকেও তিরস্কার করেছেন এরদোয়ান।

    তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘মিথ্যা তথ্য ও অপবাদ’ দিয়ে সংস্থাটিকে অসম্মান করার যে প্রচেষ্টা তেল আবিব চালাচ্ছে তাকে বিশ্বাস করা উচিত নয়। একইসঙ্গে এই সংস্থার অস্তিত্বকেও খর্ব করা উচিত নয়।’

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সাথে সন্দেহজনক সংশ্লিষ্টতার কারণে ইউএনআরডব্লিউএর তহবিল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি এবং কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এছাড়া গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংস্থাটি তার বেশ কয়েকজন কর্মীকেও বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

    ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, ‘স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হলো ১৯৬৭ সালের সীমানার মধ্যে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।’

    ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে বিগত বছরগুলোর মতো চলতি বছরেও রমজান মাসে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। 

  • তিনি দিন ধরে জ্বলছে চট্রগ্রামের চিনিকলের আগুন

    তিনি দিন ধরে জ্বলছে চট্রগ্রামের চিনিকলের আগুন

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৬ মার্চ, ২০২৪: চট্টগ্রামে কর্ণফুলী এলাকায় এস আলম সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আগুন তিন দিন ধরে জ্বলছে । আগুনে পুড়ে আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসছে চিনির কাঁচামাল। এই কাঁচামাল আবার ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনও কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট।

    আজ বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরেও মিলের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

    ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগুন ও কাঁচামালের কারণে মিলের ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। বাইরের থেকে পানি দিতে হচ্ছে। ওপর থেকে পানি ছিটানো গেলে আগুন দ্রুত নির্বাপণ করা যেত। কিন্তু চিনিকলের উচ্চতা ৫-৬ তলা ভবনের সমান। উচ্চতার কারণে ওপর থেকে পানি দেওয়া যাচ্ছে না।

    মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে জেলা প্রশাসন গঠিত কমিটির সদস্যরা। এসময় তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেন।

    এদিকে কবে নাগাদ আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা যাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তাদের দাবি অপরিশোধিত চিনি দাহ্য হওয়ায় আগুন নেভাতে সময় লাগছে। পুড়ে যাওয়া চিনি ও কাঁচামাল গিয়ে পড়ছে পাশের কর্ণফুলী নদীতে।

    জানা গেছে, চিনির মিলের ছয়টি গোডাউনের মধ্যে একটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে আমদানি করা ১ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি রাখা ছিল।

    উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কর্ণফুলীর ইছাপুর এলাকার একটি মিলে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমদিকে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১৪টি ইউনিট। পরে তাদের সঙ্গে আগুন নেভাতে যোগ দেয় বাংলাদেশ বিমান, নৌ ও সেনাবাহিনীর দলও।

    মিলটির গোডাউনে রাখা অপরিশোধিত চিনিগুলো জ্বললেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

  • বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা

    www.HelloBangla.News – মতামত – ৬ মার্চ, ২০২৪: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এসেছিল এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমিতে। সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে শেখ মুজিব বলেছিলেন ”এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ” ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো”। অনেকেই বিশ্বাস করেন এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান একটা গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

    জনসভায় ছিলেন এমন অনেকে বলেছেন, লাঠি, ফেস্টুন হাতে লাখ লাখ মানুষ উত্তপ্ত শ্লোগানে মুখরিত থাকলেও শেখ মুজিবের ভাষণের সময় সেখানে ছিল পিনপতন নিরবতা।

    এই ভাষণের বাস্তবতা এতটাই ব্যঞ্জনাময় ছিলো যা সবার হৃদয়কে স্পর্শ করেছিলো। সেই সময়ের বাস্তবতার নিরিখে তা হয়ে পড়েছিল বাঙালি জনগোষ্টির কাছে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকার কালজয়ী আহ্বন।

    ভাষণ শেষে আবার স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাস্তাগুলো।

     

    ১ মার্চের পরের ঘটনা

    ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রেডিওতে ভাষণের মাধ্যমে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেন। সাথে সাথে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অফিস-আদালত, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অনেকে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য রাস্তায় নেমে আসে। সেদিন শেখ মুজিবুর হোটেল পূর্বানীতে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক করছিলেন।

    রেডিওতে ঘোষণা শোনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও নানা জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসলো। হোটেল পূর্বানীর চারপাশ তখন লোকে-লোকারণ্য। কারণ, অনেকই জানতো শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে বৈঠক করছেন। মার্চ মাসের দুই তারিখে ঢাকায় এবং তিন তারিখে সারাদেশে হরতালের ডাক দেয়া হলো। এছাড়া মার্চ মাসের চার তারিখ থেকে ছয় তারিখ পর্যন্ত দেশজুড়ে স্বতঃ:স্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। মার্চ মাসের চার তারিখ থেকে ছয় তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত হরতাল চলতে থাকে।

    এমন অবস্থায় ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন তৎকালীন ছাত্র নেতারা।

    পরিস্থিতি তখন আর পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। তিনি যা বলছিলেন, সেটাই ছিল শিরোধার্য। আন্দোলন এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়েই শেখ মুজিব ৩রা মার্চ পল্টনে ছাত্র সমাবেশে ৭ই মার্চ ভাষণ দেয়ার ঘোষণা করেছিলেন।

    অন্যদিকে মার্চ মাসের তিন ও চার তারিখ রাত আটটা থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। তখন কারফিউ অগ্রাহ্য করে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।

    ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ ঢাকার সোহরাওর্দি উদ্যানে শেখ মুজিবের ভাষণকে দেখা হয় প্রথম স্বাধীনতার ডাক হিসাবে।

     

    অন্যদিকে মার্চ মাসের তিন ও চার তারিখ রাত আটটা থেকে কারফিউ জারি করে সরকার। তখন কারফিউ অগ্রাহ্য করে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।

    ইতোমধ্যে অনেক ঘটনা ঘটেছে। মিটিং, মিছিল ও কারফিউর তীব্রতা বেড়েছে। পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।

    এর প্রেক্ষিতে ৬ মার্চে আওয়ামী লীগের শির্ষ পর্যায়ের নেতারা কেউ বলছেন, উনি আগামীকাল স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। কেউ বলছে, তা কী করে হবে? উনি নির্বাচনে জিতে গণপ্রতিনিধি, মেজরিটি পার্টির লিডার, উনি দাবির জোরে সরকার গঠন করবেন, স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করবেন। এখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সেটা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়বে।

    সাতই মার্চের আগে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাসভবনে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল, রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে শেখ মুজিব কোন পথ অনুসরণ করবেন।

    গুরুত্বপূর্ণ সে বৈঠকে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার সময় এখনো আসেনি। মানুষকে এমন রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নিয়ে আসার আগে জনসচেতনতা আরো সংহত করা প্রয়োজন।

    দেখা গেল বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের সেরা কর্তৃত্বব্যঞ্জক ভাষণ দিয়েছেন। যেখানে স্বাধীনতা ঘোষণা না করেও তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে নিজেকে সমর্পণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে বাঙালিকে।

    সাতই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে ঘিরে পাকিস্তান সরকারের মধ্যেও নানা চিন্তা ও উদ্বেগ কাজ করছিল। তাদের ধারণা ছিল, সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বসতে পারেন।

    শেখ মুজিব যাতে সে রকম কিছু না করেন, সেজন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীর দিক থেকে নানা প্রচেষ্টা ছিল।

    শেখ মুজিবুর রহমান টেলিফোনে ইয়াহিয়া খানকে বলেন যে আন্দোলন চলার সময় যারা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, সেটির জন্য আন্তরিক দুঃখ এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    শেখ মুজিবের সাথে টেলিফোনে আলাপের পর ইয়াহিয়া খান একটি টেলিপ্রিন্টার মেসেজ পাঠিয়েছিলেন শেখ মুজিবের জন্য। সেই মেসেজে ইয়াহিয়া খান লিখেছিলেন, দয়া করে তাড়াহুড়া করে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি শীঘ্রই ঢাকা আসবো এবং আপনার সাথে বিস্তারিত আলাপ করবো। আমি আপনাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি যে জনগণের প্রতি আপনার যে প্রতিশ্রুতি এবং আকাঙ্ক্ষা সেটির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানো হবে।

    ৭ই মার্চ সকালে পাকিস্তানে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জোসেফ সিম্পসন ফারল্যান্ড শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করেন।

     

    মার্চ মাসের শুরু থেকে পাকিস্তান সরকার পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্যদের এনে ঢাকায় জড়ো করতে থাকে। সাতই মার্চের জনসভায় শেখ মুজিব যদি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা বলেছিলেন। ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৪তম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজা।

    ‘অ্যা স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওউন কান্ট্রি’ বইতে মি. রাজা তার বইতে এর বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ৬ই মার্চ আওয়ামী লীগের দুই ব্যক্তি তার সাথে দেখা করতে এসেছিল।

    জেনারেল রাজা দাবি করেন, সেই ব্যক্তিদের তিনি বলেছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে সৈন্যরা অস্ত্র ও ট্যাঙ্ক নিয়ে তৈরি আছে। রেসকোর্স ময়দান থেকে তিনি সরাসরি শেখ মুজিবের ভাষণ শোনার ব্যবস্থাও রেখেছেন। শেখ মুজিব যদি পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে আক্রমণ করে এবং একতরফাভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয় তাহলে সৈন্যরা সাথে সাথে জনসভার দিকে অগ্রসর হবে এবং সেখানে হামলা চালাবে।

    “প্রয়োজনে ঢাকা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হবে,” এমন কথা জেনারেল রাজা উল্লেখ করেছেন তার বইতে।

     

    ৭ই মার্চ পরিস্থিতি

    সাতই মার্চ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ছিল লোকে-লোকারণ্য । এ অবস্থা এর আগে থেকেই অবশ্য চলমান ছিল। আওয়ামী লীগ নেতা ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই সেখানে জমায়েত হতে থাকেন। জনসভার বিষয় নিয়ে তিনি নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেন।

    এরপর তিনি সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে একটি বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ.এই.এম. কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও ড. কামাল হোসেন।

    বৈঠক শেষে শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বলেন যে, তারা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – রেসকোর্সের জনসভায় চার দফা ঘোষণা দেয়া হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ছাত্র-জনতার দাবির প্রতি সংহতি রেখে এ ঘোষণা দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এরপর এই চার-দফার একটি খসড়া প্রস্তুত করে ড. কামাল হোসেন শেখ মুজিবুর রহমানের অনুমোদন নেন। তার অনুমোদনের পর সেটি টাইপ করা হয়।

    সেদিন রেসকোর্স ময়দানে নৌকা আকৃতির মতো করে জনসভার মঞ্চ করা হয়েছিল। সকাল থেকেই লাখো মানুষ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের দিকে যেতে থাকে। পুরো রেসকোর্স ময়দান ও তার আশপাশের এলাকা একবারে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিকেল চারটার পর শেখ মুজিবুর রহমান সভাস্থলে আসেন। সে ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান অহিংস এবং অসহযোগ আন্দোলন আরও জোরদার করার আহবান জানান।

    একই সাথে তিনি পাকিস্তান সরকারের প্রতি চারটি দাবি তুলে ধরেন।

    ১. অবিলম্বে মার্শাল ল প্রত্যাহার করতে হবে

    ২. জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে

    ৩. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে

    ৪. সেনাবাহিনীর গুলি বর্ষণ ও মানুষ হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে হবে

    ৭ই মার্চের সেই ভাষণ তিনি নিজের চিন্তা থেকেই দিয়েছিলেন। ভাষণটি লিখিত ছিলো না।

    রেসকোর্সে ৭ই মার্চের বহু প্রত্যাশিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন – “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

    সে বিশাল সমাবেশ এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনোভাব দেখে বেশ চিন্তায় পড়ে যায় পাকিস্তান সরকার। একই সাথে তারা বুঝতে পারে শেখ মুজিবের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্চ রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

    দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সে ভাষণ শোনার জন্য রেসকোর্স ময়দানে এসেছিলেন।

    কত দূর-দূরান্তর থেকে যে লোক এসেছিল মিছিল করে, লাঠি আর রড ঘাড়ে করে – তার আর লেখাজোখা নেই। টঙ্গী, জয়দেবপুর ডেমরা – এসব জায়গা থেকে তো বটেই, চব্বিশ ঘণ্টার পায়ে হাঁটা পথ পেরিয়ে ঘোড়াশাল থেকেও বিরাট মিছিল এসেছিল গামছায় চিড়ে-গুড় বেঁধে। অন্ধ ছেলেদের মিছিল করে মিটিংয়ে আসে। বহু মহিলা, ছাত্রী মিছিল করে মাঠে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনতে।

    রেসকোর্স ময়দানে মানুষের যে জোয়ার এসেছিল সেটি জনসভা শেষে ভাটার মতো মিলিয়ে গেল। মানুষজনকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন কোন মসজিদ বা চার্চের ধর্মীয় জমায়েত থেকে ফিরছে, যেখানে তারা সন্তুষ্টির বাণী শুনেছে।

     

    সাতই মার্চ ভাষণের পর শেখ মুজিবুর রহমান আশঙ্কা করছিলেন যে তার ওপর যে কোন সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পদক্ষেপ আসতে আসতে পারে। এ বিষয়টি তিনি পারিবারিক মহলেও বলেছিলেন।

    ৭ই মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, রেহানা, রাসেল, শেখ শহীদ, শাশুড়ি ও আমাকে নিয়ে খাওয়ার সময় গম্ভীর হয়ে বললেন, আমার যা বলার ছিল তা আজকের জনসভায় প্রকাশ্যে বলে ফেলেছি। সরকার এখন আমাকে যে কোন মুহূর্তে গ্রেফতার বা হত্যা করতে পারে। সেজন্য আজ থেকে তোমরা প্রতিদিন দু’বেলা আমার সঙ্গে একত্রে খাবে।

    শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চ ভাষণের পর তাঁর নির্দেশে শুরু হয় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন। এরপর থেকে শেখ মুজিবুর রহামনের নির্দেশে চলতে থাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান।

    ৭ই মার্চ সরকারের এক তথ্য বিররণীতে বলা হয়, সপ্তাহ-জুড়ে সহিংসতায় ১৭২ জন নিহত এবং ৩৫৮জন আহত হয়। এদের মধ্যে ৭৮ জন নিহত হয় চট্টগ্রামে বিক্ষোভকারীদের নিজেদের মধ্যে সংঘাতে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা 

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় এআইআইবি

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় এআইআইবি

    www.HelloBangla.News – অর্থনীতি – ৫ মার্চ, ২০২৪: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান রজত মিশ্র বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হতে চাই। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো লিমিট নেই, আমরা অবশ্যই এটি বাড়ানোর চেষ্টা করব।

    আজ মঙ্গলবার (০৫ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমকে এআইআইবির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হতে চাই। কারণ দেশটির অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মেট্রোরেলসহ নানান ক্ষেত্রে তাদের সফলতা মুগ্ধ করেছে। হয়তো সামনে আরও সমৃদ্ধ হবে। আমরা কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এরিয়াতে কাজ করি যেমন জলবায়ুতে অর্থায়ন। আমরা ক্লাইমেট ফাইন্যান্সের জন্য পলিসি তৈরির জন্য বসেছি। আমরা একটি প্রকল্প নিতে চাই যেটি বৈশ্বিক জলবায়ুতে এআইআইবির প্রথম অর্থায়ন। তাই এটি আমাদের জন্য মূল্যবান অংশীদারত্ব।”

    এআইআইবি ১৭ প্রকল্পে ৩.৩৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে, সেটি কি সামনে বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রজত মিশ্র বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো লিমিট নেই। আমরা অবশ্যই এটি বাড়ানোর চেষ্টা করব। আমরা পলিসি গ্রহণের জন্য কাজ করছি, একই সাথে আমরা প্রকল্পগুলো নিয়েও কাজ করছি।

    নতুন কোনো সেক্টরে সহযোগিতা চাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, “তারা বলেছেন, যেটাই হোক আপনারা বের করুন, আমরা সহযোগিতা করার চেস্টা করব। তারা পলিসি নিয়েও কাজ করছে, একই সাথে প্রয়োজনের বিষয়টিও আসছে। ওনারা একই সাথে দুইটা কনসিডার করবেন। এটা কিছুটা নতুন। আমরা খুবই খুশি।”

    অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “অবকাঠামোগত খাতে তারা বেশি যুক্ত হতে চান। আমরা সে ব্যাপারে সম্মত। আমরা বাজেট সাপোর্ট প্রোগ্রাম আরও দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তারা বললেন, এটাই তাদের প্রথম বৈশ্বিক জলবায়ুতে অর্থায়ন।”

  • দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসিদের কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসিদের কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ মার্চ, ২০২৪: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসিদের কাজ করতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে তারা যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। বিশেষ করে রোজার আগে তারা যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহযোগিতা করে।”

    আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের একটি  কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছরের মতো জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনটি হচ্ছে। সম্মেলনে মন্ত্রী ও সচিবরা তাদের মুখোমুখি হন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আজকে ডিসিদের একটি সভা হয়েছে।  সভায় ডিসিরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে কিছু বলেননি। উনারা ছোট ছোট কিছু পয়েন্ট সভায় তুলেছেন। ”

    তিনি বলেন, “ডিসিরা জানতে চেয়েছেন করোনার সময়ের মতো ভার্চুয়াল কোর্টের ব্যবস্থা করা যায় কি না। তারা বলেছেন বিশেষ করে জঙ্গিদের আদালতে আনা নেওয়া করায় কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তাই ভার্চুয়াল কোর্টের কথা বলেছেন ডিসিরা। আমরা সেটা যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা করে দেখব এইটা করা যায় কি না। সারা বাংলাদেশে ভার্চুয়াল কোর্ট করা যায় কি না আমরা সেটা পরীক্ষা করে দেখব।”

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “ডিসিদের সভায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা যেন প্রতি মাসে তারা করেন। যাতে করে সবার সঙ্গে সবার একটা বোঝাপড়া থাকে। যেন কোনো অসুবিধা হলে সেটা দ্রুত সমাধান করা যায়। সভায় ডিসিদের আরও নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা ইয়াবা ও এলএসডির মতো মাদকের বিরুদ্ধে সামজিক সচেতনতা গড়ে তোলেন। আমরা ধূমপানের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এখন দেখা যায় প্রকাশ্যে কেউ ধূমপান করে না। কেউ ধূমপান করলে তা আড়ালে করে। ”

    নদীপথে যেন যত্রতত্র বালু উত্তোলন না করা হয় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

  • বাজার ব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

    বাজার ব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ মার্চ, ২০২৪: বাজার ব্যবস্থা নিয়ে কারসাজি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, “বাজারে বাজার ব্যবস্থায় যদি কেউ অস্থিতিশীল করেলে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।”

    আজ মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    আইনমন্ত্রী বলেন, “কৃত্তিমভাবে মূল্য বৃদ্ধি ও অবৈধ মজুতদারি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরী করা হলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে (স্পেশাল এ্যাক্ট) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    মামলায় জট প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলে, “আমি আমার বক্তব্যে প্রথমে ডিসিদের কাছে মামলা জটের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছি। মামলা জট নিরসনের জন্য তারা যেন সহযোগিতা করে। দ্বিতীয় কথা যেটা বলেছি সেটা হলো, সকলের কাছে বিশেষ করে ডিসিদের জন্য একটা ইস্যু, সেটা হলো মোবাইল কোর্ট অ্যাক্টের বিরুদ্ধে একটা মামলা আছে। সেটা নিষ্পত্তি করার জন্য আমরা তড়িৎ পদক্ষেপ নিবো এবং একটা বিষয়ে স্পষ্টিকরণ করা হয়েছে, সেটা হলো অনেক সময় হাইকোর্ট বিভাগে কেউ যদি মামলা করে তখন হাইকোর্ট আবেদন নিষ্পত্তির জন্য একটা আদেশ দেন। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় জটিলতা দেখা দেয়, যে হাইকোর্টের আদেশ না বুঝে অনেক দেরি করা হয়। সে বিষয়ে স্পষ্টিকরণ করে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল, আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আমি বলেছি আবেদনটি ডিসপোজ করা বা সম্ভব হলে গ্রহণ করা। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে একটা জবাব দিয়ে এ ব্যাপারটা নিষ্পত্তি করে দেওয়া। সে বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। ”

    তিনে আরও বলেন, “মোবাইল কোর্টে হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সারাদেশে মামলার জট কমাতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।”

    এ সময় বেইলি রোডে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শেষে মামলা হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ মার্চ, ২০২৪: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হবে, বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, “উপজেলা হাসপাতালে যদি ডাক্তার থাকতে না চায় তাহলে গ্রামের মানুষ কোথা থেকে ভালো চিকিৎসা পাবে। আমি বারবার বলেছি; চিকিৎসা খাতে সুনাম ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদেরকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রুট লেভেল পর্যন্ত ভালো চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হবে।”

    আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগ এলাকার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশান হলে ১০ম জাতীয় নিউরোলজি কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকদের কিছু অসুবিধা আছে আমি জানি। এসব অসুবিধা নোট করছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা চিকিৎসা সেবা দিতে যাবে তাদের জন্য কী কী ইনসেনটিভ রাখা যায়, সেগুলো নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছি। আমি চিকিৎসকদের সুবিধা যেমন দেব, চিকিৎসকদেরকেও রোগীদেরকে সেবা বুঝিয়ে দিতে হবে। চিকিৎসকরা গ্রামে গিয়ে মানুষকে শুধু সেবা দিক, আমি তাদের সব সুবিধা বাড়িয়ে দেব।”

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউরো হাসপাতালকে ৩০০ বেড থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ বেডে নিয়ে এসেছেন। নিউরো হাসপাতালের সক্ষমতা এখন বিশ্বের যে কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনার যোগ্য করে তুলেছেন। দিন দিন নিউরো রোগীদের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পাওয়া যাচ্ছে। ঐসব রোগীদের যেন কষ্ট করে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসতে না হয় সেজন্য আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে নিউরো চিকিৎসা পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করছি।”

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা.রোকেয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসকদের উন্নত সেবা দিতে হলে ভালো মানের চিকিৎসা বিজ্ঞানের বই পড়তে হবে। চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধিতে চিকিৎসকদের আরো কাজ করতে হবে, নতুন নতুন চিকিৎসা গবেষণায় মন দিতে হবে।”

    সোসাইটি অব নিউরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মো. বদরুল আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্বাচিপের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, স্বাচিপ মহাসচিব ডা. কামরুল হাসান মিলন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটু মিয়াসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন সোসাইটি অব নিরোলজিস্ট অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর আবু নাসির রিজভী।