তরুণদের মধ্যে অডিও বুক জনপ্রিয় হচ্ছে

অডিও বুক জনপ্রিয় হচ্ছে - প্রযুক্তি - ৩ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)
অডিও বুক জনপ্রিয় হচ্ছে - প্রযুক্তি - ৩ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – প্রযুক্তি – ৩ মার্চ, ২০২৪: বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতার জন্ম নেয়। শুধু সৃজন নয় মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করে। আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করে। সমাজে ভালো মন্দ সম্পর্কে জানতে শেখায়। যে যত বই পড়ে তার মধ্যে সামাজিক বন্ধনের বিষয়টি প্রখর হয়। যে যত বই পড়ে সে ততই পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সাফল্য লাভ করে। পৃথিবীর মধ্যে বই এমন একটি সম্পদ যার সঙ্গে অন্য কোনো পার্থিব সম্পদের তুলনা হয় না। একদিন হয়তো পৃথিবীতে বিদ্যমান সবকিছু বিনষ্ট হয়ে যাবে; কিন্তু একটি ভালো বই থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের আয়ু কখনোই ফুরাবে না।

তবে একসময় লাইব্রেরি চর্চার মাধ্যমে বই পড়া এবং বন্ধুদের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়ার যে প্রবণতা তা সামাজিক বন্ধনকে দৃড় করতো। নিজেদের মধ্যে দায়িত্ববোধের জন্ম নিতো। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় কাগজের বইর গুরুত্ব কমে যাচ্ছে এবং সেই জায়গা দখন করছে  প্রযুক্তিনির্ভর অডিওবুক বা ই-বুক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন থাকায় মানুষের হাতে ধৈর্য ধরে বই পড়ার সময় খুবই কম। এছাড়া, ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে মনোযোগ ধরে রাখাটাও বেশ কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২১ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, গবেষণায় অংশ নেয়া প্রায় ৪০ শতাংশ আমেরিকান তরুণ গত এক বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে কোনও বই পড়েননি। এর আগে ২০১৪ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার ছয় হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করেছিলো। সেখানেও উঠে এসেছিলো যে ৩০ বছরের নীচে যাদের বয়স, তাদের ৮৮ শতাংশ তরুণ বছরে মাত্র একটি বই পড়েছে। তবে তরুণদের মাঝে যারা সত্যিকারের বইপ্রেমী, তারা অবশ্য এখনও বই পড়ছেন। পার্থক্য হলো, তাদের অনেকেই এখন ধীরে ধীরে বইয়ের ডিজিটাল ভার্শনের দিকে ঝুঁকছেন।

 

অডিওবুক জনপ্রিয়তার কারণ:

অডিওবুক হলো এমন বই, যা শোনা যায়। আগে যেমন মানুষ টেপ বা সিডিতে গান শুনতো, এটা ঠিক তেমনই। এই অডিওবুকের ধারণা বাংলাদেশে কিছুটা নতুন মনে হলেও সারাবিশ্বের প্রেক্ষাপটে বেশ পুরনোই। তবে বাংলাদেশের পাঠকরাও এখন অডিওবুকের সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং তারা এটিকে গ্রহণও করছে। অডিওবুক শোনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটা শুনতে শুনতে অন্য কাজ করা যায়। যেমন, একজন পাঠক কোনও দীর্ঘ ভ্রমণে যাচ্ছেন; যাত্রাপথে সে তার হেডফোনে অডিওবুক শুনতে পারেন। আবার, ঘরের কোনও কাজ করার সময় প্লেয়ারে অডিওবুক ছেড়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে দুই কাজ একসাথে করা যায়। এছাড়া, যাদের দীর্ঘক্ষণ বইয়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য অডিওবুক আশীর্বাদস্বরূপ।

বাংলাদেশের বইমেলায় গত দুই বছর ধরে অডিওবুকের স্টল থাকলেও এবারই প্রথম একসাথে চারটি অডিওবুকের স্টল দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো: কাহিনীক, কাব্যিক, শুনবই ও বইঘর।

অডিওবুকের এমন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তরুণদের পাশাপাশি যারা বয়স্ক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ এবং প্রবাসী বাঙালী, তারাও অডিওবুকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

 

অ্যাপে কতগুলো বই আছে:

অডিওবুকের কথা এলেই ‘অডিবল’ এর নাম চলে আসে, এটি মার্কিন কোম্পানি অ্যামাজনের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন অডিবল অ্যাপে বা ওয়েবে অডিওবুকের পাশাপাশি পডকাস্টও শোনা যায়। তবে এটার জন্য পাঠককে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সাবসক্রিপশন ফি দিতে হবে। বাংলাদেশে যে চারটি অডিওবুক প্রকাশনা তাদের যাত্রা শুরু করেছে, তাদেরও অ্যাপ আছে। একশো থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত বইয়ের সংগ্রহ আছে এসব অ্যাপে। কাহিনীকে অ্যাপে বর্তমানে ১১৬টি অডিওবই রয়েছে, বইঘরে আছে ২০০টি। এছাড়া, শুনবই এবং কাব্যিক অ্যাপে অডিওবইয়ের সংখ্যা আবার হাজারের বেশি।

এসব প্রকাশনা জানিয়েছে, তারা আরও বইকে অডিওবইয়ে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে এবং কোনও কোনও অ্যাপের পেইড ইউজার কয়েক হাজার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তবে যেগুলো কালজয়ী বই, অর্থাৎ যেসব বইকে অডিওবইয়ে রূপান্তর করার জন্য মেধাসত্ব লাগে না, এসব অ্যাপে সেসব বইয়ের সংখ্যাই এখনও বেশি। যেমন, রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস।

যদিও প্রকাশকরা জানিয়েছেন যে তারা নতুন লেখকদের বইগুলোকেও অডিওবুকে রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন লেখকদের বইয়ের ক্ষেত্রে ঐ বইয়ের প্রকাশকদের সঙ্গে তাদেরকে চুক্তি করতে হয়।

 

অডিওবুকে যিনি বই পাঠ করেন তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ:

অডিওবুকের ক্ষেত্রে, যিনি গল্পটি পাঠ করেন, তার ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একট ভালো স্টুডিও, টেকনিশিয়ান এবং ন্যারেটর; এই তিনের সমন্বয়ে শ্রুতিমধুর একটি অডিওবুক তৈরি করা সম্ভব। ন্যারেটর ভালো না হলে মানুষ গল্প শুনবে না।

কিন্তু তবুও কোনও কোনও পাঠক গল্প অ্যাপগুলোতে পাওয়া বইয়ের গল্প বলার ধরণকে পছন্দ করছেন না।

অনুভূতিশূন্য হয়ে গল্প পড়ে গেলে সেটা শুনতে ভালো লাগে না। অডিওবুককে পাঠকের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ন্যারেটরের কণ্ঠে প্রয়োজন অনুযায়ী, প্রেম, ভালোবাসা, হাসি, কান্না, ঠাট্টা-তামাশা, অভিমান ইত্যাদি সব ধরনের মানবীয় অনুভূতি উপস্থিত থাকতে হবে।

 

কপিরাইট ইস্যুর ঝুকিতে পড়তে পারে:

অডিওবুকের ক্ষেত্রে একটা প্রধান শঙ্কার জায়গা হলো বইয়ের ‘কপিরাইট ইস্যু’। কারণ বর্তমানে এমন কিছু নাই, যা পাইরেসি হচ্ছে না। গান থেকে শুরু করে সিনেমা, সবকিছুই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ছে। অনলাইনে অবৈধভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই বাংলাদেশে এখনও ই-বুক সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশের কপিরাইট আইন অনুযায়ী, লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর না হওয়া পর্যন্ত তার বই অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে সেই আইন মানুষ মানছে না। অনলাইনে তাদের অনেক বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে অডিওবুকের ক্ষেত্রে বইয়ের পাইরেটেড কপি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলে জানায় প্রকাশকরা।

 

অডিওবুক টিকে থাকার নিশ্চয়তা কতটা:

প্রকাশকরা বলছেন, মানুষ চিরাচরিতভাবেই গল্প শুনতে পছন্দ করে এবং অডিওবুকের ক্ষেত্রে কপিরাইটও ই-বুকের চাইতে অনেকটা নিরাপদ বলে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে অডিওবুক টিকে যাবে।

এবারের বইমেলায় যেসব অডিওবুকের প্রকাশনা স্টল বরাদ্দ পেয়েছে, তাদের মাঝে শুধুমাত্র বইঘরেরই অডিওবুকের পাশাপাশি ই-বুক আছে। এর বাইরে ই-বুকের স্টল বলতে ছিলো শুধুমাত্র রকমরারি ডটকম।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তার থেকে মুক্তি লাভ হতে পারে বই পড়ার মাধ্যমে। বই মানুষকে বুদ্ধিদীপ্ত করে তুলে। তার মধ্যে দেশপ্রেম বাড়ায়। আর একজন দেশপ্রেমিক মানুষ সহজে দুর্নীতিগ্রস্ত হয় না। হতে পারে সেটা কাগজের বই কিংবা অডিও বুক।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পূর্ববর্তী রান্না “বুটের ডালের সন্দেশ “
পরবর্তী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখন ১৪৮২ টাকা