www.HelloBangla.News – জাতীয় – ২২ এপ্রিল, ২০২৪: এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলেই মামলা ও জরিমানা হবে, বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আগামী ২৭ তারিখ থেকে যার বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গেই মামলা, জরিমানা করা হবে। সরকারি অফিস ও সিটি করপোরেশনের অফিসও ছাড় পাবে না। টাকার পরিমাণ আগের চেয়ে আরও বাড়বে। আমাদের কেউ বাধ্য করবেন না।”
আজ সোমবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর রুপনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির মাসব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার অভিযানে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
মেয়র আতিক বলেন, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বাড়ির মাঝখানে ময়লা আর ময়লা, সবাই বলে আমি করি নাই, তাহলে কে করেন? কারা করেন? এডিস মশার জন্ম আমার আপনার বাড়িতেও স্বচ্ছ পানিতে হচ্ছে, তাই আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে নিজের ঘরবাড়ি নিজেরাই পরিষ্কার করা৷”
এ সময় তিনি উপস্থিত এলাকাবাসীদের সঙ্গে স্লোগান ধরেন-তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন।
ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন নিখিল বলেন, “সিটি কর্পোরেশনকে অভিনন্দন জানাই ঢাকা ১৪ আসন থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। জনগণ আমাদের কথা শুনুক বা না শুনুক আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো। মশার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সামাজিকভাবে চেষ্টা করবো বিগত বছরগুলো থেকে এবার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডেঙ্গু মুক্ত থাকতে।”
সিটি কর্পোরেশনের কিছু অবহেলা তুলে ধরে নিখিল বলেন, “ওয়ার্ডের অলিতে গলিতে যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকে, সিটি কর্পোরেশনে ফোন দিলে তারা নানা অজুহাত দেখায়, গাড়ী নেই, লোক নেই, আর এসব অজুহাত শুনতে চাই না। তিনি বলেন, মেয়র খালে নেমে, ড্রেনে নেমে পরিষ্কার অভিযান চালান, কিন্তু তিনি যে নির্দেশনা দিয়ে আসেন তা সংশ্লিষ্টরা পালন করেন না। এ বিষয়ে নজর দেয়া জরুরী।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, “জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কখনোই সম্ভব নয়। জনগণ সচেতন হলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সহজেই ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের হটস্পটে ট্যাক বসানো হয়েছে, কর্পোরেশনে কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে যাতে জনগণ নিজেরা সরাসরি ডেঙ্গু বিষয়ক যে কোনো তথ্য সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে পারেন এবং যে কোনো সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে সরাসরি মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “এডিশ মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণ ধোঁয়া দিয়ে ঔষধ প্রয়োগ পছন্দ করে, কিন্তু ধোঁয়ার চেয়ে ট্যাবলেট দিয়ে মশা বেশি মরে। তিনি বলেন, নগরবাসীকে আহ্বান জানাবো, আমার বাড়ি, আমার আঙ্গিনা ডেঙ্গু মশার প্রজনন হতে দেবো না। আমরা ‘সার্চ এন্ড ডেস্ট্রয়’ নীতি নিয়ে ডেঙ্গু নিধন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবো। এ বছরে সবাই মিলে ডেঙ্গু মুক্ত হবো।”










