বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল

চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল - খেলাধুলা - ১ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)
চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল - খেলাধুলা - ১ মার্চ ২০২৪ (ফাইল ছবি)

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১ মার্চ, ২০২৪: বিপিএলের এবার যোগ্য দুই দল ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে উঠে। দেশি ও বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই দল গঠন করলেও ফাইনালে ভালো খেলে জয় প্রথমবারের মত জয় পেয়েছে বরিশাল। এর আগে ২০২২ সালের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে এক রানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ফরচুন বরিশাল। শেষের নাটকীয়তায় ভাগ্যের কাছেই হার মানতে হয়েছিল তাদের! কাছাকাছি গিয়েও স্বপ্ন ছুঁতে না পারার যন্ত্রণা বছর দুয়েক ধরেই বয়ে বেড়াচ্ছে বরিশাল। অবশেষে আরও একবার ফাইনালে কুমিল্লাকে পেয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ আসে। এবার ভাগ্য সঙ্গেই ছিল ফরচুনদের। কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। দলের মতোই অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তামিম ইকবালও।বলতে গেলে এবার ফাইনালে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পুরো ২০ ওভার খেললেও ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি কুমিল্লা। পরে ওই রান তাড়া করতে ৬ উইকেটে জয় পায় বরিশাল। চারবার ফাইনাল খেলে কখনো না হারা কুমিল্লাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

প্রথমে অবশ্য বরিশালের খেলোয়াড়দের মনে ভয়ই ধরার কথা ছিল। ইনিংসের কেবল তৃতীয় বলেই সুনীল নারিনের ক্যাচ ছেড়ে দেন ওবেদ ম্যাককয়। থার্ডম্যানে দাঁড়িয়ে বলটা কোথায় পড়বে, সেটিই ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। এক বল পরই প্রায়শ্চিত্য করেন অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নিয়ে।

স্কয়ার লেগে দাঁড়িয়ে নিজের বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন ম্যাককয়। কাইল মেয়ার্সের করা প্রথম ওভারেই ফিরতে হয় ৪ বলে ৫ রান করা নারিনকে। ওই ক্যাচ ছাড়ার মাশুলও খুব বেশি দিতে হয়নি বরিশালকে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা পরের ওভারে তিন বাউন্ডারিতে উইকেট হারানোর বেদনা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে কুমিল্লা।

কিন্তু তাদের উইকেট হারাতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। ১০ বলে ১৫ রান করে থার্ডম্যানে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন হৃদয়।

পাওয়ার প্লের ভেতরেই আরও একটি উইকেট হারায় বরিশাল। ১২ বলে ১৬ রান করে জেমস ফুলারের বলে এবার ওই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতেই ক্যাচ দেন লিটন দাস। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট ছিল না বরিশালের।

এরপরও অনেকটা নিয়মিতই উইকেট হারিয়েছে বরিশাল। বিধ্বংসী হওয়ার আগে জনাথন চার্লসকে ফিরিয়ে দেন ওবেদ ম্যাককয়, ১৭ বলে তিনি করেন ১৫ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন লম্বা সময় উইকেটে থেকেও বড় কিছু করতে পারেননি।

১৭তম ওভারে গিয়ে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও সমান ছক্কায় ৩৫ বলে ৩৮ রান করেন অঙ্কন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শেষ আশা হয়ে ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কুমিল্লার জন্য প্রায়ই উদ্ধারকারী হয়েছেন তিনি। ওই আশা আরও একবার দেখিয়েছিলেন ১৯তম ওভারে গিয়ে।

ফুলারের করা ওই ওভারে ২১ রান নেন তিনি। শেষ ওভারে বরিশাল আস্থা রাখে সাইফউদ্দিনের ওপর। প্রতিদানও দিয়েছেন খুব ভালোভাবে। নো করেছেন, ওয়াইড দিয়েছেন কিন্তু পথ হারাননি কখনোই। পুরো ওভারে একটি বাউন্ডারিও হাঁকানো যায়নি তাকে।

১০ বলের ওই ওভারের প্রায় সবগুলো বলই ইয়র্কার করেন সাইফউদ্দিন। এর মধ্যে জাকের আলিকে স্ট্রাইক না দিয়ে নিজে মারার চেষ্টা করেননি রাসেল। পরে স্ট্রাইক পেয়েও তেমন কিছু করতে পারেননি জাকের। ১৪ বলে তবুও ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন রাসেল, ২৩ বল খেলে জাকেরের রান ছিল ২০।

দেড়শর কাছাকাছি রান তাড়ায় নেমে প্রথম তিন বলের দুটিতেই রিভার্স সুইপ খেলেন তামিম ইকবাল। কোনোটিই অবশ্য ব্যাটে লাগেনি। রহনাতউদ্দৌল্লা বর্ষণের করা পরের ওভারেই দুই চার ও ১ ছক্কায় ১৫ রান নেন তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রথম ওভারে তানভীর ইসলামকে ঠিকঠাক ‘কানেক্ট’ করতে পারছিলেন না তামিম। এই স্পিনারের পরের ওভারের শেষ দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান তামিম। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তখনই বরিশালের কাছে চলে আসে। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের রান ছিল ৫৯।

মঈন আলি কুমিল্লাকে প্রথম উইকেট এনে দেন। আগের চার বলে তাকে একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ওভারের শেষ বলে এগিয়ে এসে খেলতে যান, কিন্তু বলের কাছাকাছিও ছিলেন না তামিম। ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার ইনিংসে ২৬ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। নিজের কাজটা অবশ্য ততক্ষণে ঠিকই করে দিয়ে গেছেন তামিম।

তার উদ্বোধনী সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজও তাই। ২৬ বলে ২৯ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মঈন। বরিশালের লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ, আর লক্ষ্য অল্প থাকায় জয় নিয়ে কখনোই অনিশ্চয়তা ছিল না তাদের। সেটি আরও কাছাকাছি নিয়ে আসেন পুরো আসরজুড়ে বরিশালের বড় ভরসা হওয়া মেয়ার্স।

মোস্তাফিজুর রহমানের বলে পুল করতে যান তিনি। কিন্তু ব্যাটে ঠিকঠাক না লাগায় মিড অনে দাঁড়ানো মঈন একটু পিছিয়ে গিয়ে ক্যাচ নেন তার। ওই ওভারেই মুশফিকুর রহিমকেও ফেরান মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম বিপিএল শিরোপার উদযাপন তাই মাঠে বসে করতে পারেননি মুশফিক। ফাইনালে ১৮ বলে করেন ১৩ রান।

এক ওভারে দুই উইকেট পেলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দুই দলের পথও বদলে গেছে অনেকটাই। বিপিএলকে নিজেদের সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলা কুমিল্লা থমকে গেছে এবার। বিপিএল শিরোপা পথ ধরেছে বরিশালের। মুশফিক না পারলেও জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন জাতীয় দলে তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ মাহমুউল্লাহ রিয়াদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট  দশম আসরে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের  সবাই স্বদেশী।

এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান করেছেন চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ১৫ ম্যাচের ১৫ ইনিংসে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪৯২ রান করেন তিনি।

১৪ ম্যাচের ১৪ ইনিংসে ১টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪৬২ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তাওহিদ হৃদয়।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৯১ রান করেছেন কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন দাস।

এরপর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের তানজিদ হাসান ৩৮৪ ও বরিশালের মুশফিকুর রহিম ৩৮০ রান করেন।

পূর্ববর্তী বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় ৩ জন আটক
পরবর্তী বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী