www.HelloBangla.News – বিনোদন – ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪: বাংলাদেশের বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ভারতের মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’-তে ভূষিত হলেন ।ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে এ সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এ বছর পদ্ম বিভূষণ, পদ্ম ভূষণ ও পদ্মশ্রী— এই তিন ক্যাটাগরিতে ১৩২ জন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সন্জীদা খাতুন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীককে পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করেছিল ভারত সরকার। তার আগে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও কূটনীতিবিদ সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননা পেয়েছিলেন। আর ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননা পেয়েছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদ এনামুল হক ও সমাজকর্মী ঝর্ণাধারা চৌধুরী।
সঙ্গীত ভুবনে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার পড়াশোনা বিস্তর। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের ওপর শিক্ষা লাভ করেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় বন্যা ‘ছায়ানট’ ও পরে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই সংগীতশিল্পী বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
১৯৫৭ সালের ১৩ জানুয়ারি রংপুর জেলায় জন্ম নেওয়া বন্যা প্রথমে ছায়ানট এবং পরে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। সেখানে শান্তিদেব ঘোষ, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন ও আশীষ বন্দ্যোপাধায়ের মত সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি।
সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারার’ প্রতিষ্ঠাতা বন্যা রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে কয়েকটি বইও লিখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার পান বন্যা। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘বঙ্গভূষণ’, ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত এ শিল্পী।
এ পর্যন্ত বহু অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে বন্যার। এর মধ্যে রয়েছে- ‘স্বপ্নের আবেশে’, ‘সকাল সাঁঝে’, ‘ভোরের আকাশে’, ‘লাগুক হাওয়া’, ‘আপন পানে চাহি’, ‘প্রাণ খোলা গান’, ‘এলাম নতুন দেশে’, ‘মাটির ডাক’, ‘গেঁথেছিনু অঞ্জলি’, ‘মোর দরদিয়া’, ‘শ্রাবণ তুমি’ ও ‘ছিন্নপত্র’ ইত্যাদি।
১৯৫৪ সাল থেকে ভারতে পদ্ম সম্মাননা বা পুরস্কার চালু হয়েছে। এই পুরস্কারের লক্ষ্য অনন্য কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া। শিল্প, সাহিত্য ও শিক্ষা, খেলাধুলা, চিকিৎসা, সমাজসেবা, বিজ্ঞান ও কারিগরি, জনপরিসর, নাগরিক পরিষেবা, শিল্প ও বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য ও ব্যতিক্রমী কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
