www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩: বাংলাদেশকে নিয়ে বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই, বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘এই বাংলাদেশেকে নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল আমার বাবার, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছি, আমি নিজের দিকে তাকাইনি।”
আহ শনিবার (ডিসেম্বর ৩০) টুঙ্গিপাড়ার সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখানে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে চলতে হয়েছে, তারপরও আপনারা আমাকে আগলে রেখেছেন। সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আল্লাহ যদি দিন দেয়, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসতে পারলে- ওই লন্ডনে বসে হুকুম দেবে আর দেশের মানুষের ক্ষতি করবে, দেশের মানুষ মারবে সেটা হতে পারে না। দরকার হলে ওটাকে ওখান থেকে ধরে এনে শাস্তি দেওয়া হবে; ধরে এনে শাস্তি দেব।”
তিনি বলেন, “তারেক জিয়া হুকুম দিচ্ছে- রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা হচ্ছে। সাংবাদিক, পুলিশের ওপর হামলা হচ্ছে। পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা বাংলাদেশে এ সমস্ত দুর্বৃত্তায়ন চলবে না।”
আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, “আমরা এটাই চাই এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আগামী নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য যে চক্রান্ত চলছে, সে চক্রান্তের সমুচিত জবাব ৭ জানোয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেব। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।”
শেখ হাসিনা বলেন, “বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে আমাকে। মানবঢাল করে আওয়ামী লীগ আমাকে রক্ষা করেছে।”
বিএনপির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের আন্দোলন হলো মানুষ পোড়ানোর, ক্ষতি করার। বিএনপি হচ্ছে খুনিদের পার্টি আর জামায়াত হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের পার্টি।”
এর আগে, বেলা সোয়া ১১টায় জনসভা স্থলে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে হাজির হতেই লাখ লাখ মানুষ স্লোগান আর করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। মঞ্চে উঠে হাত উঁচু করে উপস্থিত জনতার প্রতি সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে শেখ হাসিনার নিজের নির্বাচনী এলাকার (টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়া) এ জনসভায় যোগ দিতে শনিবার (ডিসেম্বর ৩০) ভোর থেকে এ মাঠে জড়ো হন এখানকার মানুষ।
ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে-গেয়ে উৎসব করতে করতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে আসেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, সমর্থকরা। বেলা ১০টা নাগাদ পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।
নেতাকর্মী, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের রঙিন পোশাক, হাতে লাল-সবুজ পতাকায় বর্ণিল সাজে সেজেছে শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকা।
নিজের পিতৃভূমিতে বঙ্গবন্ধু কন্যার আগমনে গোটা গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়ায় উৎসবের আমেজ।
সমাবেশস্থল নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার জনসভা শেষে কোটালিপাড়ায় যান শেখ হাসিনা। সেখানে একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগদান শেষে মাদারীপুরে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। পরে সেখান থেকে ঢাকায় ফিরবেন শেখ হাসিনা।
এর আগে দুই দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) সড়ক পথে বরিশাল যান শেখ হাসিনা। বিকেলে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যায় নিজের পিতৃভূমিতে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। নির্বাচনী এ সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে তার ছোট বোন শেখ রেহানা।
শুক্রবার (ডিসেম্বর ৩০) সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।
গত ২০ ডিসেম্বর ২০ সিলেটে হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারত এবং এরপর সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, রেড ক্রিসেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন, অভিনেতা মীর সাব্বির, অভিনেত্রী তারিন জাহান প্রমুখ।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আবুল বশার খায়ের। সঞ্চালনা করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ।










