হ্যালো বাংলা ডেস্ক: মুনীর চৌধুরী শুধু নাট্যকারই নন, ছিলেন একাধারে শিক্ষক, গবেষক, ভাষাতত্ত্ববিদ, প্রবন্ধকার, অনুবাদক, ছোট গল্পকার, শিল্প ও সাহিত্য সমালোচক, অভিনেতা, নাট্য-নির্দেশক এবং বাংলা কিবোর্ডের প্রবর্তক। মুনীর চৌধুরী তার সময়কার বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। নানা প্রতিভায় বিকশিত এই ব্যক্তির জীবন ও কর্মের আলোকে গতকাল ১৩ জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সমাপ্তি ঘটে স্মরণ অনুষ্ঠানের। এর আগে ১১- ১৩ জুন ২০২৩ পর্যন্ত ৩ দিন ব্যাপী বাংলাদেশের প্রয়াত চলচ্চিত্র, নাট্য ও যাত্রা শিল্পের গুণীজন স্মরণে ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত’শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শেষ দিনে নাট্যকার মুনীর চৌধুরী ও যাত্রাশিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস স্মরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের এ আয়োজন। অনুষ্ঠানের প্রথম ১ম পর্যায়ে মুনির চৌধুরীর জীবন ও কর্মের উপর প্রবন্ধ পাঠ করেন সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের এবং সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আব্দুস সেলিম। আলোচক হিসেবে ছিলেন ড. আহমেদুল কবির ইয়াং এবং সাইদুর রহমান লিপন।
আলোচনায় নাট্যকার মুনীর চৌধুরী স্মরণে বক্তারা বলেন- ইতিহাসের জন্য নাটক নয়, নাটকের জন্যই ইতিহাস। তাইতো ইতিহাসকে উপজীব্য করে তিনি নাটক লিখেছেন ঠিকই কিন্তু ইতিহাসকে পুঙ্খানুপুঙ্খ রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি। অন্যদিকে জীবনদর্শনে অনেক পরিবর্তন আসলেও বাংলা ভাষার বিষয়ে সবসমই ছিলেন অনড়। সেটা হোক বিদেশি শক্তিদের হাত থেকে রক্ষায় অথবা বিশুদ্ধতা রক্ষায় কিংবা ভাষাকে সহজরুপে ব্যবহারের পন্থা আবিষ্কারে’।
অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে, যাত্রাশিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তাপস সরকার আলোচক হিসেবে ছিলেন জ্যোৎস্না বিশ্বাস এবং গোলাম সারওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাকি ইনাম।
পাকিস্তান আমলে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তার ভুমিকা তুলে ধরেন বক্তারা। সেসময় আন্দোলনে যোগ দেয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়।
এক সময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রায় অভিনয় ও যাত্রা দল পরিচালনা ও যাত্রাশিল্প বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা তুলে ধরেন আলোচকরা ।
পরে শিল্পী অমলেন্দু বিশ্বাস স্মরণে পরিবেশিত হয় যাত্রা: মিলন কান্তি দে’র যাত্রার অংশবিশেষ ।










