দেশের আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ আমিনুল ইসলামের ৯৭ টি চিত্রকর্ম নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে এক চিত্র প্রদর্শনীর । শিল্পসংগ্রাহক আবুল খায়েরের সংগ্রহে থাকা ১৯৭০ সাল থেকে ২০০০ সাল সময়কালে ড্রইং নিয়েই এই প্রদর্শনী। বেঙ্গল শিল্পলয়ের কামরুল হাসান আর্ট গ্যালারিতে গত ১৬ মে থেকে শুরু হয়েছে অর্গানিসিটি নামের প্রদর্শনী। প্রদর্শনী চলবে ৮ জুলাই পর্যন্ত । প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক ও শিল্প সামালোচক হাসনাত আবদুল হাই। প্রদর্শনীর কিউরেটরের দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।
প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আর্ট গ্যালারি পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনী খোলা থাকবে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ।

এর আগে গত ১৬ মে উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহা পরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরি। তিনি বলেন, ‘শিল্পী আমিনুল ইসলাম নিরীক্ষামূলক কাজের জন্য প্রথা ভেঙ্গে নতুন ভাষা নির্মাণে সচেষ্ট ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে পথিকৃৎ এই শিল্পীকে তুলে ধারা শিল্প-পরিচর্যাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।‘
উদ্বোধনী বক্তবে হাসনাত আবদুল হাই বলেন, ‘শিল্পী আমিনুল ইসলাম ছবিতে বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর কাজ মুলত নিরিক্ষাধর্মী। বিশেষ ভাবে তেলরং ও জলরং ছাড়াও মোজাইক, ম্যুরাল, কোলাজ ও অন্যান্য মাধ্যমেও তিনি কাজ করেছেন। তাছাড়া কলম, কালি, ব্রাশ দিয়ে তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে রেখাচিত্রের কাজ করেছেন। সবেচেয়ে বড় কথা শিল্পী আমিনুল ইসলাম শিল্পকর্মের মাধ্যমে সব সময় একটি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট শিল্প সম্ভার তুলে ধরেছে। আমি প্রতিষ্ঠানটিকে সাধুবাদ জানাই।’
কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘আমিনুল ইসলামের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর মূল উদেশ্য- নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে পথিকৃৎ শিল্পীদের কাজের পারিচয় করিয়ে দেওয়া।’
শিল্পী আমিনুল ইসলাম ১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) তিনি প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিন। পরে তিনি ফ্লোরেন্স থেকে উচ্চা শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ তিন দশক তিনি চারুকলা ইনিষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন।
আমিনুল ইসলাম একুশে পদক (১৯৮১), স্বাধীনতা পদক (১৯৮৮), পঞ্চম তেহরান বিয়েনালে গ্র্যান্ড পুরস্কার (১৯৬৬) সহ নানা মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন। এই শিল্পী ২০১১ সালের ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।










