নগর সবুজায়ন সাধারণত নগর স্থাপনায় গাছপালা, ফল এবং শাকসব্জির বাগানের ক্রমবর্ধমান অনুশীলনকে বোঝায়। সাধারণত ছোট জায়গা যেমন বারান্দা, ছাদ বা একটু প্রশস্ত জায়গায় বাগান বা কৃষি করার মাধ্যমে নগরকে সবুজায়ন করার বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ লোকেরা তাদের নিজস্ব তাজা শাক-সবজী ও ফলমূল উত্পাদন বৃদ্ধি করতে, স্থায়ীকরণ ও প্রচারের মাধ্যমে শহুরে পরিবেশের সাথে প্রকৃতির পুণঃমিলনীর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
নগর সবুজায়ন আমাদের নাগরিক জীবনে বেশকিছু সুবিধা দিতে পারে-
তাজা ফসল উৎপাদন: ছাদ বাগানের মাধ্যমে লোকেরা তাদের নিজ বাগানের ফল, শাকসবজি এবং ভেষজ উদ্ভিদ উৎপাদন করছে। এসব বাজারের কেনা সবজী বা ফলমূলের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ কারন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়না। তাছাড়াও এসব ফল বা সবজী হয় সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।
যান্ত্রিক জীবনে নির্মল প্রকৃতি: ছাদ বাগান বা নগর সবুজায়ন প্রকল্পগুলো তাজা খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি, কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে। শহুরে পরিবেশে মাটির স্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যকে উন্নত করতে পারে নগর জীবনকে কিছুটা নির্মলতা ফিরিয়ে আনে।
শহরে ছাদ বাগান: বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইনফরমেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাদ রয়েছে। যার আয়তন ৪,৫০০ হেক্টরের বেশি। বেশির ভাগ ছাদ খালি ছিল, কিন্তু আজকাল বাড়ির মালিকরা তাদের অবসর সময় কাটাতে এবং তাদের ছাদ সবুজ করার জন্য ছাদ বাগান তৈরি করছেন। বর্তমানে,রাজধানীতে প্রায় ৩০,০০০ ছাদ বাগান রয়েছে – যা মোট ছাদের ৭% জুড়ে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ছাদ বাগানের মালিকদের প্রায় ৪১% তরুণ, ৩০% মধ্যবয়সী এবং ২৯% বয়স্ক।
মানসিক স্বাস্থ্য উপকারিতা: বাগান করা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে, মানসিক চাপ হ্রাস এবং শিথিলকরণ করে।
প্রকৃতির সাথে একাত্মতা: ছাদ বাগান করার মাধ্যমে উদ্ভিদবিজ্ঞান, বাস্তুশাস্ত্র এবং টেকসই প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি ও রক্ষা সম্পর্কে শেখার সুযোগগুলি ঘটে থাকে।
নগরে উষ্ণতা কমাতেঃ দিন্ দিন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। ঢাকার নগর জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে ছাদ বাগান। নগরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে অনেক দেশেই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গ্যারেজ, ফুটপাত, পার্ক, সরকারি খাস ভূমি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে উদ্যান ফসল ও বাহারি ফুলের গাছের সমন্বয়ে তৈরি করা হচ্ছে সবুজ নগরায়ন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নয় বরং একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এদেশে ছাদ বাগানের সূচনা ঘটেছে এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ছাদ কৃষি ও নগর সবুজায়নে সাথে আপনাকে সূর্যের আলো এবং উপযুক্ত স্থান, মাটির গুণমান এবং গাছের জন্য পানির ব্যবস্থাপনার মতো কারণগুলি বিবেচনা করতে হবে। বাগান ক্লাস, ওয়ার্কশপ এবং এলাকায় সবুজায়নের প্রোগ্রামগুলো বাস্তবিক প্রক্রিয়ায় করা যেতে পারে। এমনকি, অনলাইনে বিভিন্ন গাছপ্রেমী গ্রুপগুলোর সাথে এলাকাভিত্তিক গাছ লাগানোর প্রকল্প নিয়ে কর্মসূচি পালন করা যেতে পারে।
