চিকিৎসকদের মতে, চোখের পেশির ওপর বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ‘স্ক্রিন টাইম’ কমাতে হবে। কিন্তু যদি কারো পক্ষে তা করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হলো নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করা। দিনের যেকোনো সময়ে, কাজের ফাঁকে চোখের পাঁচটি ব্যায়াম করতে পারলেই উপকার মিলবে।
প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বেশির ভাগ মানুষকে এখন দিনের বেশির ভাগ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপে চোখ রেখে কাটাতে হয়। পড়াশোনা, বিনোদন, কেনাকাটা, অফিসের কাজ সবই এখন অনলাইনে। ফলে কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকছেন সবাই। আর তার ফলে বাড়ছে চোখের সমস্যা। একটানা অনেকক্ষণ চোখের পেশির ওপর চাপ পড়লে চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে ব্যথা হওয়া, ক্লান্তি, মাথা যন্ত্রণার মতো নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একটি রেখা বরাবর চোখের মণি ওপর-নিচ করা: চোখের মণি গোল গোল করে ঘোরানোর মতোই এই ব্যায়াম করার সময়ে একটি সরলরেখা বরাবর চোখের মণি ওপর থেকে নিচে, নিচ থেকে ওপরে এবং বাঁদিক থেকে ডানদিকে আবার ডানদিক থেকে বাঁদিকে সঞ্চালন করতে হয়। চোখের পাতা বন্ধ করে এই ব্যায়াম অভ্যাস করলেও কিন্তু চোখের কষ্ট অনেকটাই কমে।
চোখের মণি ঘোরানো: একটানা চোখের কাজ করলে চোখের পেশির ওপর চাপ পড়া স্বাভাবিক। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখ বন্ধ করে, চোখের মণি গোল করে চোখের চারদিকে ঘোরান। একবার বাঁদিক থেকে ডানদিক, আবার ডানদিক থেকে বাঁদিকে ঘোরানো অভ্যাস করুন।
গরম সেঁক দেয়া: চোখের ওপর গরম সেঁক দিলে অশ্রুগ্রন্থি থেকে জল বেরিয়ে আসে। চোখের পেশির চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এই পদ্ধতি অনেকটাই সাহায্য করে। চোখে ব্যথা নিয়ে ব্যায়াম করতে না পারলে গরম সেঁক দিয়ে আগে ব্যথা কমিয়ে নিন। তার পর হালকা ব্যায়াম করুন।
হাতের তালু ঘষে চোখের ওপর তাপ দেয়া: ইংরেজিতে যাকে বলে পামিং। শুরুতে দুই হাতের তালু ভালো করে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ-না গরম হয়ে উঠছে। এর পর আলতো করে দু-চোখের পাতার ওপর দুই হাতের তালু রাখুন। আরাম পাবেন। অনেকক্ষণ কম্পিউটার বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাঝেমধ্যেই পামিং করা অভ্যাস করুন।
ঘনঘন চোখের পলক ফেলা: চোখের সামনে এমন কোনো জিনিস অতর্কিতে এসে পড়লে আপনা থেকেই চোখের পলক পড়ে যায়। এই পলক ফেলার অভ্যাসও কিন্তু চোখের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে বিচ্ছুরিত তীব্র আলো একভাবে চোখের ওপর এসে পড়লে সমস্যা হতেই পারে। এ সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো বারবার চোখের পলক ফেলা।










