মুশফিক ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েই ছুঁইয়ে ফেললেন সাকিবকে

মুশফিক ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েই ছুঁইয়ে ফেললেন সাকিবকে

অনেক নাটকীয়তার ঢাকা টেস্ট বড় ব্যবধানে জিতে নিল বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার ম্যাচের চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির একটু পরই ৭ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সাকিব আল হাসানের দল। খারাপ সময় কাটিয়ে ব্যাট হাতে আবারও দুর্দান্ত রূপে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। সাদা বলে ফর্ম টেনে এনেছেন লাল বলেও। আজ শুক্রবার শেষ হওয়া ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মুশফিক। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দারুণ সেঞ্চুরির পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন ম্যাচ জেতানো ৪৮ বলে ৫১* রানের অপরাজিত ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। এর মাধ্যমেই তিনি বসলেন সাকিব আল হাসানের পাশে।

এই নিয়ে টেস্টে ৬ বার ম্যান অব দা ম্যাচ হলেন মুশফিক। টেস্ট অধিনায়ক সাকিবও সমান ৬বার ম্যাচসেরা হয়েছেন। তবে সাকিব টেস্টে সর্বশেষ ম্যাচ সেরা হন ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে। তখন পর্যন্ত মুশফিক মাত্র ৩ বার ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন। আজ তিনি ৬ষ্ঠবারের মতো ম্যাচসেরা হলেন।

তবে সাকিবের ৬বার ম্যাচসেরা হতে লেগেছে ৬৬ টেস্ট, আর মুশফিকের লাগল ৮৫ টেস্ট। এছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ৫৬ টেস্টে ৪ বার সেরা হয়েছেন মুমিনুল হক। ৭০ টেস্টে ৩ বার তামিম ইকবাল। আজ ম্যাচ শেষে মুশফিকের প্রশংসা করতে ভুলেননি সাকিব। বয়সে জুনিয়র কিন্তু বিকেএসপির একাডেমিক সিনিয়র মুশফিককে নিয়ে সাকিব বলেন, ‘মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে আমি খেলছি ২০০৩ সাল থেকে, অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে একসঙ্গে খেলছি। তখনও যেমন দেখেছি, এখনও তেমনই।’

১৩৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী হন লিটন দাস। দলীয় ৩২ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয়। মার্ক অ্যাডায়ারের বলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোল্ড হন ১৯ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৩ রান করা লিটন। বল তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে শরীরে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। তিনে নামানো হয় শান্তকে। প্রথম ইনিংসে ‘গোল্ডেন ডাক’ মারা শান্ত ৪ রানের বেশি করতে পারেননি। ম্যাকব্রেইনের বলে স্লিপে খুব কঠিন ক্যাচ নেন বালবার্নি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি শান্ত। ৪৩ রানে ২ উইকেট পতনের পর উইকেটে আসেন মুশফিক। বাউন্ডারি মেরে তিনি রানের খাতা খোলেন। ৫৫ বলে ৫০ রান আসে বাংলাদেশের। মধ্যাহ্নবিরতির আগে টাইগাররা তোলে ২ উইকেটে ৯২ রান।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর ১৮.৩ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোর তিন অংক স্পর্শ করে। দলীয় ১০৫ রানে বেন হোয়াইটের বল তামিম ইকবালের ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যায়। কমিন্সের তালুবন্দি হয়ে ৩১ রানে ফিরেন তামিম। ভাঙে ৬২ রানের জুটি। ৪৭ বলে ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। ২৮তম ওভারেই ৭ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মুশফিক ৪৮ বলে ৭ চারে ৫১* রানে অপরাজিত থাকেন। আর মুমিনুল অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ২০* রানে।

এর আগে আজ শুক্রবার ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন ইবাদত হোসেন। তার চোখ ধাঁধানো একটা সুইং বল ডিফেন্ড করতে গিয়েছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইন। কিন্তু তাকে বোকা বানিয়ে বল স্টাম্পে আঘাত হানে। ১৫৬ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে ফিরেন ম্যাকব্রেইন। এরপর গ্রাহাম হিউমকে (২) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করে আইরিশদের দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টেনে দেন ইবাদত। ২৯২ রানে অল-আউট হয় আয়ারল্যান্ড। ৩৭ রানে এই পেসারের শিকার ৩টি। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া তাইজুল এবার ৪২ ওভারে ১৬ মেডেনসহ ৯০ রানে নেন ৪ উইকেট। অধিনায়ক সাকিব নিয়েছেন ২টি।

ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২১৪ রানে অল-আউট হয়েছিল আয়ারল্যান্ড। জবাবে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৬৯ রান। সেঞ্চুরি হাঁকান মুশফিকুর রহিম। এছাড়া সাকিব-মিরাজের ব্যাট থেকেও আসে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। ১৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে আয়ারল্যান্ড। এই ইনিংসে তারা রীতিমতো চমকে দেয় টাইগারদের। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ২৯২ রানে অল-আউট হয়ে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ১৩৮ রানের টার্গেট দেয়। লরকান টাকার ১০৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। ম্যাকব্রেইন করেন ৭২ রান।