ইউরোতে স্পেন এবং কোপায় আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন

Spain champions at Euros - Sports - 15 July 2024

www.HelloBangla.News – খেলাধুলা – ১৫ জুলাই, ২০২৪: গতকাল দিবাগত রাত অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সোমবার প্রথম প্রহর রাত ১ টায় অনুষ্ঠিত হয় ইউরো কাপের ফাইনাল ম্যাচ। এই খেলায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। স্পেনের পক্ষে গোল দুটি করেন নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল ওয়ারসাবালে। ইংল্যান্ডের পক্ষে গোল করে কোল পালমার।

অপর দিকে আজ সোমবার সকাল ৭টায় অনু্ষ্ঠিত হয় কোপার ফাইনাল। এই খেলায় অতিরিক্ত সময় গড়ালে ১১২ মিনিটে একমাত্র গোলে কলম্বিয়াকে হারায় আর্জেন্টিনা। এই জয়সূচক গোলটি করে লাউতারো।

দুই খেলাতেই প্রচুর দর্শক সমাগম হয়। হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠান।

ইউরোতে স্পেন চাম্পিয়ন

জার্মানির বার্লিন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। যার ফলে জার্মানির মাটিতে জার্মানিকেই টপকে সর্বোচ্চ চারবার ইউরোর শিরোপা জিতল তারা। তাও ১২ বছর পর। তাই এখন তাদের ইউরোপের রাজা বলাই যায়।

যদিও ম্যাচের প্রথমার্ধে তেমন ধারালো ছিল না স্পেনের আক্রমণ।উইং ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা করে এগোলেও বড় বিপদ তৈরি করতে পারেনি। বল দখলে অবশ্য এগিয়ে ছিল তারা। কিন্তু গোলমুখে যে দুটি শট নিয়েছে সেগুলো বলার মতো নয়। সেই তুলনায় ইংল্যান্ড পেয়েছে মাত্র একটি শটের দেখা।

যোগ করা সময়ে ফ্রি কিক থেকে ফিল ফোডেনের দুর্বল ভলি সহজেই ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমোন।

বিরতির পর শুরুতেই ইংলিশদের মনে বড় ধাক্কা দেয় স্পেন। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা লামিন ইয়ামাল ইংলিশ রক্ষণকে ঠিকই পরাস্ত করতে সক্ষম হন। তার দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে ৪৭ মিনিটে স্পেনকে এগিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস।এরপর ব্যবধান বাড়ানোর কয়েকটি সুযোগ পায় স্প্যানিশরা। ৪৯ মিনিটে দানি অলমোর শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৫ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন অধিনায়ক আলভারো মোরাতা। কিন্তু ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করতে পারেননি তিনি।

স্পেনকে চড়াও হতে দেখে একাদশে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। সেমিফাইনালের মতো ৮০ মিনিটে অপেক্ষা করেননি। ৬০ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ৭০ মিনিটে কোবি মাইনুর জায়গায় মাঠে নামেন কোল পালমার। তিন মিনিটেরও কম সময়ের ভেতর ইংল্যান্ডকে সমতাসূচক গোল এনে দেন তিনি।

৭৩ মিনিটে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠেন বুকায়ো সাকা। পাস দেন বক্সে থাকা জুড বেলিংহ্যামকে। তিনি অবশ্য প্রথম স্পর্শেই তা পাঠান কোল পালমারের কাছে। ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শটে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড। এরপর অবশ্য কিছুটা ধুঁকছিল স্পেন। কিন্তু খুব বেশিক্ষণের জন্য নয়। দ্রুতই নিজেদের সামলে নিয়ে আদায় করে নেয় জয়সূচক গোল। আর সেটা আসে মিকেল ওয়ারসাবালের পা থেকে। ৮৬ মিনিটে মার্কো কুকুরেয়ার নিঁখুত পাসে কেবল টোকা মেরে ইংলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।

সেই টোকাতে আবারও উড়ে যায় ইংল্যান্ডের স্বপ্ন। ইউরোর ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দল টানা দুই আসরে ফাইনাল খেলেও পায়নি শিরোপার স্বাদ। তাই নিজেদের অভাগা ভাবা ছাড়া আর কিছুই করার নেই বেলিংহ্যাম-কেইনদের।

Copa Argentina champions - Sports - 15 July 2024

কোপায় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচে হার্ড রক স্টেডিয়ামে কলম্বিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে আর্জেন্টিনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লাওতারো।

ম্যাচ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। তবে গনসালো মন্তিয়েলের দেওয়া ক্রস থেকে হুলিয়ান আলভারেস বক্সের মাঝে থেকে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। বাঁ দিক দিয়ে বল উড়ে চলে যায়। পঞ্চম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন কলম্বিয়ার লুইস দিয়াস। সেটি সহজেই ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।

দুই মিনিট পর সান্তিয়াগো আরিয়াসের হেড থেকে উড়ে আসা বল বক্স থেকে শট নেন জন করদোবা। তবে তার ডান পায়ের শট বাঁ দিকের পোস্টে লাগে। চাপ বাড়িয়ে খেলতে থাকা কলম্বিয়া ত্রয়োদশ মিনিটে সুযোগ পায় আবারও। তবে জেফারসন লারমার হেড থেকে আসা বল কার্লোস কুয়েস্তা বক্সের মাঝ থেকে শট নিলে সেটি ঠেকিয়ে দেন এমি মার্তিনেস।

২০তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে গিয়ে বক্সে বল বাড়ান আনহেল দি মারিয়া। বক্সের মাঝামাঝি একা থাকলেও ক্রস থেকে আসা বল ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি মেসি। অনায়াসে তালুবন্দি করে নেন গোলরক্ষক। ৩৩তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় কলম্বিয়া। তবে জেফারসন লেরমার দূর থেকে নেওয়া বুলেট গতির শট ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেস।

দুই মিনিট পর আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। সতীর্থের পাস থেকে আসা বল বক্সে কয়েকজনকে কাটিয়ে গোললাইনে গিয়ে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন মেসি। তবে আরিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে গড়াতে দেখা যায় তাকে। পরবর্তীতে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট নিয়ে খেলা শুরু করেন পুনরায়।

৪৪তম মিনিটে বক্সের কাছে ফ্রিকিক পায় আর্জেন্টিনা। ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া মেসির শট নিকোলাস তাগলিয়াফিকো হেডে ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ড্র নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল।

বিরতির পর খেলতে নেমে আগের মতোই আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখে কলম্বিয়া। ৪৭তম মিনিটে করদোবার হেড থেকে আসা বল ভলিতে জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন আরিয়াস। তবে সেটি বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকো থেকে আসা বাঁ দিক থেকে শট নেন দি মারিয়া। তবে সেটি সেটি ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়া গোলরক্ষক।

৫৪তম মিনিটে সুযোগ পায় কলম্বিয়া। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল করদোবার হেডে চলে যায় ডেভিনসন সানচেজের কাছে। তার করা হেডে বল অবশ্য পোস্টের খানিক উপর দিয়ে উড়ে চলে যায়। ৫৮তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে গিয়ে শট নেন দি মারিয়া। যদিও সেটি ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়া গোলরক্ষক।

৬৪তম মিনিটে ইনজুরিতে পড়তে দেখা যায় মেসিকে। ঊরুর চোটে আসরজুড়ে ভূগতে দেখা গেছে তাকে। ৬৫তম মিনিটে তার বদলি হিসেবে নামানো হয়ে নিকো গনজালেসকে। পরবর্তীতে ক্যামেরায় দেখা যায় বেঞ্চে আবেগী হয়ে পড়েছেন ইন্টার মায়ামি তারকা। কাঁদতে থাকেন অজোরে।

৭৫তম মিনিটে বল জালে পাঠায় আর্জেন্টিনা। তাগলিয়াফিকোর দারুণ এক পাস বক্স থেকে লক্ষ্যভেদ করেন নিকো গনসালেস। তবে ততক্ষণে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ৭৯তম মিনিটে হামেস রদ্রিগেসের ফ্রিকিক থেকে আসা বল হেড নেন কুয়েস্তা। তবে সেটি ডান দিক দিয়ে চলে যায়। শেষদিকে বেশ কয়েকটি আক্রমণ সাজায় আলবেসিলেস্তেরা। তবে জালের দেখা আর পায়নি। পরে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

৯৫তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণে গিয়ে দি মারিয়া বক্সে বল বাড়ান রদ্রিগো দে পলকে। তার দেওয়া দারুণ পাস গনসালেস শট নিলেও সেটি ঝাপিয়ে ঠেকান কলম্বিয়া গোলরক্ষক। ১০২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন আরিয়াস। তবে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে উপরে ওঠা বল তালুবন্দি করে নেন এমি মার্তিনেস।

১০৮তম মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণে গিয়ে বক্সে বল বাড়ান দি মারিয়া। তবে দারুণ এই ক্রস পায়েই লাগাতে পারেননি লাওতারো। পরের মিনিটেই আক্রমণে যায় কলম্বিয়া। তবে মিগুয়েল বরখার ডান পায়ের জোরালে শট ঠেকিয়ে দেন লিসান্দ্রো।

১১২তম মিনিটে গিয়ে ডেডলক ভাঙেন লাওতারো। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে গিয়ে বদলি হয়ে নামা লো সেলসো বল বাড়ান বক্সে। সেখান থেকে দারুণ এক শটে কলম্বিয়া গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে বল পাঠান ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার। আসরে এ নিয়ে ৫ গোল করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হিসেবে তিনিই পেতে যাচ্ছেন গোল্ডেন বল।

তিন মিনিট পর দে পলের সঙ্গে সংঘর্ষে আর্জেন্টিনার ডি বক্সে জটলার মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। রেফারি এসে সেটি থামিয়ে দেন। পরবর্তীতে আর কোনো গোল না হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

পূর্ববর্তী ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ১৪১ ফিলিস্তিনি নিহত
পরবর্তী ‘মেধা না কোটা’ এমন স্লোগান দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী