সাবেক পর্ন তারকা ড্যানিয়েল স্টর্মির মুখ বন্ধ রাখতে ঘুষ দেওয়ার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে প্রায় ৩ ঘন্টার ভ্রমণ শেষে ট্রাম্প ফ্লোরিডা ত্যাগ করে নিউ ইয়র্কের লাগরদিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং তার আইনজীবীদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলাপ করেন। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মুখোমুখি হওয়ার আগে তিনি এখানেই অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ম্যানহাটনের আদালতে হাজিরা দেবেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত এই প্লেনেই নিউ ইয়র্ক পৌঁছান ট্রাম্প।
সোমবার রাতে তিনি ট্রাম্প টাওয়ারে কাটাবেন। এরপর আজ দুপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে আবার ফ্লোরিডা ফিরে যাবেন। সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের হাজিরা উপলক্ষ্যে আজকে ম্যানহাটন আদালতের অন্যসব বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সিক্রেট সার্ভিস, নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এবং আদালতের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের নিরাপত্তার বিষয়টি সমন্বয় করছে।
সাবেক কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলে এটাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম। ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্পই প্রথম যিনি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু তা নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক।
নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ এ পর্যন্ত অস্বীকার করে আসছেন ট্রাম্প। সোমবার আবারও একই কথা বলেন রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা।
২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েন তিনি। নির্বাচন আসার আগেই ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাইডেন প্রশাসন।
ট্রাম্প লেখা একটি বিমানে চড়ে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তিনি। আকাশচুম্বী ট্রাম্প টাওয়ারে প্রবেশের আগে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি।
এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো নিউ ইয়র্কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোর দার করা হয়েছে। পথে পথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সমর্থকদের বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে নিউ ইয়র্ক প্রশাসন।
ম্যানহাটনের প্রসিকিউটর ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করতে পারেন। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি চেপে যেতে গোপনে অর্থ প্রদানের তদন্ত চলছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে।
