www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৫ জুলাই, ২০২৪: নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর বাংলাদেশ বিশ্বে নতুন অবস্থানে এসেছে, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “পদ্মা সেতু নিজেদের টাকায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুন অবস্থানে নিয়ে গেছে। যারা মনে করতো, তাদের সাহায্য ছাড়া আমরা চলতে পারবো না, সেই ধারণা পাল্টে গেছে।”
আজ শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে পদ্মা সেতুর মাওয়াপ্রান্তে পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষ্যে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধনমন্ত্রী বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের শিখিয়ে গেছেন, মাথা উঁচু করে চলতে হবে। তার চেতনাকে আমরা ধারণ করি। বাংলাদেশের জনগণের নিজের টাকার আমরা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছি। সাধারণত কোনো প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান হয় না। কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণে যারা বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে আমরা এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা এগিয়ে যাবো অপ্রতিরোধ্য গতিতে, কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাবো।”
তিনি বলেন, “আগে বিদেশে গেলে জিজ্ঞেস করত, এদেশে তো শুধু ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, দুর্ভিক্ষ লেগে থাকে। মিসকিন হিসেবে আমাদেরকে হিসেব করা হতো। যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট, ব্যথার ছিল। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা থাকবে না, আমরা মাথা তুলে কথা বলতে পারবো না, আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ থাকবে না, এটা কি ধরনের বাংলাদেশ?”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এতে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর হোসেন। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পদ্মা সেতুর থিমসং প্রচার করা হয়। এছাড়া পদ্মা সেতুর ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। সুধী সমাবেশে সেতুমন্ত্রীর ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের দিন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে স্মরণীয় করে রাখতেই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে মাওয়া পৌঁছালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেখানে হয়েছিলো, সেখানেই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, সমাপনী অনুষ্ঠানের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকার ওপরে।
রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দেড় হাজার অতিথি আমন্ত্রণ পেয়েছেন সুধী সমাবেশে। এতে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
অন্যান্য প্রকল্পের জনবলের মতো পদ্মা সেতুতে কাজ করা কর্মীদের বিদায় নিতে হচ্ছে না। সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে গঠন করা হচ্ছে সরকারি কোম্পানি। এতে নিয়োগ পেতে পারেন সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পে কাজ করা ৫৯ কর্মী।
পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান শেষে টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন।
আগামীকাল শনিবার বঙ্গবন্ধুর বাল্যশিক্ষার বিদ্যাপীঠ টুঙ্গিপাড়া জিটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি শীর্ষক’ অ্যালবামের মোড়ক উম্মোচন করবেন। এরপর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও নবনির্মিত টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করবেন।










