আদালতে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলার জট আছে: আইনমন্ত্রী

Around 41 lakh cases are pending in court Law Minister - National - 30 June 2024
Around 41 lakh cases are pending in court Law Minister - National - 30 June 2024

www.HelloBangla.News – জাতীয় – ৩০ জুন, ২০২৪: আদালতে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলার জট আছে, বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, “মামলা জটের কথা অস্বীকার করার কিছু নেই। আজকের হিসাব হচ্ছে দেশে ৪১ লাখ ৯ হাজার ৭৫৫টি মামলা আদালতে আছে।”

আজ রবিবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগ খাতে বরাদ্দের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইনমন্ত্রী বলেন, “যতগুলো মামলা আছে তার নিষ্পত্তি করার জন্য বিচার বিভাগে যে বিচারক আছে তা অপ্রতুল। কিন্তু তুলনা করতে হবে কী ছিল, কী হয়েছে। ২০০৯ সালে জুডিশিয়ারির সক্ষমতা ছিল ৮০০ বিচারক। আজকে সেই জুডিশিয়ারির সক্ষমতা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার বিচারক। আমরা আরও আদালত বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। ১৫৮টি আদালত খুব শিগগিরই বেড়ে যাবে।”

মামলা জট নিরসনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নিয়ে ৬৪ জেলায় এ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেসি ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেসি আদালত স্থাপনের পরিকল্পনা নেন। তার মধ্যে ৪১টি হয়ে গেছে, ২৩টি হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই হয়ে যাবে।”

ছাঁটাই প্রস্তাব গ্রহণ করতে না পারার যুক্তি তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, “যে ২ হাজার ২২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, ওনারা বলেছেন ১ টাকায় নিয়ে আসতে, ১ টাকায় আনলে আমি কিন্তু এগুলো করতে পারবো না। আমার ২ হাজার ২২ কোটি টাকাই লাগবে। আমি ১ টাকায় কিছু করতে পারবো না। কিন্তু আপনাদের এ কথা বলে দিতে পারি এ ২ হাজার ২২ কোটি টাকা দিয়ে যতটুকু সম্ভব এ দুঃখী মামলা যারা করেন তাদের কষ্ট নিবারণ করার চেষ্টা আমি করবো।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “যদি আজ থেকে ১৭ বছর আগের কথা যদি বলা হয়, ২০০৭/০৮ সালে মামলা জট কিন্তু এর থেকে কিছুটা কম ছিল। ৩৫ লাখ বা ৩২ লাখের মতো ছিল।”

সংসদ সদস্য মো. হামিদুল হক খন্দকার (কুড়িগ্রাম-২), সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ (বরিশাল-৪), মো. আবুল কালাম (নাটোর-১) এবং সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (ঠাকুরগাঁও-৩) আইন ও বিচার খাতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অর্থবছরের প্রয়োজনীয় সাকুল্য পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ২২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে হ্রাস করে ১ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এ টাকা হ্রাস করে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আইন হলো আজ বড় লোকদের জন্য। আইনকে শাসন করে অর্থ বিত্তশালীরা, আইন প্রয়োগ হয় সাধারণ গরিব মানুষের ওপর।”

তিনি প্রত্যেক বিভাগে একটি করে হাইকোর্টের বেঞ্চ দাবি করেন।

সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র তার উক্তিতে বলে গেছেন- ‘আইন! সে তো তামাশা মাত্র। বড়লোকেরাই কেবল পয়সা খরচ করিয়া সেই তামাশা দেখিতে পারে। ’ আমি তা বলতে চাই না। গত ১৫ বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। কিন্তু প্রতিকারহীন অপরাধে বিচারের বাণী যেন নীরবে-নিভৃতে না কাঁধে।”

পূর্ববর্তী ১ জুলাই থেকে কলড্রপের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো: তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী
পরবর্তী সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট পাস