Tag: বিনোদন

  • একটনা ২৭ বছর প্রদর্শিত হয়েছে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাটি

    একটনা ২৭ বছর প্রদর্শিত হয়েছে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমাটি

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক: দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে এমন এক ছবি যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা প্রদর্শিত হয়েছে।  বলিউড কাঁপানো এই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ বছর ধরে মুম্বাই-এর একটি সিনেমা হলে প্রতিদিন সকালে প্রদর্শিত হয়েছে।

    এই ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়েছেন অভিনেত্রী কাজল, অভিনেতা শাহরুখ খান এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়া।

    এক সাক্ষাতকারে কাজল বলেন, আমরা কয়েকজন তরুণ তরুণী মিলে শুধু একটা জনপ্রিয় ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই ছবিটি নিয়ে পরে যা হয়েছে তা এক বিশাল ঘটনা। আমরা যা করেছি সেটা সত্যিই যাদুকরী, এবং এর পুনরাবৃত্ত সম্ভব নয়,।

    হিন্দি সিনেমার জগতে কাজল অত্যন্ত জনপ্রিয় এক তারকা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের সাফল্যের পেছনেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

    ছবিতে ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা শাহরুখ খানের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন কাজল। শাহরুখ খান তার ভক্তদের কাছে পরিচিত এসআরকে নামে।

    ডিডিএলজে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে। এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল মুম্বাই-এর মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে। তার পর থেকে এই ছবিটি সেখানে ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন দেখানো হয়েছে। শুধু কোভিড মহামারির সময় এর প্রদর্শনী অল্প কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

    কাজল বলেন, “ছবিটি তৈরির জন্য আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারি, কিন্তু পরে এতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং এতো দীর্ঘ সময় ধরে হলে দেখানো- আমি মনে করি এটা তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে যারা ছবিটিকে গ্রহণ করেছে, তাদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে, নিজেদের ছেলে মেয়ে ও নাতি পুতিদের সিনেমাটি দেখিয়েছে, এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও এই ছবিটিকে ব্যবহার করছে।”

    ছবির কাহিনী:

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবিতে দেখা যায় ভারতীয় একদল তরুণ তরুণী ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে আসে। এসময় অপূর্ব এক নৈসর্গিক পরিবেশে সিমরান ও রাজ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়। সিমরান চরিত্রে কাজল এবং রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। সিমরানের বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে রাজের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ভারতে চলে যান তার পছন্দের এক পাত্রের সঙ্গে কন্যার বিয়ে দেওয়ার জন্যে। কিন্তু রাজ সিমরানকে এতোটাই ভালোবেসে ফেলে যে সে-ও ভারতে চলে যায়।

    পরে সিমরানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নায়ক রাজ সিমরানের বাবা মায়ের মন জয় করার চেষ্টা করে।

    সিনেমার শেষ অংশ সম্পর্কে কাজল বলেন,“দিন শেষে প্রত্যেক সন্তানই চায় তাদের পিতামাতা তাদের দিকে তাকিয়ে বলুক, তুমি বেশ ভালো করেছ, আমি তোমার সাথেই আছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টাই সবাইকে নাড়া দিয়েছে এবং সবাই এর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে,” ।

    প্রতিদিন সকালে : দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে  

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টায় মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হতো। টিকেটের দাম ছিল মাত্র ৩০ রুপি। সিনেমা হলের বাইরের দেওয়াল ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের। সেখানে টাঙ্গানো বিশাল এক বিলবোর্ড যাতে শাহরুখ খান ও কাজলের ছবি।

    এসআরকের পরনে সেই হার্লি ডেভিডসন চামড়ার জ্যাকেট। সিমরানকে সে তার কাঁধের উপরে তুলে নিয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা: ‘আসুন, আবার প্রেমে পড়ুন।’

    দর্শকরা যখন থিয়েটারের ভেতরে প্রবেশ করে, স্পিকার থেকে তাদের কানে ভেসে আসে এই ছবির জনপ্রিয় সব গান। হলের মাঝখানে একটি হিন্দু মন্দির। তার চারপাশ ঘিরে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে লাল সবুজ বাতি।

    “সেখানে গেলে মনে হবে যে আপনি অতীতে ফিরে গেছেন। আসনগুলো একই রঙের। মঞ্চটাও একই ধরনের। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কুড়িতম বার্ষিকীতে আমরা দুজনেই মারাঠা মন্দিরে গিয়েছিলাম।”

    মারাঠা মন্দির সিনেমা হল প্রসঙ্গে কাজল বলেন,“ওই থিয়েটারে ফিরে যাওয়া দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছিল। সেখানে আমরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি দেখি এবং দেখতে দেখতে আমরা আমাদের অভিনয়ের সমালোচনা করি- এই কাজটা আমরা আরো ভালো করতে পারতাম, ওই কাজটা আরো ভালো হতে পারতো,” ।

    এই অভিনয় শিল্পী আরও বলেন, লোকজন এখনও সিনেমাটি দেখতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন। বিশেষ করে মারাঠা মন্দিরে। সারা দেশ থেকেই লোকজন এখানে আসছে হলে বসে এই সিনেমা দেখতে।

    সিনেমাটি প্রসঙ্গে এক দম্পতি দর্শকের কথা:

    এই ছবি দেখতে যেমন এসেছিলেন ভিজে এবং তার স্ত্রী প্রীতি। তারা ৫৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন এই সিনেমা দেখতে। তাদের বিয়ের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে। একটা রোমান্টিক ছবি দেখার মাধ্যমে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছেন।

    প্রীতি এই ছবিতে তার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেই ট্রেনের দৃশ্য যখন সিমরানের পিতা তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন- ‘সিমরান যাও, সিমরান যাও।’

    কাজল একটা মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তারা তখন জয়পুরে শুটিং করছিলেন।

    “আমরা যে হোটেলে উঠেছি তার একজন শেফ আমার কাছে এসে বললো- ম্যাম, আপনাকে একটা কথা আমার বলতেই হবে- আমি আমার স্ত্রীকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে দেখাতে ২৩বার সিনেমা হলে নিয়ে গেছি। এবং তার পরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই।”

    “আমার তখন মনে হলো, ও মাই গড, এটা তো একটা দারুণ ঘটনা। এই সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে লোকজনের নানা ধরনের গল্প আছে। এটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটি দেখতে গেলে দারুণ অনুভূতি হবে, মনে হবে আরে..আমি তো এটা দেখেছি, এটা তো সেই একই পপকর্ন, একই পোশাক এবং এটা তো গরুর সেই ঘণ্টিটা।”

    গরুর এই ঘণ্টিটা সিমরান সুইৎসারল্যান্ড থেকে সুভ্যেনির হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। মারাঠা মন্দিরে একটি কাঁচের বাক্সর ভেতরে এই ঘণ্টিটা রাখা এবং তার পাশেই রাখা সোনার এক ট্রফি।

    আদিত্য চোপরার অভিষেক:

    বলিউড জগতে পরিচালক আদিত্য চোপরার অভিষেক হয় এই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এর আগে ১৮ বছর বয়স থেকেই তিনি তার পিতা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপরার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

    কাজল বলেন, “নতুন পরিচালক আদির সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ তাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনতাম। আমরা আসলেই খুব ভাল বন্ধু। ফলে আমরা যখন কাজ শুরু করি কাজটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন,“আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। একজন আরেকজনকে নিয়ে মজা করেছি। আমার জন্য সবচেয়ে মজার ছিল ইউরো রেলে চড়া। আমরা সবাই বাসে করে সারা সুইৎসারল্যান্ডে ঘুরে বেড়িয়েছি। এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমরা সবাই দারুণ সময় কাটিয়েছি,” ।

    মজার অভিজ্ঞতা:

    “আমার মনে আছে হিমশৈল ধরনের কোনো একটা জায়গায় আমরা শুটিং করছিলাম। সেখানে আমাকে কাপড় বদলাতে হবে। কৃষকের একটি গরুর শেডে গিয়ে আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছিল। আমার পাশেই ছিল একটি গরু। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই সেখানে কাপড় বদলাচ্ছি। খুব দ্রুত শাড়ি পরে ফেললাম। বললাম আমি রেডি, শট দেওয়ার জন্য আমি রেডি।”

    এই ছবিতে কাজলসহ আরো অনেকেরেই বয়স ছিল কুড়ির ঘরে। কাজল জানান ইয়াশ চোপড়া এবং তার স্ত্রী শুটিং এর সময় তাদের ওপর সবসময় কড়া নজর রাখছিলেন। কারণ এই ছবির জন্য তিনি তার ছেলেকে সব অর্থ দিয়েছিলেন।

    দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবির গান, যেগুলোতে কাজল ঠোঁট মিলিয়েছেন, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্লে ব্যাক কুইন হিসেবে পরিচিত প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার।

    সিনেমার গান প্রসঙ্গে কাজন বলেন,“এই ছবির সবগুলো গান আমার খুব প্রিয়। এই গানগুলো সর্বকালের। আজকের দিনেও এগুলো আমার প্রিয় গান। তার পরেও আমি বলবো মেন্দি লাগাকে রাখ না আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

    এই গানটি পরে ভারতে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুবই পরিচিত একটি গান হয়ে উঠেছে। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে দশটি ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড জয় করেছে। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন কাজল, এসআরকে এবং আদিত্য চোপরা।

    কাজল বলেন, “আমি আশা করবো লোকজন এখনও এই ছবি উপভোগ করুক, দেখুক এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ করে তুলুক। এই ছবিটির প্রতি তাদের ভালবাসা অব্যাহত থাকুক।”

    সারা বিশ্বে মুক্তিপ্রাপ্ত দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে সেসময় প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছে যা ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসা-সফল সিনেমা।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • দেউলিয়া অমিতাভ এখন ৩৩৯০ কোটি টাকার মালিক

    দেউলিয়া অমিতাভ এখন ৩৩৯০ কোটি টাকার মালিক

    হ্যালো বাংলা ডেস্ক : বলিউডের কিংবদন্তী অভিনয় শিল্পী অমিতাভ বচ্চন নব্বই দশকে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিলেন। ইভেন্ট ম্যানেজ়মেন্ট, সিনেমা তৈরি করা ছাড়া ডিস্ট্রিবিউশনের কাজেও মন দিয়েছিলেন অমিতাভ। যাত্রার বছর তিনেকের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল অমিতাভের সাধের এবিসিএল। একে ৯০ কোটির দেনার বোঝা, তায় মামলা ঝুলছিল ৫৫টি। হাতে কোনও ছবি না থাকায় আয়ের পথও বন্ধ। সেই সময় দেউলিয়া অমিতাভকে গোপনে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন এক শিল্পপতি। সেই সময় আবার ঘুরে দাড়িয়েছিলেন অমিতাভ। এসব নিয়েই এই প্রতিবেদন।

    এককালে অবিতাভের মাসিক আয় ছিল ৫০০ টাকা। তবে আজকাল একটি ছবিতে মুখ দেখানোর জন্য নাকি অন্তত ৬ কোটি টাকার দর হাঁকান অমিতাভ বচ্চন। এক-একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য নাকি কোটি কোটি করে পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। চলতি বছরে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৩৩৯০ কোটি টাকার মালিক তিনি। তবে এককালে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

    সত্তর-আশির দশকে অমিতাভের কাঁধে ভর দিয়ে বহু সিনেমার ব্যবসা সফল হয়ছিলো। অথচ সেই অমিতাভের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চেপে বসেছিল।

    নব্বইয়ের দশকে অভিনয়ের পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজ়মেন্ট, সিনেমা তৈরি করা ছাড়া ডিস্ট্রিবিউশনের কাজেও মন দিয়েছিলেন অমিতাভ। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল তাঁর সংস্থা অমিতাভ বচ্চন কর্পোরেশন (এবিসিএল)।

    যাত্রা শুরুর বছর তিনেকের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছিল অমিতাভের সাধের এবিসিএল। আর্থিক দুর্দশায় পড়েছিলেন খোদ অমিতাভ। একে ৯০ কোটির দেনার বোঝা, তায় মামলা ঝুলছিল ৫৫টি। হাতে কোনও ছবি না থাকায় আয়ের পথও প্রায় বন্ধ। সেই অন্ধকারময় পর্বে নিজের দুরবস্থার কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে খোলসা করেছেন অমিতাভ। ২০১৭ সালে ‘ব্রুট ইন্ডিয়া’র ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘জীবনের এমন এক সময় এসেছিল যখন দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলাম।’’

    অমিতাভের কণ্ঠে ছিল আবেগের ছোঁয়া। বলেছিলেন, ‘‘কোটি কোটি টাকা দেনার দায় চেপেছিল। আয়ের সমস্ত দরজা বন্ধ। নিজের ব্যাঙ্ক ব্যালান্স শূন্যে নেমে গিয়েছিল।’’

    জানা গেছে, এবিসিএলে চরম অব্যবস্থার জেরেই সংস্থার ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চেপে বসেছিল। সিইও সঞ্জীব গুপ্তর কাঁধেও সে দায় বর্তায়। অথচ এককালে ‘দেখ ভাই দেখ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিক তৈরি করেছিল এবিসিএল। টেলিভিশনের জন্য ধারাবাহিক ছাড়াও ‘অক্‌স’ থেকে ‘সরকার ৩’, সব মিলিয়ে ১৭টি সিনেমাও তৈরি করেছিল অমিতাভের সংস্থাটি। এ ছাড়া, ২টি বলিউডি সিনেমা পরিবেশনও করেছিল এবিসিএল। ’৯৬-এর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতারও আয়োজক ছিল।

    গোড়ায় রমরমিয়ে চললেও ক্রমাগত লোকসানের জেরে ১৯৯৯ সালে এবিসিএলের রুগ্ণ চেহারা বেরিয়ে পড়েছিল। অমিতাভ বলেছিলেন, ‘‘কোনও সন্দেহ নেই, আমার পেশাদার কেরিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকারময় পর্ব ছিল সেই দিনগুলো। কখনও ভুলব না, পাওনাদারের আমাদের দরজায় এসে গালিগালাজ করতেন, হুমকি দিতেন, টাকাপয়সা ফেরত দেওয়ার কথা শোনাতেন।’’

    তার প্রভাব পড়েছিল অমিতাভের সংসারেও। সে সময় আমেরিকার বস্টনে পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলেন ছেলে অভিষেক। পরে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, ‘‘কলেজ থেকে বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সে সময় আর্থিক দুর্দশার মধ্যে ছিলেন বাবা। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিচারে ওই সময় অভিজ্ঞ না হলেও ছেলে হিসাবে বাবার পাশে দাঁড়ানো জরুরি ছিল। সেটা মানসিক ভাবে হলেও…।’’

    অভিষেক আরও বলেছিলেন, ‘‘কী ভাবে অন্ন জুটবে, সে চিন্তাও চেপে বসেছিল বাবার উপর। ওই সময় আমি তো আর বস্টনে বসে থাকতে পারছিলাম না! নিজেদের কর্মচারীদের থেকেও ধার নিতে হয়েছিল। বাবাকে ফোন করে বলেছিলাম, তোমার পাশে থাকতে, যে কোনও ভাবে সাহায্য করার জন্য কলেজের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরে যেতে চাই।’’

    অভিষেকের ইচ্ছাপূরণ না হলেও অমিতাভের ঋণের বোঝা নেমে গিয়েছিল। ঋণের বোঝা নামাতে পরিচালক যশ চোপড়ার দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। যাতে যশের কোনও একটি ছবিতে তাঁকে সুযোগ দেন।

    অমিতাভ বলেছিলেন, ‘‘সে দিনগুলোয় আমার কাছে কী কী পথ খোলা রয়েছে, তা বাছবিচার করতে বসেছিলাম। এক বার যশ’জির কাছে চলে গিয়েছিলাম। আমার বাড়ির পিছনেই উনার বাড়ি। কাজ দেওয়ার জন্য উনার কাছে অনুরোধ করেছিলাম।’’

    অমিতাভের অনুরোধ রেখেছিলেন যশ। ছেলে আদিত্য চোপড়ার পরিচালনায় একাধিক তারকার সঙ্গে অমিতাভকে দেখা গিয়েছিল ‘মহব্বতেঁ’-এর নারায়ণ শঙ্করের ভূমিকায়। তত দিন ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’-র মতো বাণিজ্যসফল ছবি তৈরি করে ফেলেছেন আদিত্য।

    যশ চোপড়া ছাড়াও অমিতাভের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন শিল্পপতি ধীরুভাই অম্বানী। যদিও সে কথা যাতে অমিতাভের কানে না পৌঁছয়, সে চেষ্টাও নাকি করেছিলেন তিনি। অমিতাভ বলেছিলেন, ‘‘আমার দুর্দশার কথা জেনে কাউকে কিছু না জানিয়ে ছেলে অনিলকে বলেছিলেন, ‘ওর দুঃসময় চলছে। কিছু অর্থসাহায্য কোরো।’ ’’

    ধীরুভাই সাহায্যের হাত বাড়ালে তাতে সুরাহা হত বলে জানিয়েছিলেন অমিতাভ। তাঁর কথায়, ‘‘তিনি (ধীরুভাই) যে অর্থসাহায্য করতেন, তাতে তাঁর সব সমস্যার সমাধান হত । তবে আমার মনে হয়েছিল, উনার (ধীরুভাই) দান নিতে পারব না।’’

    ধীরুভাইয়ের সাহায্যে নিতে অস্বীকার করলেও পর্দার নায়কের মতোই নিজের জীবনে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অমিতাভ। যশ চোপড়ার প্রযোজিত ‘মোহব্বতেঁ’ বক্স অফিসে বিপুল মুনাফা কামিয়েছিল। অমিতাভ বলেছিলেন, ‘‘দেউলিয়া হওয়ার পর ভাবতে বসেছিলাম, ‘কী কী করতে পারি আমি?’ নিজেকে বলেছিলাম, ‘আমি অভিনেতা। অভিনয়ই করব।’ সেটাই করেছিলাম।’’

    সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

  • কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী এবং জীবন বদলানো তাঁর সেরা কিছু উক্তি

    কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী এবং জীবন বদলানো তাঁর সেরা কিছু উক্তি

    ১৬ এপ্রিল ২০২৩, সাম্প্রতিক মহান কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের ১৩৪ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হলো। সিনেমার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রিয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন চার্লি চ্যাপলিন। ১৮৮৯ সালে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। চ্যাপলিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ব্রিটিশ মিউজিক হলগুলিতে একজন শিশু অভিনয়শিল্পী হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মাত্র ৫ বছর বয়সে। ১৯১৩ সালে, তার কেরিয়ার চলাকালীন, তিনি নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের সবচেয়ে স্বীকৃত এবং আইকনিক তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন। তার মুভিতে স্মরণীয় চরিত্র, ট্র্যাম্পের জন্য ধন্যবাদ।

    কিন্তু চ্যাপলিন শুধুমাত্র একজন কৌতুক অভিনেতাই ছিলেন না। তিনি একজন যুগান্তকারী পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সুরকার ছিলেন। যিনি হলিউড এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে একটি অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছেন৷

    চার্লি চ্যাপলিন তাঁর অসাধারণ মেধা এবং মনন দিয়ে কাজ করে গেছেন। অভিনয়ের মাধ্যমে হাসিয়েছেন মানুষকে। তাঁর অনবদ্য অভিনয় এবং সৃষ্টিগুলো আজও মানুষকে হাসিয়ে যাচ্ছে, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর জীবনবোধ থেকে অসাধারণ সব উক্তি ও বাণী দিয়ে গেছেন। এসব উক্তি আপনার জীবনের জন্যও মূল্যবান স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম। আসুন জেনে নেই চ্যাপলিনের কিছু উল্ল্যেখযোগ্য বাণী-

    কিংবদন্তী চার্লি চ্যাপলিনের

    • এই বিশ্বে স্থায়ী কিছুই না, এমনকি আমাদের সমস্যাগুলোও না।
    • মন খুলে হাসতে হলে নিজের যন্ত্রনাগুলোর সাথে খেলতে শেখো।
    • একটি সৃষ্টিশীল কাজের ভেতরে সত্যটা যত বেশী গভীর হবে, সেটা তত বেশী সময় টিকে থাকবে।
    • আমার সব থেকে ভালো বন্ধু হল আয়না, কারণ আমি আমি যখন কাঁদি তখন সে হাসে না।
    • আমার দুঃখ কষ্টগুলো কারো কারো হাসির কারণ হয়ে থাকতে পারে কিন্তু আমার হাসিগুলি যেন কখনই কারো দুঃখের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
    • আমি বৃষ্টিতে হাঁটি যাতে কেউ আমার অশ্রু দেখতে না পারে।
    • হাসি হল ঔষধ, যেটা দুঃখ থেকে মুক্তি দেয়।
    • ক্লোজ – আপে জীবন হচ্ছে ট্রাজেডি , কিন্তু লং শটে সেটা কমেডি।
    • আমরা চিন্তা করি বেশি, কাজ করি কম।
    • আমি সবকিছুতেই অসঙ্গতি চেয়েছিলাম: ব্যাগি প্যান্ট, আঁটসাঁট কোট, ছোট মাথার টুপি এবং বড় জুতা… আমি একটি ছোট গোঁফও ব্যবহার করি, যার ফলে আমাকে বয়স্ক দেখাবে কিন্তু আমার অভিব্যক্তিও লুক্কায়িত থাকবে না। আমার এই চরিত্র সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। কিন্তু যখন আমি পোশাক পরিধান করি, সেই পোশাক ও মেকআপ আমাকে সেই ব্যক্তিত্বকে অনুভব করতে সাহায্য করে। আমি তাকে চিনতে শুরু করি এবং যে সময়ে আমি ক্যামেরার সামনে দাড়াই, ততক্ষণে সেই চরিত্রের জন্ম হয়।

    তথ্য সূত্রঃ উইকি ওয়ান্ড, চার্লি চ্যাপলিনের-মাই অটোবায়োগ্রাফী

  • ৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী – হ্যারি বেলাফন্টে

    ৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী – হ্যারি বেলাফন্টে

    হ্যারি বেলাফন্টে ছিলেন একজন আমেরিকান গায়ক, অভিনেতা এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। ছয় দশকেরও বেশি সময় জুড়ে তাঁর বিস্তৃত প্রশংসিত এক কর্মজীবন। হ্যারি বেলাফন্টে তাঁর আবেগ এবং প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকলায় চ্যাম্পিয়ন। মানবিক সমস্যা এবং নাগরিক অধিকারে ন্যায়বিচারে দেখিয়েছেন আলোর পথ।৯৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমেরিকান কিংবদন্তী - হ্যারি বেলাফন্টে

    তিনি ১৯৫০ এর দশকে ট্রিনবাগোনিয়ান ক্যালিপসো সঙ্গীত শৈলীর জনপ্রিয়তার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ব্লুজ, ফোক, গসপেল এবং আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড সহ বিভিন্ন জেনারে রেকর্ড এবং পারফর্ম করেছেন।

    বেলাফন্টে ‘কারমেন জোন্স’, ‘আইল্যান্ড ইন দ্য সান’ এবং ‘অডস এগেইনস্ট টুমরো’ সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিনোদন শিল্পে তার অবদানের জন্য জিতেছেন বহু পুরস্কার। যেমন একাধিক গ্র্যামি, একটি এমি, একটি টনি এবং একটি কেনেডি সেন্টার পুরষ্কার।

    তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল তার রাজনৈতিক এবং মানবিক সক্রিয়তায়। যেখানে তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন এবং জাতিগত ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে কাজ করেছিলেন। তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি আফ্রিকায় জরুরী দুর্ভিক্ষ ত্রাণের জন্য সচেতনতা বাড়াতে, গ্র্যামি পুরস্কার বিজয়ী গান “উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড” এবং ৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এককভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    ২৫ এপ্রিল, ২০২৩- ৯৬ বছর বয়সে প্রয়াত হোন গায়ক হ্যারি বেলাফন্টে। মঙ্গলবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন গায়ক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় শিল্পীর। বেলাফন্টের দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা তাঁর মুখ্যপাত্র কেন সানসাইনই (Ken Sunshin) খবরটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

    তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, ব্রিটানিকা, অল মিউজিক.কম

  • রুচির দুর্ভিক্ষে উত্থান হয়েছে হিরো আলমের : মামুনুর রশীদ

    রুচির দুর্ভিক্ষে উত্থান হয়েছে হিরো আলমের : মামুনুর রশীদ

    অভিনয় শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছি। আর সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে।

    নাট্যজন মামুনুর রশীদ আরও বলেন, এই উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এই উত্থান কীভাবে রোধ করা যাবে, এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, আবার তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।

    সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। প্রথমে মিউজিক ভিডিওতে মডেল হওয়ার মাধ্যমে যাত্রা করলেও পরবর্তীতে কখনো গান গাওয়া, সিনেমা নির্মাণ, কবিতা আবৃত্তি করা এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সময়ভেদে ইস্যু নিয়ে প্রায় সময়ই আলোচনায় থাকেন হিরো আলম।

    এ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের উত্থান নিয়ে সম্প্রতি অভিনয় শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে কথা বলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়েছি। আর সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে।

    এছাড়া রোববার (২৬ মার্চ) মামুনুর রশীদ দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, হিরো আলম সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তার। নাট্যাঙ্গনের কিছু মানুষ তার (হিরো আলম) কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। তারপর থেকেই হিরো আলমকে নিয়ে তিনি বিরক্ত ছিলেন।

    ক্ষোভ থেকে মামুনুর জানালেন, ‘আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বলেছিলেন, দেশে একটা রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। আমরা সেই রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। কী রকম? একদিকে মুক্তচিন্তা।

    মুক্ত চিন্তার জন্য হুমায়ূন আজাদ প্রাণ দিয়েছিলেন। মুক্তচিন্তার আরও অনেক মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মিডিয়া মুক্ত হওয়ার ফলে আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একটা লোকের উত্থান হয়েছে। যে উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতি দ্বারা উত্থান। আজ আমাদের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কী সুন্দর রাস্তাঘাট হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, আমরা খুব মুগ্ধ। দেশের মানুষের কষ্টের অবসান হবে। কিন্তু দেশের মানুষের সংস্কৃতি ও রুচিই যদি ঠিক না করা যায়, এসব কে ব্যবহার করবে, তাই সংস্কৃতি ও রুচির উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

    এ নাট্যজন হিরো আলম সম্পর্কে বলেন, কয়েকজন বলার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে যখন সংসদ নির্বাচন করছে, তাকে কেউ একটা গাড়ি দিচ্ছে। সেই গাড়ির আবার ৯-১০ বছর ধরে কোনো ফিটনেস নেই। তাকে নিয়ে অনেক দিনই আমি বিরক্ত ছিলাম। এ নিয়েও বিরক্ত ছিলাম, দেশের মানুষের তো রুচির দুর্ভিক্ষ হয়ে গেছে।

     

  • নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘গৌতম বুদ্ধ’ পুরস্কার পেল ‘সাঁতাও’

    নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘গৌতম বুদ্ধ এওয়ার্ড’ পেয়েছে। খন্দকার সুমন পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রযোজক শারিফ উল আনোয়ার সজ্জন, মুখ্য অভিনয় শিল্পী আইনুন পুতুল এবং বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকের হাতে বিচারক মণ্ডলী পুরস্কার তুলে দেন।

    গত ১৬ থেকে ২০ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত হলো নেপাল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সেখানে ৩৫টি দেশের ৯৫টি ছবি দেখানো হয়। উৎসবের ওয়ার্ল্ড প্যানোরমা ইন্টারন্যাশনাল ফিচার বিভাগে গত ১৭ মার্চ রাজধানী কাঠমান্ডুর দুইটি সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হয় ‘সাঁতাও’। গত ৩ মার্চ ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র আয়োজনে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’-এ প্রতিযোগিতা সেরা ‘প্রযোজনা এবং পরিকল্পনা’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। গত ৫ মার্চ ভারতের কেরলা প্রদেশের ত্রিশুল শহরে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ত্রিশুল (ইন্ডিয়া)-এর ১৮ তম আসরে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়। এর আগে চলচ্চিত্রটি গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানওরমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘ফিফরিসি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল।

    গত ২৭ জানুয়ারি ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। এরপর বিকল্প ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে ২৪ তারিখে ভারতের ‘৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া’ চলচ্চিত্র উৎসবের গোয়া প্রদেশের পাঞ্জি শহরে চলচ্চিত্রটির ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ হয়। কৃষকের সংগ্রামী জীবন, নারীর মাতৃত্বের সর্বজনীন রূপ এবং সুরেলা জনগোষ্ঠীর সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় গল্প চলচ্চিত্রের পর্দায় হাজির করেছে চলচ্চিত্র “সাঁতাও’’।

    গণ-অর্থায়নে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সাঁতাও’-এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক। ‘‘সাঁতাও’’ চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন খন্দকার সুমন, সহকারি পরিচালক হিসাবে ছিলেন শ্যামল শিশির, সুপিন বর্মণ ও মাসুদ রানা নকীব, সম্পাদনা, রং-বিন্যাস, এফেক্ট ও টাইটেল, সাউন্ড ডিজাইন ও সাউন্ড মিক্সিং করেছেন সুজন মাহমুদ, শব্দ গ্রহণে ছিলেন নাহিদ মাসুদ, চিত্রগ্রহণে ছিলেন সজল হোসেন, ইহতেশাম আহমদ টিংকু ও খন্দকার সুমন, আবহ সংহীত করেছেন মাহমুদ হায়াৎ অর্পণ, গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কামরুজ্জামান রাব্বী, লায়লা তাজনূর সাউদী, লিমা হক, শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন রবি দেওয়ান, পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন আফ্রিনা বুলবুল, নৃত্য পরিচালনা করেছেন ফাহিম রায়হান, রূপসজ্জা করেছেন ফরহাদ রেজা মিলন, পোস্টার ডিজাইন করেছেন সাজ্জাদুল ইসলাম সায়েম। চলচ্চিত্রটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোঃ সালাউদ্দিন, সাবেরা ইয়াসমিন, স্বাক্ষ্য শাহীদ, শ্রাবণী দাস রিমি, তাসমিতা শিমু, মিতু সরকার, ফারুক শিয়ার চিনু, আফ্রিনা বুলবুল, রুবল লোদী, কামরুজ্জামান রাব্বী, আব্দুল আজিজ মন্ডল, বিধান রায়, জুলফিকার চঞ্চল, বিনয় প্রসাদ গুপ্ত, সুপিন বর্মণ, রেফাত হাসান সৈকত, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, আলমগীর কবীর বাদল, রবি দেওয়ান, দীনবন্ধু পাল, হামিদ সরকার, মোঃ হানিফ রানা, আকতার হোসেন, আজিজুল হাকিম শিউস, সাইফুল ইসলাম লিটন, রাসেল তোকদার, মজনু সরকার, আবু কালাম, সিদ্দীক আলী, সুজন মাহমুদ, তাহসিনা আকতার তন্বী, নিশাত তাহিয়াত মিমন এবং তিস্তাবাজার এলাকাবাসী।

     

  • কে এই বুরাক ওজচিভিত!

    কে এই বুরাক ওজচিভিত!

    জনপ্রিয় টিভি সিরিজ কুরলুসঃ ওসমানের, ওসমানকে কে না চিনে! কিন্তু অভিনয়ের সেই মানুষটা সম্পর্কে আমরা কতোটা জানি? আসুন জেনে নেই ওসমান সম্পর্কে। ওসমানের আসল নাম বুরাক ওজচিভিত। তিনি একাধারে একজন খ্যাতিমান অভিনয় শিল্পী, একজন টপ মডেল, প্রযোজক এবং উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত আছেন।

    বুরাক ওজচিভিত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ইসলামী মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন এবং বুরাক্কান ওজচিভিত নামে তার একটি ছোট ভাই রয়েছে। বুরাক ওজচিভিত ২০১৭ সালে ফাহরি ইভসেনকে বিয়ে করেন, তিনিও একজন অভিনেত্রী। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে, যার নাম কারাণ ওজচিভিত এবং একটি মেয়ে লারা ওজচিভিত । বুরাক ওজচিভিত বিনোদন শিল্পে একটি বর্ণাঢ্য কর্মজীবন তৈরি করেছেন। তিনি কারা সেভদা এবং কুরুলুস: ওসমান এর মতো টিভি শোতে অভিনয়ের জন্য একাধিক পুরস্কার এবং প্রশংসা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি মুসাল্লাত, আস্ক সানা বেনজার এবং ক্যান ফেদা-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। উপরন্তু তিনি একজন তুরষ্কের মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন। তুরস্কের শীর্ষ মডেলদের মধ্যে তিনি একজন। বুরাক ওজচিভিতরে নিজস্ব প্রোডাকশন কোম্পানি আছে যার নাম বিআরকে প্রোডাকশন। বুরাক ওজচিভিতকে তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং তার কাজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তুরষ্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বুরাক ওজচিভিত মারা গেছেন এরকম খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লেও সেটা সম্পূর্ণভাবে গুজব ছিলো। এ বিষয়ে বুরাক ওজচিভিত নিজেই জানিয়েছিলেন।

  • অস্কারের ৯৫তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    অস্কারের ৯৫তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলছে অস্কারের জমকালো অনুষ্ঠান। সেখানে জড়ো হয়েছেন হলিউডসহ বিশ্বের বিনোদন জগতের নামি-দামি সব তারকা। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার। ১২ মার্চ রাতে (বাংলাদেশ সময় ১৩ মার্চ ভোর ৬টায়) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসেছিল এবারের ৯৫তম আসর। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তারকারা।

    ৯৫তম অস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’। সব মিলিয়ে সাত ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি।

    আজ বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বসে অস্কারের ৯৫তম আয়োজন। এ উপলক্ষে সেখানে জড়ো হন হলিউডসহ বিনোদন জগতের নামিদামি সব তারকা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ যে সাত বিভাগে পুরস্কার জিতেছে—সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, অরিজিনাল স্ক্রিন প্লে ও সেরা এডিটিং।

    বিভিন্ন বিভাগে যারা পুরস্কার পেলেন—

    স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেরা লাইভ অ্যাকশনঃ

    টম ব্রাকলে এবং রস হোয়াইটের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘অ্যান আইরিশ গুডবাই’ সিনেমাটি এই বিভাগে পুরস্কার জিতেছে।

    সেরা ডকুমেন্টারি ছবিঃ

    রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে নিয়ে তৈরি করা ‘নাভালনি’ সেরা ডকুমেন্টারির ছবির পুরস্কার জিতেছে। নাভালনি জেলে বন্দি থাকায় অস্কার অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনা উপস্থিত ছিলেন।

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফিঃ

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জিতেছে ‘অল কুয়াইট অন দ্য ওয়েস্টান ফ্রন্ট।’

    সেরা অ্যানিমেশনঃ মেক্সিকান পরিচালক গুইলারমো দেল তোরোর অ্যানিমেশন ছবি পিনোচ্চিও সেরা অ্যানিমেটেড ছবি।

    সেরা মেকআপ আর্টিস্টঃ

    ‘দ্য হোয়াল’ ছবিতে দুর্দান্ত কাজ করে সেরা মেকআপ আর্টিস্টের পুরস্কার জিতেছেন আদ্রিয়েন মোরোট, জুডি চিন ও অ্যান্নিমারি ব্র্যাডলি।

    সেরা আন্তর্জাতিক ছবিঃ

    এবারের আসরে সেরা আন্তর্জাতিক ছবির পুরস্কার জিতেছে ‘অল কুয়াইট অন দ্য ওয়েস্টান ফ্রন্ট’।

    স্বল্পদৈর্ঘ্যের সেরা ডকুমেন্টারিঃ

    মা হারানো এক হাতিকে ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বড় করে তুলছেন— এ ঘটনার ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইসপার্স’সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারির পুরস্কার জিতেছে।

    সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্মঃ

    দ্য বয়, দ্য মোল, দ্য ফক্স অ্যান্ড দ্য হর্স নামে এনিমেশন ছবি জিতেছে সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্মের পুরস্কার।

  • জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। ২৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২১ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো: হুমায়ুন কবির খন্দকার।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে আজীবন সম্মাননা প্রাপ্ত অভিনেত্রী ডলি জহুর বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে এ বছর ২৯ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

    চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় এ বছর যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র যৌথভাবে ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ও ‘নোনাজলের কাব্য’; শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ধর’, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র কাওসার চৌধুরীর (বধ্যভূমিতে একদিন), শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য) পুরস্কার লাভ করেছে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব ও কৈশোরের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে চিত্রায়িত ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ চলচ্চিত্রটি মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

    শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছেন যৌথভাবে মো: সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির মাহমুদ (রাতজাগা ফুল)।

    এছাড়া পুরস্কার লাভ করেছেন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী যৌথভাবে আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নূর) ও তাসনোভা তামান্না (নোনাজলের কাব্য); পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এম ফজলুর রহমান বাবু (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে শম্পা রেজা (পদ্মপুরাণ); শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে মো: আবদুল মান্নান জয়রাজ (লাল মোরগের ঝুঁটি)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্রে প্রভাষ কুমার ভট্টাচার্য মিলন (মৃধা বনাম মৃধা), শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী আফিয়া তাবাসসুম (রেহানা মরিয়ম নূর), শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া ঝিলিক (যা হারিয়ে যায়)।

    গানের জগতে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম (যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ গায়ক কে এম আবদুল্লাহ-আল-মুর্তজা মুহিন (শোনাতে এসেছি আজ-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গায়িকা চন্দনা মজুমদার (দেখলে ছবি পাগল হবি-পদ্মপুরাণ), শ্রেষ্ঠ গীতিকার মরহুম গাজী মাজহারুল আনোয়ার (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ সুরকার সুজেয় শ্যাম (অন্তরে অন্তর জ্বালা-যৈবতী কন্যার মন), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার নূরুল আলম আতিক (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা তৌকীর আহমেদ (স্ফুলিঙ্গ) পুরস্কার লাভ করেছেন।

    আরো পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ সম্পাদক সামির আহমেদ (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক শিহাব নূরুন নবী (নোনাজলের কাব্য), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক দলগত-সৈয়দ কাশেফ শাহবাজি, সুমন কুমার সরকার, মাজহারুল ইসলাম রাজু (লাল মোরগের ঝুঁটি), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক শৈব তালুকদার (রেহানা মরিয়ম নূর), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা ইদিলা কাছরিন ফরিদ (নোনাজলের কাব্য)। শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান দলগত- মো: ফারুখ, মো: ফরহাদ রেজা মিলন (লাল মোরগের ঝুঁটি)।

    পুরস্কার হিসেবে নির্বাচিত সবাইকে দেয়া হয়েছে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও এককালীন নির্ধারিত পরিমাণ সম্মানী ও সম্মাননাপত্র। আজীবন সম্মাননার জন্য ৩ লাখ, শ্রেষ্ঠ পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের জন্য ২ লাখ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দেয়া হয় ১ লাখ টাকা।

    এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড গঠন করে। ২০২১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ২১টি পূর্ণদের্ঘ্য, ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ৭টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রসহ মোট ৪৫টি চলচ্চিত্র থেকে বাছাই করা হয় এবারের বিজয়ীদের।

    সূত্র : বাসস